সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সহকর্মী দুই শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিলেন প্রধান শিক্ষক!

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • 142

প্রতিবেদক, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ):

দুই সহকর্মী শিক্ষিকার সাথে অশালীন আচরণ ও কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে সোমবার (২৫ আগষ্ট) ভুক্তভোগী দুই শিক্ষিকা তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ ওই দুই শিক্ষিকা উল্লেখ করেছেন,  প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালাম প্রতিদিনই বিদ্যালয়ে এসে দুই নারী সহকর্মীকে নিজের বসার চেয়ার পরিস্কার করতে বলেন এবং চা দিতে বলেন। আবার ওই শিক্ষিকাদের নিজ বাড়িতে তার এসি কক্ষে শুয়ে বসে আরাম আয়েসে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করার জন্য প্রস্তাবও দেন।

 

এ নিয়ে কিছু দিন পূর্বে শিক্ষিকাদ্বয় তাড়াশ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এ নিয়েও প্রধান শিক্ষক আব্দুল সালাম ওই শিক্ষকাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। পাশাপাশি অভিযোগকারী শিক্ষিকাদের এ জন্য চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুমকিও দেন। এছাড়াও শিক্ষক সালামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ফকিন্নির ছেলে-মেয়ে বলে গালাগাল করা। বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ তাঁর ছেলে মেয়ে কে দিয়ে ব্যবহার করারও বিস্তর অভিযোগ আছে।

অন্যদিকে সাদিয়া নামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়, চারুকারু পরীক্ষার সময় আমরা যে ঝাড়–, ছাপ্টা নিয়ে আসি সেগুলো সব উনার বাড়িতে গিয়ে গেছেন। আজ আমাদের স্কুলে বড় স্যার এসেছেন অথচ ঝাড়–র অভাবে আমরা কোন রুম পরিস্কার করতে পারি নাই। রুমান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের অনেক সময় তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাজ করে নেন। নতুন ওয়াসরুম ব্যবহার করতে গেলে আমাদের ধরে মারেন।

কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে প্রধান শিক্ষকের কাছে থেকে একজন শিক্ষকের সম্মান কখনও পাইনি। তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকির মাঝেই রাখেন।

অবশ্য, এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজাউল করিমকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ঠ এক তদন্ত কমিটির গঠন করেছেন।

আর সে কমিটির সদস্যরা দুপুরে ঘটনাস্থল কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সাথে কথাও বলেছেন।

এ দিকে অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার বেলা ১২টার কলামুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত দল আসলে স্থানীয় শতাধিক লোকজন ওই প্রধান শিক্ষককের অপসরণ দাবী করে মিছিলও করেন।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র চলছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ বিকালে জানান, তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ওই শিক্ষক দোষী প্রমানীত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

সহকর্মী দুই শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিলেন প্রধান শিক্ষক!

আপডেট টাইম : ০৭:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

প্রতিবেদক, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ):

দুই সহকর্মী শিক্ষিকার সাথে অশালীন আচরণ ও কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে সোমবার (২৫ আগষ্ট) ভুক্তভোগী দুই শিক্ষিকা তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ ওই দুই শিক্ষিকা উল্লেখ করেছেন,  প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালাম প্রতিদিনই বিদ্যালয়ে এসে দুই নারী সহকর্মীকে নিজের বসার চেয়ার পরিস্কার করতে বলেন এবং চা দিতে বলেন। আবার ওই শিক্ষিকাদের নিজ বাড়িতে তার এসি কক্ষে শুয়ে বসে আরাম আয়েসে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করার জন্য প্রস্তাবও দেন।

 

এ নিয়ে কিছু দিন পূর্বে শিক্ষিকাদ্বয় তাড়াশ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এ নিয়েও প্রধান শিক্ষক আব্দুল সালাম ওই শিক্ষকাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। পাশাপাশি অভিযোগকারী শিক্ষিকাদের এ জন্য চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুমকিও দেন। এছাড়াও শিক্ষক সালামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ফকিন্নির ছেলে-মেয়ে বলে গালাগাল করা। বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ তাঁর ছেলে মেয়ে কে দিয়ে ব্যবহার করারও বিস্তর অভিযোগ আছে।

অন্যদিকে সাদিয়া নামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়, চারুকারু পরীক্ষার সময় আমরা যে ঝাড়–, ছাপ্টা নিয়ে আসি সেগুলো সব উনার বাড়িতে গিয়ে গেছেন। আজ আমাদের স্কুলে বড় স্যার এসেছেন অথচ ঝাড়–র অভাবে আমরা কোন রুম পরিস্কার করতে পারি নাই। রুমান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের অনেক সময় তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাজ করে নেন। নতুন ওয়াসরুম ব্যবহার করতে গেলে আমাদের ধরে মারেন।

কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে প্রধান শিক্ষকের কাছে থেকে একজন শিক্ষকের সম্মান কখনও পাইনি। তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকির মাঝেই রাখেন।

অবশ্য, এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজাউল করিমকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ঠ এক তদন্ত কমিটির গঠন করেছেন।

আর সে কমিটির সদস্যরা দুপুরে ঘটনাস্থল কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সাথে কথাও বলেছেন।

এ দিকে অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার বেলা ১২টার কলামুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত দল আসলে স্থানীয় শতাধিক লোকজন ওই প্রধান শিক্ষককের অপসরণ দাবী করে মিছিলও করেন।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র চলছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ বিকালে জানান, তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ওই শিক্ষক দোষী প্রমানীত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয ব্যবস্থা নেওয়া হবে।