শত বছর বয়সেও সন্তানের বাড়িতে আশ্রয় মিলছে না সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দূর্গানগর ইউনিয়নের রাউতান গ্রামের দেলজান বেওয়ার। বাড়ি ও ফসলী জমিসহ ৫ বিঘা সম্পত্তি রেখে স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছেন সন্তানেরা। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৪ শতক জমি বসবাসের জন্য পেলেও সন্তানদের নির্যাতনে সেখানে থাকতে পারছেন না এই বৃদ্ধা।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নানা অভিযোগ করেন বৃদ্ধা দেলজান বেওয়া। সন্তানদের কাছে ভরণপোষণ, চিকিৎসাসেবা ও স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত বলে দাবী করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে সন্তান রেখে স্বামী ময়নাল খদগীর মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ৫ বিঘা ফসলী জমি ও বাড়ী রেখে যান। আমার ছেলে ও মেয়েরা সকলেই এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু আমার কোন সন্তানই ভরণপোষণ, দেখভাল ও চিকিৎসা সেবা দেয় না আমাকে। গত বছরে এ বিষয়ে থানা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে অভিযোগ করলে তারা সন্তানদের ডেকে আমার স্বামীর সম্পত্তি থেকে ৪ শতক জায়গা বসবাসের জন্য দেন। সে জায়গা ঘর তুলতে দিলেও, ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল তুলতে না দিয়ে ছেলে, পুত্রবধু এবং নাতিরা সব সময় আমাকে ভিটা উচ্ছেদ করার জন্য জুলুম ও নির্যাতন করে যাচ্ছে। আমি কোথায়ও এর বিচার পাচ্ছি না।
বৃদ্ধ দেলজানের মেয়ে সীমা জানান, ভাইয়েরা মাকে ভরনপোষণ না দিয়ে আমাদের বোনদের সম্পত্তি লিখে নিতে তাদের বউ ও ছেলেদেরকে লেলিয়ে দিয়ে মাকে প্রায় দেড় বছর ধরে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে চলেছে। বিশেষ করে আমার ভাতিজা এলিট ও তার মা শরিফুন খাতুন। শত বছরের বৃদ্ধ মা’কে তারা সকলে মিলে সকাল-সন্ধ্যা গালিগালাজ, মারপিট ও হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে বেঁচে থাকার সহযোগিতা চায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নাতি এলিট বলেন, দাদির ৯ সন্তানের মধ্যে কোন সন্তানই তার কাছে ভালো নয়। যে কোন বিষয়ে গ্রাম্য প্রধান, থানা ও কোর্ট কাচারিতে গিয়ে অভিযোগ করাই আমার দাদি ও ছোট ফুফুর কাজ।
ছেলে ছানোয়ার হোসেন জানান, আমার মা তার ও ছোট বোনের সম্পত্তি এক দাগ থেকে নিয়ে আমাদের কাছে বিক্রি না করে, অন্যত্র বিক্রি করে দিতে চায়। এটাই তার সমস্যা, অন্য কিছু নয়।
এব্যাপারে গ্রাম্য প্রধান আব্দুল হান্নান জানান, এ ঘটনা নিয়ে অনেক দরবার শালিস হয়েছে। কিন্তু ঐ পরিবারের লোকজন কোন বিচার-শালিসই মানেন না।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 

















