সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

গণপিটুনীতে হত্যার পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণে বিতর্ক

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি, অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে কালিরহাট বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া গেছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন,
“আমরা অফিসে বসে নির্বাচনী বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। মিজান সেখানে এসে কথাকাটাকাটিতে জড়ায়। পরে সে চলে যায়। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা আমি জানি না। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টিও আমার জানা নেই।”
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন,
“গণপিটুনিতে একজন ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

গণপিটুনীতে হত্যার পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণে বিতর্ক

আপডেট টাইম : ১১:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি, অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে কালিরহাট বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া গেছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন,
“আমরা অফিসে বসে নির্বাচনী বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। মিজান সেখানে এসে কথাকাটাকাটিতে জড়ায়। পরে সে চলে যায়। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা আমি জানি না। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টিও আমার জানা নেই।”
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন,
“গণপিটুনিতে একজন ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।