সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

১২ গ্রামের চলাচলের রাস্তায় হাঁটু কাঁদা: ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 78

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সোয়া দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কারণে যুগ যুগ ধরে দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে ১০/১২ গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে বছরের বর্ষা মৌসুমে কাঁদা-পানিতে পরিপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়ে।  স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবার ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) শিলংদহ-গুড়পিপুল সোয়া দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের শিলংদহ এলাকায় কাঁদাযুক্ত সড়কে ধানের চারা লাগায় কৃষকেরা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশের দেশিগ্রাম ইউনিয়নের শিলংদহ-গুড়পিপুল সোয়া দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক দিয়ে শিলংদহ, গুড়মা, আড়ংগাইল, ক্ষিরশিন, গুড়পিপুল, দোগাড়িয়াসহ এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২টি  ২৫/৩০ হাজার মানুষ চলাচল করে। শিলংদহ, গুড়মা, ক্ষিরশিন নামের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুড়পিপুল উচ্চ বিদ্যালয়, আড়ংগাইল দাখিল মাদ্রসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্রোসহ সকল কৃষিপণ্য তাড়াশ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট বাজারে নেওয়ার একমাত্র রাস্তাও এটি।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও পাকাকরণ করা হয়নি। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও কাজ হয়নি। যুগের পর যুগ থরে ভোগান্তিকে সাথী করেই কৃষিপণ্য সরবরাহ করছে কৃষক। শিক্ষার্থীকে যেতে হচ্ছে বিদ্য্যালয়ে। আর অতিকষ্টের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে অসুস্থ্য রোগীদের।

শিলংদহ গ্রামের শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান, গত মাসের বৃষ্টিতে সড়কটিতে এখন হাটু পরিমাণ কাঁদা জমে রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা মানুষ পায়ে হেঁটেও যেতে পারে না। কৃষক তার কৃষিপণ্য সরবারহ করতে পারছে না। সবচেয়ে বড় কথা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হচ্ছে।

মদিনা, সঞ্চিতা ও তামবাসসুমসহ বেশ কয়েক স্কুলছাত্রী বলে শরীরে কাঁদা-মাটি মেখেই আমাদের স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো স্কুলেও যেতে পারি না।

এলাকার শিক্ষক তাজ আমিন, গ্রাম প্রধান আব্দুল মালেক, হাবিবুর রহমান হাবিব ও শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন,  জানান, স্বাধীনতার দীর্ঘ পর থেকে এ রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। এতে করে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাতায়াতকারীরা। এমনকি কেউ মারা গেলে মরদেহ নিয়ে যেতে হয় মাথায় করে। তারা বলেন, সড়কটি পাঁকা করণের জন্য সংশ্লিট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সদস্যসহ নানা শ্রেণির জন প্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন নিবেদন করে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

দেশিগ্রাম-গুড়পিপুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাক বলেন, সড়কটি পাঁকা করণের জন্য যে খরচ হবে তা ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতার বাহিরে। এজন্য আমি তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয়কে সড়কটি পাঁকা করণের জন্য অনুরোধ করেছি।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, আগামী গ্রীম্ম মৌসুমে সড়কটি পাঁকা করণে উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

১২ গ্রামের চলাচলের রাস্তায় হাঁটু কাঁদা: ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ

আপডেট টাইম : ০৪:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সোয়া দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কারণে যুগ যুগ ধরে দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে ১০/১২ গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে বছরের বর্ষা মৌসুমে কাঁদা-পানিতে পরিপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়ে।  স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবার ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) শিলংদহ-গুড়পিপুল সোয়া দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের শিলংদহ এলাকায় কাঁদাযুক্ত সড়কে ধানের চারা লাগায় কৃষকেরা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশের দেশিগ্রাম ইউনিয়নের শিলংদহ-গুড়পিপুল সোয়া দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক দিয়ে শিলংদহ, গুড়মা, আড়ংগাইল, ক্ষিরশিন, গুড়পিপুল, দোগাড়িয়াসহ এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২টি  ২৫/৩০ হাজার মানুষ চলাচল করে। শিলংদহ, গুড়মা, ক্ষিরশিন নামের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুড়পিপুল উচ্চ বিদ্যালয়, আড়ংগাইল দাখিল মাদ্রসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্রোসহ সকল কৃষিপণ্য তাড়াশ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট বাজারে নেওয়ার একমাত্র রাস্তাও এটি।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও পাকাকরণ করা হয়নি। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও কাজ হয়নি। যুগের পর যুগ থরে ভোগান্তিকে সাথী করেই কৃষিপণ্য সরবরাহ করছে কৃষক। শিক্ষার্থীকে যেতে হচ্ছে বিদ্য্যালয়ে। আর অতিকষ্টের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে অসুস্থ্য রোগীদের।

শিলংদহ গ্রামের শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান, গত মাসের বৃষ্টিতে সড়কটিতে এখন হাটু পরিমাণ কাঁদা জমে রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা মানুষ পায়ে হেঁটেও যেতে পারে না। কৃষক তার কৃষিপণ্য সরবারহ করতে পারছে না। সবচেয়ে বড় কথা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হচ্ছে।

মদিনা, সঞ্চিতা ও তামবাসসুমসহ বেশ কয়েক স্কুলছাত্রী বলে শরীরে কাঁদা-মাটি মেখেই আমাদের স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো স্কুলেও যেতে পারি না।

এলাকার শিক্ষক তাজ আমিন, গ্রাম প্রধান আব্দুল মালেক, হাবিবুর রহমান হাবিব ও শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন,  জানান, স্বাধীনতার দীর্ঘ পর থেকে এ রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। এতে করে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাতায়াতকারীরা। এমনকি কেউ মারা গেলে মরদেহ নিয়ে যেতে হয় মাথায় করে। তারা বলেন, সড়কটি পাঁকা করণের জন্য সংশ্লিট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সদস্যসহ নানা শ্রেণির জন প্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন নিবেদন করে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

দেশিগ্রাম-গুড়পিপুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাক বলেন, সড়কটি পাঁকা করণের জন্য যে খরচ হবে তা ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতার বাহিরে। এজন্য আমি তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয়কে সড়কটি পাঁকা করণের জন্য অনুরোধ করেছি।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, আগামী গ্রীম্ম মৌসুমে সড়কটি পাঁকা করণে উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হবে।