সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানালেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি রাষ্ট্রপতির নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর সমালোচনা করেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনেননি বা পড়েননি এবং সেই ভাষণ ও ভাষণ দেওয়ার সুযোগকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

তিনি রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুদকের কমিশনার হিসেবে তাকে তিনটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে অব্যাহতি দেওয়া এবং ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বাতিল করা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়, যা ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংক দুর্বল করার সঙ্গেও জড়িত এবং এতে বিপুলসংখ্যক আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া তিনি জুলাইয়ের গণহত্যার সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

 

 

শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে তার পক্ষে অবস্থান নেয়। এখন যখন একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তখন কেন তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না?’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানালেন নাহিদ ইসলাম

আপডেট টাইম : ০৪:৫২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি রাষ্ট্রপতির নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর সমালোচনা করেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনেননি বা পড়েননি এবং সেই ভাষণ ও ভাষণ দেওয়ার সুযোগকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

তিনি রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুদকের কমিশনার হিসেবে তাকে তিনটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে অব্যাহতি দেওয়া এবং ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বাতিল করা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়, যা ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংক দুর্বল করার সঙ্গেও জড়িত এবং এতে বিপুলসংখ্যক আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া তিনি জুলাইয়ের গণহত্যার সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

 

 

শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে তার পক্ষে অবস্থান নেয়। এখন যখন একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তখন কেন তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না?’