সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-অকটেন, অবৈধ মজুতের অভিযোগ

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-অকটেন, অবৈধ মজুতের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের নিমগাছি বাজারে  নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন বোতলে ভরে অবৈধভাবে উচ্চ মূল্যে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। কোনো ধরনের লাইসেন্স  ছাড়াই জনবহুল এলাকায় এভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিমগাছি বাজারের ধানহাটি এলাকায় রাস্তার ধারে ছোট একটি দোকানে প্লাস্টিকের বোতলে  ভরে পেট্রোল ও অকটেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালকরা এ দোকান থেকে ২শতটাকা  লিটারে তেল কিনছেন।

অবৈধ তেল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম এই প্রতিবেদকের কাছে প্রতি লিটার ২শত টাকা দাবি করেন। পরে সাংবাদিক টের পেয়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা লিটারে বিক্রির কথা বলেন। তিনি স্থানীয় একটি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রির কথা স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, সারাদেশে তেল সংকটের মধ্যেও তিনি অবাধে এই ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। অনেক সময় সে ৩শত টাকা লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রি করেছেন। তার বিরুদ্ধে তেল মজুতের অভিযোগ উঠেছে

জ্বালানি নীতি অনুযায়ী, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া  পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া তেলের মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি এসব তেল যেভাবে সাধারণ প্লাস্টিক বোতলে রাখা হয়, তা যে কোনো সময় সামান্য আগুনের সংস্পর্শে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্যে এভাবে পেট্রোল বিক্রি করা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সোনাখাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার বলেন, অবৈধভাবে তেল বিক্রির ঘটনা তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য

ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

কারাগারে বন্দি কয়েদিরা। ছবি : প্রতীকী

ঘটনাটি ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক ইমাম ও মক্তবের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় জেল খাটতে হয় তাকে। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হারাতে হয় চাকরিও।

 

 

 

কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সামনে আসে ভয়ংকর এক সত্য। কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটির বাবা ওই মক্তবের শিক্ষক নন; বরং মেয়েটিরই বড় ভাই। পরে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

 

 

 

ফরেনসিক পরীক্ষায় পরশুরামের বক্স মাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে।

এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন তিনি।

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের কিশোরী রুবি আক্তার (১৪)। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানও প্রসব করে সে। আর এর দায় চাপানো হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) কাঁধে।

 

 

 

একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

 

 

 

এর মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএ’র মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ঘটনা আড়াল করে ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক মোজাফফরকে ফাঁসানো হয়।

 

 

 

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে মোরশেদ।

 

 

 

আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন।

 

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশীট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

 

 

পরশুরামের বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জমি। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই গ্রামের আবুল বশরের ছেলে মোজাফফর আহমেদ।

 

 

 

মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মত অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নী, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

 

 

 

মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ। আপডেট টাইম : ০৬:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

 

 

 

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের পাশাপাশি একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাওয়া হয়।

 

শুনানি শেষে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।

এদিন বিকেলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। গত ৭ এপ্রিল তাকে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এতদিন হাজির করা যায়নি।

 

 

 

মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার

জয়পুরহাট প্রতিনিধি।জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৭:০০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড পাওয়ার পর জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল সরকারি ছাঈদ আলতাফুন্নেচ্ছা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জেলা ছাত্রদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোহেল রানাকে সভাপতির পদসহ দলের সকল পর্যায়ের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ.কে.এম গোলাম মাহফুজ শুভ ও সাধারণ সম্পাদক কে.এম শাকিল হোসেন এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন। একই সাথে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে মাদক সেবনের সময় ক্ষেতলাল সরকারি ছাঈদ আলতাফুন্নেচ্ছা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রউফ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ.কে.এম গোলাম মাহফুজ শুভ বলেন, অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকায় সোহেল রানাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। যার প্রমাণ মামলার নথিতেও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো ধরনের অনৈতিক বা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

2 thoughts on “প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-অকটেন, অবৈধ মজুতের অভিযোগ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-অকটেন, অবৈধ মজুতের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১২:৫১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের নিমগাছি বাজারে  নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন বোতলে ভরে অবৈধভাবে উচ্চ মূল্যে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। কোনো ধরনের লাইসেন্স  ছাড়াই জনবহুল এলাকায় এভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিমগাছি বাজারের ধানহাটি এলাকায় রাস্তার ধারে ছোট একটি দোকানে প্লাস্টিকের বোতলে  ভরে পেট্রোল ও অকটেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালকরা এ দোকান থেকে ২শতটাকা  লিটারে তেল কিনছেন।

অবৈধ তেল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম এই প্রতিবেদকের কাছে প্রতি লিটার ২শত টাকা দাবি করেন। পরে সাংবাদিক টের পেয়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা লিটারে বিক্রির কথা বলেন। তিনি স্থানীয় একটি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রির কথা স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, সারাদেশে তেল সংকটের মধ্যেও তিনি অবাধে এই ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। অনেক সময় সে ৩শত টাকা লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রি করেছেন। তার বিরুদ্ধে তেল মজুতের অভিযোগ উঠেছে

জ্বালানি নীতি অনুযায়ী, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া  পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া তেলের মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি এসব তেল যেভাবে সাধারণ প্লাস্টিক বোতলে রাখা হয়, তা যে কোনো সময় সামান্য আগুনের সংস্পর্শে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্যে এভাবে পেট্রোল বিক্রি করা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সোনাখাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার বলেন, অবৈধভাবে তেল বিক্রির ঘটনা তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য

ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

কারাগারে বন্দি কয়েদিরা। ছবি : প্রতীকী

ঘটনাটি ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক ইমাম ও মক্তবের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় জেল খাটতে হয় তাকে। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হারাতে হয় চাকরিও।

 

 

 

কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সামনে আসে ভয়ংকর এক সত্য। কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটির বাবা ওই মক্তবের শিক্ষক নন; বরং মেয়েটিরই বড় ভাই। পরে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

 

 

 

ফরেনসিক পরীক্ষায় পরশুরামের বক্স মাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে।

এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন তিনি।

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের কিশোরী রুবি আক্তার (১৪)। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানও প্রসব করে সে। আর এর দায় চাপানো হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) কাঁধে।

 

 

 

একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

 

 

 

এর মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএ’র মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ঘটনা আড়াল করে ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক মোজাফফরকে ফাঁসানো হয়।

 

 

 

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে মোরশেদ।

 

 

 

আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন।

 

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশীট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

 

 

পরশুরামের বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জমি। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই গ্রামের আবুল বশরের ছেলে মোজাফফর আহমেদ।

 

 

 

মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মত অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নী, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

 

 

 

মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ। আপডেট টাইম : ০৬:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

 

 

 

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের পাশাপাশি একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাওয়া হয়।

 

শুনানি শেষে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।

এদিন বিকেলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। গত ৭ এপ্রিল তাকে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এতদিন হাজির করা যায়নি।

 

 

 

মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার

জয়পুরহাট প্রতিনিধি।জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৭:০০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড পাওয়ার পর জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল সরকারি ছাঈদ আলতাফুন্নেচ্ছা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জেলা ছাত্রদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোহেল রানাকে সভাপতির পদসহ দলের সকল পর্যায়ের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ.কে.এম গোলাম মাহফুজ শুভ ও সাধারণ সম্পাদক কে.এম শাকিল হোসেন এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন। একই সাথে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে মাদক সেবনের সময় ক্ষেতলাল সরকারি ছাঈদ আলতাফুন্নেচ্ছা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রউফ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ.কে.এম গোলাম মাহফুজ শুভ বলেন, অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকায় সোহেল রানাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। যার প্রমাণ মামলার নথিতেও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো ধরনের অনৈতিক বা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।