সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রায়গঞ্জে একাধিক মামলায় ৩ জন গ্রেফতার

রায়গঞ্জে গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ ৩ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের গণধর্ষণ মামলার এক আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় দায়ের করা গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. শাহীন খান (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ধামাইনগর এলাকার মো. আব্দুল মজিদ খানের ছেলে।
এছাড়া সিআর মামলা নং-৯৯/২১ (সিরাজগঞ্জ) এর এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মজিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার খামারগাতী গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে।
অন্যদিকে পারিবারিক ডিং নং-৩৭২/২৫, পারিবারিক আদালত আইনের ১৭(৫) ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোমিন শেখকেও আটক করা হয়েছে। তিনি উপজেলার মধুপুর গ্রামের মো. রমজানের ছেলে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসানুজ্জামান বলেন,গ্রেফতারকৃতদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে ।

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথকে দুর্ঘটনামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮ বছরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান। রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ তাজ মিলনায়তনে ৯ মে বিকেলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, আকরাম হোসেন খান, জিয়াউর রহমান জিয়া ও কালাম ফয়েজী।

 

 

 

এসময় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ সচেতন হলেও বিভিন্ন সময়ের সংশ্লিষ্ট মহলের কারণে নির্মমভাবে বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যা কোনাভাবেই সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে। সেই সচেতন নাগরিক সমাজের আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবি চিন্তার মানুষদেরকে সেভ দ্য রোড-এর সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব জামান বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আকাশ-সড়ক- রেল বা নৌপথে কোনো নতুন দুর্ঘটনা দেখতে চাই না।

 

 

ইসলামপুরে হালিম নগর বাজার হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অবকাঠামোগত দক্ষতা  উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)” প্রকল্পের আওতায় বলিয়াদহ হালিম নগর (আমতলী) বাজার হস্তান্তর, পরিচালনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

‎শনিবার (০৯মে ২০২৬)  সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এ. ই সুলতান মাহমুদ বাবু।

 

 

 

‎উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রােজদিদ আহাম্মেদ।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, উপজেলা বিএনপির  সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম হোসেন নোমান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার, ইসলামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়াল খান লোহানী।

 

 


‎কর্মশালায় বাজার পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কমিটি, বণিক সমতি, স্থায়া-অস্থায়ী ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাজার ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, খামারিদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
‎অনুষ্ঠান শেষে ১০৫ জন এলএসপিদের মাঝে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

 

 

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, জোরদার টহল অভিযান

কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় চোরাচালান ঠেকাতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জোরদার নজরদারি ও টহল কার্যক্রম শুরু করেছে।

শনিবার (৯ মে) কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে মাদক, গরু, স্বর্ণ, কসমেটিকসসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এসব চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।

ফুলবাড়ী সীমান্ত ছাড়াও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকাকেও বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব এলাকা দিয়ে অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাতেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ফলে আগের মতো পরিস্থিতি আর হবে না বলে আমরা আশাবাদী।”

মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে বৃহৎ শিল্প পার্ক। যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনে আরও  শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০ দিকে ঠাকুরগাঁও বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে, যেখানে শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুন যে বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিল্প উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্লট নিয়ে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে ঠাকুরগাঁও শিল্প পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ২৫১টি প্লট থাকবে। এসব প্লটে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। কেউ হয়তো দুই, তিন কিংবা চারটি প্লট নিয়েও শিল্প স্থাপন করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে, যাতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং বিদ্যমান জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।ঠাকুরগাঁওয়ের নতুন শিল্পনগরী পরিদর্শনও সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে আলুভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ব্যাপক পরিমাণে আলু উৎপাদিত হলেও রপ্তানিযোগ্য আলুর ঘাটতি রয়েছে। তাই রপ্তানিযোগ্য আলুর নতুন জাত উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ইনশাল্লাহ আমরা সেটি আগামী দিনে অর্জন করব।
পরে শিল্পমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও পুরাতন বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা এবং জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিবিয়ায় মাফিয়াদের কবলে বরিশালের আসাদুল, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আসাদুল বক্তিয়ার । কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত দুই মাস ধরে লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। আসাদুলকে জীবিত ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

আসাদুল আগৈলঝাড়া উপজেলার চাঁত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিংয়ের কাজ করে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন তিনি।

 

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পর ভোররাতে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র মাফিয়া দল আসাদুলকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে একটি গোপন আস্তানায় তাকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে এবং বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের সেই শিউরে ওঠা দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবারকে দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছে মাফিয়ারা। এমনকি তার নখ উপড়ে ফেলা এবং চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত ঝরানোর দৃশ্যও পরিবারকে দেখানো হয়েছে।

 

 

 

 

আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায়। আমার সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে দিতাম, কিন্তু কিছুই নেই। একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি কীভাবে সইব? সরকারের কাছে দাবি, আমার কলিজার টুকরা বাবারে ফিরাইয়া দেন।
আসাদুলের মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগমও এখন শোকে পাথর। বাড়িতে দুই শিশু সন্তান হামিম ও শামিম তাদের বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। নিপা বেগম জানান, ধারে-সুদে আনা ৩ লাখ ও বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৪ লাখ টাকা রোববার ও সোমবার ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাফিয়ারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে চার টুকরো করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হবে।

 

 

 

 

লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার বিষয়টি স্থানীয় দুটি থানায় জানালে মাফিয়ারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও খুঁজতে শুরু করে। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এরফান গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং বোন নিপা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে মাফিয়ারা আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে আসাদুলের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। ওই পরিবার আমার কাছে লিখিতভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

 

 

নির্দোষ হয়েও ধর্ষণ মামলায় একমাস কারাভোগ, প্রশ্নের মুখে তদন্ত

‎ফরেনসিক পরীক্ষায় ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করেন পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের রুবি আক্তার (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করেন। আর এ ঘটনার দায় চাপানো হয় মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) ওপর। দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। সেই মামলায় একমাস জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের বাবা মোজাফফর আহমদ নন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে, তার গর্ভজাত সন্তানের বাবা আপন বড় ভাই মোরশেদ। ‎ ‎চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জায়গা। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হতে হয় তাকে। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বশরের ছেলে। ‎ ‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সাথে জড়িত নন দাবি করে কাকুতি মিনতি করলেও কারো মন গলেনি। মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন ইমাম মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন মোজাফফর।

 

 

 

‎এদিকে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

‎ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়।

মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ‎ ‎এরমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সাথে মোজাফফরের মিল না পাওয়ার প্রতিবেদন ফেনীতে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কিশোরী তাকে তার সহোদর ভাই গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আপন বড় ভাই মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে ভিকটিম রুবি আক্তার শিক্ষক মোজাফফর়কে ফাঁসানো হয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে রুবি আক্তারকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে, মোরশেদ পরিবারের অগোচরে আপন বোন রুবি আক্তারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। ভিকটিম রুবি আক্তার ও তার ভাই মোরশেদ ওই গ্রামের চান মিয়ার ছেলেমেয়ে। ‎ ‎আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার, আর ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা। ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন। ‎ ‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে -মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯ (১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান ও গ্রেপ্তার আসামি মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

 

 

 

এদিকে আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। ‎ ‎তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

‎জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নি, কওমি বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম।

 

 

 

‎ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

 

 

 

‎পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আপন বড় ভাই এ ঘটনার সাথে জড়িত।

 

 

 

তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

গজারিয়ায় ৭১’র গণহত্যার শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৯ মে গজারিয়ায় সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর  ১২টায় গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
অনুষ্ঠান  উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রেনেসাঁ ইন্টান্যাশনাল ফাউন্ডেশন, চেয়ারম্যান  ড.মো.আতাউর রহমান। গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের, সভাপতি মো.বিল্লাল হোসেন আখন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ( ওসি) হাসান আলী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক ইকবাল হোসেন সহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।সে সঙ্গে  এমপির হাত থেকে ১০ কেজি চাউল ও পোষাক উপহার গ্রহন করে মুক্তি যোদ্ধা পরিবার।

বৈরী আবহাওয়া ও কম দামে দিশেহারা নাচোলের বোরো চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও মিলছে মাত্র ১২ থেকে ১৮ মণ। উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের তুলনায় ধানের দাম একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। তার ওপর কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে অনেকের কাটা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান শুকানো ও ঘরে তুলতে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক সন্তশ হাঁসদা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঋণ করে বোরো ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। প্রতিদিন ধান নিচু জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় নিয়ে শুকাতে হচ্ছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না।”

তবুও কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পেরে কিছুটা আনন্দিত কৃষকরা। তবে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

আরেক কৃষক মজিবর বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে ধানে গাছ বের হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ধান বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত মাঠের ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে নাচোল উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চান তারা।

আগামীকাল পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামীকাল রোববার (৯ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনের পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। এ দিন সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন।

 

 

 

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। এ সময় তিনি পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দিবেন।

 

 

 

পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ১৩ মে এবারের আয়োজন শেষ হবে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জন-বান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিকস-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

 

মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার বাণীতে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কাছে সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে, ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

 

 

 

এ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পৃথক বাণী দেন।

 

 

 

এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেওয়া হবে।

 

 

 

বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে প্রকৌশলীদের মূল্যায়নের আহ্বান : ইঞ্জি. বকুল

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে প্রকৌশলীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেছেন, যদি বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে হয়, তবে সবার আগে প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্থান দিতে হবে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী “ইঞ্জিনিয়ার্স ডে” উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

রাজপথে ও উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ইঞ্জি. বকুল বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজপথের সংগ্রামে প্রকৌশলীরা সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে সারা দেশের প্রতিটি সমাবেশে প্রকৌশলীরা সক্রিয় ছিলেন। তবে কেন আজ তারা অবহেলিত হবে? প্রকৌশলীরা কখনো পিছিয়ে ছিল না এবং কেউ বলতে পারবে না তারা রাজপথে ছিল না।

কারিগরি মন্ত্রণালয়ে প্রকৌশলীদের নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে তিনি প্রতিটি দপ্তরে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নন-টেকনিক্যাল ব্যক্তিদের আধিপত্য কাম্য নয়।

 

 

তিনি উল্লেখ করেন যে, বিমান, শিল্প, এলজিইডি, রেল ও বিদ্যুৎসহ প্রতিটি সেক্টরে পেশাদার প্রকৌশলীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সচিব পর্যায়সহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী স্থানে প্রকৌশলীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সে সময় প্রকৌশলীদের মূল্যায়ন ও বিভিন্ন কমিশন গঠনের মাধ্যমেই দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন না করা হলে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। প্রকৌশলীদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সবার শেষে পড়ে থাকবে।

 

 

 

আইইবি’র প্রেসিডেন্ট ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, এমপি, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

 

 

ফুলজোড় নদীর কচুড়িপানায় ভাসমান দোকান, গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী বিনোদন কেন্দ্র

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল কচুড়িপানার স্তূপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নদীর মাঝখানে ভেসে থাকা এই কচুড়িপানার ওপর গড়ে উঠেছে কয়েকটি অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান। সেখানে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেলের পর থেকে এলাকাটি যেন ছোট্ট এক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নেয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ কচুড়িপানা এক জায়গায় জমে বড় আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেখানে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন খাবারের দোকান বসান। এরপর থেকেই ব্যতিক্রমী এই দৃশ্য দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।

বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়িতে মেতে ওঠে। অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম দলু বলেন, “নদীর ওপর এমন কচুড়িপানার স্তূপ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই এটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ আসছেন।”

মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিকেলের দিকে এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। একদিকে এটি বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

তবে এই নতুন আকর্ষণকে ঘিরে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী আল আমিন বলেন, “কচুড়িপানার স্তূপের ওপর অতিরিক্ত মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিয়াম জানান, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে দ্রুত কচুড়িপানা অপসারণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভূল্লীতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে ভূল্লী থানার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের পূর্ব শুখানপুকুরী তল্লিপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন আনারুল ইসলাম (৪১), আব্দুর রহিম (৩৪) এবং হারুন অর রশিদ (৩০)। তারা সবাই পূর্ব শুখানপুকুরী এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূল্লী থানা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আনারুল ইসলামের বাড়িতে মাদক বিক্রির সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে মোট ৩৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ইয়াবার মধ্যে আনারুল ইসলামের কাছ থেকে ১৭ পিস, আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ৮ পিস এবং হারুন অর রশিদের কাছ থেকে ৮ পিস পাওয়া যায়।

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভূল্লী থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুপ থাকবে না জামায়াত: ডাঃ শফিকুর রহমান

সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে জাপান সফর শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

 

জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

বিস্তারিত আসছে…

 

বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা বন্দুকের গুলিতে কলেজছা্ত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা শুরু করেছে।

 

 

 

নিহতরা হলেন- কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মোরছালিন (২০)। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারা যাওয়া অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।

 

 

 

শুক্রবার (০৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কসবার প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।

 

পরে ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এসময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

 

 

একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আহত অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

 

 

 

বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে দুইজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিজিবি।

 

 

দুই কর অঞ্চলে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করবেন যেভাবে

চাকরির সুযোগ দিচ্ছে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৫ এবং কর অঞ্চল-৬। প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। উভয় কর অঞ্চলে ১২৬ জন করে মোট ২৫২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ৭ জুন ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর

বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৩) ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

২. পদের নাম: ব্যক্তিগত সহকারী

পদসংখ্যা: ৮

কর অঞ্চল- ৫ (০৪টি), কর অঞ্চল-৬ (০৪টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৩. পদের নাম: প্রধান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৪. পদের নাম: উচ্চমান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৫. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ৪৬

কর অঞ্চল- ৫ (২৩টি), কর অঞ্চল- ৬ (২৩টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৬. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল-৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

 

 

৭. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল- ৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ৮,২৫০-২০,১০০ টাকা।

বয়সসীমা

১ মে ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

কর অঞ্চল- ৫: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

কর অঞ্চল- ৬: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফি

১ থেকে ৬ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ১০০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ১২ টাকাসহ মোট ১১২ টাকা;

৭ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ৫০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা

আবেদনপত্র জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ১৮ মে ২০২৬, সকাল ১০টা।

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ৭ জুন, ২০২৬, বিকেল ৫টা।

বিস্তারিত দেখুন সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের ওয়েবসাইটে (www.taxeszone5.chittagong.gov.bd এবং https://tax6.chattogram.gov.bd/)।

 

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলামের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল ইসলাম।

 

 

 

এসময় তার বানানো ছোট এই বাহনটি দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল ইসলাম। ব্যাটারি চালিত বিশেষ এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের তরুণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরো আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন। প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির গল্প শুনিয়েছেন ওয়াকিমুল ইসলাম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই তরুণ জানান, এক সময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাহিরে বের হতে পারতেন না। কীভাবে বাহিরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে তিনি কারটি বানানো শুরু করেন।

 

 

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়েন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন।

 

 

 

ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

 

 

 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

শুভেন্দুর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিজেপি। দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে তিনি শপথ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভর্নর আর. এন. রবি শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। কয়েক দিন আগে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। এ জয়ের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।

একসময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে মমতা যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে উঠছিলেন, তখন তার অন্যতম সহযোদ্ধা ছিলেন অধিকারী। আর আজ, সময়ের পালাবদলে সেই একই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন তিনি, যার পাশে একসময় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন।

 

শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভায় রয়েছেন কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে আছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া। তারা সবাই আজ শপথ নিয়েছেন।

 

তিন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে ১০:৪৫ মিনিটে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (কেআইবি) প্রবেশ করেন তিনি।

 

 

 

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সভাস্থলে সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ সময় দলীয় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।

স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করে পালালেন স্বামী

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলাকেটে হত্যার করে পালিয়ে গেছেন স্বামী। অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করে পালিয়ে গেছেন।

 

নিহতরা হলেন  ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তারা কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের জনৈক মনির হোসেনের বাড়ির নীচতলা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।  তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।

 

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতো ফোরকান মিয়া। শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে থানায় খবর আসে যে, ফোরকান মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানিয়েছেন— তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অপরদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়দের দাবি, ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

 

গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

2 thoughts on “রায়গঞ্জে একাধিক মামলায় ৩ জন গ্রেফতার

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সোজা গুলি করার’ ওপেন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

রায়গঞ্জে একাধিক মামলায় ৩ জন গ্রেফতার

আপডেট টাইম : ০৭:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের গণধর্ষণ মামলার এক আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় দায়ের করা গণধর্ষণ মামলার আসামি মো. শাহীন খান (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ধামাইনগর এলাকার মো. আব্দুল মজিদ খানের ছেলে।
এছাড়া সিআর মামলা নং-৯৯/২১ (সিরাজগঞ্জ) এর এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মজিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার খামারগাতী গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে।
অন্যদিকে পারিবারিক ডিং নং-৩৭২/২৫, পারিবারিক আদালত আইনের ১৭(৫) ধারার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোমিন শেখকেও আটক করা হয়েছে। তিনি উপজেলার মধুপুর গ্রামের মো. রমজানের ছেলে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসানুজ্জামান বলেন,গ্রেফতারকৃতদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে ।

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথকে দুর্ঘটনামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮ বছরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান। রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ তাজ মিলনায়তনে ৯ মে বিকেলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, আকরাম হোসেন খান, জিয়াউর রহমান জিয়া ও কালাম ফয়েজী।

 

 

 

এসময় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ সচেতন হলেও বিভিন্ন সময়ের সংশ্লিষ্ট মহলের কারণে নির্মমভাবে বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যা কোনাভাবেই সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে। সেই সচেতন নাগরিক সমাজের আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবি চিন্তার মানুষদেরকে সেভ দ্য রোড-এর সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব জামান বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আকাশ-সড়ক- রেল বা নৌপথে কোনো নতুন দুর্ঘটনা দেখতে চাই না।

 

 

ইসলামপুরে হালিম নগর বাজার হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অবকাঠামোগত দক্ষতা  উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)” প্রকল্পের আওতায় বলিয়াদহ হালিম নগর (আমতলী) বাজার হস্তান্তর, পরিচালনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

‎শনিবার (০৯মে ২০২৬)  সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এ. ই সুলতান মাহমুদ বাবু।

 

 

 

‎উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রােজদিদ আহাম্মেদ।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, উপজেলা বিএনপির  সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম হোসেন নোমান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার, ইসলামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়াল খান লোহানী।

 

 


‎কর্মশালায় বাজার পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কমিটি, বণিক সমতি, স্থায়া-অস্থায়ী ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাজার ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, খামারিদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
‎অনুষ্ঠান শেষে ১০৫ জন এলএসপিদের মাঝে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

 

 

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, জোরদার টহল অভিযান

কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় চোরাচালান ঠেকাতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জোরদার নজরদারি ও টহল কার্যক্রম শুরু করেছে।

শনিবার (৯ মে) কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে মাদক, গরু, স্বর্ণ, কসমেটিকসসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এসব চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।

ফুলবাড়ী সীমান্ত ছাড়াও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকাকেও বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব এলাকা দিয়ে অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাতেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ফলে আগের মতো পরিস্থিতি আর হবে না বলে আমরা আশাবাদী।”

মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে বৃহৎ শিল্প পার্ক। যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনে আরও  শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০ দিকে ঠাকুরগাঁও বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে, যেখানে শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুন যে বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিল্প উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্লট নিয়ে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে ঠাকুরগাঁও শিল্প পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ২৫১টি প্লট থাকবে। এসব প্লটে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। কেউ হয়তো দুই, তিন কিংবা চারটি প্লট নিয়েও শিল্প স্থাপন করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে, যাতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং বিদ্যমান জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।ঠাকুরগাঁওয়ের নতুন শিল্পনগরী পরিদর্শনও সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে আলুভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ব্যাপক পরিমাণে আলু উৎপাদিত হলেও রপ্তানিযোগ্য আলুর ঘাটতি রয়েছে। তাই রপ্তানিযোগ্য আলুর নতুন জাত উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ইনশাল্লাহ আমরা সেটি আগামী দিনে অর্জন করব।
পরে শিল্পমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও পুরাতন বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা এবং জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিবিয়ায় মাফিয়াদের কবলে বরিশালের আসাদুল, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি

সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আসাদুল বক্তিয়ার । কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত দুই মাস ধরে লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। আসাদুলকে জীবিত ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

আসাদুল আগৈলঝাড়া উপজেলার চাঁত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিংয়ের কাজ করে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন তিনি।

 

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পর ভোররাতে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র মাফিয়া দল আসাদুলকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে একটি গোপন আস্তানায় তাকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে এবং বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের সেই শিউরে ওঠা দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবারকে দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছে মাফিয়ারা। এমনকি তার নখ উপড়ে ফেলা এবং চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত ঝরানোর দৃশ্যও পরিবারকে দেখানো হয়েছে।

 

 

 

 

আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায়। আমার সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে দিতাম, কিন্তু কিছুই নেই। একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি কীভাবে সইব? সরকারের কাছে দাবি, আমার কলিজার টুকরা বাবারে ফিরাইয়া দেন।
আসাদুলের মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগমও এখন শোকে পাথর। বাড়িতে দুই শিশু সন্তান হামিম ও শামিম তাদের বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। নিপা বেগম জানান, ধারে-সুদে আনা ৩ লাখ ও বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৪ লাখ টাকা রোববার ও সোমবার ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাফিয়ারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে চার টুকরো করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হবে।

 

 

 

 

লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার বিষয়টি স্থানীয় দুটি থানায় জানালে মাফিয়ারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও খুঁজতে শুরু করে। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এরফান গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং বোন নিপা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে মাফিয়ারা আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে আসাদুলের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। ওই পরিবার আমার কাছে লিখিতভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

 

 

নির্দোষ হয়েও ধর্ষণ মামলায় একমাস কারাভোগ, প্রশ্নের মুখে তদন্ত

‎ফরেনসিক পরীক্ষায় ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করেন পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের রুবি আক্তার (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করেন। আর এ ঘটনার দায় চাপানো হয় মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) ওপর। দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। সেই মামলায় একমাস জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের বাবা মোজাফফর আহমদ নন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে, তার গর্ভজাত সন্তানের বাবা আপন বড় ভাই মোরশেদ। ‎ ‎চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জায়গা। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হতে হয় তাকে। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বশরের ছেলে। ‎ ‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সাথে জড়িত নন দাবি করে কাকুতি মিনতি করলেও কারো মন গলেনি। মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন ইমাম মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন মোজাফফর।

 

 

 

‎এদিকে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

‎ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়।

মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ‎ ‎এরমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সাথে মোজাফফরের মিল না পাওয়ার প্রতিবেদন ফেনীতে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কিশোরী তাকে তার সহোদর ভাই গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আপন বড় ভাই মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে ভিকটিম রুবি আক্তার শিক্ষক মোজাফফর়কে ফাঁসানো হয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে রুবি আক্তারকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে, মোরশেদ পরিবারের অগোচরে আপন বোন রুবি আক্তারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। ভিকটিম রুবি আক্তার ও তার ভাই মোরশেদ ওই গ্রামের চান মিয়ার ছেলেমেয়ে। ‎ ‎আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার, আর ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা। ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন। ‎ ‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে -মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯ (১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান ও গ্রেপ্তার আসামি মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

 

 

 

এদিকে আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। ‎ ‎তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

 

 

 

‎মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।

 

 

 

‎জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নি, কওমি বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম।

 

 

 

‎ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

 

 

 

‎পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আপন বড় ভাই এ ঘটনার সাথে জড়িত।

 

 

 

তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

গজারিয়ায় ৭১’র গণহত্যার শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৯ মে গজারিয়ায় সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর  ১২টায় গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
অনুষ্ঠান  উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রেনেসাঁ ইন্টান্যাশনাল ফাউন্ডেশন, চেয়ারম্যান  ড.মো.আতাউর রহমান। গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের, সভাপতি মো.বিল্লাল হোসেন আখন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ( ওসি) হাসান আলী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক ইকবাল হোসেন সহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।সে সঙ্গে  এমপির হাত থেকে ১০ কেজি চাউল ও পোষাক উপহার গ্রহন করে মুক্তি যোদ্ধা পরিবার।

বৈরী আবহাওয়া ও কম দামে দিশেহারা নাচোলের বোরো চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও মিলছে মাত্র ১২ থেকে ১৮ মণ। উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের তুলনায় ধানের দাম একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। তার ওপর কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে অনেকের কাটা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান শুকানো ও ঘরে তুলতে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক সন্তশ হাঁসদা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঋণ করে বোরো ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। প্রতিদিন ধান নিচু জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় নিয়ে শুকাতে হচ্ছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না।”

তবুও কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পেরে কিছুটা আনন্দিত কৃষকরা। তবে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

আরেক কৃষক মজিবর বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে ধানে গাছ বের হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ধান বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত মাঠের ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে নাচোল উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চান তারা।

আগামীকাল পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামীকাল রোববার (৯ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনের পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। এ দিন সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন।

 

 

 

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। এ সময় তিনি পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দিবেন।

 

 

 

পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ১৩ মে এবারের আয়োজন শেষ হবে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জন-বান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিকস-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

 

মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার বাণীতে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কাছে সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে, ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

 

 

 

এ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পৃথক বাণী দেন।

 

 

 

এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেওয়া হবে।

 

 

 

বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে প্রকৌশলীদের মূল্যায়নের আহ্বান : ইঞ্জি. বকুল

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে প্রকৌশলীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেছেন, যদি বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে হয়, তবে সবার আগে প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্থান দিতে হবে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী “ইঞ্জিনিয়ার্স ডে” উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

রাজপথে ও উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ইঞ্জি. বকুল বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজপথের সংগ্রামে প্রকৌশলীরা সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে সারা দেশের প্রতিটি সমাবেশে প্রকৌশলীরা সক্রিয় ছিলেন। তবে কেন আজ তারা অবহেলিত হবে? প্রকৌশলীরা কখনো পিছিয়ে ছিল না এবং কেউ বলতে পারবে না তারা রাজপথে ছিল না।

কারিগরি মন্ত্রণালয়ে প্রকৌশলীদের নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে তিনি প্রতিটি দপ্তরে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নন-টেকনিক্যাল ব্যক্তিদের আধিপত্য কাম্য নয়।

 

 

তিনি উল্লেখ করেন যে, বিমান, শিল্প, এলজিইডি, রেল ও বিদ্যুৎসহ প্রতিটি সেক্টরে পেশাদার প্রকৌশলীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সচিব পর্যায়সহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী স্থানে প্রকৌশলীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সে সময় প্রকৌশলীদের মূল্যায়ন ও বিভিন্ন কমিশন গঠনের মাধ্যমেই দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন না করা হলে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। প্রকৌশলীদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সবার শেষে পড়ে থাকবে।

 

 

 

আইইবি’র প্রেসিডেন্ট ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, এমপি, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

 

 

ফুলজোড় নদীর কচুড়িপানায় ভাসমান দোকান, গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী বিনোদন কেন্দ্র

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল কচুড়িপানার স্তূপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নদীর মাঝখানে ভেসে থাকা এই কচুড়িপানার ওপর গড়ে উঠেছে কয়েকটি অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান। সেখানে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেলের পর থেকে এলাকাটি যেন ছোট্ট এক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নেয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ কচুড়িপানা এক জায়গায় জমে বড় আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেখানে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন খাবারের দোকান বসান। এরপর থেকেই ব্যতিক্রমী এই দৃশ্য দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।

বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়িতে মেতে ওঠে। অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম দলু বলেন, “নদীর ওপর এমন কচুড়িপানার স্তূপ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই এটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ আসছেন।”

মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিকেলের দিকে এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। একদিকে এটি বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

তবে এই নতুন আকর্ষণকে ঘিরে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী আল আমিন বলেন, “কচুড়িপানার স্তূপের ওপর অতিরিক্ত মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিয়াম জানান, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে দ্রুত কচুড়িপানা অপসারণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভূল্লীতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে ভূল্লী থানার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের পূর্ব শুখানপুকুরী তল্লিপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন আনারুল ইসলাম (৪১), আব্দুর রহিম (৩৪) এবং হারুন অর রশিদ (৩০)। তারা সবাই পূর্ব শুখানপুকুরী এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূল্লী থানা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আনারুল ইসলামের বাড়িতে মাদক বিক্রির সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে মোট ৩৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ইয়াবার মধ্যে আনারুল ইসলামের কাছ থেকে ১৭ পিস, আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ৮ পিস এবং হারুন অর রশিদের কাছ থেকে ৮ পিস পাওয়া যায়।

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভূল্লী থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুপ থাকবে না জামায়াত: ডাঃ শফিকুর রহমান

সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে জাপান সফর শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

 

জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

বিস্তারিত আসছে…

 

বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা বন্দুকের গুলিতে কলেজছা্ত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা শুরু করেছে।

 

 

 

নিহতরা হলেন- কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মোরছালিন (২০)। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারা যাওয়া অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।

 

 

 

শুক্রবার (০৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কসবার প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।

 

পরে ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এসময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

 

 

একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আহত অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

 

 

 

বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে দুইজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিজিবি।

 

 

দুই কর অঞ্চলে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করবেন যেভাবে

চাকরির সুযোগ দিচ্ছে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৫ এবং কর অঞ্চল-৬। প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। উভয় কর অঞ্চলে ১২৬ জন করে মোট ২৫২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ৭ জুন ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর

বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৩) ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

২. পদের নাম: ব্যক্তিগত সহকারী

পদসংখ্যা: ৮

কর অঞ্চল- ৫ (০৪টি), কর অঞ্চল-৬ (০৪টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৩. পদের নাম: প্রধান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

 

 

৪. পদের নাম: উচ্চমান সহকারী

পদসংখ্যা: ৪৪

কর অঞ্চল- ৫ (২২টি), কর অঞ্চল-৬ (২২টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৫. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ৪৬

কর অঞ্চল- ৫ (২৩টি), কর অঞ্চল- ৬ (২৩টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা।

 

 

৬. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল-৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

 

 

৭. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৫৪

কর অঞ্চল- ৫ (২৭টি), কর অঞ্চল-৬ (২৭টি)

বেতন স্কেল: (গ্রেড-১৪) ৮,২৫০-২০,১০০ টাকা।

বয়সসীমা

১ মে ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

কর অঞ্চল- ৫: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

কর অঞ্চল- ৬: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফি

১ থেকে ৬ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ১০০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ১২ টাকাসহ মোট ১১২ টাকা;

৭ নং পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ৫০ টাকা ও টেলিটকের সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা

আবেদনপত্র জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ১৮ মে ২০২৬, সকাল ১০টা।

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ৭ জুন, ২০২৬, বিকেল ৫টা।

বিস্তারিত দেখুন সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের ওয়েবসাইটে (www.taxeszone5.chittagong.gov.bd এবং https://tax6.chattogram.gov.bd/)।

 

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলামের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল ইসলাম।

 

 

 

এসময় তার বানানো ছোট এই বাহনটি দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল ইসলাম। ব্যাটারি চালিত বিশেষ এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের তরুণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরো আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন। প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির গল্প শুনিয়েছেন ওয়াকিমুল ইসলাম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই তরুণ জানান, এক সময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাহিরে বের হতে পারতেন না। কীভাবে বাহিরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে তিনি কারটি বানানো শুরু করেন।

 

 

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়েন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন।

 

 

 

ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

 

 

 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

শুভেন্দুর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন অধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিজেপি। দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

 

 

 

শনিবার (০৯ মে) সকালে তিনি শপথ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভর্নর আর. এন. রবি শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। কয়েক দিন আগে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। এ জয়ের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।

একসময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে মমতা যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে উঠছিলেন, তখন তার অন্যতম সহযোদ্ধা ছিলেন অধিকারী। আর আজ, সময়ের পালাবদলে সেই একই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন তিনি, যার পাশে একসময় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন।

 

শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভায় রয়েছেন কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে আছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া। তারা সবাই আজ শপথ নিয়েছেন।

 

তিন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

শনিবার (৯ মে) সকালে ১০:৪৫ মিনিটে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (কেআইবি) প্রবেশ করেন তিনি।

 

 

 

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সভাস্থলে সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ সময় দলীয় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।

স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যা করে পালালেন স্বামী

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলাকেটে হত্যার করে পালিয়ে গেছেন স্বামী। অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করে পালিয়ে গেছেন।

 

নিহতরা হলেন  ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তারা কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের জনৈক মনির হোসেনের বাড়ির নীচতলা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।  তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।

 

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতো ফোরকান মিয়া। শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে থানায় খবর আসে যে, ফোরকান মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানিয়েছেন— তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অপরদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়দের দাবি, ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

 

গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।