সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী অপহরণ মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। উল্টো আসামিরা বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ৩ ৩০ অক্টোবর ছোনগাছা ইউনিয়নের চর বালি ঘুগরি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ করে দূর্বৃত্তরা। তাকে গাজীপুরে নিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণের পর ৩ নভেম্বর তাকে বাড়ি ফেরত পাঠায়। এ ঘটনায় নির্যাতিত মাদ্রাসা ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
প্রধান আসামি সোহাগ রানা বাগবাটি ইউনিয়নের খোঁড়ারগাঁতী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। অপর দুই আসামি হলেন, চর বালিঘুগরি গ্রামের মো. সোলায়মানের ছেলে মো. মাসুদ (২৫) ও মৃত শামসুল আলমের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৩০)
মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেন, তার মেয়ে মাছুয়াকান্দি গ্রামের খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা (রা:) মহিলা মাদ্রাসায় লেখাপড়া পড়া করে। ৩০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ছোনগাছা মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় পৌছঁলে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় সোহাগ রানাসহ তিন জন। এরপর তাকে কড্ডার মোড় হয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা এবং পরের দিন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি অপরিচিত বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন ৩১ অক্টোবর প্রধান আসামি সোহাগ রানা ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বকভাবে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। এ অবস্থায় ৩ নভেম্বর ভিকটিমকে ফেরত পাঠায় আসামিরা। এরপর নির্যাতিত মাদ্রাসা ছাত্রী তার সাথে যেসব ঘটনা ঘটেছে সবাইকে বলে দেয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে মাতব্বরদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়। কিন্তু বিচার দেওয়ার নামে তালবাহান করে সময়ক্ষেপন করা হয়। বাধ্য হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ আইনে মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত কিশোরীর মা।
এদিকে ভিকটিমের পরিবার জানায়, মামলার প্রধান আসামী মো. সোহাগ রানা, মো: মাসুদ (২৫) ও মো: মিজানুর রহমান (৩০) আদালতের কাছে হাজির না হয়ে জামিন প্রার্থনা করেনি। নারী ও শিশু আদালত-১, সিরাজগঞ্জ-এর শুনানীতেও আসামিরা হাজির হয়নি। আসামী আদালতে হাজির না হয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় পুলিশও আসামীদের গ্রেফতার করছে না। আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এবিষয়ে অপহরণ মামলার বাদিনী নাজমা বেগম বলেন, আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ দেখেও তাদের গ্রেফতার করছে না। আসামীরা আমার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে একটি নাটক সাজিয়ে আমার আত্মীয় স্বজনের নামে গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
এবিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো: শফিউল আলম বলেন, মোবাইল ট্রাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে আসামীদের খোজা হচ্ছে। আসামীদের পেলে গ্রেফতার করে আদালতের নিকট সোপর্দ করব। আসামীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করেনি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এবিষয়ে মামলা হওয়ার সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি আমি দেখতেছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















