বারবার আবেদন করেও মেলেনি জনপ্রতিনিধিদের সাড়া। অবশেষে দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তির প্রতিবাদ জানাতে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের একমাত্র ইটসলিং রাস্তাটি গত ৫-৬ বছর আগে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ইট উঠে গিয়ে রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে এলাকার কৃষিপণ্য অটোভ্যানে করে বাজারে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনপ্রতিনিধিদের এমন উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং ভোগান্তি থেকে বাঁচতে গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তুলে একটি তহবিল গঠন করেন। পরবর্তীতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন তারা।
রাস্তা মেরামতের কাজ করার সময় স্থানীয় আব্দুর ইউসুফ নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদেও গিয়েছি, কিন্তু সেখানে কাজের কোনো উদ্যোগ বা বরাদ্দের খবর পাওয়া যায়নি। তারা আমাদের সবসময় বলে যে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই নিরুপায় হয়ে আমরা গ্রামবাসী নিজেদের খরচে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। এখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হচ্ছে। আমরা আশা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে সরকার যেন এই রাস্তার দিকে নজর দেয় এবং দ্রুত এটি কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করে।
এই সংস্কার কাজের উদ্দ্যোক্তা আসলাম মন্ডল বলেন, আমরা রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে আমরা বারবার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এমনকি ইউএনও সাহেবের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তার কোনো কাজ করে দেয়নি। বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার গিয়েছে, ১৫ বছর বিএনপি গিয়েছে- কিন্তু কেউ আমাদের এই রাস্তায় একটা টাকারও কাজ করে দেয়নি! সব জায়গায় ব্যর্থ হওয়ার পর আমরা গ্রামের মানুষ নিজেরা মিলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করেছি। এখন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আমরা নিজ হাতে এই রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। আমাদের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল আমাদের এই রাস্তার বিষয়টি ইউএনও সাহেবকেও কখনো জানাননি এবং এই রাস্তার প্রতি কোনো নজর দেননি।
রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার, জালাল, একরামুল, মিটু, হাশেম আলীসহ গ্রামবাসীরা দাবি করে জানান, চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বারবার গিয়ে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, কোনো কাজ হয়নি। আমাদের দুর্ভোগ কেউ দেখে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের সবাই মিলে টাকা তুলে রাস্তা মেরামত করছি। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি কার্পেটিং করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ওই গ্রামবাসী আমার কাছে এসেছিল এবং আমি প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল গ্রামবাসীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছে, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আগামীতে বরাদ্দ এলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়ন কাজ করা হবে।
যোগাযোগ করা হলে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী জানান, গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আগামী বরাদ্দে এই রাস্তার স্থায়ী কাজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ক্ষেতলালে ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় তুলশীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী সন্যাস মন্দিরে পূজা উদযাপন উপলক্ষে বসেছে ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা। গ্রামীণ এই মেলাটি স্থানীয়ভাবে ‘সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা’ হিসেবে পরিচিত। লোকজ সংস্কৃতি, দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্য আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই আয়োজন।
মেলার সঠিক ইতিহাস কেউ নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও জনশ্রুতি রয়েছে, সন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে দুইশত বছরেরও বেশি সময় আগে এই মেলার উৎপত্তি ঘটে। সেই থেকে পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার সকাল থেকে বসে এই ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন দোকানিরা মেলাপ্রাঙ্গণে পসরা সাজিয়ে বসেন। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে মানুষের ঢল নামে পুরো এলাকায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে পূজা অর্পণ করলেও এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সব ধর্মের মানুষের মাঝে। মেলাকে ঘিরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ; ঘরে ঘরে চলছে জামাই ও দূর সম্পর্কের স্বজনদের আপ্যায়নের ধুম।

রং-বেরঙের ঘুড়ি এই মেলার মূল আকর্ষণ হলেও, বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। মেলায় বসেছে রকমারি মিষ্টির দোকান, যেখানে বিভিন্ন আকারের আকর্ষণীয় মিষ্টি ও চিনির শাহী জিলাপি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
এছাড়া মেলায় বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নানা যন্ত্রের আমদানি নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। শিশুদের খেলনা এবং প্রসাধন সামগ্রীর দোকানেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
মেলায় আসা স্থানীয় মহব্বতপুর গ্রামের দুলাল ও জিয়াপুরের কাজী রফিকুল বলেন, আমাদের বাবা-দাদারা এই মেলায় আসতেন, আমরাও প্রতি বছর এখানে কেনাকাটা করতে আসি। এটি আমাদের আবেগের জায়গা।
শুধু স্থানীয়রাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
নওগাঁ জেলা থেকে আসা ফারুক হোসেন, বগুড়ার সোনাতলার নিতাই চন্দ্র এবং দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে আসা আলিফ হোসেন জানান, প্রতি বছর তাঁরা মূলত রঙ-বেরঙের ঘুড়ি কিনতেই এই সন্যাসতলীর মেলায় ছুটে আসেন।

দিনব্যাপী এই মেলাটি সরকারিভাবে ইজারা প্রদান করা হয়। স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উন্মুক্ত ডাকে অংশগ্রহণ করে ইজারা নিয়ে এই মেলার আয়োজন করেন।
ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মেলার মূল আকর্ষণ ঘুড়ি। তবে এটি এখন এই অঞ্চলের সব ধর্মের মানুষের একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সন্যাস মন্দির কমিটির সভাপতি মন্টু চন্দ্র বলেন, প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো এই মেলাটি আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনা করি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। এই মেলা আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
একদিন ব্যাপী এই মেলায় আগত হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ছিল তৎপর। ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে মেলাপ্রাঙ্গণে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
আধুনিকতার ভিড়ে যখন গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন জয়পুরহাটের এই সন্যাসতলীর মেলা আজও টিকিয়ে রেখেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি আর মানুষের আত্মিক মেলবন্ধন।

যে কারণে ফেসবুক-মেসেঞ্জারে বিভ্রাট

প্রায় এক ঘণ্টা বিভ্রাটের পর মেটা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম সচল হচ্ছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরোপুরি সচল হয়নি।
বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত এক লাখের বেশি ব্যবহারকারী ফেসবুকে সমস্যার অভিযোগ জানান। একই সময়ে প্রায় ১০ হাজার ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে এবং লগইন করতে সমস্যার কথা জানান।
ডাউনডিটেক্টর জানায়, বাংলাদেশে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটের পর থেকেই ফেসবুক আইডিতে লগইন করা যায়নি। যেগুলো ছিল, সেগুলোও অটো লগআউট হয়ে যাচ্ছিল। আবার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট রিলোড হতে দেরি হওয়া এবং নিউজফিড আপডেট না হওয়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন অনেকে অনেক ব্যবহারকারী।
ফেসবুকের মূল অ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী ত্রুটি বার্তা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিভ্রাটের কারণ জানায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যাটাস ওয়েবসাইটে ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজার সেবায় ‘উচ্চমাত্রার বিঘ্ন’ দেখা দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের প্রকৌশল দল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’

সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার

বিংশ শতাব্দীর যে সকল রাজনীতিবিদ বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্রত নিয়ে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। শনিবার (১৩ জুন) তাঁর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯০০ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাতী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা দেরাজ উদ্দিন তালুকদার ও মাতা করিমুন্নেসা চৌধুরী।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম, এ ও বিএল পাশ করার পর সিরাজগঞ্জ বারে আইনপেশায় নিয়োজিত হন। তিনি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ১৯২৭ সালে পাবনা ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের সদস্য ও পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে এম.এল.এ নির্বাচিত হন।
১৯৪২সালে তিনি বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল মুসলিমের এসিট্যান্ট সেক্রেটারী নিযুক্ত হন। ১৯৪২ সালে তাঁর উদ্যোগেই সিরাজঞ্জে বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল মুসলীম লীগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সভাপতিত্ব করেন কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় সরকারের পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৪৫ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় নেতা হিসাবে লন্ডনে ইমপেরিয়াল জুট কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলে।
১৯৪৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাহেবকে “খান বাহাদুর” খেতাবে ভূষিত করেন। তবে মুসলিম লীগের বোম্বে অল ইন্ডিয়া অধিবেশনে তিনি ওই উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন| ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জয়েন্ট চিফহুইপ নিযুক্ত হন এবং কোলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাংলার মানুষের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি সিরাজগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য এবং তিনি জেলার প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটেরও সদস্য ছিলেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প ও খনিজ মন্ত্রী থাকাকালীন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ উত্তরবঙ্গের ৬টি সুগার মিল, ঈশ্বরদীতে আলহাজ ষ্টিল মিল, পাকশী পেপার মিল, সিরাজগঞ্জে ওপেল বিস্কুট ফ্যাক্টরী, কওমী জুট মিল বর্ধিতকরণ, ইষ্টার্ন রিফাইনারি, রুপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের প্রাথমিক স্থান নির্ধারন নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।
তার সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয় ১টি ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি ও ১টি ফার্মাসিউটিক্যাল ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকারখানা।
১৯৬৯ সালে সক্রিয় রাজনীতির অবসান ঘটে তার। বার্ধ্যক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাসায়ী হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৩ই জুন মৃত্যুবরণ করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামের পৈত্রিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ছেলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ছোট ছেলে মঞ্জুর হাসান মাহমুদ খুশী সিরাজগঞ্জ পৌরসভার দুবারের মেয়র নির্বাচিত হন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের মেয়ে তাসমিনা মাহমুদ একজন খ্যতনামা চিকিৎসক ছিলেন।
তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম এ মতিন বাংলাদেশ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে নাতি ডক্টর এম এ মুহিত বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হোসেনপুর উপজেলায় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পর্যায়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভাবনা এবং বিজ্ঞানমনস্কতাকে উৎসাহিত করতে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) হোসেনপুর উপজেলা হল রুমে সকাল ১১ টায় শুরু হয় ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এই জমকালো প্রদর্শনী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ।
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- হোসেনপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মুজাহিদুল কবির শিহাব এবং হোসেনপুর থানার অফিসার ওসি মো. রাশেদুল ইসলাম।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি করা চমৎকার সব উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং নতুন স্টার্টআপ আইডিয়া প্রদর্শন করেন। দর্শনার্থী ও অতিথিরা ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনগুলো দেখেন এবং তাদের মেধার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী পর্বে প্রজেক্ট উপস্থাপনকারী সেরা দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শরীয়তপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করলেন সাঈদ আহমেদ আসলাম এমপি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এসময় শরীয়তপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করেন।এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় শরীয়তপুর সদর উপজেলাধীন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণামূলক প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। এদিকে, মেলাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

ঢাকায় চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ -এর আরোগ্য কামনা

শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ইবনে সিনা হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।
তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার সবার মাঝে ফিরে আসতে পারব।”
জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য শরীয়তপুরবাসী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনসহ সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
এদিকে তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁর আশু সুস্থতা কামনা করছেন।
সকলের দোয়া ও মহান আল্লাহর রহমতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্খীরা।

গজারিয়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা পর্যায়ের ‘ বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলা, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুক্রবার সকাল ১০টায় গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত দল অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞান প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং বাস্তবমুখী ইনোভেশন আইডিয়া উপস্থাপন করে উপস্থিত অতিথি, বিচারক ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (SEDP) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. হামিদা মুস্তফা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফজলুর করিম, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণামুখী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা বলেন, আজকের এই খুদে উদ্ভাবকরাই আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রকল্পে পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের নতুন নতুন ধারণা উঠে আসে, যা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
দিনব্যাপী মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করে টেংগারচর রাজিয়া কাদের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে বাউশিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইসমানিরচর উচ্চ বিদ্যালয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নদীভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার: নুরুদ্দিন অপু

জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি বলেছেন, সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আবুপুর ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ কাজের আওতায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ অপু বলেন, শুধু জিও ব্যাগ ডাম্পিং নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো মানুষ নদীভাঙনের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুশরাত আরা খানম, গোসাইরহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম সিদ্দিক আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডামুড্যা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সেলিম মোল্যা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আখতারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সাবস্ক্রিপশন নিয়েও ম্যাচ দেখা যাচ্ছে না, টফি-বায়োস্কোপ নিয়ে বিতর্ক

ডিজিটাল দুনিয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর। খেলা দেখা থেকে বিনোদনের দুনিয়া সব আয়োজনই এখন এক ছাতার নিচে পাচ্ছে মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশে এসব প্ল্যাটফর্মেও যেন ভোগান্তির শেষ নেই।
অনেক জলঘোলার পর ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারিত হচ্ছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন অফিসিয়ালি সম্প্রচার করছে সব ম্যাচ। এর সঙ্গে অনলাইনেও বেশ কয়েকটি স্ট্রিমিং অ্যাপসের মাধ্যমে খেলা দেখা যাচ্ছে। সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন কিংবা স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ এবং আইস্ক্রিনে খেলা দেখার সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই বৃহস্পতিবার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কেনা এসব প্ল্যাটফর্মগুলোর গ্রাহকরা। নিজেদের ‘প্রতারিত’ মনে করছেন অনেকেই। গতকাল রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগগুলোর মধ্যে মোটাদাগে রয়েছে, বাফারিং হওয়া, ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) কোড ঠিকমতো না আসা এবং অনেকেই লগইন করতে পারছেন না।
সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে পড়েছে বাংলালিংকের টফি। অনেকে মজাচ্ছলেই বলছেন, টফি রীতিমতো মানুষকে ‘টুপি’ পরিয়ে দিয়েছে। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল শব্দটাই একটা স্ক্যাম। এখন পর্যন্ত এদের সার্ভারে খেলা দেখে কারোরই ভালো ফিডব্যাক পাইনি। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হইলেই আর কাজ করে না। লো ক্যাপাসিটি দিয়ে এত লোড নেবে কিভাবে? অথচ আপনি পাশের দেশের জিও বা প্রাইম এসবে যান দেখবেন সব স্মুথ। ব্যবসা সবাই করে। তবে সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে লোক ঠকিয়ে ব্যবসাটা বেশি করা হয়।
এবারের বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাচ্ছে আইস্ক্রিনেও। এখানেও অনেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ আবার লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়ার কথাও ভাবছেন। কেউ কেউ ভোক্তা অধিকারে টফি ও বায়োস্কোপের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
দুঃখপ্রকাশ টফির
গ্রাহকদের তুমুল সমালোচনার মুখে দুঃখপ্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টফি। নিজেদের পেজে এক বার্তায় তারা বলছে, ডিজিটাল সম্প্রচার ফিড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিশ্বকাপের লাইভ সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছি। আপনার অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

পর্দায় আসছে নতুন গ্রামীণ ধারাবাহিক ‘গ্রামের নাম সুন্দরপুর’

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছেন নতুন আরও একটু ধারাবাহিক নাটকের প্রচার। নাটকের নাম ‘গ্রামের নাম সুন্দরপুর’। ১৩ জুন থেকে বৈশাখী টিভিতে শুরু হবে এর প্রচার। সপ্তাহে তিন দিন শনি, রবি ও সোমবার রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে নাটকটি দর্শক দেখতে পারবেন। মোঃ শাহাদাৎ হোসেনের লেখা গল্প নিয়ে নির্মিত এ নাটকের চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন আকাশ রঞ্জন। অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজি সিদ্দিকী, শফিক খান দিলু, শাকিলা পারভিন, মুকুল সিরাজ, সিদ্দিক মাস্টার, বাদল শহিদ, সাহেলা আক্তার, রূপক রেজা, রাহুল দেবরাজ, সোনিয়া, সাগরিকাসহ আরো অনেকেই।
নাটকের কাহিনী বলতে গিয়ে পরিচালক আকাশ রঞ্জন বলেন, ‘এমন একটা সময় ছিল যখন সুন্দরপুর গ্রামে মানুষের মধ্যে সম্প্রতির বন্ধন ছিল, প্রবল ভালোবাসা ও সম্মান ছিল। বর্তমানে নৈতিক অবক্ষয় আর অমানবিকতা গ্রাস করে ফেলেছে সমাজকে। সুন্দরপুর নামক গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের মানসিক অবস্থারও ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগেকার দিনে প্রশ্বস্ত খেলার মাঠ ছিল, যুবকরা ফুটবল, হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট খেলতো, যাত্রাপালা আর সিনেমা দেখতো। আর এখন? যুবকরা সারাদিন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। গ্রামের মানুষের কোনো দিকে কোনো খেয়াল নেই। কারো অভাব অনটনের কথা শুনলেও আগের মতো ভালোবাসাটা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসে না। বর্তমানের নৈতিক আর মানবিক অবক্ষয়কেই তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে।’

অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য বাজেট যথেষ্ট নয়: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাজেট দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কার আনতে পারবে না।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজেটের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কিংবা সুশাসন নিশ্চিত করার মতো কার্যকর পদক্ষেপেরও অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হয়নি। বর্তমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর মাধ্যমে এমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ উল্লেখ করে বলেন, অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও এ বাজেটের রূপরেখায় সে ধরনের কোনো উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, কয়েকটি পণ্যে কর কমানো হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে অতীতে এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নজির নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় জোট দেশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মসূচি পালন করছে।
বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে নেই। বড় বাজেটের সঙ্গে বড় ধরনের দুর্নীতির ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভক্তদের মিলনমেলা, আকর্ষণ ৫০০ হাতের পতাকা

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বড় পতাকা তৈরির উৎসব ও উন্মাদনা দেখা গেছে। উপজেলার হাটিথানা পুটিমারী এলাকায় ব্রাজিল সমর্থকরা ৩০০ হাত ও আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকা তৈরি করে শোভাযাত্রা করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুটিমারী এলাকায় ভক্তরা ব্রাজিলের ৩০০ হাত ও আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শোভাযাত্রা করেছেন। শোভাযাত্রা শেষে বাঁধের রাস্তার দুপাশে দুই দলের ভক্তরা প্রিয় দলের পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছেন।
এছাড়াও শহর ও গ্রামের অলিগলি, রাস্তার দুধার, গাছ বা বাড়ির ছাদে দোল খাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ইরান, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকের মধ্যে চলছে পতাকা বানানোর প্রতিযোগিতা।
স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিশ্বকাপে এলাকার তরুণেরা মিলে নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা লাগানোর এ উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। উৎসাহ দিতে এলাকার প্রবাসী ও বড়রাও এতে অর্থায়ন করেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, দুই দলের সমর্থকের মধ্যে অনেকদিন থেকেই চলছে কথার ঢিল ছোড়াছুড়ি।
ব্রাজিল সমর্থক রাসেল বলেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমাদের এলাকায় ব্রাজিল সমর্থক বেশি। আমরা যে দলই পছন্দ করি না কেন, সবাই মিলে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করি।
হাটিথানা এলাকার পলাশ নামের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, বিশ্বকাপ এলেই ফুটবল খেলা নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন দলের সমর্থক প্রিয় দলের পতাকা টানানো ও জার্সি পরতে দেখা যায়। দল যার যার হলেও আমরা সবাই একযোগে আনন্দ করি। আর্জেন্টিনা দলের সব খেলোয়াড়দের খেলা আমার ভালো লাগে।

৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ: গভর্নর

সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এ তথ্য সঠিক নয়। ব্যাংকগুলোকে ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর কিছুদিন পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। পরে একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত নতুন এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যার আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২৫ মার্চ।
গভর্নর বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে একজন এমডি নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে মে মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

দিনাজপুরের বিরামপুরে ৫৩৩ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ৩

দিনাজপুরের বিরামপুরে পৃথক দুটি অভিযানে সর্বমোট ৫৩৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মামলা দায়েরের পর তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কচুয়া মির্জাপুর শালবাগান বাজার থেকে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ দক্ষিণ জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে মোঃ মোস্তাক (৫১) ও মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ মতিয়ার রহমান (৩৫)-কে আটক করা হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ দাউদপুর গ্রাম থেকে ৩৩ পিস ট্যাবলেটসহ উত্তর কসবা গ্রামের মজলুর রহমানের ছেলে মোঃ রুহুল কবির (৩৩)-কে গ্রেফতার করা হয়।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণেই এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী
সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি তার বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেন, সরকারের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই বাজেট দেওয়া ছিল চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। তিনি বাজে তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রেজিম ও অন্তর্বর্তী সরকারের পর এই বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে। সরকার প্রতিটি মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও দর্শনের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বাজেট তৈরির সময় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি মূলত পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ছিল। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা সংগঠিত স্বার্থান্বেষী মহল অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করলেও অনেক মানুষ উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গিয়েছিল। এবারের বাজেটে সেই বৈষম্য কমিয়ে সব শ্রেণির মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমিত সম্পদ ও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটে সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট, দর্শন ও পরিকল্পনা অন্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রণীত এ বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

মুন্সীগঞ্জ শহরে ফ্ল্যাট বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট

মুন্সীগঞ্জ শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান শাড়িসহ প্রায় ১৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ জুন গভীর রাতে শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত নিজ ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাটটির মালিক মোহাম্মদ কবির আন নূর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কবির আন নূরের স্ত্রী বাসায় এসে দরজা খুলতে না পেরে সন্দেহ করেন। পরে ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে রান্নাঘরের ভেন্টিলেটর খোলা দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
এ সময় ঘরের তিনটি আলমারির তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘরের কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালামাল এলোমেলো করে রাখা ছিল। আলমারিতে থাকা সোনার চুড়ি, চেইন, কানের দুল, ব্রেসলেট, মাথার টিকলিসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। এছাড়া একটি ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন এবং কয়েকটি মূল্যবান বিয়ের শাড়িও নিয়ে যায় চোরেরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
চুরির এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বাজেট রঙ্গিন হাওয়াই মিঠাইর মত : মোমিন মেহেদী

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, এ বাজেট রঙ্গিন হাওয়াই মিঠাইর মত। দেখতে বড়-সুন্দর কিন্তু তা সামাণ্য বাতাসে, সামাণ্য চাপে চিপসে শূণ্যে মিলিয়ে যাবে। কারণ, এই বাজেটের প্রধান অন্তরায় মার্কিন চুক্তি আর আইএফএম-এর ঋণ। যে পর্যন্ত তারেক রহমানের সরকার জঙ্গী-জামায়াত মদদপুষ্ট মার্কিনী চুক্তি বাতিল আর ঋণের বোঝা সরাতে না পারবে, সেই পর্যন্ত তার বাজেটসহ কোনো উদ্যেগই সফল হবে না।
১২ জুন সকালে তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি আয়োজিত বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়া সভায় উপরোক্ত কথা বলেন।
এসময় মোমিন মেহেদী আরো বলেন, এক কর্মী সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, মার্কিনী চুক্তি বহাল রেখে বাজেট ঘোষণা আর গলায় ফাঁসির রশি নিয়ে বিয়ে করা সমান অবস্থায় জনগণ দেখতে পেলেও, সরকার আর গৃহপালিত বিরোধী দলগুলো দেখতেও পাচ্ছে না। কাঠের চশমা চোখে দিয়ে এনসিপি-জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের জোট জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে যখন, তখন সরকারের এমন অসম, অপরিকল্পিত, ফাপা বাজেট নতুন করে ঋণের বোঝা যেমন বড় করবে, তেমনই দারিদ্র ও দরিদ্রের সংখ্যা বাড়াবে। সভায় বক্তব্য রাখেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম মোল্লা, কাউসার বেপারী প্রমুখ।
এসময় শান্তা ফারজানা বলেন, বাংলাদেশ বিরোধী-যুদ্ধাপরাধীরা দেশ ধ্বংস করার এজেন্ডা নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এসেছে, তারা বাজেট সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। বরং তারা আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি, ধর্ষণ, খুন, সহিংসতাকে দেখেও না দেখার, জেনেও না জানার অভিনয় করছে। এতে করে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি হুমকির মধ্যে পরছে যখন তখন তারা তাদের গাড়ি-বাড়ি-কাড়িকাড়ি টাকা কামানোতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
এসময় নতুনধারার নেতৃবৃন্দ বলেন, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই দেশ ও জনবিরোধী-স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। সেই ষড়যন্ত্রে কারণে আজ বন্দর, সেন্টমার্টিন এমনকি বাণিজ্য খাতটা পর্যন্ত আমেরিকাসহ দেশবিরোধী চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে; তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীচক্র বলেই মার্কিনী চুক্তি বহাল রেখে বাজেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছেন। মধ্যিখানে জামায়াত-এনসিপি মিলেমিশে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে, ছাত্র-যুব-জনতাকে দালাল ট্যাগ লাগিয়ে ক্রমশ সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করছে।

চীন প্রতিদিন বদলাচ্ছে, বাংলাদেশকেও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে হবে- মির্জা ফখরুল

চীনকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উল্লেখ্য করে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন প্রতিদিন বদলাচ্ছে এবং ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছাচ্ছে। দেশটি তার নিজস্ব জনগণের কল্যাণের পাশাপাশি এখন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় ধরণের সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে চীনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
শুক্রবার ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে চীন সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইতিমধ্যে আমি দুবার চীন সফর করেছি। সেই সুবাদেই উনাকে বিশেষভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছি। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা তৈরি করতে চাই। চীনা রাষ্ট্রদূত আমাদের এই শিল্পায়নের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান যে, আগামী বছর চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন এবং এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করে বিনিয়োগ ও শিল্প কারখানা স্থাপনের রূপরেখা চূড়ান্ত করবেন।
শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে চীন সরকারের সৌজন্যে এলাকার মোট ৬,৫০০ জন শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপহার পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
শিক্ষা উপকরণ বিতরণী এই জমকালো অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: চীনের রাষ্ট্রদূত মিস্টার ইয়ো ওয়েন, জেলা প্রশাসক, মোহাম্মদ রফিকুল হক,পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা আহ্বান বিকেএমের

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম)। শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘নবজাতকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। কোনোভাবেই দায়ীদের দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘তদন্ত ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় গত ১১ জুন পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আদ-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প ব্যয়ে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। শত শত ভর্তি রোগী ও প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক সেবাগ্রহিতার চিকিৎসা চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।’
বিকেএম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অবহেলা, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও চিকিৎসাগত ত্রুটিজনিত ঘটনা অতীতেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনার জন্য পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া স্থায়ী সমাধান নয়। বরং দায়ী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে ত্রুটি সংশোধন এবং সেবার মান নিশ্চিত করাই অধিকতর কার্যকর পন্থা।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখে কঠোর তদারকির মাধ্যমে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা চালু রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ সরকারের প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, তবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়।
তিনি অবিলম্বে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

হঠাৎ করে বিশ্বকাপে ডাক, মেসিদের সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলার সুখবর

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে নিজেদের রক্ষণভাগ নতুন করে সাজাতে হচ্ছে আর্জেন্টিনা দলকে। ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির আকস্মিক চোট আলবিসেলেস্তেদের ক্যাম্পে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে বালের্দির এই দুর্ভাগ্যই শেষ মুহূর্তে ভাগ্য খুলে দিল মার্কোস সেনেসির। ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে অল্পের জন্য বাদ পড়া খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকা সেনেসিকে অবশেষে দলে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
হঠাৎ করে বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ার এই খবরটি সেনেসির চেয়েও যেন বেশি ছুঁয়ে গেছে তার প্রেমিকা ও পেশাদার ফুটবলার কেলসি রোজকে। খবরটি পাওয়ার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ইনস্টাগ্রামে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সেনেসির একটি ছবির ওপর তিনি লিখেছেন, ‘ওহ মাই গড! অবশেষে এটা সত্যি হচ্ছে।’
স্পেনের ইবিসায় ছুটি কাটানোর সময় স্কালোনির সেই কাঙ্ক্ষিত ফোনকলটি যখন আসে, কেলসি তখন সেই বিশেষ মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করে রাখেন। কেলসি জানান, পুরো ট্রিপ জুড়েই তারা মনে-প্রাণে প্রার্থনা করছিলেন যেন সেনেসি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।
সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে নাম লেখানো এই ডিফেন্ডারের ক্যারিয়ারে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। সুযোগ পেয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, বিশ্বকাপে খেলার যে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আমি লালন করেছি, তা পূরণ করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই খুশি।’
সেনেসি ও কেলসির প্রেমের গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন তারা দুজনেই খেলতেন ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথে (সেনেসি পুরুষ দলে এবং কেলসি নারী দলে)। ক্লাবের নতুন জার্সি উন্মোচনের এক ফটোশুটের সময় তাদের প্রথম পরিচয় হয়, যা দ্রুতই সম্পর্কে রূপ নেয়। সেনেসির দেশ ও সংস্কৃতিকে জানতে কেলসি এর আগে আর্জেন্টিনা ঘুরেও এসেছেন।
২২ বছর বয়সী কেলসি রোজ একজন ইংলিশ ফুটবলার। চেলসি একাডেমি দিয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা কেলসি ২০২১-২২ মৌসুমে এফএ অনূর্ধ্ব-২১ সাউদার্ন ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি বোর্নমাউথ উইমেনের হয়ে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং পোর্টসমাউথের হয়েও কিছুদিন খেলেছেন তিনি।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কেলসির দারুণ জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি, যেখানে তিনি নিজের প্রতিদিনের জীবন, ফ্যাশন ক্যাম্পেইন এবং সেনেসির সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্ত শেয়ার করে থাকেন।

পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজার ৪৯১ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন চার হাজার ২৮৯ জন হাজি। আর বেসরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন ৪৮ হাজার ২০২ জন।
শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত হজ বুলিটিন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
একই সময়ে সৌদিতে হজে গিয়ে মারা গেছেন ৪৯ জন।
দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২১ হাজার ৯২০ জনকে, সৌদি এয়ারলাইন্স ১৮ হাজার ৮৮০ জনকে, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স আট হাজার ৩৮০ জনকে পরিবহন করেছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন তিন হাজার ৩১১ জন।
এখন পর্যন্ত ফিরতি ফ্লাইট সংখ্যা ১২৩টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৭টি, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
হজে গিয়ে সৌদি আরবে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬২ হাজার ২৪৩ জন। আর এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ বাংলাদেশি হাজির।
উল্লেখ্য, হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
হিজবুল্লাহর ৩১০ স্থাপনায় হামলার দাবি করল ইসরায়েল
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৩১০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযানে প্রায় ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।
একই সময়ে গাজা উপত্যকায় পরিচালিত সামরিক অভিযানে ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
যদিও লেবানন ও গাজা, উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবুও ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, সামরিক অভিযান এবং ভূখণ্ডে উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে এসব ঘটনার বিষয়ে হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েল বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী।
2 thoughts on “সমাধান কি হাসপাতাল বন্ধ, নাকি জবাবদিহি নিশ্চিত করা?”