সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাবিপ্রবি উপাচার্যের সাথে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাই কমিশনার মি. ক্লিনটন পবকে’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

শুরুতেই রাবিপ্রবি উপাচার্য প্রতিনিধি দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তাঁদের সাথে সংক্ষিপ্ত একান্ত আলোচনা শেষে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মতবিনিময় সভায় রাবিপ্রবি উপাচার্য অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি দলসহ সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর ইতিহাস, বর্তমান অবকাঠামো উন্নয়নের চিত্র এবং একাডেমিক পরিবেশের অগ্রগতির বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। প্রক্রিয়াধীন রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেক্টার ও ট্যুরিজম হাব নির্মাণের বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেন। কাপ্তাই লেক কেন্দ্রিক দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা ও অত্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। অত্র অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত ও প্রকৌশল প্রযুক্তির সাথে সঙ্গতি রেখে একাডেমিক বিভাগ খোলার প্রক্রিয়াধীন উদ্যোগের কথা বলেন। এছাড়া প্রতিনিধি দলের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে উচ্চতর ডিগ্রীর পাশাপাশি ট্রেনিং বেইজড শর্ট কোর্স চালুর আশ্বাস দেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাবিপ্রবি’র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য যৌথ গবেষণা করার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে রাবিপ্রবিতে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার যৌথ উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

উক্ত সভায় ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমান অস্ট্রেলিয়ায় ভিজিটিং রিসার্চার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নে গবেষণা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে অবদান রাখার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুরুপভাবে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা তাদের অভিজ্ঞতাসহ জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, রিসার্চ এবং এভিডেন্স বেইজড প্রোডাক্ট উৎপাদন, স্থানীয়দের আর্থিক উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু যা এ অঞ্চলের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে এমন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আহবান জানান।

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাই কমিশনার মি. ক্লিনটন পবকে প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সৌজন্যতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অত্র অঞ্চলের ট্যুরিজম তথা পর্যটন ক্ষেত্র এবং অত্র অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রীয় নীতির বিষয়ে কথা বলেন। তিনি কৃষিভিত্তিক ও পর্যটনকেন্দ্রিক যৌথ গবেষণা প্রকল্পের বিশেষত কাপ্তাই লেককে জাতীয় উন্নয়নে ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরার বিষয়ে আগ্রহ ও যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ ও আশ্বাস প্রদান করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অস্ট্রেলিয়ান সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস এর মাধ্যমে রাবিপ্রবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ এবং অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপের প্রোগ্রামের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় স্বল্পমেয়াদী কোর্সে আবেদনের জন্য আহবান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) সংক্রান্ত কোর্স, ভোকেশনাল ট্রেনিং, বিদেশী ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রায়োগিক শিক্ষা, কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমণ বিষয়ক গবেষণা এবং এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

মতবিনিময় সভা শেষে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি দলকে নিয়ে রাবিপ্রবি উপাচার্য ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

 

93
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাবিপ্রবি উপাচার্যের সাথে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

আপডেট টাইম : ০৭:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাই কমিশনার মি. ক্লিনটন পবকে’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

শুরুতেই রাবিপ্রবি উপাচার্য প্রতিনিধি দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তাঁদের সাথে সংক্ষিপ্ত একান্ত আলোচনা শেষে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মতবিনিময় সভায় রাবিপ্রবি উপাচার্য অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি দলসহ সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর ইতিহাস, বর্তমান অবকাঠামো উন্নয়নের চিত্র এবং একাডেমিক পরিবেশের অগ্রগতির বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। প্রক্রিয়াধীন রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেক্টার ও ট্যুরিজম হাব নির্মাণের বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেন। কাপ্তাই লেক কেন্দ্রিক দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা ও অত্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। অত্র অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত ও প্রকৌশল প্রযুক্তির সাথে সঙ্গতি রেখে একাডেমিক বিভাগ খোলার প্রক্রিয়াধীন উদ্যোগের কথা বলেন। এছাড়া প্রতিনিধি দলের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে উচ্চতর ডিগ্রীর পাশাপাশি ট্রেনিং বেইজড শর্ট কোর্স চালুর আশ্বাস দেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাবিপ্রবি’র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য যৌথ গবেষণা করার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে রাবিপ্রবিতে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার যৌথ উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

উক্ত সভায় ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমান অস্ট্রেলিয়ায় ভিজিটিং রিসার্চার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নে গবেষণা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে অবদান রাখার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুরুপভাবে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা তাদের অভিজ্ঞতাসহ জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, রিসার্চ এবং এভিডেন্স বেইজড প্রোডাক্ট উৎপাদন, স্থানীয়দের আর্থিক উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু যা এ অঞ্চলের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে এমন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আহবান জানান।

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাই কমিশনার মি. ক্লিনটন পবকে প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সৌজন্যতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অত্র অঞ্চলের ট্যুরিজম তথা পর্যটন ক্ষেত্র এবং অত্র অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রীয় নীতির বিষয়ে কথা বলেন। তিনি কৃষিভিত্তিক ও পর্যটনকেন্দ্রিক যৌথ গবেষণা প্রকল্পের বিশেষত কাপ্তাই লেককে জাতীয় উন্নয়নে ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরার বিষয়ে আগ্রহ ও যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ ও আশ্বাস প্রদান করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অস্ট্রেলিয়ান সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস এর মাধ্যমে রাবিপ্রবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ এবং অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপের প্রোগ্রামের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় স্বল্পমেয়াদী কোর্সে আবেদনের জন্য আহবান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) সংক্রান্ত কোর্স, ভোকেশনাল ট্রেনিং, বিদেশী ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রায়োগিক শিক্ষা, কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমণ বিষয়ক গবেষণা এবং এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

মতবিনিময় সভা শেষে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি দলকে নিয়ে রাবিপ্রবি উপাচার্য ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।