সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

হঠাৎ বৃষ্টি, আলু চাষিদের মরার ওপর খাঁড়ার ঘা

জয়পুরহাটে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে আলুক্ষেতে পানি জমে গেছে। অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে পড়ায় আলুর ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার অনেক জমিতে বীজ আলু তৈরির জন্য আলু তুলে শুকাতে রেখেছিল কৃষকরা। আলু রক্ষায় কৃষকরা সকাল থেকে গামলা, বালতি এবং পাম্পের সাহায্যে জমি থেকে পানি সরানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা আগে থেকেই আর্থিকভাবে চাপের মধ্যে ছিলেন। হঠাৎ এই বৃষ্টি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক কৃষক বলছেন, এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

 

 

ক্ষেতলাল উপজেলার বাঘারপাড়া গ্রামের কৃষক রাহেল জানান, আমি বাবার সাথে তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। দাম কম হওয়াই একটু দেড়িতে আলু তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দু’এক দিনের মধ্যেই আলু তুলতাম। কিন্তু আজকের হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমেছে, তাই সকাল থেকে পানি নিষ্কাশন করছি।

 

 

উপজেলার পাঠানপাড়া এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেন জানান, বাজারে দাম এত কম যে খরচও উঠছে না। এখন বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গেলে আলু নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে।

 

 

আরেক কৃষক তফিকুল ইসলাম বলেন, আলু তুলে রাখলেও সমস্যা। বৃষ্টির পানিতে আলু পচে যায়। কোল্ড স্টোরেজে রাখলে প্রতি মণ আলুর জন্য ৪০০ টাকার বেশি খরচ হয়। অথচ বাজারে দাম মাত্র ১৫০–২০০ টাকা। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি।

 

 

পরিবেশ কর্মী ও সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও কৃষকদের নিয়ে যেন এক ধরনের তামাশাই চলে আসছে। কৃষি নির্ভর দেশের কৃষকরাই যখন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তখন সেই তামাশার শেষ কোথায় এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষক সমাজে। কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষকই আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে ।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে প্রায় ৩৯,৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এতে ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বাজারে কম দাম কৃষকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, আলু তোলার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে কিছু জমিতে পানি জমতে পারে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করলে ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ বৃষ্টি, আলু চাষিদের মরার ওপর খাঁড়ার ঘা

আপডেট টাইম : ০২:১৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

জয়পুরহাটে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে আলুক্ষেতে পানি জমে গেছে। অনেক ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে পড়ায় আলুর ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার অনেক জমিতে বীজ আলু তৈরির জন্য আলু তুলে শুকাতে রেখেছিল কৃষকরা। আলু রক্ষায় কৃষকরা সকাল থেকে গামলা, বালতি এবং পাম্পের সাহায্যে জমি থেকে পানি সরানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা আগে থেকেই আর্থিকভাবে চাপের মধ্যে ছিলেন। হঠাৎ এই বৃষ্টি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক কৃষক বলছেন, এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

 

 

ক্ষেতলাল উপজেলার বাঘারপাড়া গ্রামের কৃষক রাহেল জানান, আমি বাবার সাথে তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। দাম কম হওয়াই একটু দেড়িতে আলু তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দু’এক দিনের মধ্যেই আলু তুলতাম। কিন্তু আজকের হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমেছে, তাই সকাল থেকে পানি নিষ্কাশন করছি।

 

 

উপজেলার পাঠানপাড়া এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেন জানান, বাজারে দাম এত কম যে খরচও উঠছে না। এখন বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গেলে আলু নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে।

 

 

আরেক কৃষক তফিকুল ইসলাম বলেন, আলু তুলে রাখলেও সমস্যা। বৃষ্টির পানিতে আলু পচে যায়। কোল্ড স্টোরেজে রাখলে প্রতি মণ আলুর জন্য ৪০০ টাকার বেশি খরচ হয়। অথচ বাজারে দাম মাত্র ১৫০–২০০ টাকা। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি।

 

 

পরিবেশ কর্মী ও সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও কৃষকদের নিয়ে যেন এক ধরনের তামাশাই চলে আসছে। কৃষি নির্ভর দেশের কৃষকরাই যখন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তখন সেই তামাশার শেষ কোথায় এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষক সমাজে। কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষকই আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে ।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে প্রায় ৩৯,৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এতে ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বাজারে কম দাম কৃষকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, আলু তোলার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে কিছু জমিতে পানি জমতে পারে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করলে ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে।