সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শাহজাদপুরে নিজের জায়গা বেদখল আটকাতে হামলার শিকার একটি পরিবার সপ্তাহ জুড়ে হাসপাতালে ! 

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর কাদাই গ্রামে ২৫ বছর আগে ক্রয়কৃত একটি বাড়িতে প্রতিবেশি মোঃ সামাদ আলী নামের এক দিনমজুর ঘর তোলার সময় বাঁধা দিলে হামলার শিকার হন জায়গার মালিক ইসরাইল প্রামাণিক ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল)  ভয়াবহ এ হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সপ্তাহ জুড়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ভুক্তভোগী ইসরাইল প্রামানিকের সন্তান ও ভাইয়েরা। এ ঘটনায় মোঃ ইসরাইল হোসেন বাদী হয়ে  শাহজাদপুর থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী পরিবার এবং এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর আগে মোঃ ইসরাইল হোসেন প্রতিবেশি মোঃ জেন্দার আলীর নিকট থেকে দুই দফায় ৭ শতাংশ জায়গা কিনে মাপ জরিপ করে বুঝে নেন। পরবর্তীতে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী খাজনা দিয়ে নামজারিও করেন। বিপত্তি বাধে জেন্দার আলীর মৃত্যুর পর। বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করা জেন্দার আলীর ওয়ারিশরা অবশিষ্ট দুই শতাংশের উপর বসবাসের জন্য ঘর তোলার সময় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মোঃ ইসরাইলকে অনুরোধ করলে কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেন। এরপর হঠাৎ করেই দুই শতাংশের জায়গায় ৪ শতাংশ জায়গা দাবী করে তারা। এ নিয়ে কয়েক দফা গ্রাম্য শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টাও করেন এলাকার প্রধানবর্গ। সর্বশেষ শালিস বৈঠকের মাধ্যমে মাপ জরিপ করে উভয় পক্ষের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং জেন্দার আলীর ওয়ারিশদের যেহেতু অল্প জায়গায় বসবাস করা সম্ভব নয় তাই তাদের বসবাসের জন্য এই দুই শতাংশ জায়গার বদলে অন্যত্র ৫ শতাংশ জায়গা ইসরাইল প্রামানিককে দিতে বললে তিনি রাজিও হন। কিন্তু হঠাৎ করে ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকার চতুর ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মোঃ সামাদ আলী ইসরাইল প্রামাণিকের জায়গার উপর জোরপূর্বক ঘর উত্তোলন শুরু করে। এতে ইসরাইল প্রামাণিক ও তার সন্তানেরা বাঁধা দিলে তাদের উপর দা, কুড়াল, হাসুয়া, শাবল এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে আব্দুস সামাদ, আব্দুল কুদ্দুস এবং উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ইসরাইল প্রামাণিক ও তার দুই সন্তান সাখাওয়াত হোসেন, রাশেদুল ইসলাম এবং ভাই রফিকুল ইসলাম, নুরনবীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ইসরাইল প্রামানিক জানান, তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বেদখল দেওয়ার চেষ্টা করছে মৃত জেন্দার আলীর সন্তানরা। ভাড়াটিয়া গুন্ডাদের সহযোগিতায় বেআইনী ভাবে আমার জায়গায় ঘর তুলতে নিলে বাঁধা দেওয়া তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নৃশংস হামলা চালায়। এই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে আমার সন্তানেরা সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে আব্দুস ছামাদের বাড়িতে গেলে কোন পুরুষ মানুষকে পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের নারী সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ির পুরুষরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

শাহজাদপুরে নিজের জায়গা বেদখল আটকাতে হামলার শিকার একটি পরিবার সপ্তাহ জুড়ে হাসপাতালে ! 

আপডেট টাইম : ০৮:০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর কাদাই গ্রামে ২৫ বছর আগে ক্রয়কৃত একটি বাড়িতে প্রতিবেশি মোঃ সামাদ আলী নামের এক দিনমজুর ঘর তোলার সময় বাঁধা দিলে হামলার শিকার হন জায়গার মালিক ইসরাইল প্রামাণিক ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল)  ভয়াবহ এ হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সপ্তাহ জুড়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ভুক্তভোগী ইসরাইল প্রামানিকের সন্তান ও ভাইয়েরা। এ ঘটনায় মোঃ ইসরাইল হোসেন বাদী হয়ে  শাহজাদপুর থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী পরিবার এবং এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর আগে মোঃ ইসরাইল হোসেন প্রতিবেশি মোঃ জেন্দার আলীর নিকট থেকে দুই দফায় ৭ শতাংশ জায়গা কিনে মাপ জরিপ করে বুঝে নেন। পরবর্তীতে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী খাজনা দিয়ে নামজারিও করেন। বিপত্তি বাধে জেন্দার আলীর মৃত্যুর পর। বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করা জেন্দার আলীর ওয়ারিশরা অবশিষ্ট দুই শতাংশের উপর বসবাসের জন্য ঘর তোলার সময় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মোঃ ইসরাইলকে অনুরোধ করলে কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেন। এরপর হঠাৎ করেই দুই শতাংশের জায়গায় ৪ শতাংশ জায়গা দাবী করে তারা। এ নিয়ে কয়েক দফা গ্রাম্য শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টাও করেন এলাকার প্রধানবর্গ। সর্বশেষ শালিস বৈঠকের মাধ্যমে মাপ জরিপ করে উভয় পক্ষের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং জেন্দার আলীর ওয়ারিশদের যেহেতু অল্প জায়গায় বসবাস করা সম্ভব নয় তাই তাদের বসবাসের জন্য এই দুই শতাংশ জায়গার বদলে অন্যত্র ৫ শতাংশ জায়গা ইসরাইল প্রামানিককে দিতে বললে তিনি রাজিও হন। কিন্তু হঠাৎ করে ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকার চতুর ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মোঃ সামাদ আলী ইসরাইল প্রামাণিকের জায়গার উপর জোরপূর্বক ঘর উত্তোলন শুরু করে। এতে ইসরাইল প্রামাণিক ও তার সন্তানেরা বাঁধা দিলে তাদের উপর দা, কুড়াল, হাসুয়া, শাবল এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে আব্দুস সামাদ, আব্দুল কুদ্দুস এবং উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ইসরাইল প্রামাণিক ও তার দুই সন্তান সাখাওয়াত হোসেন, রাশেদুল ইসলাম এবং ভাই রফিকুল ইসলাম, নুরনবীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ইসরাইল প্রামানিক জানান, তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বেদখল দেওয়ার চেষ্টা করছে মৃত জেন্দার আলীর সন্তানরা। ভাড়াটিয়া গুন্ডাদের সহযোগিতায় বেআইনী ভাবে আমার জায়গায় ঘর তুলতে নিলে বাঁধা দেওয়া তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নৃশংস হামলা চালায়। এই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে আমার সন্তানেরা সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে আব্দুস ছামাদের বাড়িতে গেলে কোন পুরুষ মানুষকে পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের নারী সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ির পুরুষরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।