সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রায়ে ‘সন্তুষ্ট’ হতে পারেননি শহীদ আবু সাঈদের পরিবার

শহীদ আবু সাঈদের বাবা-মা। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি তার বাবা-মা ও দুই ভাই আবু হোসেন ও রমজান আলী। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম বলেছেন, রায়ে আরও অনেকের ফাঁসি হওয়া উচিৎ ছিল। অনেক অপরাধীর সামান্য শাস্তি হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

 

 

শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে মাত্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আমার ছেলেকে গলা টিপে ধরেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো না। আরও কঠোর সাজা দেয়া দরকার ছিল।’

মকবুল হোসেন দাবি করেন, অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। বড় অপরাধীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে ছোটদের সাজা দেয়া হয়েছে।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই রায়ে আমরা খুশি নই। আমার ছেলে অনেক অত্যাচারের শিকার হয়েছিল।’ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সরকারের কাছে মামলাটি পুনরায় আপিলের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

শহীদ আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন বলেন, আমার ভাইকে যে দুই পুলিশ সদস্য গুলি করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। কিন্তু বাকি আসামিদের সাজা অনেক কম হয়েছে। যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে তাদের ফাঁসি হলেও, যারা সেই গুলির নির্দেশ দিয়েছেন তাদের কারও ফাঁসি হয়নি।

 

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও পুরো রায় পর্যালোচনা করতে পারিনি। প্রসিকিউটরদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।’

 

 

বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আশা করেছিলাম এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাব। বাংলার মাটিতে আবু সাঈদ হত্যার সঠিক বিচার হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতো। কিন্তু আজকের রায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় আমরা ব্যথিত। আমরা পোমেল বড়ুয়ার ফাঁসি চাই।

 

 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষিত এই রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, একজনের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

রায়ে ‘সন্তুষ্ট’ হতে পারেননি শহীদ আবু সাঈদের পরিবার

আপডেট টাইম : ০৬:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি তার বাবা-মা ও দুই ভাই আবু হোসেন ও রমজান আলী। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম বলেছেন, রায়ে আরও অনেকের ফাঁসি হওয়া উচিৎ ছিল। অনেক অপরাধীর সামান্য শাস্তি হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

 

 

শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে মাত্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আমার ছেলেকে গলা টিপে ধরেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো না। আরও কঠোর সাজা দেয়া দরকার ছিল।’

মকবুল হোসেন দাবি করেন, অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। বড় অপরাধীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে ছোটদের সাজা দেয়া হয়েছে।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই রায়ে আমরা খুশি নই। আমার ছেলে অনেক অত্যাচারের শিকার হয়েছিল।’ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সরকারের কাছে মামলাটি পুনরায় আপিলের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

শহীদ আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন বলেন, আমার ভাইকে যে দুই পুলিশ সদস্য গুলি করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। কিন্তু বাকি আসামিদের সাজা অনেক কম হয়েছে। যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে তাদের ফাঁসি হলেও, যারা সেই গুলির নির্দেশ দিয়েছেন তাদের কারও ফাঁসি হয়নি।

 

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও পুরো রায় পর্যালোচনা করতে পারিনি। প্রসিকিউটরদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।’

 

 

বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আশা করেছিলাম এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাব। বাংলার মাটিতে আবু সাঈদ হত্যার সঠিক বিচার হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতো। কিন্তু আজকের রায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় আমরা ব্যথিত। আমরা পোমেল বড়ুয়ার ফাঁসি চাই।

 

 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষিত এই রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, একজনের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।