সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানে মাত্র ৪৮ ঘন্টার বিচারের পর মৃত্যুদণ্ড: কে এই এরফান?

ইরানে বিক্ষোভকারী এরফান ও আন্দোলনকারীদের ‍হাতে পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ২৬ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আজই কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তাকে আটক করা হয়। পরিবারের এক সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

 

 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের সদস্য জানান, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরফানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই বিচারে তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং পুনর্বিচারের সুযোগও ছিল না।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের তড়িঘড়ি মৃত্যুদণ্ড এবং তথাকথিত বিচার নতুন কিছু নয়। এর আগে একাধিক ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ উঠেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এমন হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’নেবে।

পরিবারের ওই সদস্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণ তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। আমাদের দাবি হলো ট্রাম্প যেন তার কথার পাশে সত্যিই দাঁড়ান। নিরস্ত্র মানুষ তার বক্তব্যে বিশ্বাস করে আন্দোলনে নেমেছে, আর এখন তারা গুলির মুখে।

 

তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করছি, দয়া করে এরফানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেবেন না।

 

 

এরফান সোলতানির গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের সাজার খবর প্রথম প্রকাশ করে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস। গত সোমবার সংস্থাটি নিজেদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানায়। হেনগো ইরান ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, এত স্বল্প সময়ে কোনো মামলার বিচার সম্পন্ন হতে তারা আগে কখনো দেখেননি।

 

 

এরফানের বাড়ি ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কারাজের ফারদিস এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার আগে ওই এলাকায় তীব্র বিক্ষোভ চলছিল।

 

 

হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত রোববার এরফানের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় যে তার বিচার শেষ হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ দণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে।

 

 

ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে গার্ডিয়ান এরফানের এক স্বজনের বরাতে জানিয়েছে, দণ্ড ঘোষণার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার দেখা করার জন্য এরফানকে মাত্র ১০ মিনিট সময়।

 

 

হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরফানের বোন নিজেও ইরানে নিবন্ধিত একজন আইনজীবী। তিনি ভাইয়ের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ মামলার নথিপত্র পেতে তাকে বাধা দেয়।

 

 

আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে হেনগোর মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে ‘ইরানের সরকার জনগণকে দমন করতে এবং ভয় ছড়িয়ে দিতে তাদের জানা সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে।’

 

 

২০২২ সালের পর বর্তমানে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মূল্যস্ফীতি ও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যে দেশের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১২ জন শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি আজ ভোরে এ তথ্য জানায়।

 

 

এদিকে টানা প্রায় পাঁচ দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।

89
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মাত্র ৪৮ ঘন্টার বিচারের পর মৃত্যুদণ্ড: কে এই এরফান?

আপডেট টাইম : ০৪:০৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের ২৬ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আজই কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তাকে আটক করা হয়। পরিবারের এক সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

 

 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের সদস্য জানান, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরফানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই বিচারে তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং পুনর্বিচারের সুযোগও ছিল না।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের তড়িঘড়ি মৃত্যুদণ্ড এবং তথাকথিত বিচার নতুন কিছু নয়। এর আগে একাধিক ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ উঠেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এমন হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’নেবে।

পরিবারের ওই সদস্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণ তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। আমাদের দাবি হলো ট্রাম্প যেন তার কথার পাশে সত্যিই দাঁড়ান। নিরস্ত্র মানুষ তার বক্তব্যে বিশ্বাস করে আন্দোলনে নেমেছে, আর এখন তারা গুলির মুখে।

 

তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করছি, দয়া করে এরফানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেবেন না।

 

 

এরফান সোলতানির গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের সাজার খবর প্রথম প্রকাশ করে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস। গত সোমবার সংস্থাটি নিজেদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানায়। হেনগো ইরান ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, এত স্বল্প সময়ে কোনো মামলার বিচার সম্পন্ন হতে তারা আগে কখনো দেখেননি।

 

 

এরফানের বাড়ি ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কারাজের ফারদিস এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার আগে ওই এলাকায় তীব্র বিক্ষোভ চলছিল।

 

 

হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত রোববার এরফানের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় যে তার বিচার শেষ হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ দণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে।

 

 

ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে গার্ডিয়ান এরফানের এক স্বজনের বরাতে জানিয়েছে, দণ্ড ঘোষণার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার দেখা করার জন্য এরফানকে মাত্র ১০ মিনিট সময়।

 

 

হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরফানের বোন নিজেও ইরানে নিবন্ধিত একজন আইনজীবী। তিনি ভাইয়ের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ মামলার নথিপত্র পেতে তাকে বাধা দেয়।

 

 

আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে হেনগোর মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে ‘ইরানের সরকার জনগণকে দমন করতে এবং ভয় ছড়িয়ে দিতে তাদের জানা সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে।’

 

 

২০২২ সালের পর বর্তমানে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মূল্যস্ফীতি ও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যে দেশের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১২ জন শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি আজ ভোরে এ তথ্য জানায়।

 

 

এদিকে টানা প্রায় পাঁচ দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।