সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত : জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর লোগো। ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৪২ জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা বলে মনে করছে দলটি। এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার প্রবণতা’ উল্লেখ করে জামায়াত বলছে, তা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।

 

 

সোমবার (১৫ মার্চ) রাতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

 

 

বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আজ ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দেশবাসী মনে করে, সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়াই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। অথচ সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি সরাসরি আঘাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে সরকারের এ পদক্ষেপ আসলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আরেকটি অপচেষ্টা। জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, গণহত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো এগিয়ে নেওয়া। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকারগুলোর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।’

 

 

এমন পরিস্থিতিতে দেশের ৪২ জেলা পরিষদে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছে জামায়াত। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে, সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।’

 

 

তিনি অবিলম্বে এ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

 

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত : জামায়াত

আপডেট টাইম : ০৩:১২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

দেশের ৪২ জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা বলে মনে করছে দলটি। এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার প্রবণতা’ উল্লেখ করে জামায়াত বলছে, তা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।

 

 

সোমবার (১৫ মার্চ) রাতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

 

 

বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আজ ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দেশবাসী মনে করে, সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়াই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। অথচ সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এ সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি সরাসরি আঘাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে সরকারের এ পদক্ষেপ আসলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আরেকটি অপচেষ্টা। জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, গণহত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো এগিয়ে নেওয়া। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকারগুলোর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।’

 

 

এমন পরিস্থিতিতে দেশের ৪২ জেলা পরিষদে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছে জামায়াত। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে, সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।’

 

 

তিনি অবিলম্বে এ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

 

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।