সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শতভাগ শিক্ষিত গ্রাম: সমস্যা মেটায় নিজেরাই, প্রয়োজন পড়েনা পুলিশের

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বে যমুনা ও হুরাসাগর নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন জনপদ দেওয়ান তারটিয়া। যমুনার ভাঙনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত এই গ্রামটি আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দেওয়ান তারটিয়া গ্রামটি শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা চাকরি। ১৯১১ সালে এখানে প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়, যা গত শতকের পঞ্চাশের দশকেই শতভাগে পৌঁছে।
শিক্ষাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করায় গ্রামটিতে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন। এখানে এখনো কোনো সমস্যায় পুলিশের সহায়তার প্রয়োজন পড়ে না। পারিবারিক বা সামাজিক যে কোনো বিরোধ গ্রাম্য প্রবীণরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দেন। ফলে গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ, সহিংসতা ও মামলা-মোকদ্দমামুক্ত।
ব্রিটিশ আমল থেকেই এই গ্রাম থেকে বহু উচ্চশিক্ষিত মানুষ বেরিয়ে এসেছেন, যারা পরবর্তী সময়ে দেশ ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার সমন্বয়েই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তবে সামাজিক উন্নয়নের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো পিছিয়ে রয়েছে দেওয়ান তারটিয়া গ্রামটি। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা আর বর্ষায় নৌকাই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সম্প্রতি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা দেওয়ান তারটিয়া আজ কেবল একটি জনপদ নয়, বরং শিক্ষা, শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় মডেল।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

শতভাগ শিক্ষিত গ্রাম: সমস্যা মেটায় নিজেরাই, প্রয়োজন পড়েনা পুলিশের

আপডেট টাইম : ০৫:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বে যমুনা ও হুরাসাগর নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন জনপদ দেওয়ান তারটিয়া। যমুনার ভাঙনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত এই গ্রামটি আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দেওয়ান তারটিয়া গ্রামটি শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা চাকরি। ১৯১১ সালে এখানে প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়, যা গত শতকের পঞ্চাশের দশকেই শতভাগে পৌঁছে।
শিক্ষাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করায় গ্রামটিতে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন। এখানে এখনো কোনো সমস্যায় পুলিশের সহায়তার প্রয়োজন পড়ে না। পারিবারিক বা সামাজিক যে কোনো বিরোধ গ্রাম্য প্রবীণরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দেন। ফলে গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ, সহিংসতা ও মামলা-মোকদ্দমামুক্ত।
ব্রিটিশ আমল থেকেই এই গ্রাম থেকে বহু উচ্চশিক্ষিত মানুষ বেরিয়ে এসেছেন, যারা পরবর্তী সময়ে দেশ ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার সমন্বয়েই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তবে সামাজিক উন্নয়নের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো পিছিয়ে রয়েছে দেওয়ান তারটিয়া গ্রামটি। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা আর বর্ষায় নৌকাই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সম্প্রতি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা দেওয়ান তারটিয়া আজ কেবল একটি জনপদ নয়, বরং শিক্ষা, শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় মডেল।