সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম-নিউমোনিয়ায় সিলেটে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

 

 

 

একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫১৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত শিশুরা হলো- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ময়নুল ইসলামের ৩ বছর ৮ মাস বয়সী মেয়ে সামিহা, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার প্রদ্যুতের ৭ মাস বয়সী ছেলে পরশ এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জালালপুর এলাকার ইব্রাহিম আলীর ১ বছর ৮ মাস বয়সী মেয়ে ইলমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৭৬ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন—যার মধ্যে রুবেলা রোগী রয়েছেন দুজন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৯৩ জনের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬২ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ৬ জন এবং পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন।

 

 

 

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫১৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৪ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ১৩ জন এবং পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন রয়েছেন।

 

 

 

এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, বিয়ানীবাজারে ৯ জন, গোলাপগঞ্জে ১৫ জন, গোয়াইনঘাটে ৫ জন, বালাগঞ্জে ১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৩ জন, ধর্মপাশায় ৩ জন, বাহুবলে ৫ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৬৯ জন, হবিগঞ্জে ২৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫ জন এবং সুনামগঞ্জে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ১৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম-নিউমোনিয়ায় সিলেটে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

আপডেট টাইম : ১১:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

 

 

 

একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫১৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত শিশুরা হলো- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ময়নুল ইসলামের ৩ বছর ৮ মাস বয়সী মেয়ে সামিহা, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার প্রদ্যুতের ৭ মাস বয়সী ছেলে পরশ এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জালালপুর এলাকার ইব্রাহিম আলীর ১ বছর ৮ মাস বয়সী মেয়ে ইলমা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৭৬ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন—যার মধ্যে রুবেলা রোগী রয়েছেন দুজন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৯৩ জনের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬২ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ৬ জন এবং পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন।

 

 

 

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫১৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৪ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ১৩ জন এবং পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন রয়েছেন।

 

 

 

এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, বিয়ানীবাজারে ৯ জন, গোলাপগঞ্জে ১৫ জন, গোয়াইনঘাটে ৫ জন, বালাগঞ্জে ১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৩ জন, ধর্মপাশায় ৩ জন, বাহুবলে ৫ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৬৯ জন, হবিগঞ্জে ২৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫ জন এবং সুনামগঞ্জে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ১৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।