সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

রোগীর সেবায় নয়, ডোবায় গেল সরকারি ওষুধ !

  • আবি
  • আপডেট টাইম : ১২:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • 17

‎‎বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় যে ক্লিনিকের বারান্দায় রোগীরা দিনের পর দিন ভিড় করেছেন, সেই ক্লিনিকের পেছনের ডোবাতেই মিলল বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধের স্তূপ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন একটি ডোবায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে ভাসতে দেখা যায় সরকারি এসব জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।


‎​বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবায় প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট, সিরাপ ও ক্যাপসুল ভাসছে। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী সেখানে ভিড় জমান। ওষুধের গায়ে স্পষ্টভাবে ‘সরকারি সম্পত্তি, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ’ লেখা দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


‎​ক্লিনিকে এসে ওষুধ না পাওয়া ভুক্তভোগী জমিলা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: ‎​”মাইলকে মাইল হেঁটে ক্লিনিকে আসি ওষুধের জন্য, কিন্তু আমাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ আজ দেখি গরিবের সেই ওষুধ ডোবায় পচছে!”



‎​আরেক প্রতিবেশী রোকেয়া খাতুনের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, ক্লিনিকে ওষুধ চাইলে দায়িত্বরতরা সবসময় বলেন, সরকার থেকে কোনো বরাদ্দ নেই। অথচ সেই সরকারি ওষুধ কীভাবে ডোবায় এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্য সহকারী থাকেন না এবং ওষুধগুলো বিতরণ না করে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে প্রমাণ লোপাটের জন্য সেগুলো ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।


‎​এই বিষয়ে ক্লিনিকের বর্তমান স্বাস্থ্য সহকারী মো. মিস্টার নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, “আমি এ সপ্তাহেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছি। এখানে আমি ছাড়াও আরও দুইজন কাজ করেন। এই ওষুধগুলো কবে বা কীভাবে এখানে এল, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”


‎​অন্যদিকে, ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম আবু তাহের জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ​ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।​তদন্তে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


‎​সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হওয়াকে একটি ‘হৃদয়বিদারক’ ও ‘অমানবিক’ ঘটনা হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন—প্রকৃত দোষীরা কি চিহ্নিত হবে, নাকি বরাবরের মতো তদন্তের আড়ালেই ঢাকা পড়ে যাবে এই অব্যবস্থাপনা?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

রোগীর সেবায় নয়, ডোবায় গেল সরকারি ওষুধ !

আপডেট টাইম : ১২:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

‎‎বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় যে ক্লিনিকের বারান্দায় রোগীরা দিনের পর দিন ভিড় করেছেন, সেই ক্লিনিকের পেছনের ডোবাতেই মিলল বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধের স্তূপ। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন একটি ডোবায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে ভাসতে দেখা যায় সরকারি এসব জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।


‎​বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবায় প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট, সিরাপ ও ক্যাপসুল ভাসছে। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী সেখানে ভিড় জমান। ওষুধের গায়ে স্পষ্টভাবে ‘সরকারি সম্পত্তি, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ’ লেখা দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


‎​ক্লিনিকে এসে ওষুধ না পাওয়া ভুক্তভোগী জমিলা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: ‎​”মাইলকে মাইল হেঁটে ক্লিনিকে আসি ওষুধের জন্য, কিন্তু আমাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ আজ দেখি গরিবের সেই ওষুধ ডোবায় পচছে!”



‎​আরেক প্রতিবেশী রোকেয়া খাতুনের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, ক্লিনিকে ওষুধ চাইলে দায়িত্বরতরা সবসময় বলেন, সরকার থেকে কোনো বরাদ্দ নেই। অথচ সেই সরকারি ওষুধ কীভাবে ডোবায় এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্য সহকারী থাকেন না এবং ওষুধগুলো বিতরণ না করে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে প্রমাণ লোপাটের জন্য সেগুলো ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।


‎​এই বিষয়ে ক্লিনিকের বর্তমান স্বাস্থ্য সহকারী মো. মিস্টার নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, “আমি এ সপ্তাহেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছি। এখানে আমি ছাড়াও আরও দুইজন কাজ করেন। এই ওষুধগুলো কবে বা কীভাবে এখানে এল, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”


‎​অন্যদিকে, ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম আবু তাহের জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ​ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।​তদন্তে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


‎​সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হওয়াকে একটি ‘হৃদয়বিদারক’ ও ‘অমানবিক’ ঘটনা হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন—প্রকৃত দোষীরা কি চিহ্নিত হবে, নাকি বরাবরের মতো তদন্তের আড়ালেই ঢাকা পড়ে যাবে এই অব্যবস্থাপনা?