সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ হারানো লিমনের মরদেহ ফিরবে ৪ মে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছাবে ৪ মে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ফেসবুক পোস্টে গোলাম মোর্তোজা জানান, ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট লিমনের মরদেহ নিয়ে অরল্যান্ডো (এমসিও) থেকে রওনা হবে । দুবাইয়ে ট্রানজিট হয়ে তার কফিন ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় শাহজালাল বিমান বন্দরে পৌঁছাবে।

 

 

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বাদ জোহর ফ্লোরিডার ট্যাম্পা বে এলাকায় ইসলামিক সোসাইটি অব ট্যাম্পা বে এরিয়ায় (আইএসটিবিএ) তার জানাজা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ গত মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয় বাংলাদেশিদের একটি দল। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই লিমন ও বৃষ্টির সহপাঠী-বন্ধু। এদিন হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালত অভিযুক্ত আবুঘরবেহকে জামিন না দিয়ে কারাবন্দি করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতকে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু আবীর আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিরা এখানে একটি পরিবারের মতো বসবাস করি। আমরা একসঙ্গে খাবার খাই, একসঙ্গে বেড়াতে যাই, ঘুরতে যাই।’

১৬ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন বৃষ্টির একজন বন্ধু তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান। গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে লিমন খুন হয়েছেন বলে জানানো হয়। বৃষ্টির মরদেহের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের এক মার্কিন তরুণকে ওইদিনই গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

হিশামের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর গত মঙ্গলবার ওই হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালতে শুনানি হয়। সেখানে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু সালমান সাদিক শুভ বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, সেটা আমরা জানতে চাই।’

 

 

জামিল ও বৃষ্টি হাত্যাকাণ্ড নিয়ে চলমান মামলার বিষয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন জানিয়ে সালমান আরও বলেন, ‘আমরা নিজেদের দায়িত্বশীল মনে করি, আমাদের খুব ঘনিষ্ঠভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত বলে মনে করি। আমাদের অন্য বন্ধুরা আছে, অন্যান্য মানুষও আছে, যারা লিমন ও বৃষ্টিকে ভালোবাসে এবং তাদের হত্যা মামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখানে আমরা যা দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি, তাদের তা জানাতে চাই।’

 

 

রিফাতুল ইসলাম নামের আরেক তরুণ বলেন, ‘এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি। বাড়ি থেকে ৮ হাজার মাইল দূরে এখানে তারাই আমাদের পরিবার, আমাদের সবকিছু। সব অনুষ্ঠানে আমরা সবাই সবার সঙ্গে দেখা করি।’

 

 

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ আদালতে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু এবং সহপাঠীদের এমন সরব উপস্থিতির বিষয়টি লক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি, তাদের এত বন্ধু আসবেন। তবে আমরা ভেবেছিলাম, তাদের পরিবারের একজন সদস্য উপস্থিতি থাকবেন।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ হারানো লিমনের মরদেহ ফিরবে ৪ মে

আপডেট টাইম : ০৪:১৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছাবে ৪ মে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ফেসবুক পোস্টে গোলাম মোর্তোজা জানান, ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট লিমনের মরদেহ নিয়ে অরল্যান্ডো (এমসিও) থেকে রওনা হবে । দুবাইয়ে ট্রানজিট হয়ে তার কফিন ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় শাহজালাল বিমান বন্দরে পৌঁছাবে।

 

 

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বাদ জোহর ফ্লোরিডার ট্যাম্পা বে এলাকায় ইসলামিক সোসাইটি অব ট্যাম্পা বে এরিয়ায় (আইএসটিবিএ) তার জানাজা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ গত মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয় বাংলাদেশিদের একটি দল। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই লিমন ও বৃষ্টির সহপাঠী-বন্ধু। এদিন হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালত অভিযুক্ত আবুঘরবেহকে জামিন না দিয়ে কারাবন্দি করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতকে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু আবীর আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিরা এখানে একটি পরিবারের মতো বসবাস করি। আমরা একসঙ্গে খাবার খাই, একসঙ্গে বেড়াতে যাই, ঘুরতে যাই।’

১৬ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন বৃষ্টির একজন বন্ধু তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান। গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে লিমন খুন হয়েছেন বলে জানানো হয়। বৃষ্টির মরদেহের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের এক মার্কিন তরুণকে ওইদিনই গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

হিশামের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর গত মঙ্গলবার ওই হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালতে শুনানি হয়। সেখানে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু সালমান সাদিক শুভ বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, সেটা আমরা জানতে চাই।’

 

 

জামিল ও বৃষ্টি হাত্যাকাণ্ড নিয়ে চলমান মামলার বিষয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন জানিয়ে সালমান আরও বলেন, ‘আমরা নিজেদের দায়িত্বশীল মনে করি, আমাদের খুব ঘনিষ্ঠভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত বলে মনে করি। আমাদের অন্য বন্ধুরা আছে, অন্যান্য মানুষও আছে, যারা লিমন ও বৃষ্টিকে ভালোবাসে এবং তাদের হত্যা মামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখানে আমরা যা দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি, তাদের তা জানাতে চাই।’

 

 

রিফাতুল ইসলাম নামের আরেক তরুণ বলেন, ‘এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি। বাড়ি থেকে ৮ হাজার মাইল দূরে এখানে তারাই আমাদের পরিবার, আমাদের সবকিছু। সব অনুষ্ঠানে আমরা সবাই সবার সঙ্গে দেখা করি।’

 

 

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ আদালতে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু এবং সহপাঠীদের এমন সরব উপস্থিতির বিষয়টি লক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি, তাদের এত বন্ধু আসবেন। তবে আমরা ভেবেছিলাম, তাদের পরিবারের একজন সদস্য উপস্থিতি থাকবেন।’