দেশজুড়ে তীব্র ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিক খবর পাওয়া গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এদিকে কোথাও কোথাও ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল, আবার কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, কোন কোন ভবনও হেলে পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ১০টা ৩৯ মিনিটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ রিখটার স্কেল।
এদিকে ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় একটি ভবনের সানশেড ভেঙে তিনজন নিহত হন এবং নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক নবজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের রেডিও মেকানিক ইকবাল আহমেদ জানান, ঢাকার আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অফিস থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্বে নরসিংদীর মাধবদীতে ভূকম্পনটির উৎপত্তি। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বাংলানিউজকে বলেন, আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকায় ভূমিকম্পের সময় একটি বাড়ির অংশবিশেষ মানে সানশেড ভেঙে ঘটনাস্থলে দুইজন মারা গেছেন। আরেকজন হাসপাতালে মারা গেছেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকালে ভূমিকম্পের সময় ঘটনাস্থল হয়ে ভুলতা-গাউছিয়া যাওয়ার সময় সড়কের পাশের দেয়াল ধসে শিশু ফাতেমা, তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমের ওপর পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই শিশু ফাতেমার মৃত্যু হয়। আহত হন তার মা কুলসুম ও প্রতিবেশী জেসমিন।
এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদে বার্তায় ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরান ঢাকা আরমানিটোলার কসাইটুলিতে আটতলা ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়। সদরঘাট ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট সেখানে গমন করে। ভবনের কোনো ক্ষতি সাধন হয়নি। পলেস্তরার কিছু আলগা অংশ ও কিছু ইট খসে পড়েছিল। ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার পরে কোনো হতাহত পায়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পার্শ্ববর্তী দোতলা একটি ভবনে ইট পড়ে একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
সূত্রাপুরের স্বামীবাগে আট তলা একটি ভবন অন্য একটি ভবনে হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সূত্রাপুর স্টেশন ঘটনাস্থলে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, কলাবাগানের আবেদখালী রোডে একটি সাততলা ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে। এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ভবন ঠিক আছে, লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ফোন করেছে।
ভূমিকম্পে বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগারও ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, বারিধারা এফ ব্লকের ৫ নং রোডে একটি বাসায় আগুনের সংবাদ পাওয়া গেছে। বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপনে কাজ করছে। আগুনটি ভূমিকম্পের জন্য কিনা তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি বাসায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গজারিয়া ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর ছড়ালেও ফায়ার সার্ভিস বলছে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি নেই।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















