সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

মাইকিং করে পরীক্ষা বন্ধ, ছাত্রদের কাছে চাঁদা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

মাইকিং করে পরীক্ষা বন্ধ, ছাত্রদের কাছে চাঁদা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

শিক্ষক আন্দোলনের সময় মাইকিং করে পরীক্ষা বন্ধ ও ক্লাস পার্টির নামে চাঁদা তুলে আত্মসাতসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার শাহ আলম নামে প্রাথমিকের এক সহকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শাহ আলম উল্লাপাড়া শহরের ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে আসা সহকারী শিক্ষক।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই বিদ্যালয়ের ৮০ জন অভিভাবক।

 

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাসিনা খাতুনের অসুস্থজনিত কারণে প্রাক-প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষক শাহ আলম ডেপুটেশনে যোগ দেন। তিনি শিক্ষক আন্দোলনের সময় বিনা অনুমতিতে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। বাঁধা দিলে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

শাহ আলম ক্লাশ পার্টির নামে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৮৮ হাজার ৭০০ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। আবার ৫ম শ্রেণীর বিদায় অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষার্থীদের কাছে ৯০ হাজার টাকা ও প্রতি শিক্ষকের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা তুলে তা নয়ছয় করেছেন।

 

 

তিনি শিক্ষক আন্দোলনের নাম করে উপজেলার সকল বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই টাকার কোন হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

এদিকে তার এসব অনিয়ম, শিক্ষকদের সাথে অসদাচারণ, গ্রুপিং, সিনিয়র শিক্ষকদের অসম্মান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে সর্বদা অসৌজন্য আচরণে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যালয়ে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক হলেও ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

কেয়া খাতুন, ছালমা খাতুন ও সুরাইয়া পারভীনসহ একাধিক অভিভাবক বলেন, মাইকিং করে বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করেছিলেন শাহ আলম স্যার। এছাড়াও ক্লাশ পার্টির নামে একশো টাকা ও বিদায় অনুষ্ঠানে ৩ শত টাকা করে চাঁদা নিয়েছেন তিনি। এসব টাকার হিসাব তিনি দেননি।

 

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারি শিক্ষক শাহ আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়।

 

 

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, কথিত শিক্ষক শাহ আলম এর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে।

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ওই শিক্ষকের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পত্রটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

মাইকিং করে পরীক্ষা বন্ধ, ছাত্রদের কাছে চাঁদা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট টাইম : ০৩:২৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষক আন্দোলনের সময় মাইকিং করে পরীক্ষা বন্ধ ও ক্লাস পার্টির নামে চাঁদা তুলে আত্মসাতসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার শাহ আলম নামে প্রাথমিকের এক সহকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শাহ আলম উল্লাপাড়া শহরের ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে আসা সহকারী শিক্ষক।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই বিদ্যালয়ের ৮০ জন অভিভাবক।

 

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাসিনা খাতুনের অসুস্থজনিত কারণে প্রাক-প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষক শাহ আলম ডেপুটেশনে যোগ দেন। তিনি শিক্ষক আন্দোলনের সময় বিনা অনুমতিতে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। বাঁধা দিলে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

শাহ আলম ক্লাশ পার্টির নামে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৮৮ হাজার ৭০০ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। আবার ৫ম শ্রেণীর বিদায় অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষার্থীদের কাছে ৯০ হাজার টাকা ও প্রতি শিক্ষকের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা তুলে তা নয়ছয় করেছেন।

 

 

তিনি শিক্ষক আন্দোলনের নাম করে উপজেলার সকল বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই টাকার কোন হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

এদিকে তার এসব অনিয়ম, শিক্ষকদের সাথে অসদাচারণ, গ্রুপিং, সিনিয়র শিক্ষকদের অসম্মান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে সর্বদা অসৌজন্য আচরণে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যালয়ে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক হলেও ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

কেয়া খাতুন, ছালমা খাতুন ও সুরাইয়া পারভীনসহ একাধিক অভিভাবক বলেন, মাইকিং করে বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করেছিলেন শাহ আলম স্যার। এছাড়াও ক্লাশ পার্টির নামে একশো টাকা ও বিদায় অনুষ্ঠানে ৩ শত টাকা করে চাঁদা নিয়েছেন তিনি। এসব টাকার হিসাব তিনি দেননি।

 

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারি শিক্ষক শাহ আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়।

 

 

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, কথিত শিক্ষক শাহ আলম এর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে।

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ওই শিক্ষকের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পত্রটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।