সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উজ্জল সম্ভাবনার বার্তা দিলেন ট্রাম্প

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ৫২ জন দেখেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে দাঁড়ি টানার লক্ষ্যে আলাস্কায় বৈঠক সেরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে সেখানে মেলেনি কোনও সমাধানসূত্র।

সোমবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করলেন ট্রাম্প। ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসের বৈঠকে রীতিমতো চাপের মুখে পড়েন জেলেনস্কি। এবার অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই হাল্কা ছিল। বৈঠকে বসার আগে জেলেনস্কির পোশাকের প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধবিরতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা-একাধিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। ইউক্রেনে শান্তি বজায় রাখতে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও জেলেনস্কির দেশে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ সবকিছু ঠিকঠাক চললে শীঘ্রই পুতিনের সঙ্গে ত্রিপাঠিক বৈঠকে বসব আমরা। এমনটা হলে যুদ্ধ বন্ধের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। আমরা সেটা থামাতে চাই। আশা করি পুতিনও এটাই চাইছেন।’ বৈঠক শেষে পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, সম্মিলিতভাবে এমন চুক্তি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে ইউক্রেনে কোনওরকম আগ্রাসন না হয়। ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কিও। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।’ এরপরেই ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ট্রাম্প।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টও। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, ‘ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে চলেছে হোয়াইট হাউসের এই সাক্ষাৎ।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর পরামর্শ, ‘আমার মনে হয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে রাশিয়া, ইউক্রেন, আমেরিকা ও ইউরোপীয় নেতাদের ফের আলোচনায় বসা উচিত।’

সোমবার সকালেই সমাজমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়া আর ফেরত পাবে না ইউক্রেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার আশাও ছাড়তে হবে জেলেনস্কির দেশকে। এদিন বৈঠকে বসার আগে স্ত্রী ওলেনা জেলেনোস্কার লেখা চিঠি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প-পত্নী মেলানিয়ারকে এই চিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি। তাহলে কি এবার আলোচনার মাধ্যমেই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ইতি টানতে চলেছেন ট্রাম্প? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

 

89
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উজ্জল সম্ভাবনার বার্তা দিলেন ট্রাম্প

আপডেট টাইম : ১২:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে দাঁড়ি টানার লক্ষ্যে আলাস্কায় বৈঠক সেরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে সেখানে মেলেনি কোনও সমাধানসূত্র।

সোমবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করলেন ট্রাম্প। ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসের বৈঠকে রীতিমতো চাপের মুখে পড়েন জেলেনস্কি। এবার অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই হাল্কা ছিল। বৈঠকে বসার আগে জেলেনস্কির পোশাকের প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধবিরতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা-একাধিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। ইউক্রেনে শান্তি বজায় রাখতে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও জেলেনস্কির দেশে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ সবকিছু ঠিকঠাক চললে শীঘ্রই পুতিনের সঙ্গে ত্রিপাঠিক বৈঠকে বসব আমরা। এমনটা হলে যুদ্ধ বন্ধের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। আমরা সেটা থামাতে চাই। আশা করি পুতিনও এটাই চাইছেন।’ বৈঠক শেষে পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, সম্মিলিতভাবে এমন চুক্তি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে ইউক্রেনে কোনওরকম আগ্রাসন না হয়। ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কিও। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।’ এরপরেই ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ট্রাম্প।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টও। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, ‘ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে চলেছে হোয়াইট হাউসের এই সাক্ষাৎ।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর পরামর্শ, ‘আমার মনে হয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে রাশিয়া, ইউক্রেন, আমেরিকা ও ইউরোপীয় নেতাদের ফের আলোচনায় বসা উচিত।’

সোমবার সকালেই সমাজমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়া আর ফেরত পাবে না ইউক্রেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার আশাও ছাড়তে হবে জেলেনস্কির দেশকে। এদিন বৈঠকে বসার আগে স্ত্রী ওলেনা জেলেনোস্কার লেখা চিঠি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প-পত্নী মেলানিয়ারকে এই চিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি। তাহলে কি এবার আলোচনার মাধ্যমেই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ইতি টানতে চলেছেন ট্রাম্প? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।