সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট Logo বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রাতে সুরের জাদু ছড়াবেন বাংলাদেশের সঞ্জয় Logo মুক্তির পথে আইভী, আপিলেও মিলল জামিন Logo ঈদের আগে হিলিতে মশলার দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা  Logo নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক স্বামী-স্ত্রী Logo বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ Logo আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট Logo বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর প্রতিশ্রুতি বিজয়ের Logo রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে ‘বাঁশ ব্যারিয়ার: ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খামারিদের স্বস্তি  Logo কোটি টাকার হেরোইনসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রমজানের আগে লেবুর দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

দোকানে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা লেবু। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে লেবুর দাম। উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন এক পিস লেবু কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। কয়েক দিন আগেও যেখানে লেবুর মূল্য সহনীয় ছিল, সেখানে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণত ক্রেতারা। যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

 

 

সরেজমিনে উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে লেবুর পর্যাপ্ততা নেই। কিছু ব্যবসায়ী লেবু নিয়ে বসে থাকলেও তারা প্রতি পিস লেবু আকারভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অনেক ক্রেতা লেবুর দরদাম করলেও কিনছেন খুব কম ক্রেতা। যার ফলে কমেছে লেবুর বেচাকেনা।

 

 

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি পিস লেবু কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকা করে। পরিবহন খরচ ও ন্যূনতম লাভ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাজারে এখন যা সরবরাহ আছে, এরকম পরিস্থিতি কতদিন থাকবে তাও জানেন না তারা। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়লে লেবুর দাম কমে আসবে বলে জানান তারা।

 

লেবুর দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, কদিন পর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে রোজা। তখন লেবুর চাহিদা বেশি থাকে । প্রতিবছর রোজা এলে চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। হঠাৎ করে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার সদর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা নাজমুল বলেন, এখন লেবুর সরবরাহ খুবই কম। আমরা পাইকারি বাজারে গিয়েও চাহিদা মতো লেবু পাই না। পাইকারি বাজার থেকে আমাদেরকেই ৩৫ টাকা করে কিনে আনতে হচ্ছে। পাইকারি বাজার থেকে কিনে এনে ক্রেতার কাছে বিক্রি করা পর্যন্ত খরচ বাড়ে।

 

উপজেলার ধান্যদৌল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, লেবুর দাম বাড়ার আগে প্রতিদিন দেড় দুইশ পিস বিক্রি করতে পারতাম, কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় লেবুর বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা দরদাম করে ফিরে যায়।

 

 

উপজেলার সদর বাজারের ক্রেতা জমির হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগেও লেবু কিনে নিয়েছি, তখন দাম ছিল হাতের নাগালে। আজকে এসে লেবুর দাম শুনে হতবাক হয়ে গেছি। প্রতি পিস লেবু বিক্রি করছে ৫০ টাকা করে। বাসাই লেবুর প্রয়োজন তাই লেবু কিনেছি, তবে চাহিদার চেয়ে কম কিনেছি।

 

 

ধান্যদৌল বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন দুলাল মিয়া। তিনি বলেন, কদিন পরে রোজা। আমাদের পরিবারে ইফতারের সময় লেবুর শরবত করা হয়। তবে লেবুর দাম এত থাকলে বিকল্প শরবত খেতে হবে। আমরা চাই রোজার সময় লেবুর দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে হোক।

 

 

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) মাহমুদা জাহান কালবেলাকে বলেন, লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। রোজা উপলক্ষে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

রমজানের আগে লেবুর দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

আপডেট টাইম : ০৬:১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে লেবুর দাম। উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন এক পিস লেবু কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। কয়েক দিন আগেও যেখানে লেবুর মূল্য সহনীয় ছিল, সেখানে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণত ক্রেতারা। যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

 

 

সরেজমিনে উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে লেবুর পর্যাপ্ততা নেই। কিছু ব্যবসায়ী লেবু নিয়ে বসে থাকলেও তারা প্রতি পিস লেবু আকারভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অনেক ক্রেতা লেবুর দরদাম করলেও কিনছেন খুব কম ক্রেতা। যার ফলে কমেছে লেবুর বেচাকেনা।

 

 

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি পিস লেবু কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকা করে। পরিবহন খরচ ও ন্যূনতম লাভ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাজারে এখন যা সরবরাহ আছে, এরকম পরিস্থিতি কতদিন থাকবে তাও জানেন না তারা। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়লে লেবুর দাম কমে আসবে বলে জানান তারা।

 

লেবুর দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, কদিন পর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে রোজা। তখন লেবুর চাহিদা বেশি থাকে । প্রতিবছর রোজা এলে চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। হঠাৎ করে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার সদর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা নাজমুল বলেন, এখন লেবুর সরবরাহ খুবই কম। আমরা পাইকারি বাজারে গিয়েও চাহিদা মতো লেবু পাই না। পাইকারি বাজার থেকে আমাদেরকেই ৩৫ টাকা করে কিনে আনতে হচ্ছে। পাইকারি বাজার থেকে কিনে এনে ক্রেতার কাছে বিক্রি করা পর্যন্ত খরচ বাড়ে।

 

উপজেলার ধান্যদৌল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, লেবুর দাম বাড়ার আগে প্রতিদিন দেড় দুইশ পিস বিক্রি করতে পারতাম, কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় লেবুর বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা দরদাম করে ফিরে যায়।

 

 

উপজেলার সদর বাজারের ক্রেতা জমির হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগেও লেবু কিনে নিয়েছি, তখন দাম ছিল হাতের নাগালে। আজকে এসে লেবুর দাম শুনে হতবাক হয়ে গেছি। প্রতি পিস লেবু বিক্রি করছে ৫০ টাকা করে। বাসাই লেবুর প্রয়োজন তাই লেবু কিনেছি, তবে চাহিদার চেয়ে কম কিনেছি।

 

 

ধান্যদৌল বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন দুলাল মিয়া। তিনি বলেন, কদিন পরে রোজা। আমাদের পরিবারে ইফতারের সময় লেবুর শরবত করা হয়। তবে লেবুর দাম এত থাকলে বিকল্প শরবত খেতে হবে। আমরা চাই রোজার সময় লেবুর দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে হোক।

 

 

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) মাহমুদা জাহান কালবেলাকে বলেন, লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। রোজা উপলক্ষে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।