নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ:
সকাল শুরু হয় পুকুরে মাছের খাবার ছিটিয়ে। দুপুরে ছুটে যান খবর সংগ্রহে কখনো সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায়, কখনো পুকুর পাড়ে। এক হাতে কলম, আরেক হাতে মাছ ধরার জাল। তিনিআব্দুর রাজ্জাক রাজ সাংবাদিক ও মৎস্যচাষি, একসঙ্গে দুই পরিচয়ে সমান পরিচিত। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ি গ্রামেরবাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক রাজ। তিনি জাতীয় দৈনিক‘ দিনকাল’ পত্রিকার প্রতিনিধি ও কামারখন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
চার বছর আগেও তিনি ছিলেন শুধুই একজন সংবাদকর্মী। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় সাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করেন। যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের পাশে ৫টি সরকারি পুকুর ইজারা নেন আয়তন প্রায় ৩৮ বিঘা। হাতে পুঁজি ছিলনা, সাড়ে চার লাখ টাকা ধার করেই শুরু করেন মাছ চাষ। শুরুটা কঠিন ছিল পরিশ্রম, লোকসান, অনিশ্চয়তা সবকিছুই ছিল পাশে। কিন্তু দমে যাননি রাজ।
পুকুরে ছাড়েন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্পসহ বিভিন্নমাছ। সঙ্গে পুকুর পাড়ে চাষ করেন লাউ, কুমড়া, করলা, কলা, ডাঁটা। এখন প্রতি বছর খরচ বাদ দিয়ে আয় হচ্ছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। সোমবার সকালে পেলেন উপজেলা পর্যায়ে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কারও।
আব্দুর রাজ্জাক রাজ বলেন, প্রথমে মানুষ তাচ্ছিল্য ও হাসাহাসি করেছে। সফল হলে পরে মানুষ বাহবা দেয়। আমি শুধু সাংবাদিক না, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ারও চেষ্টা করছি।
রাজের মতে, সততা আর পরিকল্পনা থাকলে যে কোনো কাজেই সফলতা আসে। ছোট পরিসরে হলেও কিছু শুরু করা উচিত।
এর আগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে সকালে উপজেলা সভাকক্ষে শুভ উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও সফল মৎস্য চাষী হিসেবে এসএম মাসুদুর ও আব্দুর রাজ্জাক নামের দুজন পুরস্কার পান। এতে সভাপতিত্বে করেনউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কামারখন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার রায়।

রিপোর্টার: 





















