সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ইউরোপীয়দের একজোট হয়ে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিলে একজোট হয়ে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয়রা। ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে তারা কাজ করছেন।

 

 

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বুধবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে তা এককভাবে নয়, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলেই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটবে না।

 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরই ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে যেভাবে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন, তাতে সেখানে জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং স্পষ্ট করে জানিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের।

ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োহানেস কোসকিনেন বলেন, বিষয়টি ন্যাটোর ভেতরে আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি যৌথভাবে নির্ধারিত পরিকল্পনা উপেক্ষা করে নিজের ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারে—এ বিষয়ে মিত্রদের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

 

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ট রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাসমুসেন বলেন, এই বিষয়ে আলোচনায় আরও বাস্তবতা ও সংযম প্রয়োজন। চিৎকারের রাজনীতি বন্ধ করে যুক্তিসংগত সংলাপ শুরু করতে হবে—এখনই।

 

 

ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগ করা হলে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কসহ ৮০ বছরের নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়তে পারে। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের কর্মকর্তাদের বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড সরকারও অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

 

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়াবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কোনো লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না। এক ভাষণে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা পরিষ্কার—গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইইউ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন গ্রহণ করবে না—তা সাইপ্রাস, লাতিন আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড, ইউক্রেন কিংবা গাজা যেখানেই হোক না কেন।

 

 

কেন গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ

৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এখনো পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য গ্রিনল্যান্ড ‘কেনা’।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ইউরোপীয়দের একজোট হয়ে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

আপডেট টাইম : ০৫:০০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিলে একজোট হয়ে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয়রা। ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে তারা কাজ করছেন।

 

 

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বুধবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে তা এককভাবে নয়, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলেই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটবে না।

 

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরই ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে যেভাবে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন, তাতে সেখানে জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং স্পষ্ট করে জানিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের।

ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োহানেস কোসকিনেন বলেন, বিষয়টি ন্যাটোর ভেতরে আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি যৌথভাবে নির্ধারিত পরিকল্পনা উপেক্ষা করে নিজের ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারে—এ বিষয়ে মিত্রদের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

 

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ট রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাসমুসেন বলেন, এই বিষয়ে আলোচনায় আরও বাস্তবতা ও সংযম প্রয়োজন। চিৎকারের রাজনীতি বন্ধ করে যুক্তিসংগত সংলাপ শুরু করতে হবে—এখনই।

 

 

ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগ করা হলে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কসহ ৮০ বছরের নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়তে পারে। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের কর্মকর্তাদের বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড সরকারও অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

 

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়াবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কোনো লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না। এক ভাষণে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা পরিষ্কার—গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না।

 

 

তিনি আরও বলেন, ইইউ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন গ্রহণ করবে না—তা সাইপ্রাস, লাতিন আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড, ইউক্রেন কিংবা গাজা যেখানেই হোক না কেন।

 

 

কেন গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ

৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এখনো পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য গ্রিনল্যান্ড ‘কেনা’।