সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১১ দফা সুপারিশ

ঢাকা শহরের যানজট নিরসনকল্পে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর ১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি।

 

 

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. ইছহাক দুলাল।

 

 

যানজট নিরসন কমিটির প্রস্তাবনাগুলো হলো- ঢাকা শহরের চারদিকে যে খালগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট ওয়াটার বাস ও ছোট লঞ্চ চালু করা; ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) স্থাপন করা; মিনি রেলপথ ঘেঁষে একটি রিং রোড তৈরি করা; সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে কাচপুরে, মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে, বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ড কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করাসহ মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, বাবুবাজার, সায়দাবাদ, মহাখালী ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তর করা; কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত করা অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা; জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপন করা; ঢাকার চারদিকে ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালু করা; ফুটপাত দখল মুক্ত করা; ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো; ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নগর পরিবহন চালু করা; এবং সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে গ্যাস না দেওয়া।

লিখিত বক্তব্যে আবু ইছহাক দুলাল বলেন, প্রতিদিন কমলাপুর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে কমপক্ষে ৫২টি ট্রেন ছেড়ে যায় এবং ৫২টি ট্রেন প্রবেশ করে। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ২৪টি লেভেল ক্রসিং আছে এর মধ্যে ১১টি স্পেশাল ১৩টি বি ক্লাস। ১১টি কন্ট্রোল করে স্টেশন মাস্টার আর ১৩টি কন্ট্রোল করে গেটম্যান। ১১টিতে সময় লাগে ১০ থেকে ১১ মিনিট আর ১৩টিতে সময় লাগে ৬ থেকে ৭ মিনিট সুতরাং আমরা যদি ১০৪টি ট্রেনের জন্য গড়ে ৭ মিনিট করে হিসাব করি তাহলে দেখা যায়, প্রতিদিন ৭২৮ মিনিট অর্থাৎ ১২ঘন্টা ১৪ মিনিট প্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের কারণে। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যানজট সৃষ্টি হয় সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত, সেই সময়টাকে অর্ধেক তথা ৬ঘন্টা ১০ মিনিট ধরতে পারি। এই সময়টাকে অন্য যানবাহন থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সময় অপচয় হয়ে থাকে তা একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে কতটা অন্তরায় তা সরকারের জানা থাকার কথা। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বাইপাস রেলপথ অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে এই সমস্যার অনেকাংশই লাঘব হবে।

তিনি বলেন, ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কনস্টেবলদের এসএই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিকশার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের অন্তত মাসে একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক প্রশিক্ষণ করাবে। মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতন করবে। এতে করে সড়কে শৃঙ্খলা আসবে। যানজট নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

নগর পরিবহন চালু করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহন সেবা চালু করতে হবে। এতে নন এসি গাড়ি ও এসি দুই ধরনের গাড়িই থাকবে। নন এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা অর্থাৎ ভর্তুকি দেওয়া হবে। আর এসি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ লাভ আসবে তা নন এসিতে ভর্তুকি দেবে। এই সুবিধা সাধারণ মানুষ ভোগ করবে। নগর পরিবহন চালু করলে প্রতিযোগিতা হবে না। প্রতিযোগিতার কারণে রাস্তায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। এতে করে মানুষ নাগরিক সুবিধা অধিকার ভোগ করবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

 

 

আবু ইছহাক দুলাল বলেন, গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে বরং যেসব রপ্তানিমুখী শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটেছে, সেসব ফ্যাক্টরিতে এই অতিরিক্ত গ্যাস সংযোজন করে উৎপাদন সচল করে সম্প্রসারণ করা উচিত। এতে করে আমাদের শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, উৎপাদন বাড়বে এবং আমাদের রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে যাবে।

 

 

কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন হিমেলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি হাজি আব্দুস ছামাদ, ইকবাল আহমেদ রেজা, সালাউদ্দিন খন্দকার, মুখ্য সমন্বয়ক- আ.শ. ম. সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হোসেন পাটোয়ারী, কোষাধ্যক্ষ ইমতিয়াজ উদ্দিন, সদস্য রেজাউল করিম শিপন, আরাফাত হোসাইন মিনাল প্রমুখ।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১১ দফা সুপারিশ

আপডেট টাইম : ০৪:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা শহরের যানজট নিরসনকল্পে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর ১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি।

 

 

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. ইছহাক দুলাল।

 

 

যানজট নিরসন কমিটির প্রস্তাবনাগুলো হলো- ঢাকা শহরের চারদিকে যে খালগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট ওয়াটার বাস ও ছোট লঞ্চ চালু করা; ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) স্থাপন করা; মিনি রেলপথ ঘেঁষে একটি রিং রোড তৈরি করা; সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে কাচপুরে, মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে, বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ড কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করাসহ মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, বাবুবাজার, সায়দাবাদ, মহাখালী ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তর করা; কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত করা অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা; জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপন করা; ঢাকার চারদিকে ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালু করা; ফুটপাত দখল মুক্ত করা; ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো; ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নগর পরিবহন চালু করা; এবং সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে গ্যাস না দেওয়া।

লিখিত বক্তব্যে আবু ইছহাক দুলাল বলেন, প্রতিদিন কমলাপুর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে কমপক্ষে ৫২টি ট্রেন ছেড়ে যায় এবং ৫২টি ট্রেন প্রবেশ করে। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ২৪টি লেভেল ক্রসিং আছে এর মধ্যে ১১টি স্পেশাল ১৩টি বি ক্লাস। ১১টি কন্ট্রোল করে স্টেশন মাস্টার আর ১৩টি কন্ট্রোল করে গেটম্যান। ১১টিতে সময় লাগে ১০ থেকে ১১ মিনিট আর ১৩টিতে সময় লাগে ৬ থেকে ৭ মিনিট সুতরাং আমরা যদি ১০৪টি ট্রেনের জন্য গড়ে ৭ মিনিট করে হিসাব করি তাহলে দেখা যায়, প্রতিদিন ৭২৮ মিনিট অর্থাৎ ১২ঘন্টা ১৪ মিনিট প্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের কারণে। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যানজট সৃষ্টি হয় সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত, সেই সময়টাকে অর্ধেক তথা ৬ঘন্টা ১০ মিনিট ধরতে পারি। এই সময়টাকে অন্য যানবাহন থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সময় অপচয় হয়ে থাকে তা একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে কতটা অন্তরায় তা সরকারের জানা থাকার কথা। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বাইপাস রেলপথ অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে এই সমস্যার অনেকাংশই লাঘব হবে।

তিনি বলেন, ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কনস্টেবলদের এসএই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিকশার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের অন্তত মাসে একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক প্রশিক্ষণ করাবে। মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতন করবে। এতে করে সড়কে শৃঙ্খলা আসবে। যানজট নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

নগর পরিবহন চালু করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহন সেবা চালু করতে হবে। এতে নন এসি গাড়ি ও এসি দুই ধরনের গাড়িই থাকবে। নন এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা অর্থাৎ ভর্তুকি দেওয়া হবে। আর এসি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ লাভ আসবে তা নন এসিতে ভর্তুকি দেবে। এই সুবিধা সাধারণ মানুষ ভোগ করবে। নগর পরিবহন চালু করলে প্রতিযোগিতা হবে না। প্রতিযোগিতার কারণে রাস্তায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। এতে করে মানুষ নাগরিক সুবিধা অধিকার ভোগ করবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

 

 

আবু ইছহাক দুলাল বলেন, গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে বরং যেসব রপ্তানিমুখী শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটেছে, সেসব ফ্যাক্টরিতে এই অতিরিক্ত গ্যাস সংযোজন করে উৎপাদন সচল করে সম্প্রসারণ করা উচিত। এতে করে আমাদের শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, উৎপাদন বাড়বে এবং আমাদের রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে যাবে।

 

 

কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন হিমেলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি হাজি আব্দুস ছামাদ, ইকবাল আহমেদ রেজা, সালাউদ্দিন খন্দকার, মুখ্য সমন্বয়ক- আ.শ. ম. সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হোসেন পাটোয়ারী, কোষাধ্যক্ষ ইমতিয়াজ উদ্দিন, সদস্য রেজাউল করিম শিপন, আরাফাত হোসাইন মিনাল প্রমুখ।