সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শিবগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা অমান্য করে জোরপূর্বক কোচিংয়ের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কোচিং/প্রাইভেট পড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রানা বাবু নিয়মিতভাবে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করছেন। শুধু তাই নয়, একাধিক অভিভাবকের দাবি শিক্ষার্থীদের উপর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ চাপ সৃষ্টি করে প্রাইভেটে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ক্লাসে পাঠদানে ইচ্ছাকৃত শৈথিল্য দেখিয়ে এবং পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিংমুখী করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কোচিং করাতে পারবেন না। এই নীতিমালা লঙ্ঘন স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক আচরণবিধিতেও নিজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি কেবল একটি অনিয়ম নয় বরং একটি সংগঠিত কোচিং বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অধিকারকে জিম্মি করে আর্থিক স্বার্থ হাসিল করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো চরমভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের  সহকারী শিক্ষক রানা বাবু সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তিনি বলেন  “আমি প্রাইভেট পড়াই, পড়াবো। আপনাদের কোনো বক্তব্য দেবো না। যা পারেন লিখেন, আমার কোনো সমস্যা নাই। এর আগে অনেক অভিযোগ হয়েছে, কেউ কিছু করতে পারেনি। আমি সবাইকে ম্যানেজ করে চলি।আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।”
এ ধরনের বক্তব্য শুধু নীতিমালার প্রকাশ্য অবমাননাই নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কে এই রানা তার খুঁটির জোড় কোথায় দেধারসে  সে আইনকে অমান্য করে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে প্রাইভেট পরিয়ে যাচ্ছে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ।  তার এই দম্ভ ও বেপরোয়া মনোভাব শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল এমনটাই মত স্থানীয়দের।
অভিভাবকরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বিস্তার লাভ করবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি আর অবহেলার সুযোগ নেই প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপই পারে এ ধরনের অনৈতিক কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধ করতে।
লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন আমাকে এই বিষয়টি নিয়ে আমাকে জেলা শিক্ষা অফিসার ফোন দিয়েছিলেন আমাকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমি রানা বাবুকে শোকজ  করব   দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব আর এই মুহূর্তে এখন থেকে স্কুলে কোন প্রাইভেট না পড়ায় সেজন্য বলা হয়েছে।
এই বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার( ভারপ্রাপ্ত) জয়নাল আবেদিন বলেন স্কুলে কোন প্রাইভেট পড়াতে পারবে না আর কেউ যদি পড়ায়  তার বিরুদ্ধে  অভিযোগ বা কোন প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি শোনার পরে তাৎক্ষণিক ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়েছি সেই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

শিবগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা অমান্য করে জোরপূর্বক কোচিংয়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৬:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কোচিং/প্রাইভেট পড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রানা বাবু নিয়মিতভাবে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করছেন। শুধু তাই নয়, একাধিক অভিভাবকের দাবি শিক্ষার্থীদের উপর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ চাপ সৃষ্টি করে প্রাইভেটে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ক্লাসে পাঠদানে ইচ্ছাকৃত শৈথিল্য দেখিয়ে এবং পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিংমুখী করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কোচিং করাতে পারবেন না। এই নীতিমালা লঙ্ঘন স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক আচরণবিধিতেও নিজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি কেবল একটি অনিয়ম নয় বরং একটি সংগঠিত কোচিং বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অধিকারকে জিম্মি করে আর্থিক স্বার্থ হাসিল করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো চরমভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের  সহকারী শিক্ষক রানা বাবু সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তিনি বলেন  “আমি প্রাইভেট পড়াই, পড়াবো। আপনাদের কোনো বক্তব্য দেবো না। যা পারেন লিখেন, আমার কোনো সমস্যা নাই। এর আগে অনেক অভিযোগ হয়েছে, কেউ কিছু করতে পারেনি। আমি সবাইকে ম্যানেজ করে চলি।আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।”
এ ধরনের বক্তব্য শুধু নীতিমালার প্রকাশ্য অবমাননাই নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কে এই রানা তার খুঁটির জোড় কোথায় দেধারসে  সে আইনকে অমান্য করে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে প্রাইভেট পরিয়ে যাচ্ছে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ।  তার এই দম্ভ ও বেপরোয়া মনোভাব শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল এমনটাই মত স্থানীয়দের।
অভিভাবকরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বিস্তার লাভ করবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি আর অবহেলার সুযোগ নেই প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপই পারে এ ধরনের অনৈতিক কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধ করতে।
লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন আমাকে এই বিষয়টি নিয়ে আমাকে জেলা শিক্ষা অফিসার ফোন দিয়েছিলেন আমাকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমি রানা বাবুকে শোকজ  করব   দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব আর এই মুহূর্তে এখন থেকে স্কুলে কোন প্রাইভেট না পড়ায় সেজন্য বলা হয়েছে।
এই বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার( ভারপ্রাপ্ত) জয়নাল আবেদিন বলেন স্কুলে কোন প্রাইভেট পড়াতে পারবে না আর কেউ যদি পড়ায়  তার বিরুদ্ধে  অভিযোগ বা কোন প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি শোনার পরে তাৎক্ষণিক ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়েছি সেই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।