সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সরিষাবাড়ীতে টোকেন বাণিজ্য, চিকিৎসকের কার্ডে মিলছে জ্বালানি তেল

ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তেল নিতে আসা এক চালক। ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে এক অভিনব ও বিতর্কিত কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার বাউসী এলাকায় অবস্থিত পপুলার ঝিনাই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে এক সরকারি চিকিৎসকের ভিজিটিং কার্ডকে টোকেন হিসেবে ব্যবহার করে তেল বিক্রির ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনব্যাপি ফিলিং স্টেশনে এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তেল বিক্রি করতে দেখা যায়।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজের ভিজিটিং কার্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। স্থানীয় একদল অসাধু চক্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে এই ভিজিটিং কার্ডগুলো কৃষিজীবী ও বাইকারদের কাছে বিক্রি করছে।

জানা যায়, পাম্পে দীর্ঘ লাইন থাকলেও যার কাছে এই জাদুকরী কার্ড থাকছে, তিনি কোনো অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত ডিজেল বা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন। সাধারণ গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেলেও, বাড়তি টাকার বিনিময়ে কার্ড সংগ্রহকারীদের প্রাধান্য দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই অদ্ভুত বাণিজ্যের বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজ বলেন, আমার ভিজিটিং কার্ড নিয়ে কে বা কারা কী করছে, তা আমার জানার বিষয় নয়। আমি কোনো কার্ড বিক্রি করিনি।

অন্যদিকে ঝিনাই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করে জানান, তারা কোনো টোকেন বা কার্ড বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এমন বাণিজ্য সম্ভব নয়। এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির দায়ে এই ফিলিং স্টেশনকে একাধিকবার জরিমানা করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

 

জ্বালানি তেলের মতো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিতরণে এমন বৈষম্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘বড় ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

 

 

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা আছে তা দ্রুত তদন্ত করা হোক। সরকারি চিকিৎসকের কার্ড কেন এবং কীভাবে এখানে ব্যবহার হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হোক। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধে পাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

 

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা রিছিল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কেউ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু

সরিষাবাড়ীতে টোকেন বাণিজ্য, চিকিৎসকের কার্ডে মিলছে জ্বালানি তেল

আপডেট টাইম : ১২:৫২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে এক অভিনব ও বিতর্কিত কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার বাউসী এলাকায় অবস্থিত পপুলার ঝিনাই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে এক সরকারি চিকিৎসকের ভিজিটিং কার্ডকে টোকেন হিসেবে ব্যবহার করে তেল বিক্রির ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনব্যাপি ফিলিং স্টেশনে এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তেল বিক্রি করতে দেখা যায়।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজের ভিজিটিং কার্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। স্থানীয় একদল অসাধু চক্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে এই ভিজিটিং কার্ডগুলো কৃষিজীবী ও বাইকারদের কাছে বিক্রি করছে।

জানা যায়, পাম্পে দীর্ঘ লাইন থাকলেও যার কাছে এই জাদুকরী কার্ড থাকছে, তিনি কোনো অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত ডিজেল বা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন। সাধারণ গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেলেও, বাড়তি টাকার বিনিময়ে কার্ড সংগ্রহকারীদের প্রাধান্য দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই অদ্ভুত বাণিজ্যের বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজ বলেন, আমার ভিজিটিং কার্ড নিয়ে কে বা কারা কী করছে, তা আমার জানার বিষয় নয়। আমি কোনো কার্ড বিক্রি করিনি।

অন্যদিকে ঝিনাই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করে জানান, তারা কোনো টোকেন বা কার্ড বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এমন বাণিজ্য সম্ভব নয়। এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির দায়ে এই ফিলিং স্টেশনকে একাধিকবার জরিমানা করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

 

জ্বালানি তেলের মতো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিতরণে এমন বৈষম্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘বড় ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

 

 

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা আছে তা দ্রুত তদন্ত করা হোক। সরকারি চিকিৎসকের কার্ড কেন এবং কীভাবে এখানে ব্যবহার হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হোক। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধে পাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

 

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা রিছিল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কেউ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।