সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

অবশেষে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে শাহজাদপুরের সেই পিআইও

অবশেষে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যেতেই হলো সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে।

 

সোমবার (৪ মে) পাবনা জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আক্তারুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আবুল কালাম আজাদ শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

তিনি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের সমশের আলী মিয়ার ছেলে। পাবনা জেলা সদরের শালগাড়ীয়া সদর হাসপাতাল রোডেও তারা বাসা রয়েছে।

 

পাবনা দুদকের কোর্ট পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্নীতির মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদকে দুদক আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এর আগে রোববার (৩ মে) রাতে পাবনা শহরের শালগাড়ীয়ার নিজ বাসভবন থেকে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি টিম।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর জানান, রোববার রাতে নিজ বাসা থেকে পিআইও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে ৪টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তিনি একক আসামি।

 

দুদক সূত্রে জানা যায়, জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালে পিআইও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

ওই বছরের ৩ জুলাই তারা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে প্রমাণিত হয় আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন যার তথ্য গোপন করেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

এদিকে তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ আয়ে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তার ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বাবার অবৈধ আয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

এসব বিষয়ে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

 

অপরদিকে আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে ৯৯ লাখ ৭৪ হাজার ১৮২ মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়। একটি মামলায় আবুল কালাম আজাদ একক আসামি। বাকি তিনটি মামলায় সহযোগী আসামি করা হয় তাকে।

 

রোববার (৩ মে) রাতে দুদকের একটি টিম পাবনা সদর উপজেলার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পিআইও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে।

 

দুর্নীতি দমন কমিশনা পাবনা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শহীদুল আলম সরকার জানান, আবুল কালাম আজাদ একটি মামলায় একক আসামী। এছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার জন্য তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, ছেলে ফজলে রাব্বী রিয়ন ও শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাতেই আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়েছে।

 

তাকে প্রথম মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

অবশেষে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে শাহজাদপুরের সেই পিআইও

আপডেট টাইম : ০৩:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

অবশেষে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যেতেই হলো সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে।

 

সোমবার (৪ মে) পাবনা জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আক্তারুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আবুল কালাম আজাদ শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

তিনি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের সমশের আলী মিয়ার ছেলে। পাবনা জেলা সদরের শালগাড়ীয়া সদর হাসপাতাল রোডেও তারা বাসা রয়েছে।

 

পাবনা দুদকের কোর্ট পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্নীতির মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদকে দুদক আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এর আগে রোববার (৩ মে) রাতে পাবনা শহরের শালগাড়ীয়ার নিজ বাসভবন থেকে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি টিম।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর জানান, রোববার রাতে নিজ বাসা থেকে পিআইও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে ৪টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তিনি একক আসামি।

 

দুদক সূত্রে জানা যায়, জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালে পিআইও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

ওই বছরের ৩ জুলাই তারা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে প্রমাণিত হয় আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন যার তথ্য গোপন করেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

এদিকে তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ আয়ে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তার ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বাবার অবৈধ আয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

এসব বিষয়ে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

 

অপরদিকে আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে ৯৯ লাখ ৭৪ হাজার ১৮২ মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়। একটি মামলায় আবুল কালাম আজাদ একক আসামি। বাকি তিনটি মামলায় সহযোগী আসামি করা হয় তাকে।

 

রোববার (৩ মে) রাতে দুদকের একটি টিম পাবনা সদর উপজেলার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পিআইও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে।

 

দুর্নীতি দমন কমিশনা পাবনা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শহীদুল আলম সরকার জানান, আবুল কালাম আজাদ একটি মামলায় একক আসামী। এছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার জন্য তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, ছেলে ফজলে রাব্বী রিয়ন ও শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাতেই আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়েছে।

 

তাকে প্রথম মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।