সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রাজশাহীতে ‘গুলি ও বোমা হামলা’র বিচার দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবহন খাতের শ্রমিকরা। একই সঙ্গে ইউনিয়নের বর্তমান কমিটি থেকে ‘আওয়ামী দোসরদের’ অপসারণ এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে সরব হন তারা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে নগরীর ব্যস্ততম ভদ্রা মোড়স্থ স্মৃতি অম্লান চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাদের বহন করা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল করতে হবে’, ‘শ্রমিকদের ওপর হামলা কেন, জবাব দাও’, ‘শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ কর’, ‘অবিলম্বে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন চাই’। এ সময় পুরো এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়, তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম পাখির নেতৃত্বে বহিরাগতদের একটি সংগঠিত দল সাধারণ শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি। হামলার পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় কাজে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান বক্তারা।
তারা আরও বলেন, বর্তমান ইউনিয়ন কমিটি একটি ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে কাজ করছে, যা সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় নেতৃত্বে জবাবদিহিতা নেই এবং এর সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা। দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তারা।
কর্মসূচিতে মো. শামীম, মো. স্বপন, মো. নাজমুল, মো. লিটন, মো. আজমত আলী, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সাজ্জাদ হোসেন ও মো. শিমুলসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন এবং প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

রাজশাহীতে ‘গুলি ও বোমা হামলা’র বিচার দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ০৫:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবহন খাতের শ্রমিকরা। একই সঙ্গে ইউনিয়নের বর্তমান কমিটি থেকে ‘আওয়ামী দোসরদের’ অপসারণ এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে সরব হন তারা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে নগরীর ব্যস্ততম ভদ্রা মোড়স্থ স্মৃতি অম্লান চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাদের বহন করা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল করতে হবে’, ‘শ্রমিকদের ওপর হামলা কেন, জবাব দাও’, ‘শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ কর’, ‘অবিলম্বে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন চাই’। এ সময় পুরো এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়, তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম পাখির নেতৃত্বে বহিরাগতদের একটি সংগঠিত দল সাধারণ শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি। হামলার পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় কাজে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান বক্তারা।
তারা আরও বলেন, বর্তমান ইউনিয়ন কমিটি একটি ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে কাজ করছে, যা সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় নেতৃত্বে জবাবদিহিতা নেই এবং এর সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা। দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তারা।
কর্মসূচিতে মো. শামীম, মো. স্বপন, মো. নাজমুল, মো. লিটন, মো. আজমত আলী, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সাজ্জাদ হোসেন ও মো. শিমুলসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন এবং প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।