সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

স্প্রাইটে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ভ্যানচালকের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

প্রতিবেশীর দেওয়া কোমল পানীয় ‘স্প্রাইট’ পানের পরই ঝিমঝিম করে উঠেছিল মাথা। শরীর ছেড়ে দিলে কোনোমতে ভ্যানগাড়িটি নিয়ে বাড়ি ফিরে বিছানায় লুটিয়ে পড়েছিলেন চালক আনছার আলী (২৮)। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, এই অসুস্থতার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ানক নীল নকশা। গভীর রাতে সেই সুযোগেই ঘরের প্রাচীর টপকে ঢুকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রতিবেশী রুবেল মন্ডল (৩০)।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বিনাই গ্রামে গত শুক্রবার (২৬ জুন) এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিনাই রাস্তা মোড়ে নিজের ভ্যানগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আনছার আলী। এ সময় একই গ্রামের গোফফার আলী মন্ডলের ছেলে রুবেল মন্ডল সেখানে এসে তাকে একটি স্প্রাইট কিনে দেয়। প্রতিবেশী ও পরিচিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে সেটি পান করেন আনছার। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তিনি চরম অসুস্থ বোধ করেন এবং বাড়িতে গিয়ে অচেতন অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত তখন আনুমানিক ১১টা। আনছার আলীর গভীর অচেতনতার সুযোগ নিয়ে প্রাচীর টপকে ঘরে ঢোকে রুবেল। বিছানায় ঘুমন্ত গৃহবধূ শম্পা বেগমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সে। গৃহবধূ বাধা দিয়ে চিৎকার করতে গেলে রুবেল দম্ভোক্তি করে বলে, চিৎকার করে লাভ নেই, তোমার স্বামীকে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি, সে জাগবে না।

 

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঘরে থাকা তাদের ছোট কন্যাসন্তানের ঘুম ভেঙে যায় এবং সে তীব্রস্বরে কান্নাকাটি শুরু করে। মেয়ের কান্না ও স্ত্রীর ধস্তাধস্তির আওয়াজে একপর্যায়ে আনছার আলীর চেতনা ফেরে। তিনি সজাগ হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসার উপক্রম হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে লম্পট রুবেল মন্ডল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

 

পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে একটি মহল কালক্ষেপণ করলেও, শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী স্বামী।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভ্যানচালক আনছার আলী মন্ডল বলেন, আমাকে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে যারা আমার স্ত্রীর সম্ভ্রমহানির চেষ্টা করেছে, আমি সমাজে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যেন আর কোনো গরিবের ওপর এমন অন্যায় না হয়।

 

 

 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল মন্ডল পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

স্প্রাইটে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ভ্যানচালকের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

আপডেট টাইম : ০১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রতিবেশীর দেওয়া কোমল পানীয় ‘স্প্রাইট’ পানের পরই ঝিমঝিম করে উঠেছিল মাথা। শরীর ছেড়ে দিলে কোনোমতে ভ্যানগাড়িটি নিয়ে বাড়ি ফিরে বিছানায় লুটিয়ে পড়েছিলেন চালক আনছার আলী (২৮)। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, এই অসুস্থতার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ানক নীল নকশা। গভীর রাতে সেই সুযোগেই ঘরের প্রাচীর টপকে ঢুকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রতিবেশী রুবেল মন্ডল (৩০)।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বিনাই গ্রামে গত শুক্রবার (২৬ জুন) এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিনাই রাস্তা মোড়ে নিজের ভ্যানগাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আনছার আলী। এ সময় একই গ্রামের গোফফার আলী মন্ডলের ছেলে রুবেল মন্ডল সেখানে এসে তাকে একটি স্প্রাইট কিনে দেয়। প্রতিবেশী ও পরিচিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে সেটি পান করেন আনছার। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তিনি চরম অসুস্থ বোধ করেন এবং বাড়িতে গিয়ে অচেতন অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত তখন আনুমানিক ১১টা। আনছার আলীর গভীর অচেতনতার সুযোগ নিয়ে প্রাচীর টপকে ঘরে ঢোকে রুবেল। বিছানায় ঘুমন্ত গৃহবধূ শম্পা বেগমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সে। গৃহবধূ বাধা দিয়ে চিৎকার করতে গেলে রুবেল দম্ভোক্তি করে বলে, চিৎকার করে লাভ নেই, তোমার স্বামীকে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি, সে জাগবে না।

 

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঘরে থাকা তাদের ছোট কন্যাসন্তানের ঘুম ভেঙে যায় এবং সে তীব্রস্বরে কান্নাকাটি শুরু করে। মেয়ের কান্না ও স্ত্রীর ধস্তাধস্তির আওয়াজে একপর্যায়ে আনছার আলীর চেতনা ফেরে। তিনি সজাগ হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসার উপক্রম হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে লম্পট রুবেল মন্ডল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

 

পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে একটি মহল কালক্ষেপণ করলেও, শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী স্বামী।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভ্যানচালক আনছার আলী মন্ডল বলেন, আমাকে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে যারা আমার স্ত্রীর সম্ভ্রমহানির চেষ্টা করেছে, আমি সমাজে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যেন আর কোনো গরিবের ওপর এমন অন্যায় না হয়।

 

 

 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল মন্ডল পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।