সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

বাসডুবিতে ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে মৃত্যু থেকে ফিরে আসা খাইরুলের গল্প

বেঁচে যাওয়া খাইরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

দৌলতদিয়ায় নদীতে যাত্রীবাহী  বাসডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া খাইরুল ইসলাম খাঁ জানান, জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি।

 

 

বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে কীভাবে তিনি নদীতে ছিটকে পড়লেন, তা তার জানা নেই। নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত পাননি। তবে মোবাইল গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।

 

 

খাইরুল আরও জানান, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলেন। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। তিনি জানান, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।

খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের ম্যাশিনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।

খাইরুল ইসলাম বলেন, কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে- মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে গেল।

তিনি জানান, বাসটিতে তিনি বি-২ নম্বর সিটের যাত্রী ছিলেন। তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবক খোকসা স্ট্যান্ড থেকে উঠেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে। তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পড়েন।

 

 

খাইরুল ইসলাম খাঁ খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। এ ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের লাশ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে গেছেন।

 

 

বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪ নম্বর) যাত্রীবাহী বাসটি খোকসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর খাইরুল ইসলামসহ দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানান। বেলা ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার খোকসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

বাসডুবিতে ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে মৃত্যু থেকে ফিরে আসা খাইরুলের গল্প

আপডেট টাইম : ০৬:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দৌলতদিয়ায় নদীতে যাত্রীবাহী  বাসডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া খাইরুল ইসলাম খাঁ জানান, জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি।

 

 

বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে কীভাবে তিনি নদীতে ছিটকে পড়লেন, তা তার জানা নেই। নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত পাননি। তবে মোবাইল গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।

 

 

খাইরুল আরও জানান, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলেন। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। তিনি জানান, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।

খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের ম্যাশিনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।

খাইরুল ইসলাম বলেন, কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে- মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে গেল।

তিনি জানান, বাসটিতে তিনি বি-২ নম্বর সিটের যাত্রী ছিলেন। তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবক খোকসা স্ট্যান্ড থেকে উঠেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে। তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পড়েন।

 

 

খাইরুল ইসলাম খাঁ খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। এ ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের লাশ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে গেছেন।

 

 

বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪ নম্বর) যাত্রীবাহী বাসটি খোকসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর খাইরুল ইসলামসহ দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানান। বেলা ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার খোকসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।