নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে কৃষি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরবেলা ঝড়ের তাণ্ডবে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে, উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা, উড়ে গেছে ঘরবাড়ির টিনের চালা এবং ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ঝড়ে প্রায় ৪ হাজার ৬৮৭ হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, এতে পাকা ধানের তেমন ক্ষতি না হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তবে ভিন্নমত কৃষকদের। মিরাট গ্রামের কৃষক মো. হামিদুল বলেন, “ধান নুয়ে পড়ায় কাটা-মাড়াইয়ের খরচ অনেক বেড়ে যাবে। আর একটু ভারি বৃষ্টি হলে নুয়ে পড়া ধান পানির নিচে তলিয়ে যাবে। তখন ধানে নতুন চারা গজালে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।”
ঝড়ে বিদ্যুৎ অবকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নওগাঁ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর রাণীনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম আবু হাসান জানান, বেতগাড়ি এলাকায় মেইন লাইনের ২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আড়াই শতাধিক জায়গায় গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
বেতগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. ইয়াকুব আলী জানান, ভোর থেকেই বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার পানি সংগ্রহ, মোবাইল ও অটোচার্জার ভ্যান চার্জ দেওয়া এবং ফ্রিজের খাবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত তালিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















