সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ইউএনওর আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য

হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ক্লিপ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) ভাইরাল হওয়া এসব ভিডিওতে তাকে একাধিক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা তার বক্তব্য জানতে চাইলে আলাউদ্দিন দাবি করেন, ভিডিওগুলো আসল নয়। বরং তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

 

 

তবে অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর যাচাইয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্তত তিনটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে সেগুলো এআই-নির্ভর নয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালিয়ে আরও ১০টি ভিডিওর মূল কপি সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মোট সাতজন ভিন্ন নারীর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। যদিও এসব নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা পুনরায় যাচাই করে সেগুলোকে বাস্তব বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

ভিডিও ফাঁসের উৎস খুঁজতে গিয়ে প্লাটফর্মটি সুনামগঞ্জ ও হাতিয়ার কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের একজন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুন মাসেই তিনি মূল উৎস থেকে ভিডিওগুলোর কিছু স্ক্রিনশট পেয়েছিলেন, যদিও পূর্ণ ভিডিও তার কাছে ছিল না। স্ক্রিনশটের মেটাডাটা অনুযায়ী, সেগুলো ১০ জুন বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে তার ডিভাইসে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ভিডিও ফাঁসের পেছনে শাল্লা উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী রাজু রায়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলাউদ্দিন জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় একা থাকতেন এবং রাজুর বাসা থেকেই তার খাবার সরবরাহ করা হতো। এ সূত্রে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে রাজু আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে জানতে পারেন যে তার কাছে কিছু ভিডিও পেনড্রাইভে সংরক্ষিত আছে। পরে সুযোগ বুঝে সেই পেনড্রাইভ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কিছু ভিডিও নিজের মোবাইলে কপি করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আলাউদ্দিন ক্ষুব্ধ হলে রাজু গোপনে পেনড্রাইভটি ফেরত রেখে দেন। এরপর থেকে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে আলাউদ্দিনকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ ওঠে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি রাজুকে বড় অঙ্কের অর্থ ও জমি দেন বলে দাবি রয়েছে। তবে ভিডিওগুলো মুছে ফেলার আগে রাজু সেগুলো তার পরিচিত এক সাংবাদিকের কাছে পাঠিয়ে দেন। ওই সাংবাদিকও পরে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

 

রাজু রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি অনেক আগের এবং তিনি ভিডিওগুলো ডিলিট করে ফেলেছেন। ভিডিওতে থাকা নারীদের কাউকেই তিনি চেনেন না বলেও জানান।

 

 

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

 

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে ইউএনও পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ জারি করা হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ইউএনওর আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য

আপডেট টাইম : ১১:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ক্লিপ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) ভাইরাল হওয়া এসব ভিডিওতে তাকে একাধিক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা তার বক্তব্য জানতে চাইলে আলাউদ্দিন দাবি করেন, ভিডিওগুলো আসল নয়। বরং তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

 

 

তবে অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর যাচাইয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্তত তিনটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে সেগুলো এআই-নির্ভর নয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালিয়ে আরও ১০টি ভিডিওর মূল কপি সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মোট সাতজন ভিন্ন নারীর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। যদিও এসব নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা পুনরায় যাচাই করে সেগুলোকে বাস্তব বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

ভিডিও ফাঁসের উৎস খুঁজতে গিয়ে প্লাটফর্মটি সুনামগঞ্জ ও হাতিয়ার কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের একজন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুন মাসেই তিনি মূল উৎস থেকে ভিডিওগুলোর কিছু স্ক্রিনশট পেয়েছিলেন, যদিও পূর্ণ ভিডিও তার কাছে ছিল না। স্ক্রিনশটের মেটাডাটা অনুযায়ী, সেগুলো ১০ জুন বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে তার ডিভাইসে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ভিডিও ফাঁসের পেছনে শাল্লা উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী রাজু রায়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলাউদ্দিন জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় একা থাকতেন এবং রাজুর বাসা থেকেই তার খাবার সরবরাহ করা হতো। এ সূত্রে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

একপর্যায়ে রাজু আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে জানতে পারেন যে তার কাছে কিছু ভিডিও পেনড্রাইভে সংরক্ষিত আছে। পরে সুযোগ বুঝে সেই পেনড্রাইভ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কিছু ভিডিও নিজের মোবাইলে কপি করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আলাউদ্দিন ক্ষুব্ধ হলে রাজু গোপনে পেনড্রাইভটি ফেরত রেখে দেন। এরপর থেকে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে আলাউদ্দিনকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ ওঠে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি রাজুকে বড় অঙ্কের অর্থ ও জমি দেন বলে দাবি রয়েছে। তবে ভিডিওগুলো মুছে ফেলার আগে রাজু সেগুলো তার পরিচিত এক সাংবাদিকের কাছে পাঠিয়ে দেন। ওই সাংবাদিকও পরে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

 

রাজু রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি অনেক আগের এবং তিনি ভিডিওগুলো ডিলিট করে ফেলেছেন। ভিডিওতে থাকা নারীদের কাউকেই তিনি চেনেন না বলেও জানান।

 

 

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

 

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে ইউএনও পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ জারি করা হয়।