সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ছবি : সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়; তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

 

 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

আইন প্রয়োগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, পুলিশের শক্তি কেবল কঠোরতায় নয়; প্রকৃত শক্তি হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তদন্ত, গ্রেপ্তার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পুলিশকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও বিচক্ষণ হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত চাপের কাছে নতিস্বীকার করা যাবে না। জনগণ এমন একটি পুলিশ বাহিনী চায়, যারা ভয় নয়, বরং নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি সৃষ্টি করবে।

 

দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। অন্যায় আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।

 

 

সাহসের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নয়; অন্যায় আদেশে ‘না’ বলা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানোই প্রকৃত সাহস। সততা ও নৈতিকতাই নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত।

 

 

তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতে পারে। তবে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। আপনারা শুধু আজকের পুলিশ নন, আপনারাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পুলিশ। তাই জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত একটি মানবিক, সাহসী ও গৌরবময় পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।

 

 

সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী।

 

 

২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এদিন প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএসের একজন, ৩৫তম বিসিএসের তিনজন, ৩৬তম বিসিএসের একজন, ৩৭তম বিসিএসের দুজন এবং ৪০তম বিসিএসের দুজন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

 

 

কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মন্ডল। প্রশিক্ষণে সামগ্রিক কৃতিত্বের জন্য বেস্ট প্রবেশনার নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড পান মো. সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শুটার নির্বাচিত হন সালমান ফারুক। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট টাইম : ০১:৪১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়; তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

 

 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

আইন প্রয়োগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, পুলিশের শক্তি কেবল কঠোরতায় নয়; প্রকৃত শক্তি হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তদন্ত, গ্রেপ্তার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পুলিশকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও বিচক্ষণ হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত চাপের কাছে নতিস্বীকার করা যাবে না। জনগণ এমন একটি পুলিশ বাহিনী চায়, যারা ভয় নয়, বরং নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি সৃষ্টি করবে।

 

দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। অন্যায় আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।

 

 

সাহসের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নয়; অন্যায় আদেশে ‘না’ বলা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানোই প্রকৃত সাহস। সততা ও নৈতিকতাই নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত।

 

 

তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতে পারে। তবে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। আপনারা শুধু আজকের পুলিশ নন, আপনারাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পুলিশ। তাই জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত একটি মানবিক, সাহসী ও গৌরবময় পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।

 

 

সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী।

 

 

২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এদিন প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএসের একজন, ৩৫তম বিসিএসের তিনজন, ৩৬তম বিসিএসের একজন, ৩৭তম বিসিএসের দুজন এবং ৪০তম বিসিএসের দুজন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

 

 

কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মন্ডল। প্রশিক্ষণে সামগ্রিক কৃতিত্বের জন্য বেস্ট প্রবেশনার নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড পান মো. সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শুটার নির্বাচিত হন সালমান ফারুক। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।