জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই প্রবেশপথে ১০০ টাকার টিকিট বিক্রি করে এই বাণিজ্য চালানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার পুনট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১৫ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি ‘নিরাপত্তা কমিটি’ গঠন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা। এরপর জাদুর খেলা দেখানোর নাম করে দিঘির প্রবেশপথে টিকিট কাউন্টার বসিয়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসন- কাউকেই এই আয়োজনের বিষয়ে অবগত করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে নান্দাইল দিঘিতে প্রবেশে কখনো কোনো ফি লাগতো না। কিন্তু এবার ঈদের ছুটিতে মেলার নামে এই অবৈধ চাঁদাবাজি চলে। শুধু দিঘির প্রবেশপথেই নয়, পাশের এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজ মাঠে বসানো নাগরদোলা, সাম্পান নৌকা ও জাম্পিংয়ের মতো বিনোদনমূলক রাইড থেকেও প্রায় ১ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মেলায় বসা ফুচকার দোকানসহ অন্যান্য ভ্রাম্যমান দোকানপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এর ফলে মেলায় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা নিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেনের নাম ভাঙিয়ে এবং তার ‘মৌখিক অনুমতি’ রয়েছে দাবি করে এই কার্যক্রম চালায় আয়োজকরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা কোনো সরকারি অনুমোদন বা টেন্ডার না নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের ৭০-৮০ জন লোক কাজ করেছে। টিকিট বিক্রি থেকে যে টাকা তোলা হয়, তা সবার মাঝে ভাগ করে দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা মসজিদে দান করা হয়। তবে পরে পুলিশ এসে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, গোলাম মোস্তফা বিএনপির কোনো নেতা নন। প্রতি বছরই একটি সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় দর্শনার্থীদের জিম্মি করে এভাবেই অর্থ হাতিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















