নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ছাতারদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। বিদ্যালয়ের ৬টি শ্রেণিতে শিক্ষার্থী মাত্র ১৯ জন, বিপরীতে শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ৫ জন। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা থাকলেও নিয়মিত ও সময়মতো পাঠদান না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১১টা পেরিয়ে গেলেও শ্রেণিকক্ষগুলোতে পাঠদানের প্রত্যাশিত পরিবেশ ছিল না। শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকলেও পাঠদানে গতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থী কম থাকায় পাঠদান আরও মনোযোগী ও মানসম্মত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। তাদের ভাষ্য, “শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও যদি পাঠদান নিয়মিত না হয়, তাহলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দিনদিন বাড়ছে, অথচ তদারকি বা নজরদারির দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, শিক্ষার মান উন্নয়নে শুধু শিক্ষক নিয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা এবং কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা। তা না হলে প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার্থীদের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বেতনভোগী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব পালনে এমন শৈথিল্য কেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে? শিশুদের শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 

















