সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ: মামলা তুলে নিতে হুমকি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তাঁর দুই ভাই-বোনকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে মারধর, গাছে বেঁধে নির্যাতন এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এ ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ে। এরআগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সখিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়ালকান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্যা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে তরুণী তাঁর ভাই-বোনকে নিয়ে মনিরের দোকানে গেলে তাঁকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে প্রতিবাদ করলে মনির তাঁদের দোকানের পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয় এবং তরুণীর ভাই-বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে মনির মোল্যা, আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদারসহ কয়েকজন তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। একপর্যায়ে তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং জুতার মালা পরানোর অভিযোগও রয়েছে। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে সখিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ওই রাতেই ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

 

 

 

ভুক্তভোগীর মা বলেন, থানায় অভিযোগ করার পর আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি। নিরাপত্তার কারণে পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

 

 

 

ঘটনার সময় উপস্থিত এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তরুণীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা এবং তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পান। তাঁর ভাই-বোনকেও একটি ঘরে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

 

তবে অভিযুক্ত মনির মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই তরুণী ও তাঁর ভাই-বোন তাঁর দোকানে চুরি করেছিলেন। স্থানীয়রা তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। তরুণীর চুল কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন। কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

 

 

 

সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ: মামলা তুলে নিতে হুমকি

আপডেট টাইম : ০৬:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তাঁর দুই ভাই-বোনকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে মারধর, গাছে বেঁধে নির্যাতন এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এ ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ে। এরআগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সখিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়ালকান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্যা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে তরুণী তাঁর ভাই-বোনকে নিয়ে মনিরের দোকানে গেলে তাঁকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে প্রতিবাদ করলে মনির তাঁদের দোকানের পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয় এবং তরুণীর ভাই-বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে মনির মোল্যা, আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদারসহ কয়েকজন তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। একপর্যায়ে তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং জুতার মালা পরানোর অভিযোগও রয়েছে। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে সখিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ওই রাতেই ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

 

 

 

ভুক্তভোগীর মা বলেন, থানায় অভিযোগ করার পর আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি। নিরাপত্তার কারণে পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

 

 

 

ঘটনার সময় উপস্থিত এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তরুণীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা এবং তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পান। তাঁর ভাই-বোনকেও একটি ঘরে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

 

তবে অভিযুক্ত মনির মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই তরুণী ও তাঁর ভাই-বোন তাঁর দোকানে চুরি করেছিলেন। স্থানীয়রা তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। তরুণীর চুল কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন। কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। আফসানা, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

 

 

 

সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।