সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চীনের সানইয়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ভ্রমণ Logo শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ Logo প্রশিক্ষণ নিতে রোববার পাকিস্তান যাচ্ছেন ৩৫ কর্মকর্তা Logo মানবিক সহায়তা হিসেবে ১৭৫ দেশকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে সৌদি আরব Logo মাদকাসক্ত যুবকের হাতে পৌর কর্মকর্তা নিহত, স্ত্রী গুরুতর আহত Logo নারীদের নৌকাবাইচ দেখতে নড়াইলে উপচে পড়া ভিড় Logo বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গানের মাঝে হঠাৎ বেজে উঠল ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি’ Logo এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ড ১০ লাখ ৩৭ হাজার আবেদন Logo মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় পৌর কর্মকর্তাকে হত্যা, স্ত্রী গুরুতর আহত Logo আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নতুন ইতিহাস, প্রথমবার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এশিয়া কাপ

শিল্পাঞ্চলে শান্ত পরিবেশ, নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

পুরোনো ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েকদিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জেলার প্রায় ৭২ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। উৎপাদনের চাপ থাকায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানায় সীমিত পরিসরে কাজ চলেছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও শ্রমিক বিক্ষোভ, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা নতুন করে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শনিবার বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

 

 

এদিকে গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আন্দোলনের সময় নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার বিকেলে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মী এবং এবি পার্টির নেতারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশি বাধার মুখে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়েই তাদের কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবা, গাজীপুর জেলা সদস্য সচিব আবুল কাশেম মাস্টার, এবি পার্টির জেলা ও মহানগর সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুল ইসলাম ইমন, এনসিপি গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মঞ্জুরুল ইসলাম টিটু, কার্যকরী সদস্য হাবিব চৌধুরী, গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির সদস্য সচিব উমর ফারুক, জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সাহানা আক্তার, গাজীপুর মহানগর শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম রাহুল, সদর মেট্রো থানার আহ্বায়ক আলী আকবর আকাশ, সদস্য সচিব রেদুয়ানুল হক মণ্ডল এবং গাজীপুর জেলা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক মাহিব হাসান রুদ্রসহ শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গত ৪ নভেম্বর চন্দনা চৌরাস্তায় গায়েবানা জানাজার কর্মসূচিতে আহত বলে উল্লেখ করা কোনাবাড়ী মেট্রো থানার সদস্য সচিব জামান ঢালি ও মুখ্য সংগঠক রকিবুল হাসান জয়ও কর্মসূচিতে অংশ নেন। দোয়া মাহফিল শেষে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, সরকার শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দিয়ে তাদের আশ্বাসের মধ্যে আটকে রেখেছে। ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করা শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার, মারধর এবং দলীয় অস্ত্রধারীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অতীতের দমন-পীড়নের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার স্মরণে সংশ্লিষ্ট সড়কের নামকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় নতুন করে আন্দোলন শুরু হতে পারে। বল প্রয়োগ করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দমন করা সম্ভব নয় বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। আন্দোলনের মধ্যে বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায়।

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সানইয়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ভ্রমণ

শিল্পাঞ্চলে শান্ত পরিবেশ, নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট টাইম : ১০:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

টানা কয়েকদিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জেলার প্রায় ৭২ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। উৎপাদনের চাপ থাকায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানায় সীমিত পরিসরে কাজ চলেছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও শ্রমিক বিক্ষোভ, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা নতুন করে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শনিবার বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

 

 

এদিকে গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আন্দোলনের সময় নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার বিকেলে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মী এবং এবি পার্টির নেতারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশি বাধার মুখে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়েই তাদের কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবা, গাজীপুর জেলা সদস্য সচিব আবুল কাশেম মাস্টার, এবি পার্টির জেলা ও মহানগর সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসাদুল ইসলাম ইমন, এনসিপি গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মঞ্জুরুল ইসলাম টিটু, কার্যকরী সদস্য হাবিব চৌধুরী, গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির সদস্য সচিব উমর ফারুক, জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সাহানা আক্তার, গাজীপুর মহানগর শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম রাহুল, সদর মেট্রো থানার আহ্বায়ক আলী আকবর আকাশ, সদস্য সচিব রেদুয়ানুল হক মণ্ডল এবং গাজীপুর জেলা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক মাহিব হাসান রুদ্রসহ শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গত ৪ নভেম্বর চন্দনা চৌরাস্তায় গায়েবানা জানাজার কর্মসূচিতে আহত বলে উল্লেখ করা কোনাবাড়ী মেট্রো থানার সদস্য সচিব জামান ঢালি ও মুখ্য সংগঠক রকিবুল হাসান জয়ও কর্মসূচিতে অংশ নেন। দোয়া মাহফিল শেষে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, সরকার শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দিয়ে তাদের আশ্বাসের মধ্যে আটকে রেখেছে। ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করা শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার, মারধর এবং দলীয় অস্ত্রধারীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অতীতের দমন-পীড়নের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার স্মরণে সংশ্লিষ্ট সড়কের নামকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় নতুন করে আন্দোলন শুরু হতে পারে। বল প্রয়োগ করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দমন করা সম্ভব নয় বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। আন্দোলনের মধ্যে বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায়।

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ