জহুরুল ইসলাম। জনতার কণ্ঠ.কম শাহজাদপুর:
‘মাথায় শয়তান ভর করায় ভুল হয়েছে’একাধিক ছাত্রকে ধারাবাহিকভাবে বলাৎকার করা মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মুন্নাফ পুলিশের কাছে এভাবেই স্বীকারোক্তি দিলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন বলাৎকারের পর ভূক্তভোগীর গলায় দা ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দিতেন যেন ঘটনা প্রকাশ না পায়।
এর আগে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে হাফেজ মুন্নাফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মুন্নাফ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জুগ্নীদহ তাহফিজুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেনে। মামলার পরই শাহজাদপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে।
এদিকে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার ও শাস্তির দাবীতে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হাফেজ মুন্নাফ দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে বলাৎকার করে আসছিলেন। সম্প্রতি ঐ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় না যেতে চাইলে অভিভাবকদের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তারা জানায় মাদ্রাসার শিক্ষক তাদের গভীর রাতে রুমে টেনে নিয়ে মুখ চেপে ধরে খারাপ কাজ করে। এ ঘটনা কাউকে বলে দিলে দা দিয়ে গলা কেটে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।
এসময় ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে রবিবার রাতে কয়েক শত মানুষ গিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বিচার দাবী করে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসার দুজন শিক্ষককে মারধরও করে। পরে খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ । সেই সঙ্গে ছাত্ররা নিজেদের ব্যাগপোটলা গুছিয়ে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম আলী জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করেছে এবং মাথায় শয়তান ভর করার ফলেই এমন ভুল হয়েছে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রিপোর্টার: 




















