র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর অভিযানে বেগমগঞ্জে পিটিয়ে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর জাকির হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি সুজন ওরফে ইয়াবা সুজন (২৮) গ্রেফতার হয়েছেন।
র্যাব সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সমাজের বিভিন্ন অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর একটি আভিযানিক দল গতকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৫টায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বেগমগঞ্জে সংঘটিত আলোচিত জাকির হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি সুজন ওরফে ইয়াবা সুজন (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির পিতা সুখ মিয়া ওরফে জাইল্লা। তার বাড়ি হীরাপুর (হাওলা বাড়ি), থানা সোনাইমুড়ি, জেলা নোয়াখালী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেন পেশায় মাটির ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিরা তার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন ১৩ মে ২০২৫ ইং দুপুরে জাকির হোসেন বেগমগঞ্জ থানাধীন চৌরাস্তার পশ্চিম পাশে প্রাইম হাসপাতাল সংলগ্ন সুপার স্টার হোটেলে খাবার শেষে বের হলে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। পরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে উপর্যুপরি নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সিএনজি যোগে বেগমগঞ্জ থানাধীন বাংলাবাজার এলাকার পলোয়ান পুল সংলগ্ন খালে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয়রা দেখে ফেললে দুইজনকে আটক করা হয়। সংবাদ পেয়ে নিহতের স্ত্রী পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এসে লাশ সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পলাতক থাকলেও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী অভিযানে সুজন ওরফে ইয়াবা সুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম 



















