সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

হাসি মুখে নিমন্ত্রণ দিতে গিয়ে ফিরলো লাশ হয়ে 

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরই রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে সবুজ কুমার অধিকারী (২৬) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামে। পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের ঘনঘটা।
গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার ‘ওয়েহোম’ আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের একটি মেয়ের সঙ্গে সবুজের আর্শীবাদ সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী ৮ ডিসেম্বর বিয়ের দিনও নির্ধারিত ছিল। নিজের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র বিলি করতে কয়েক দিন আগে রাজশাহীতে যান তিনি। কিন্তু শনিবার দুপুরে খবর আসে—সবুজ আর জীবিত ফিরে আসছেন না; ফিরছেন কফিনে ঢাকা নিথর দেহ হয়ে।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় আটঘরিয়া গ্রাম। বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়, সবার চোখে জল আর একটাই প্রশ্ন—কেন এমন হলো?
বোয়ালিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, সবুজ শুক্রবার বিকালে হোটেলে ওঠেন। শনিবার কক্ষ ত্যাগ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে বের না হওয়ায় হোটেলের কর্মীরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকাতেই ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ক্রাইমসিন ইউনিট গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। কক্ষ থেকে উদ্ধার করা আলামত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
নিহতের বাবা বিমল চন্দ্র অধিকারী বলেন, সবুজ আমার এক মাত্র ছেলে “ছেলের আর্শীবাদ তো হলো, সামনে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। হঠাৎ এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। নিশ্চয়ই এ মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্য আছে।”
মা-বাবার কান্নায় বাড়িটি শোকস্তব্ধ হয়ে আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন সবুজ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে।
পুলিশ জানায়, সবুজ ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে রাজশাহীতে এসেছিলেন। তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কললিস্ট, মেসেঞ্জার ও সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সবুজ রাজশাহীর প্যারাগন ফিড কোম্পানিতে কয়েক বছর কাজ করার পর সম্প্রতি বগুড়ায় চাকরি করছিলেন বলেও জানা গেছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসি মুখে নিমন্ত্রণ দিতে গিয়ে ফিরলো লাশ হয়ে 

আপডেট টাইম : ১১:০১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরই রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে সবুজ কুমার অধিকারী (২৬) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামে। পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের ঘনঘটা।
গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার ‘ওয়েহোম’ আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের একটি মেয়ের সঙ্গে সবুজের আর্শীবাদ সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী ৮ ডিসেম্বর বিয়ের দিনও নির্ধারিত ছিল। নিজের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র বিলি করতে কয়েক দিন আগে রাজশাহীতে যান তিনি। কিন্তু শনিবার দুপুরে খবর আসে—সবুজ আর জীবিত ফিরে আসছেন না; ফিরছেন কফিনে ঢাকা নিথর দেহ হয়ে।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় আটঘরিয়া গ্রাম। বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়, সবার চোখে জল আর একটাই প্রশ্ন—কেন এমন হলো?
বোয়ালিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, সবুজ শুক্রবার বিকালে হোটেলে ওঠেন। শনিবার কক্ষ ত্যাগ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে বের না হওয়ায় হোটেলের কর্মীরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকাতেই ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ক্রাইমসিন ইউনিট গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। কক্ষ থেকে উদ্ধার করা আলামত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
নিহতের বাবা বিমল চন্দ্র অধিকারী বলেন, সবুজ আমার এক মাত্র ছেলে “ছেলের আর্শীবাদ তো হলো, সামনে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। হঠাৎ এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। নিশ্চয়ই এ মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্য আছে।”
মা-বাবার কান্নায় বাড়িটি শোকস্তব্ধ হয়ে আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন সবুজ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে।
পুলিশ জানায়, সবুজ ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে রাজশাহীতে এসেছিলেন। তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কললিস্ট, মেসেঞ্জার ও সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সবুজ রাজশাহীর প্যারাগন ফিড কোম্পানিতে কয়েক বছর কাজ করার পর সম্প্রতি বগুড়ায় চাকরি করছিলেন বলেও জানা গেছে।