সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রপ্তানি আয়ে নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

রপ্তানি আয়ে নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রপ্তানি আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ে গত মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২২ শতাংশের এক উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ মাসিক অগ্রগতি।

 

 

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুয়ায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের মাস ডিসেম্বর ২০২৫-এ ছিল ৩ হাজার ৯৬৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার।

 

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে মোট রপ্তানি হয়েছে ২৮ হাজার ৪১০ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। অবশ্য এই অঙ্কটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ২৮ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা কম। তবে সাম্প্রতিক মাসিক প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।

 

দেশের রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৯৮০ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় এই খাতে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এটিকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের অব্যাহত চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৈরি পোশাক ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাত আশাব্যঞ্জক প্রবণতা দেখিয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বার্ষিক ও মাসিক উভয় ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছের মতো প্রধান খাতগুলোতে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে।

 

রফতানি গন্তব্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। এই বাজারে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৮৫২ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

 

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রেট ব্রিটেনসহ একাধিক বাজারে বিভিন্ন সময়সীমায় প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে, যা প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ককে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

রপ্তানি আয়ে নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১১:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রপ্তানি আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ে গত মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২২ শতাংশের এক উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ মাসিক অগ্রগতি।

 

 

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুয়ায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের মাস ডিসেম্বর ২০২৫-এ ছিল ৩ হাজার ৯৬৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার।

 

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে মোট রপ্তানি হয়েছে ২৮ হাজার ৪১০ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার। অবশ্য এই অঙ্কটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ২৮ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা কম। তবে সাম্প্রতিক মাসিক প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।

 

দেশের রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৯৮০ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় এই খাতে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এটিকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের অব্যাহত চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৈরি পোশাক ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাত আশাব্যঞ্জক প্রবণতা দেখিয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বার্ষিক ও মাসিক উভয় ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছের মতো প্রধান খাতগুলোতে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে।

 

রফতানি গন্তব্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। এই বাজারে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৮৫২ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

 

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রেট ব্রিটেনসহ একাধিক বাজারে বিভিন্ন সময়সীমায় প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে, যা প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ককে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।