সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড সুতা বোঝাই কাভার্ডভ্যান জব্দ করার ১২ ঘণ্টা পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত বন্ডেড সুতা হিসেবে জব্দ করা হলেও সেটিকে ‘গার্মেন্টসের বৈধ পলেস্টার ঝুট’উল্লেখ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে সিরাজগঞ্জ–বেলকুচি সড়কের রাজাপুর ইউনিয়নের মাইঝাইল এলাকা থেকে সুতাভর্তি কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করে বেলকুচি থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেই একটি মুচলেকার মাধ্যমে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুচলেকায় সুতার মালিক আলমগীর হোসেন উল্লেখ করেন, আমার একটি কাভার্ড ভ্যানে গার্মেন্টস ঝুট সুতা জব্দ করে বেলকুচি থানা পুলিশ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত হলে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট থেকে গার্মেন্ট ঝুট সুতার কাভার্ড ভ্যান বুঝিয়া পাইলাম। গার্মেন্টস ঝুট সুতা বুঝিয়া পাইতে আমার কোন টাকা পয়সা লাগেনি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বেলকুচি থানা পুলিশ কিংবা উপজেলা প্রশাসন দায়ী থাকবে না। এতে বেলকুচি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুল আলম, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চন্দনগাঁতীর রাসেল তালুকদার ও গাড়ামাসী এলাকার হিমেলের স্বাক্ষর রয়েছে।

বেলকুচি থানায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জহুরুল হক বলেন, “স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়। পরে জানা যায়, মালামালটি গাছাবাড়ি গ্রামের সুতা ব্যবসায়ী হাজী ইসমাইল হোসেনের কেনা। তার প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা শেষে তার নির্দেশে মালামালসহ গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, আপাদের সাংবাদিকরাই সুতা ধরিয়ে দিয়েছে, আবার সেই সাংবাদিকই ছাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছে।
স্থানীয় কয়েক সাংবাদিক বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কাভার্ডভ্যানসহ সুতা জব্দ করা হয়। দিনভর আমরা তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদেরকে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বক্তব্য দেননি। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বেলকুচিতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড সুতা আমদানি করার ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেলকুচির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহানকে বার বার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি। তবে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “জব্দকৃত কাভার্ডভ্যানে ইসমাইল হাজী নামে এক ব্যক্তির লুঙ্গি তৈরির সুতা। ওটা ট্যাক্স দেওয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্যাক্সের কাগজ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাগজ সংরক্ষণে নেই।
সুতা ব্যবসায়ী হাজী ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে ভুল সাংবাদিকগন চোরাচালানের বন্ডেড সুতা মনে করে বেলকুচি থানা পুলিশকে খবর দিয়ে সুতা ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই শেষে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছেন।

রিপোর্টার: 

















