শুরু হয়েছে বর্ষা মৌসুম। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে প্রমত্তা যমুনায় দ্রুতগতিতে বাড়ছে পানি। নতুন পানিতে ফুলে ফেপে উঠছে প্রকৃতি কন্যা। ভয়ংকর গর্জনে তীরে আছড়ে পড়ছে উত্তাল ঢেউ। ঢেউয়ের ধাক্কায় ভেসে যাচ্ছে মোহাম্মদ আলীর ক্ষেতের আখ। কয়েকদিনে আখক্ষেতটির সিংহভাগ গিলে নিয়েছে রাক্ষুসী যমুনা। যেটুকো আছে সেটুকোও রক্ষা সম্ভব হবে না জেনে অপরিপক্ক আঁখের ডগাই কেটে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পার পাঁচিল গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী ও ভাইদের ৪০ বিঘার মতো জমি ছিল। দফায় দফায় ভাঙনে ২৫ বিঘা বিলিন হয়েছে। বাকি জমিতে ফসলাদি চাষ করে কয়েকটি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। মোহাম্মদ আলী বলেন, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে তার আখগুলো পরিপক্ক হয়ে যেত। কিন্তু এত কষ্টের আখক্ষেত কয়েকদিনেই গিলে নিল যমুনা। মোহাম্মদ আলীর মতো ভাটপিয়ারী ও পার পাচিল গ্রামের অনেক কৃষকেরই এমন দশা।
জানা যায়, সদর উপজেলার ছোনগাছা ও খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের ৫টি গ্রামেই চলছে ভাঙন। যমুনায় পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। বালু ভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করেও ভাঙন রোধ হচ্ছে না। স্থানীয়রা বলেন, মাসখানেক ধরেই এ অঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে পানি বাড়তে থাকায় ভাটপিয়ারী, পার পাচিল, ব্রাহ্মণ বয়রা ও পাঁচঠাকুরী গ্রামের তীরবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এসব অঞ্চলের মানুষেরা।
সদর ছাড়াও চৌহালী উপজেলার স্থল, সদিয়া চাঁদপুর ও উমারপুর এবং শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী, গালা ও কৈজুরী ইউনিয়নের অন্তত ২৫-৩০টি গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। এসব উপজেলার শতাধিক বাড়িঘর, ৫শ বিঘারও বেশি ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে বাড়িঘর, কৃষি জমি ও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের তিনটি ইউনিয়নে ভাঙন শুরু হয়েছে। উমারপুরে একটু বেশি ভেঙেছে। আমরা ইতিমধ্যে ভাঙন কবলিতের জন্য ৪ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছি। যাদের বাড়ি ভেঙে গেছে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দিয়ে আবেদন করলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যতটুকো সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গত দুদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে যমুনার পানি। সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে বৃহস্পতিবার ৪৪ ও শুক্রবার ৪১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে জেলার কাজিপুর মেঘাই পয়েন্টে যথাক্রমে ৪৮ ও ৩২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
পানি বাড়লেও বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সেটি ডেনজার লেভের ক্রস করবে না। আশা করছি দু-তিনদিন পরে পানি কমে যাবে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন প্রবণ হয়ে উঠেছে। যে এলাকাগুলো আমাদের মেইনল্যান্ডের সাথে সেখানে জরুরীভাবে কাজ করছি। আমাদের বাঁধ কোথাও ডিস্ট্রাব হলে আমরা সেখানে কাজ করছি। নদীর চরের কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন আছে। শাহজাদপুর ও চৌহালীতে। চরে আসলে কাজ করার সুযোগ নাই।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান প্রকৌশলী বলেন, বর্তমানে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সেটি ডেনজার লেভের ক্রস করবে না। আশা করছি দু-তিনদিন পরে পানি কমে যাবে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন প্রবণ হয়ে উঠেছে। যেমন ভাটপিয়ারী ও কৈজুরী এলাকা। যে এলাকাগুলো আমাদের মেইনল্যান্ডের সাথে সেখানে জরুরীভাবে কাজ করছি। আমাদের বাঁধ কোথাও ডিস্ট্রাব হলে আমরা সেখানে কাজ করছি। নদীর চরের কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন আছে। শাহজাদপুর ও চৌহালীতে। চরে আসলে কাজ করার সুযোগ নাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ 


















