সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

এমপিরা ‘ঋণখেলাপি’ নন, ‘ঋণগ্রস্ত’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, কড়া জবাব রুমিনের

সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) ‘ঋণখেলাপি’ বলা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আইনিভাবে বর্তমান সংসদের কোনো এমপি ‘ঋণখেলাপি’ নন, তারা বড়জোর ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন।

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির কড়া জবাব দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল (রিসিডিউলিং) করা হয় এবং উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে নির্বাচন করা হয়, তা সবারই জানা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

 

 

 

‘ব্যাংকগুলো সরকারকে কীভাবে ঋণ দেবে?’
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগ যদি একপাশে সরিয়েও রাখি, ব্যাংক সরকারকে ঋণ দেবে কোথা থেকে? এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে, দেশে মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

এর সঙ্গে অবলোপন, পুনঃতফসিল করা এবং মামলার কারণে আটকে থাকা টাকা—যেটা এখনো খাতায় তোলা হয় নাই, তা যোগ করলে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ৫৯.৭৩ শতাংশ। ব্যাংকগুলো চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপানো ছাড়া উপায় থাকে না, যাকে আমরা ‘হাই পাওয়ারড মানি’ বলি। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।

 

 

 

এসময় সংসদে ফ্লোর নিয়ে বর্তমান সংসদের মর্যাদা তুলে ধরে ফজলুল হক মিলন বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।

 

 

 

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাটো করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে—‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’। (এ সময় তিনি প্রথমে ভুলবশত অন্য এক সংসদ সদস্যের নাম নিলেও পরে উল্লেখ করা হয় যে কথাটি রুমিন ফারহানা বলেছিলেন)।

 

 

 

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে—‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?

 

 

 

বক্তব্যের শেষে স্পিকারের রুলিং চেয়ে তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব, আপনি এই শব্দটি এখান থেকে এক্সপাঞ্জ করেন। আর ভবিষ্যতে বক্তব্য রাখার সময় নিজেদের মানসম্মান হানি হয়, অতি উৎসাহিত হয়ে এমন কথা যেন আমরা না বলি, সেই বিনীত অনুরোধ সবার প্রতি রাখছি।

 

 

 

‘এটি ঋণখেলাপিদের সংসদ’
অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম অধিবেশনেও অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্যের কত ঋণখেলাপি রয়েছে, তার সংখ্যা উল্লেখ করেছিলাম, তবে সম্মানের কারণে নাম প্রকাশ করিনি। এখন যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তাদের দায়। সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলবে।

 

 

 

তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংসদকে আমরা সার্বভৌম বলি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারি, তাহলে কোথায় বলব? আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের শব্দ এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার মতো কোনো বক্তব্য নয়।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ব্যাখ্যা ও আপত্তি
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের উচিত। এখানে যারা আছেন, কেউ ঋণখেলাপি নন। নির্বাচনী আইন (আরপিও) এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুসারে, আদালত কর্তৃক কেউ ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হন। তার নমিনেশন অবৈধ হয়ে যায়।

 

 

 

তিনি বলেন, যাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে ব্যাংকের বা প্রাইভেট মামলা ছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে সেগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পরই তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন, কিন্তু ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে তাদের ডিফেম (মানহানি) করা হচ্ছে। এটি মানহানিকর বক্তব্য, এটি এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত।

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রুমিন ফারহানার পাল্টা জবাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে আইনি ফাঁকফোকরের বিষয়টি তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টিআইবি সম্প্রতি বলেছে, এই সংসদের সদস্যদের কাছে দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।’

 

 

 

আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে রিশিডিউলিং করা হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সিআইবির (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম আসার পর কীভাবে রিট পিটিশন দাখিল করে তা স্টে (স্থগিত) করে ইলেকশন করা হয় এবং এরপর আবারও সুদ দেওয়া বন্ধ করা হয়, সেটাও আমরা ভালো বুঝি।

 

দিনাজপুরের ২৯ বিজিবির অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক চোরাচালান জব্দ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও দাইনুর সীমান্তে পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন এবং ইস্কফ সিরাপ জব্দ করেছে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এসব চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ২০০ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ দাইনুর বিওপি’র একটি চৌকস দল দীর্ঘ পরিকল্পনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩,২০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং ৪৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ আটক করা হয়। অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে আসছে। ভবিষ্যতেও মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল আটক এবং এর সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে বিজিবির এই ধরনের চিরুনি অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশনের দাবিতে শহরজুড়ে পথসভা

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথে রায়পুর স্টেশন এলাকায় জংশন করার দাবিতে আগামি শনিবারের মানববন্ধনকে সফল করার লক্ষ্যে শহরজুড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

“সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন’ এর উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শহরের চৌরাস্তা মোড়, বড়পুলের পশ্চিমপাড়ে, ১ নম্বর খলিফা পট্টির মাথায়, বড় বাজার, বাজার স্টেশন চত্বর ও মুক্তাপ্লাজার সামনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তারা বলেন, নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথকে রায়পুর স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত এবং রায়পুর স্টেশনকে উত্তরাঞ্চলগামী রেল যোগাযোগের কেন্দ্রীয় জংশন হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে শহরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুল, জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, রেল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক, কবি জাহিদ হোসেন ও সঞ্জয় গৌড়।

 

 

৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ নাকি ৪-৪-২? যে ফর্মেশনে এবারের বিশ্বকাপে বাজিমাত

 

৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৫-৩-২—ফুটবলের ধারাভাষ্যে এই সংখ্যাগুলো প্রায়ই শোনা যায়। অনেকের কাছে এগুলো ধাঁধা। যদিও জটিল কিছু নয়। সহজ বাংলায়, গোলরক্ষক বাদ দিয়ে মাঠের ১০ ফুটবলারকে কোন ছকে সাজানো হচ্ছে, সেটাই বোঝায় এই বিন্যাস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ফর্মেশন অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কোচেরা সাধারণত নিজেদের পছন্দের ফর্মেশন নিয়ে মাঠে নামলেও প্রতিপক্ষ, ম্যাচের পরিস্থিতি কিংবা নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের সামর্থ্য মাথায় রেখে পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। অনেক দল এক ছকে ম্যাচ শুরু করেন, শেষ করেন অন্য ছকে।

 

 

 

সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ছক

গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ৪-৪-২ ফর্মেশন। ৪৮টি দলের মধ্যে ১২টি দল এই সিস্টেমে খেলেছে। চার ডিফেন্ডার, চার মিডফিল্ডার ও দুই ফরোয়ার্ডের এই ঐতিহ্যবাহী ফর্মুলা ভারসাম্যের জন্য পরিচিত। তবে সাফল্যের নিরিখে খুব একটা এগিয়ে নেই। মাত্র দু’টি জয় এসেছে এই ছকে—স্কটল্যান্ডের হাইতির বিপক্ষে এবং ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট।

অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৩-১ ব্যবহার করেছে ১০টি দল। এখানে দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেন, তাদের সামনে তিন আক্রমণভাগের ফুটবলার একমাত্র স্ট্রাইকারকে সাহায্য করেন। এই ছকে জিতেছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া।

আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে ৪-১-২-৩

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে সবচেয়ে সফল ফর্মেশনগুলোর একটি ৪-১-২-৩। চার ডিফেন্ডার, এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, দুই মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে গড়া এই ছকে খেলেছে আটটি দল। মেক্সিকো, নরওয়ে, ঘানা এবং কলম্বিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে এই ফর্মেশন ব্যবহার করে। একমাত্র রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার থাকায় আক্রমণে বাড়তি ফুটবলার পাওয়া যায়। দুই উইঙ্গার ও একজন সেন্টার ফরোয়ার্ডকে ঘিরে তৈরি হয় দ্রুত উপরে ওঠার সুযোগ। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার স্পেন ও নেদারল্যান্ডসও এই ছক বেছে নিয়েছে।

 

 

পুরনো ছক, নতুন ভাবনা

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা খেলছে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ জয়ে মেসির হ্যাটট্রিকের পিছনেও ছিল এই পরিচিত ছকের কার্যকারিতা। তিন মিডফিল্ডার সামনে দুই প্রান্তের আক্রমণভাগের ফুটবলার ও স্ট্রাইকারকে বল জোগান দেন। ১৯৭০ সালের পেলের ব্রাজিল এই ফর্মেশন কাজে লাগায়। আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপও জিতেছিল একই ছকে।

 

 

 

অন্যদিকে ৫-৩-২ ফর্মেশন ব্যবহার করে এখনও কোনও দল জিততে পারেনি। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে চমক দেখিয়েছে কঙ্গো। চেক প্রজাতন্ত্র একমাত্র দল হিসেবে খেলেছে ৫-২-৩ ছকে। অস্ট্রেলিয়া ৫-৪-১ ফর্মেশন ব্যবহার করে তুরস্ককে ঘোল খাইয়েছে।

 

 

 

৩-৪-১-২ ফর্মেশনে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া খেলেছে ৩-৪-৩ ছকে। জার্মানি এই বিন্যাসেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাত গোল করেছে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে ইইউ, বরাদ্দ দেড় কোটি ইউরো

বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক কোটি ৪০ লাখ ইউরো (১৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করবে।

ঘোষিত ইইউ-এর এই অর্থায়ন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান ২৩ মিলিয়ন (দুই কোটি ৩০ লাখ) ইউরোর কয়েক বছরের (২০২৪-২০২৭) একটি চুক্তির অংশ।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সহায়তা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা পাওয়া, মৌলিক চাহিদা পূরণ, একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন।

 

 

সিরাজগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জে উদ্বোধন করা হলো তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফলমেলা। করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে বাজার স্টেশন পৌর মুক্তমঞ্চে এই ফলমেলার উদ্বোধন করা হয়।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির আয়োজনে তিনদিনব্যাপী ফলমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম মনজুরে মাওলার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ারুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ, হর্টিকালচার সেন্টার, খোকশাবাড়ীর সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস. এম. নাসিম হোসেন, তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শমিষ্ঠা সেনগুপ্ত প্রমূখ।

 

 

এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষিপরিবার, বাগান ও নার্সারি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইদী রহমান।
উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশীয় ফলের উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদ, সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল রপ্তানির সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ. কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আনারস ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে। নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

 

উল্লেখ্য, জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য, পুষ্টিগুণ এবং আধুনিক উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।

 

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণে কৃষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাটে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুর রহিম ওরফে কাইল্যা মন্ডল (৫৩) নামে এক কৃষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন ওরফে জমির মন্ডলের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রিনাত ফেরদৌসী রিনিত রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট সকালে ওই শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এসময় আসামী আব্দুর রহিম শিশুটিকে শশা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের শশা ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে অসুস্থ্য হলে বাবা মাকে বিষয়টি খুলে বলে। এরপর তাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেলারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩০ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ ৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল সাজিনাজে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন শিশুর মা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আমাতুল মাকনুন নামে ওই নারী আটজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (তৃতীয়) আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী কনসালটেন্ট ডা. আনোয়ার হোসেন (৫০), সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান (৪৫), শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান (৬০), কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ (৫০), ডা. মো. তানিম সাফায়েত চৌধুরী আলভি (৪৫) ও সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী(৫২)। এছাড়া সাজিনাজ হাসপাতালে ওই সময়ে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদেরও আসামি করা হয়েছে।

বাদীর আদালতে দাখিলকৃত আর্জি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হলে ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তীতে তিনি ঈদুল আজহার ছুটিতে গেলে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন বাচ্চার নিয়মিত চিকিৎসা দেন।

চিকিৎসার ৫ দিনের মাথায় ভিজিটিং আওয়ারে বাচ্চাকে দেখতে গেলে বাম হাতে একটি ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং চিকিৎসকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কিছু না’ বলে তারা এড়িয়ে যান৷ পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল ছুটি থেকে ফিরে এসে বাচ্চার হাত দেখালে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চেয়ে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাননি।

পরবর্তীতে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে না। ওই সময় হাতের কালোভাব শুরুতে কিছুটা কমলেও দুই একদিন পর আবারও তা খারাপের দিকে যাওয়ার কারণে পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদের মাধ্যমে ছোট একটা অপারেশন করানো হয়৷

 

 

এরপর তারা আইসিইউ এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ব্যান্ডেজ খুলে দেখে বাচ্চার হাতের কবজি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন এবং এর কারণে বাচ্চার পুরো শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। পরবর্তীতে ইবনেসিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অপারগতা প্রকাশ করলে এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওইখানে ডাক্তারদের পরামর্শমতে বাম হাত কেটে ফেলা হলেও বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।

 

 

গত ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নবজাতক শিশুটির মায়ের একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে সাজিনাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

 

 

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পূর্বের হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় শিশুটির ডান পায়ের তালুতে কাটা দাগ ও বাম হাতের উপরের অঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফোলা বিদ্যমান ছিলো যা ভর্তির সময়ই নবজাতকের পিতাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী আমাতুল মাকনুন কালবেলাকে জানান, সিজারের পর থেকে আমি অসুস্থ থাকায় এতদিন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন সুস্থতা অনুভব করলে আদালতে এই ব্যাপারে মামলা করতে এসেছি। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।

 

 

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা জানান, ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালত আমাদের দেওয়া আর্জি আমলে নিয়ে সিআইডিকে এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্ত সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী জানান, আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আগাব।

 

 

দুই মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত করল আদালত

সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

 

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক।

এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগে রাত সোয়া ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’

জানা যায়, সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এবং হবিগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর থানার একটি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার আরও দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ব্যারিস্টার সুমন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বৃহস্পতিবার ওই দুই মামলার জামিন স্থগিতের আদেশ দেন।

 

 

সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারে অভিনেতা জোভান আহত

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন অভিনেতা। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জোভান। একই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভক্ত-অনুরাগীদের নিরাপদে যানবাহন চালানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

ফেসবুক পোস্টে জোভান লেখে, ‘কিছুদিন আগে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে আমি বাইক এক্সিডেন্ট করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু ঘটনাটি আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।’

 

 

তিনি আরও লেখেন, “রাস্তায় আমরা অনেক সময় ভাবি, ‘আরেকটু স্পিডে গেলে কী হবে?’ বা ‘আমি তো ভালোই চালাই।’ কিন্তু দুর্ঘটনা কখন, কীভাবে, কার সঙ্গে ঘটবে—তা কেউ জানে না। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা জীবন বদলে দিতে পারে।”

সড়কে সবসময় নিরাপত্তার সঙ্গে বাইক চালানোর আহ্বান জানিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কারণ আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে আপনার পরিবার, আপনার প্রিয় মানুষগুলো।গন্তব্যে একটু দেরিতে পৌঁছানো ভালো, কিন্তু নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

অভিনেতার এই পোস্টে তার ভক্ত-অনুরাগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মন্তব্য করছেন।

ক্যাম্পের আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া শিবির

দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন ক্যাম্পের কাছে সন্দেহজনক একটি ড্রোন দেখা যাওয়ার পর সেটি নামিয়ে দিয়েছে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী। দেশটির ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘অননুমোদিত ড্রোন’ শনাক্ত এবং পরে সেটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়।

 

 

ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন চলাকালীন সময়। দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো জানান, অনুশীলনের সময় আকাশে একটি ড্রোন দেখা যায়, তবে তা অনুশীলন শুরুর আগেই ছিল, ফলে দলের প্রস্তুতিতে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের শিবিরের গোপন কথা জানার জন্য ড্রোন পাঠানো হয়েছিল কি না তা জানি না। তবে যা হয়েছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় আমাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনটি দক্ষিণ কোরিয়া দল বা তাদের কোচিং স্টাফকে নজরদারির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মেক্সিকোর ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরে—এই তিনটি আয়োজক শহরের স্টেডিয়াম, অনুশীলন ক্যাম্প ও ফ্যান জোনের নিরাপত্তা এলাকাগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

 

 

এর আগে মার্চ মাসে মেক্সিকোর সরকার ‘প্ল্যান কুকুলকান’ নামে বিশ্বকাপ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যেখানে প্রায় এক লাখ সেনা ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এই পরিকল্পনায় স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, সড়ক ও হোটেলে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দল, কর্মকর্তা ও দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে কানাডায় বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠের ওপর অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ৭ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কানাডার নারী ফুটবল দল নিউজিল্যান্ডের একটি অনুশীলন সেশন নজরদারির অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় কয়েকজন কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করা হয় এবং প্রধান কোচ বেভ প্রিস্টম্যানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কানাডা ফুটবল দলকে প্রতিযোগিতা থেকে ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তিও দেওয়া হয়।

 

 

কানাডা ফুটবল কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, ওই ঘটনা ছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং তদারকির ঘাটতির একটি ধারাবাহিক সমস্যার অংশ।

শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণমন্ত্রী

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে হত্যার শিকার সাত বছরের শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে তিনি শিশু নন্দিনীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে তাদের বাড়িতে যান।

 

 

শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, নন্দিনীর হত্যা একটি নির্মম-নৃশংস ও বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। যারা ছোট্ট শিশুকে হত্যা করতে পারে তারা আসলে মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যা উদাহরণ হিসেবে থেকে যায়। ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের কাজে যুক্ত না হয়।

 

 

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ইতোমধ্যে তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডটি সে ঘটিয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন এখানে এসেছিল শান্তি রক্ষার জন্য। যাওয়ার পথে যারা আক্রমণ করেছে, প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা চায়নি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা একটা ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করতে চায় তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সেটির গোয়েন্দা রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেব। ইতোমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে। সাধারণ জনগণের এখানে ভয়ের কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

নতুন পে-স্কেল: সুবিধা বাড়বে নাকি কমবে?

নবম জাতীয় পে স্কেলের বেতন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় দেওয়া বিশেষ সুবিধা (স্পেশাল ইনসেনটিভ) বাতিল করা হবে। বিশেষ সুবিধাকে মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল চালুর ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনকাঠামো-সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

 

 

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। তবে নবম বেতনকাঠামো কার্যকর হলে এ সুবিধা আর আলাদাভাবে বহাল থাকবে না।

 

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

 

ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে নতুন বেতনকাঠামোর মধ্যেই তা সমন্বয় করা হবে।

সরকারি উদ্যোগে বিশ্বকাপ যাত্রা, কানাডায় উড়লেন কাতারি ভক্তরা

কানাডার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে বিশেষ সরকারি উদ্যোগে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে পৌঁছেছেন প্রায় ১ হাজার কাতারি সমর্থক। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির চার্টার করা বিমানে তারা ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছান।

 

 

এই সমর্থকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে শহরের বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে, যার মধ্যে ফেয়ারমন্ট ও জেডব্লিউ ম্যারিয়ট পার্ক উল্লেখযোগ্য। শহরের কেন্দ্রাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি নজর কাড়ছে, যেখানে তারা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘দারবুকা’ বাজিয়ে দলকে উজ্জীবিত করছেন।

 

 

দলের অধিনায়ক আবদুলআজিজ হাতেম সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যারা এই যাত্রা সম্ভব করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, দল তাদের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং গর্বিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

কাতারের সোশ্যাল অ্যান্ড স্পোর্ট কন্ট্রিবিউশন ফান্ড এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘কাতারি ফ্যানস ডেলিগেশন প্রোগ্রাম’ পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সমর্থকদের বিমান ভাড়া, হোটেল, স্থানীয় পরিবহনসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্টেডিয়ামে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করা, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থানরত কাতারি শিক্ষার্থীদেরও ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে স্বাগতিক কানাডার লাল জার্সিধারী সমর্থকদের তুলনায় কাতারি সমর্থকদের সংখ্যা অনেক কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল রপ্তানিতে অন্যতম শীর্ষ দেশ কাতারের জনসংখ্যা প্রায় ৩.২ মিলিয়ন। দেশটি ২০২২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে এবং ইতিহাসে প্রথম আয়োজক দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে হেরেছিল।

 

 

এবারের আসরে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করছে কাতার। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে যোগ করা সময়ে বোলেম খৌখি হেডে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় আনেন।

 

 

অন্যদিকে স্বাগতিক কানাডাও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের মাধ্যমে। সেই ম্যাচে সাইল লারিন ৭৮তম মিনিটে সমতা ফেরানো গোলটি করেন।

এসএসএফের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী, পরখ করলেন নিশানার দক্ষতা

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় এই ফায়ারিং রেঞ্জে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই নিশানা পরীক্ষা করেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বা সুরক্ষার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হেনস্থা বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকে এসএসএফ-কে বিশেষ নজর দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে এসএসএফের সমন্বয়কারী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ বয়স থেকেই মায়ের সরকারপ্রধান থাকাকালীন তিনি এই এলিট বাহিনীর পেশাদারত্ব ও কার্যক্রম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

 

 

এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করলেন সংসদ সদস্য মো: কামরুজ্জামান রতন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টার উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়ন এর বড় কালীপুরা থেকে তনু সরকারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর সংরক্ষণে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ পরিদর্শন করেন তিনি,এরপর উপজেলা পরিষদ হল রুমে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৩৭জন অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান প্রদান করেন।এছাড়াও তিনি ভবেরচর বাজারস্থ নবনির্মিত কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া,অফিসার ইনচার্জ মো:হাসান আলী,উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন,ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার,উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব নাজির শিকদার,উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রাসেল দেওয়ান,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো:মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী।

বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

শেষ হলো আরেকটি অধ্যায়। দীর্ঘ দুই বছরের হাসি-কান্না, খুনসুটি আর শেখার পালা চুকিয়ে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় নিলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন কলেজ মিলনায়তনে “বিদায় অনুষ্ঠান-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছিল বেলুন, ফেস্টুন ও ফুলে সজ্জিত। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কলেজের সম্মানিত সভাপতি  তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাবা নুসরাত জাহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়, বরং তোমাদের নতুন পথচলার সূচনা। বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ তোমাদের শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সততা, নিষ্ঠা আর মেধাকে পাথেয় করো। শিক্ষকদের আশীর্বাদ আর প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাও। আসন্ন এইচএসি পরীক্ষায় তোমাদের সাফল্য কামনা করি।”

শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “এই শ্রেণিকক্ষ, এই বারান্দা, শিক্ষকদের শাসন আর সহপাঠীদের ভালোবাসা — আজ সবই স্মৃতি। আপনাদের দেওয়া শিক্ষাই আমাদের আগামীর পথের পাথেয়।”

শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে সিনিয়র আপুদের বিদায় জানায়। তাদের আবেগী পরিবেশনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকের চোখেই জল চলে আসে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, স্মারক উপহার ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। জাতীয় সংগীতের সুরে যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়, তখন পুরো ক্যাম্পাসে নেমে আসে এক বিষণ্ণ নীরবতা।

বিদায়ের বেদনা আর নতুন স্বপ্নের প্রত্যয় নিয়ে এক আবেগঘন দিন পার করলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ পরিবার।

রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর কোন রুটে কোন কোম্পানির বাস চলাচল করবে, তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি রুটের বাসমালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে।’

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোকে একটা কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ যেসব জায়গায় বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে না। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার রাস্তায় একই রং, নির্দিষ্ট মান ও ফিটনেস বজায় রেখে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে বাস চালাতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার ইলেকট্রিক যানকে উৎসাহিত করছে। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’

ঢাকা শহর থেকে ৪টি বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে। মহাখালী বাস টার্মিনাল যাবে উত্তরার আবদুল্লাহপুরের কাছাকাছি জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে। অন্যদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।’

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশ দম্পতি

খুলনায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের মামলায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগীর মা মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপ‌লিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবাল গ্রেপ্তার পু‌লিশ দম্প‌ত্তি‌কে কারাগারে প্রেরণের নি‌র্দেশ দেন।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- সঞ্জয় কুমার সাহা এবং তার স্ত্রী পরি রানী সাহা। তারা দুজনই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় গিয়ে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার মেয়ে ওই বাসায় কাজ করছিল। মেয়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের কথা তিনি জানতেন না। মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই কিশোরী। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বুধবার দুপুরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

 

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার অজুহাতে গৃহকর্মী মিলনের ওপর চড়াও হন এএসআই সঞ্জয়ের স্ত্রী পপি রানী সাহা। তিনি মিলনকে মারধর করার পাশাপাশি তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেন। নির্যাতনের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার বিকেলেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে আসে এবং এএসআই সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেয়।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, গতকাল বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের ভবনের ভেতরে একজনকে নির্যাতন করতে দেখেন। দূর থেকে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় রেকর্ড করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গরম কড়াই দিয়ে ওই তরুণীর শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ওসি আরও বলেন, বুধবার থেকে এই পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। অবশেষে আজ দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা দুজনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

গ্রুপ পর্ব শেষ না হতেই নকআউটে যারা

বিশ্বকাপে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে কারা? সেই দলের নাম জানা যেতে পারে আগামীকাল শুক্রবার সকালেই। এ গ্রুপের ম্যাচে গুয়াদালাহারায় সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া। এ ম্যাচে জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমনকি পরের ম্যাচে হারলেও।

 

 

বিশ্বকাপে প্রতিটা দলেরই একটি করে ম্যাচ খেলা শেষ হয়েছে। আজ সকালেই গ্রুপ পর্বের শেষ দল হিসেবে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ফেবারিটদের বেশির ভাগই নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালো ফল করেছে।

 

 

তবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে স্পেন। তারা ড্র করেছে কেপ ভার্দের মতো দলের সঙ্গে। স্পেনের জন্য অবশ্য নকআউটের দরোজা এখনো খোলা আছে। তবে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার ভাগ্য হতে পারে মেক্সিকো কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার। এ ছাড়া বি গ্রুপের ম্যাচ আছে আজ রাত ও কাল ভোরে। তবে এ গ্রুপে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ম্যাচ শেষে চার দলেরই সংগ্রহ এক পয়েন্ট করে। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলে কেবল নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে তারা।

বি গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া এবং কানাডা-কাতার। এ ছাড়া এ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-চেক প্রজাতন্ত্র। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছে মেক্সিকোর কাছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র পরাজিত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে।

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের ইঙ্গিত পাকিস্তানের

পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের সবচেয়ে নতুন ও অত্যাধুনিক সাবমেরিন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ বঙ্গোপসাগরে মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

 

 

পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক বলেন, সম্প্রতি নৌবহরে যুক্ত হওয়া ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গরকে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে এ অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর তৎপরতা খুবই সীমিত ছিল। খবর মেরিটাইম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেয়ার্ড মেরিটাইমের।

 

 

ফারুক জানান, হ্যাঙ্গর এবং একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন যুক্ত হলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করবে।

চীন থেকে নির্মাণ শেষে সাবমেরিনটি পাকিস্তানে আনার পথে শ্রীলঙ্কায় যাত্রাবিরতিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সে সময় চীন থেকে দেশে ফেরার পথে পিএনএস হ্যাঙ্গরকে নিরাপদে নিয়ে আসা পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহরের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে উল্লেখযোগ্য নৌ উপস্থিতি রয়েছে ভারতের। বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের দায়িত্বাধীন এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর কার্যক্রম এতদিন মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও আরব সাগরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসি থেকে রোনালদো—তারকাদের জার্সিতে একই ধরনের ‘প্যাচ’ কেন?

এবারের ফিফা বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জার্সিতে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন বিশেষ প্যাচ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জার্সির হাতায় সোনালি রঙের একটি বিশেষ ব্যাজ নজর কাড়ছে, যা তার দলের অন্য সদস্যদের জার্সিতে নেই।

 

 

একই ধরনের ব্যাজ দেখা গেছে আরও কিছু তারকা খেলোয়াড়ের জার্সিতেও, যা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা।

 

 

এই প্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো গোল্ডেন বুটজয়ীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ব্যাজ। রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইন, কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে ছয় গোল করে শীর্ষ স্কোরার হওয়া হামেস রদ্রিগেজ—সবাই এই বিশেষ সম্মানের আওতায় এসেছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শুধু বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ীরাই এই সোনালি ব্যাজ পরতে পারেন।

এছাড়া বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে আলাদা সোনালি ব্যাজ, যেখানে ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নাম যুক্ত রয়েছে। এই ব্যাজ মূলত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জার্সিতে থাকা ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ। দুই মহাতারকা এবারের আসরে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড। তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বিশেষ ব্যাজ চালু করেছে।

এই ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজে রয়েছে সোনালি বিশ্বকাপ লোগো, খেলোয়াড়ের নাম, দেশের পতাকা এবং ব্যক্তিগত উদযাপনের প্রতীক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ব্যাজে তার বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন এবং লিওনেল মেসির ব্যাজে তার দুই হাত প্রসারিত উদযাপনের চিত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ ছিল ২০০৬ সালে, এবং এবারের আসরেই সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে তাদের অংশগ্রহণকে।

 

 

বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবে করেছেন লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন, যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান। পরবর্তী ম্যাচে আরেকটি গোল করলেই তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন।

 

 

অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শুরুটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে গোলশূন্য থেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যেখানে দলও ১-১ গোলে ড্র করেছে। তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

 

 

বিশ্বকাপে নতুন অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ প্যাচ যুক্ত করেছে ফিফা, যেখানে ‘Debut FIFA World Cup’ লেখা ব্যাজ তাদের প্রথম অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একইভাবে পাঁচ বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের জন্য রয়েছে ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ, যা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান জানায়।

 

 

এই তালিকায় রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার ও জাপানের ইউতো নাগাতোমো। গোলরক্ষকদের জন্যও রয়েছে আলাদা স্বীকৃতি, যেখানে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও বেলজিয়ামের থিবু কোর্তোয়ার মতো গোল্ডেন গ্লাভসজয়ীরা বিশেষ এই প্যাচ পাচ্ছেন।

 

 

ফিফার মতে, এসব প্যাচের মূল উদ্দেশ্য হলো ফুটবলের ইতিহাসে অবদান রাখা কিংবদন্তিদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দেওয়া। ম্যাচ শেষে এসব ব্যাজ সংরক্ষণযোগ্য স্মারক হিসেবে রাখা হবে, যা ভবিষ্যতে ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে ভোজিনহার, প্রথমবার মাঠ থেকে খেলা দেখবেন মা

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ছাত্রলীগের মিছিল

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিন মিছিল করলো সিরাজগঞ্জ জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে কামারখন্দের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের পলাশডাঙ্গা যুবশিবির স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় আনন্দ মিছিল করে তারা।

 

 

এদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে নবগঠিত জেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই মিছিলে অংশ নেয়। দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে তৌসিফ (৯) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌসিফের মৃত্যু হয়। মৃত শিশু তৌসিফ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরমিতা গ্রামের আজাদ উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৪ শিশু। বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৭ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ শিশুদের মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

তোমাকে চাই

মহসিন আলম মুহিন
আমি শুধু তোমাকে চাই,
আর কিছুই চাওয়ার নাই।
ভোরের রবি উঠবে যখন,
পাশে তুমি থেকো তখন।।
মাধবী রাতে নীল জ্যোৎস্নায়,
তুমিই থেকো মোর আঙিনায়।
পৃথিবী ভুলে তোমার আঁচলে,
ভেসে বেড়াবো প্রেমের ভেলায়।।
মেঘ যেমন আকাশে উড়ে,
তুমিই রবে আমায় ঘিরে।
বৃষ্টি পড়লে টাপুর টুপুর,
তুমি এসো লাগবে মধুর।।
আমার তনু, আমার হিয়া,
তোমাকেই চায় পরাণ প্রিয়া।
তুমিই থাকলে সবই পূর্ণ,
তুমি হীনা কেবলই শূন্য।।

হিলিতে জাতীয় ফল মেলা অনুষ্ঠিত: প্রদর্শিত হলো ৪৪ প্রজাতির ফল

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফল মেলা।
আজ বৃহস্পতিবার ১৮ই জুন বেলা ১২টায় হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগমের সভাপতিত্বে মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দেশি-বিদেশি ফলের বিশাল সমাহার। দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের ফল চেনার সুবিধার্থে মেলায় মোট ৪৪ প্রকারের ফলের প্রদর্শনী করা হয়। স্টলগুলোতে সাজানো উল্লেখযোগ্য ফল ও তাদের জাতগুলোর একটি তালিকা ছিল আম (গৌড়মতি, নাগফজলি, আশ্বিনা, বারি আম-১১, বারি আম-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, ফজলি ইত্যাদি), মাল্টা ও ড্রাগন (ভিয়েতনামী মাল্টা, বারি মাল্টা-১ এবং বারি ড্রাগন-১)। অন্যান্য ফলের মধ্যে ছিল পেয়ারা, বেল, আমড়া, বিলিম্বি, শরীফা, জাম, কাঠবাদাম, কলা, ডাব, কাঁঠাল, করমচা, ডেউয়া, লটকন, কামরাঙ্গা, চালতা, অড়বরই, জাম্বুরা ও তাল। বিশেষ জাতের ফলের মধ্যে ছিল স্মার্ট বক্স তরমুজ, শাহী পেঁপে, হানি কুইন আনারস, বারি সফেদা-১ এবং স্থানীয় উন্নত জাতের লেবু।
আলোচনা সভায় বক্তারা মানবদেহে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বারো মাস ফল চাষ ও সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব।
মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলগুলো পরিচিত করে তুলতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছাড়াও তার রাজনৈতিক পরামর্শক কামরান ধাঙ্গাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।

 

 

বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। এর মধ্যে ৭৪ জন ইতোমধ্যে পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

 

 

আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচিত ইকরা মৃত্যু: আদালতে আত্মসমর্পণ অভিনেতা আলভীর

স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে নিয়ামত উল্লাহ ভুইয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে শুনানি হবে।

 

 

 

এর আগে ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা তানভীর আহমেদ আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও দুই বছর ধরে অবহেলা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

 

প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উধাও কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’

নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, প্রলোভনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুরে আলম নামে সৌদি প্রবাসী। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকট আত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।

 

 

 

লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম অভিযোগ করেন, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

নুরে আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নকিব কসাই নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত আনুমানিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলম দাবি করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।

 

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

নুরে আলম আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জ্বিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

 

 

একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলাতে চান ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট লুলা!

চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক শুরু নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মজার ছলে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। দলের পারফরম্যান্স সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেছেন, ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে সই করানোর কথা ভাবছেন তিনি।

 

 

 

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে, যা তাদের খেলার বেশ কয়েকটি দুর্বলতা জনসম্মুখে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা বেশ দারুণ শুরু করেছে; মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি একাই করেছেন তিন গোল।

 

 

 

বিশ্বকাপে নিজ দেশের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লুলা হাসতে হাসতে বলেন, আমি ভাবছিলাম ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য মেসিকে সই করাবো।

তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মরক্কোর সঙ্গে ড্র করাটা ব্রাজিলের জন্য “খুব বড় কোনো চিন্তার বিষয়” নয়। কারণ তার মতে, মরক্কোই এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

 

তিনি বলেন, অনেকেই বলেন যে যখনই ব্রাজিলকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করা হয়, ঠিক তখনই তারা বিশ্বকাপ জেতে… দেখা যাক কী হয়।

 

 

আগামী শুক্রবার নিজেদের পরের ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

 

 

 

এদিকে সবার নজর এখন ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের দিকে। চোট এবং ফর্মহীনতার কারণে প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর দলে ফিরেছেন তিনি। গত মাসে পায়ের পেশিতে (কাফ মাসল) চোট পাওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো দলের সঙ্গে অনুশীলনে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা।

 

 

 

মাঠে হালকা অনুশীলনের জন্য দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাসতে হাসতে নেইমার চিৎকার করে বলেন, তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?

 

 

 

তবে চলতি আসরের ঠিক কবে বা কোন ম্যাচে তিনি মাঠে নামবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

 

 

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

 

স্বপ্নে জীবিত দেখার পর ১৮ দিন পর মৃত তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

দাফনের ১৮ দিন পর ‘কবরের মধ্যে তরুণী জীবিত আছেন’— এমন স্বপ্নের জেরে মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা। অলৌকিক এই গুজবের জেরে কবরস্থানে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। মৃত মরিয়ম ওই বাড়ির দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।

 

 

 

সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্টগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।

 

 

স্থানীয় পাঞ্জেকানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে দিয়ে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্য আলেমদের পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে, এটি অবাস্তব।

 

অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা কবরে মাটি দেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩শ থেকে ৪শ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খোঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন।

 

 

 

প্রতিবেশী মো. লোকমান লাহারি বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতেন মরিয়ম। কোরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিলেন। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুই দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বাবা-মা ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়।

 

 

 

পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে। আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন তিনি মৃত অবস্থায় রয়েছে। কবর খোঁড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি।

 

 

 

এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোঁড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম, মো. নাজিম, সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন, আমরা শুনেছি তিনি নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুঁড়েছে। বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম তিনি কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

 

 

 

তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও এক পর্যায়ে জানিয়েছেন, সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল এবং সন্দেহ দূর হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিলেন তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদের বলেছি যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোঁড়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।

 

বাজারের আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে একটি বাজারের পাঁচটি দোকান। আগুন নেভাতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবুল মোল্যা নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

 

 

 

নিহত বাবুল মোল্যা (৩৫) বোয়ালমারী উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় নসিমনচালক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাজারে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন বাবুল মোল্যাও। একপর্যায়ে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাবুল মোল্যা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন স্থানীয়রা।

 

পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক বাবুল মোল্যাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে। আগুনের লেলিহান শিখায় একের পর এক দোকান গ্রাস করতে থাকলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

 

 

 

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 

 

 

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, জাকির মোল্যার কাপড়ের দোকান, কেসমত আলীর সার কীটনাশকের দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজন নিহত হন এবং তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলে ভাইরাল সেই এমপির বাবা এখনো জীবিত

জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

 

 

 

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। এ ছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন।

 

 

তিনি বলেন, আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

তবে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

জানা গেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করেন।

 

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তার ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

 

 

 

সংসদ সদস্যের সহকর্মী ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

শ্রমিক কারখানায় পানি পান করে হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক শ্রমিক

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ‘ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন শ্রমিকরা। কিছুক্ষণ পরই তাদের মধ্যে অনেকের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠায়।

অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, কারখানার পানিতে দুর্গন্ধ ছিল। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ বোধ করেন। ধীরে ধীরে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

কারখানার এজিএম (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টির কারণে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা পানিতে ডুবে যাওয়া কলের পানি পান করে এবং আজ সকালে কাজে এসে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারখানার পানিতে কোনো সমস্যা আমরা পাইনি।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমার হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছে।

 

 

 

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, পানি খেয়ে বেশকিছু শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা অসুস্থ হয়েছে তারা এখন পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

 

সিরাজগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৫৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোহাম্মদ সালমান নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১২।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কক্সবাজার সদর উপজেলার ডিককুল উত্তর পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ইসহাকের ছেলে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ফারহান-উজ-জামান।

 

 

তিনি জানান, গত ১৭ জুন র‌্যাব-১২ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে আসছিল।

 

 

 

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যমুনা সেতু পশ্চিম থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, আইনি সহায়তা ও বিচার দাবি

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের চাওড়া ডাঙ্গী (ডাঙ্গাপাড়া) এলাকায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত চলাচলের রাস্তা দখল ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

গত ১৬ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের একমাত্র চলাচলের পথটি বন্ধ করার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মিজানুর রহমান (পিতা-মৃত রহমান আলী), তফেল উদ্দিন (পিতা-মৃত আলিমুদ্দিন), আতাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম (উভয়ের পিতা-মমিনুর রহমান), রজিদুল ইসলাম (পিতা-মৃত আব্দুল গফুর) এবং আবুয়াল হোসেন (পিতা-মৃত কছিমুদ্দিন)সহ অন্যান্যরা পরিকল্পিতভাবে রাস্তার উপর সুপারি গাছ রোপণ করেন এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

রশিদুল ইসলামের দাবি, গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর প্রায় ২টার দিকে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তাদের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশ, গুম ও হত্যার হুমকি দেয়।

স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মো. আজিজুল ইসলাম (পিতা-মৃত আলাউদ্দিন), মো. আপন (পিতা-রেজাউল ইসলাম) এবং সেলিম হোসেন (পিতা-রেফাজ উদ্দিন)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি মৌজা চাওড়া ডাঙ্গী, জে.এল. নং-১১, বিএস খতিয়ান নং-১, দাগ নং-৬৬৪, জমির পরিমাণ ০৬ শতক এবং পুরাতন দাগ নং-৮০৮-এর অন্তর্ভুক্ত।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এবং আশপাশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারি রেকর্ডভুক্ত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবিলম্বে উন্মুক্ত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

শ্বশুরবাড়ির এলাকায় চুরি করতে গিয়ে ধরা খেলেন জামাতা

মাদক এবং অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাড় করতে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন জামাতা। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের জোড়বহ গ্রামে বুধবার (১৭ জুন) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

আটক হওয়া জামাইয়ের নাম ফারুক হোসেন (৩৩)। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলায়। তিনি ধলাপাড়া ইউনিয়নের জোড়বহ গ্রামের মাসুম মিয়ার মেয়ের জামাই।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফারুক হোসেনের সঙ্গে ঘাটাইলের ধলাপাড়া ইউনিয়নের মাসুম মিয়ার মেয়ের কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে ফারুক মাদকাসক্ত ও জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়।

 

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত ফারুক নানান ধরনের মাদক গ্রহণ করেন এবং অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত। এতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে টাকা জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। বুধবার রাত ৩টার দিকে ফারুক শ্বশুরবাড়ি এলাকার জোড়বহ গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে কৌশলে প্রবেশ করে চুরির চেষ্টা চালান। সে সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ফারুককে হাতেনাতে আটক করেন।

 

স্থানীয়রা আরও জানান, চুরির উদ্দেশ্যে ফারুক প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করলে তাকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করলে তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেন। পরে চুরির মতো কাজে তিনি আর জড়িত হবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

 

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মোতালেব হোসেন বলেন, মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাসে যুবসমাজকে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ঠেলে দিচ্ছে। এসব থেকে গ্রামগঞ্জের কিশোর যুবকরাও রেহাই পাচ্ছে না।

 

 

 

ধলাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, ফারুক চুরি করতে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকলে তাকে আটক করা হয়। পরে সালিশ-বৈঠকে তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেন এবং আর এই ধরনের কাজে জড়িত হবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবার সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

গোলখরায় ভোগা রোনালদো, শেষ কবে পেয়েছিলেন গোলের দেখা?

এবারের বিশ্বকাপে যে ক’জন তারকা ফুটবলারের কাছে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা বেশি তাদের মধ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অন্যতম। কিন্তু দুর্ভাগ্য সিআর সেভেনের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে একেবারেই নিঃষ্প্রভ ছিলেন আল নাসরের এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।

 

 

 

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। দল জেতানো পারফরম্যান্সের পর প্রশংসায় ভাসছেন এলএমটেন। মেসি যখন দারুণ সময় পার করছেন, তখন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপের শুরুটা হয়েছে ভুলে যাওয়ার মতো।

 

 

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের ম্যাচটা পর্তুগালের বাকি ফুটবলারদের চেয়ে একটু বেশিই পীড়া দিচ্ছে রোনালদোকে। আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নিষ্প্রভ ছিলেন সাত নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার। ম্যাচজুড়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার কাঠগড়ায় রোনালদো। একই সঙ্গে সামনে এসেছে তাঁর গোল খরার বিষয়টিও।

 

 

বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে গোল খরা অব্যাহত রয়েছে রোনালদোর। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে বহু বছর ধরে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেও, বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে ৪ বছর গোল পান না তিনি। সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপে পরবর্তীতে উরুগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলে গোলশূন্য ছিলেন রোনালদো।

এরপর ২০২৪ ইউরোতে চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, জর্জিয়া, স্লোভেনিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচে খেলেও কোনো গোল পাননি রোনালদো। সবশেষ চলমান বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিপক্ষেও জালের দেখা পাননি। ম্যাচটিতে পুরো ৯০ মিনিট খেললেও গোলের কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তারকা ফুটবলার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল পাননি রোনালদো।

 

 

বড় আসরে দীর্ঘ গোল খরা এখন নতুন করে রোনালদোর ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বয়স, ভূমিকা পরিবর্তন এবং কৌশলগত সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে ফুটবল বিশ্বে।

 

গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি কারামুক্ত, জেলগেটে নেতাকর্মীদের ঢল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাইহান জামিনে মুক্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
​ রাইহানের মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাফটকে  উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক তাকে ফুলের মালা দিয়ে এবং স্লোগানে স্লোগানে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।
​দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সাথে হাতাহাতির একটি মামলায় গত ৮ মে ঢাকার একটি এলাকা থেকে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল রাইহানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১ মাস ৯ দিন কারাভোগের পর অবশেষে তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন।
​কারামুক্তির পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল রাইহান তার পাশে থাকার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া এবং সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
​এ সময় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

খড়ের গাদায় আগুন, নেভাতে এলো ফায়ার সার্ভিস

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভার জাহাঙ্গীর গাতী মহল্লায় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বিকেলে স্থানীয় কৃষক রওশন আলীর বসতবাড়ির খড়ের গাদায় আগুন জ্বলে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলের দিকে রওশন আলীর বাড়ির পাশে রাখা খড়ের গাদা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন তারা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

সংবাদ পাওয়ামাত্র তাড়াশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। ফায়ার ফাইটাররা প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

তাড়াশ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. স্বপন আলী মিধা বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা রওনা দিই। খড় দ্রুত আগুন ধরে, তাই পরিস্থিতি নাজুক ছিল। আমাদের টিমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে পাশের ঘরবাড়ি রক্ষা পেয়েছে।”

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা অসাবধানতাবশত আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই-বাছাই চলছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে।

নিজেকে শহীদের সন্তান দাবি করা এমপি মুনতাকিমের বাবা জীবিত!

জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের’ সন্তান দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম। অথচ নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। বেঁচে আছেন তাঁর বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দীও। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা।
নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আব্দুল মুনতাকিমের বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। অথচ গত রোববার তিনি সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের অবদান ছিল দাবি করে বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’
স্থানীয় সূত্র বলেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো জীবিত।
সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম এই প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী শিক্ষক। তাঁর মা-বাবা বেঁচে আছেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যটি স্লিপ অব টাং (মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন)। তিনি শিগগির নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সাংবাদিকদের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোববার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে। আমি এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এটি সংশোধনের জন্য সংসদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করার কাজ চলমান রয়েছে।’
সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেলবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন। ছোটবেলায় তিনি হাফেজ হয়েছেন। পরে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

তাড়াশে ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন

“বৃক্ষ নিধন আর নয়, দেশকে করবো বৃক্ষময়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের পৌষার আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচী-২০২৬ এর প্রথম ধাপের শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনের আয়োজনে ও সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বিভিন্ন দেশি গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল মন্ডল সহ অত্র প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী, কর্মচারীবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ হারুন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান সহ সংগঠনের সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথি প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান স্বপন।
প্রধান শিক্ষক শ্যামল মন্ডল বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সচেতনতা তৈরি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এমন মহৎ উদ্যোগের জন্য।”
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ হারুন সরকার জানান, “মানবতার সেবায়, সবার পাশে” এই স্লোগান নিয়ে ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠন পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচী তাড়াশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সম্প্রসারণ করা হবে।

গুলশান কার্যালয়ের সামনে পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের অবস্থান কর্মসূচি

যুবদলের নবঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্যদের বাদ দিয়ে রাজনীতিতে অনিয়মিত ও অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি করার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পদবঞ্চিত নেতারা। বুধবার (১৭ জুন) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

 

 

 

এতে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে দ্রুত পদায়নের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

 

 

 

তাদের দাবি, কমিটিতে ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়ন না করে ‘মাইম্যান’দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে পদবঞ্চিতদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে যুবদল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।

যুবদলের সাবেক গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা মো. দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক, সাবেক সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, ছাত্রদলে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ, অলি উদ্দিন সুমন দেওয়ান, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার জাহিদ, মুজাহিদুল ইসলাম, কাজী মেজবাউল আলম, ফজলুল হক নিরব, সুমন চৌধুরী, সাবেক বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব রাজু, সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মিরাজ আজিম, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর খান সাগর, শহিদুল ইসলাম মাসুদ, কোয়েল হোসেন, শাহাদত হোসেন ভূঁইয়া সাহেল, সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল হাসান আরিফ, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দর্শন বিভাগ জবি খন্দকার আমিনুল হক কাকন, যুবদলের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান খান, ছাত্রদলের সদস্য আজিজুল হক পাটোয়ারী, মহিবুল্লাহ জয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল নেতা মাহমুদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রনেতা জহিরুল ইসলাম দিদার, খসরু আহমেদ হিরন, ঢাবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কবির আহমেদ, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রনেতা দুলাল মাতব্বর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রনেতা মেহেদী হাসান খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়।

 

 

স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে জনগণ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো দলের সরকার নয় এটি বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের যেমন সরকার, যারা ভোট দেননি তাদেরও সরকার। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সরকারের সব সুবিধা সমানভাবে পাবেন। আমরা সবার জন্য কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের নাগরিক হলেই সে এই সব সুবিধা পাবে।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিল এই দেশের জনগণ। বিদেশ থেকে কেউ এসে স্বাধীনতা এনে দেয়নি। একইভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে এই দেশের সাধারণ মানুষ ছাত্র, জনতা, নারী-পুরুষ সবাই মিলে রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এছাড়া এই দেশকে স্বাধীন করেছে বাংলাদেশের জনগণ। এই দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে এই বাংলাদেশের জনগণ।

তিনি আরও বলেন, এই দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি অলস হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন কখনও সম্ভব হবে না। দেশ গড়তে হলে সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে উন্নয়ন কাজ করার, শিক্ষার ব্যবস্থা করার, নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার, ঠিক একইভাবে জনগণকেও তাদের নিজস্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যখন দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল, তখন তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, এই বাংলাদেশের মাটিই তার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। কাজেই এই দেশকে যদি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ যখনই ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যায়, দেশের অর্থনীতি যখনই গতি পেতে শুরু করে, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অতীতেও ১৭৩ দিন হরতাল, ভাঙচুর ও অবরোধ দিয়ে দেশের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছিল। সেই একই মহল আজ আবার বলছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এ কথা বলছে তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, নাকি নিজেদের স্বার্থে?

 

 

 

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে দেখুন, সংবাদপত্র কোনো খবর ছাপলে সেটি সরকারের পক্ষেই হোক বা বিপক্ষেই হোক সেই সংবাদপত্র কিন্তু ভয় পায় না। সে তার কথা বলে। একইভাবে যেকোনো ব্যক্তি সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে যা-ই বলতে চান, তা নির্ভয়ে বলতে পারছেন।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার অধ্যায়ের বিরুদ্ধে গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং হারানো অধিকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি, দেশের জন্য কাজ করতে পারছি। তিনি স্পষ্ট করেন, এই গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ সরকারের কল্যাণমুখী কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার হচ্ছে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সরকার। এই জন্যই আমরা বলি করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, একইসঙ্গে হচ্ছে সবার জন্য বাংলাদেশ।

 

 

 

তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য আনন্দের দিন। আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড দেব। এটা আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল। আজকেই এর বাস্তবায়ন করতে পারলাম। নারী চা শ্রমিকদের হাতে কার্ড দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। দুঃস্থ, অসহায় ও মেধাবী ছাত্রদের সহায়তা, গরিবদের চিকিৎসা সাহায্য, কৃষকদের কৃষি কার্ড দিয়েছি আমরা। প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা ও স্কুল ব্যাগ তুলে দেব।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়, ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। বর্তমান সরকার আপনাদের জন্য কাজ করছে, দেশের জন্য কাজ করছে। এই যে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিলাম এটা সব ধরনের মানুষ পেয়েছে না? আমরা সরকার জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। জনগণের অর্থ যেন সঠিকভাবে জনগণের জন্য এবং দেশের ব্যবহৃত হয়।

 

 

 

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চায়, বাংলাদেশের ৩ কোটি কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড তুলে দিতে চায়, প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা ও স্কুল ব্যাগ তুলে দিতে চায়, ইমাম ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের নূন্যতম সম্মানী ব্যবস্থা করে দিতে চায়, এই দেশের খালগুলোকে খনন এবং পুনঃখনন করতে চায়, এই দেশের মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে চায়, তার জন্য বৃক্ষরোপণ করতে চায়। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে চায়।

 

 

 

তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি, তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ট্যাক্স তুলে নিয়েছি, যেন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বিএনপি করে, যারা আমার দলের দলীয় নেতাকর্মী, যারা শহীদ জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক আমরা সব সময় একটি কথা বলি আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমাদের রাজনীতিও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। এই জনগণই আমাদেরকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছে। এই জনগণ সঙ্গে ছিল বলে গত এক যুগের আন্দোলন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সফল হয়েছে। নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ম্যানোফেস্টো দিয়েছিলাম, নির্বাচনের আগে ছিল এটা বিএনপির ম্যানোফেস্টো। নির্বাচনের ফলাফলের পরে এটি প্রমাণ করেছে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ম্যানোফেস্টো। আমাদের প্রতিশ্রুতি, এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি নয় এটা জনগণের প্রতিশ্রতি।

 

 

 

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে দেশের ২০টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি দুস্থ অসহায়দের সহযোগিতা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে অর্থ সহায়তা, পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান, চা শ্রমিকদের মাঝে বরাদ্দ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি তুলে দেন তিনি।

 

 

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছ, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বিসিবি পরিচালক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।

 

 

 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এছাড়াও অন্যান্য আসনের সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

এদিকে সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের দুসাই রির্সোটে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সভা হয়েছে। সেখান থেকে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী অসুস্থ খালেদা রাব্বানীকে দেখতে যান।

 

 

 

এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা ২১ মিনিটে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে সেখান থেকে সড়কপথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

নদীতে ভাসছিল অজ্ঞাত মহিলার লাশ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

বুধবার দুপুরে উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কৃষ্ণগোবিন্দপুর গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে ওই মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

ইউপি সদস্য মামুনুর রহমান জানান, সকালে ইছামতী নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে জনগণ পুলিশকে ফোন করে। আমিও খবর পেয়ে সেখানে যাই। মরদেহটি ধুনট ও কাজিপুর উপজেলার সীমানায় ইছামতী নদীতে ভাসছিলো। উদ্ধারের পর আমরা কেউই মরদেহ চিনতে পারিনি।

 

 

 

কাজিপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (তদন্ত) মনোজ কুমার জানান, সকালে ইছামতী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জনগণ পুলিশকে ফোন করে। খবর পেয়ে আমরা আসি। যেহেতু মরদেহ নদীতে ভাসমান সেহেতু সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশকে খবর দিলে তারা আসলে মরদেহ পানি থেকে তোলা হয়। মরদেহের পরনে কোন কাপড় ছিলো না। গায়ের চামড়া অনেকাংশে খুলে গেছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ময়না তদন্তের জন্যে মরদেহ সিরাজগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হবে।

 

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বাড়ির আঙিনায় গাঁজা চাষ, ৩ কেজির তাজা গাছ উদ্ধার

বাড়ির আঙিনায় সবজি বা ফুলের বদলে চাষ করা হচ্ছিল মাদক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি তাজা গাঁজার গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লীর একটি বাড়ি থেকে গাছটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছেন ঘরের মালিক ও গাঁজা চাষে অভিযুক্ত রবিন মাহাতো ওরফে চয়ন (৪০)। সে ওই গ্রামের রোশকা মাহাতোর ছেলে।

​পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে গোপনে গাঁজার চাষ করা হচ্ছিল-এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পাঁচবিবি থানা পুলিশ। অভিযানে বাড়ির আঙিনা থেকে মাটি খুঁড়ে তাজা ও পরিপক্ব গাঁজার গাছটি জব্দ করা হয়, যার ওজন প্রায় ৩ কেজি।

​পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান জানান, জেলা পুলিশ সুপারের কড়া নির্দেশনায় পুরো উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে এই গাছটি উদ্ধার করা হয়।

​তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত রবিন মাহাতো পলাতক থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পাঁচবিবি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

এমবাপ্পে-মেসি পেরেছেন, রোনালদো কি তা পারবেন?

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা তারকাদের তালিকায় উপরের দিকে রয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই তিন তারকার মধ্যে এমবাপ্পে আর মেসি ইতোমধ্যেই নিজেদের মিশন শুরু করে দিয়েছেন। স্ব স্ব ম্যাচে দুই তারকাই আলো ছড়িয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের দাপুটে জয়ের ম্যাচে একাই জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, আজ ভোরে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৩-০ গোলের উড়ন্ত সূচনার ম্যাচে সবকটি গোলই এসেছে এলএম টেনের পা থেকে।

 

 

 

এরপর থেকেই প্রশ্নটা ভক্ত-অনুরাগীদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাছে যে, মেসি-এমবাপ্পে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জ্বলে উঠেছেন; ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কী পারবেন? আজ রাতেই যে মাঠে নামছেন আল নাসরের এই পুর্তগিজ সুপারস্টার। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে সিআর সেভেনের পর্তুগাল।

 

 

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই এমন দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পেরেছেন, যেমনটা পেরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন পর্তুগালের এই মহাতারকা। তবে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তার আরেকটি বিশ্বকাপ অধ্যায়, যা হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপও।

 

পর্তুগালের সামনে এবার বড় সুযোগ। শক্তিশালী মাঝমাঠ, অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ এবং প্রতিভাবান আক্রমণভাগ নিয়ে দলটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে সব আলো এখনো রোনালদোর ওপরই। প্রশ্ন একটাই-তিনি কি এখনো পর্তুগালকে শিরোপার পথে টেনে নিতে পারবেন, নাকি তার উপস্থিতিই দলের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে?

 

ইউরো ২০২৪-এ রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে নিষ্প্রভ দেখা গিয়েছিল। আবার ২০২২ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ গোল করেছিল পর্তুগাল। এসব কারণে অনেকেই মনে করেন, আগের সেই রোনালদোকে আর দেখা যায় না।

 

 

তবে পর্তুগাল শিবিরে তার গুরুত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ জানিয়েছেন, এটি রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ হলেও তার প্রস্তুতি, আবেগ ও একাগ্রতা যেন প্রথম বিশ্বকাপ খেলা কোনো তরুণ ফুটবলারের মতো। মার্তিনেজ বলছিলেন, ‘সে আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। গোল করার পাশাপাশি অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি করে দিতে পারে।’

 

 

 

সতীর্থদের কাছেও রোনালদো অনুপ্রেরণার নাম। মিডফিল্ডার মাতেউস নুনেস বলেছেন, রোনালদোর সঙ্গে খেলা তার জন্য গর্বের বিষয়। অন্যদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেস জানিয়েছেন, ছোটবেলায় টেলিভিশনে যাকে দেখে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে একই দলে খেলা বিশেষ সম্মানের।

 

 

 

কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়েন দেশাব্রেও রোনালদোর প্রশংসা করেছেন, ‘ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি। বিশেষ করে সেট পিসে এখনো ভয়ংকর।’

র‌্যাবের ৪ ইউনিটের যৌথ অভিযানে গণধর্ষণ মামলার ২ আসামি গ্রেপ্তার

র‌্যাব-১২, র‌্যাব-৪, সিপিসি র‌্যাব-২ ও সিপিসি-৩ যৌথভাবে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের আলোচিত গণধর্ষণ মামলার ২ আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সোয়া ১টার দিকে ঢাকা মহানগরের শেরেবাংলানগর থানার তালতলা এলাকা থেকে দুর্জয় সরকার (২০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

এর আগে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ‘ঢাকা জেলার সাভার থানার ইম্যান্দীপুর রানাপ্লাজা এলাকা থেকে মো. রাসূল (২০) নামে অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

 

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার সহকারি পুলিশ সুপার মো. মমিনুর রহমান।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসূল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের মৃত বুদ্দু সরকারের ছেলে ও মো. দূর্জয় সরকার একই গ্রামের মৃত হামেদ সরকারের ছেলে।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণী গত ৬ জুন চাকরির জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে রওয়ানা হন। কিন্তু ট্রেনের টিকিট না থাকায় টিটিই সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডার মোড় রেলওয়ে স্টেশন তাকে নামিয়ে দেন টিটিই। এরপর তিনি কড্ডা থেকে পায়ে হেঁটে সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যান। রাত ৮টার দিকে পূণরায় কড্ডার মোড় স্টেশনে যাওয়ার জন্য সয়দাবাদ স্টেশন থেকে অটোভ্যান ভাড়া করেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে ওই অটোভ্যানে আরও তিন যাত্রী উঠে তরুণীর সঙ্গে গল্প শুরু করেন। গল্পের ফাঁকে কৌশলে মহাসড়কের ডানপাশে ইকোনোমিক জোনের গেট থেকে ভেতর দিয়ে বয়রার চরের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ভ্যানচালক ও যাত্রীসহ চারজন জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে এবং রাস্তার পূর্ব পাশে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে পরস্পরের সহায়তায় জোরপূর্বক পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে ১শ টাকা দিয়ে অন্য একটি ভ্যানগাড়ীতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪ আসামির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে র‌্যাব-৪ ও সিপিসি-২ এর একটি দল সাভার থানার ইম্যান্দীপুর রানাপ্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রাসূলকে গ্রেপ্তার করে। আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে র‌্যাব-২ ও সিপিসি- এর একটি দল শেরেবাংলা নগর থানার তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি দুর্জয় সরকারকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাব কমান্ডার মমিনুর রহমান।

 

 

সিরাজগঞ্জে মহাসড়কের পাশেই মিললো রক্তাক্ত মরদেহ

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মহাসড়কের পাশে আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তির (৪৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরের দিকে যমুনা সেতু-হাটিকুমরুল মহাসড়কে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ধোপাকান্দি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

নিহত আব্দুস সালাম বগুড়া জেলার সদর উপজেলার ঝোপগাড়ী ঠিকাদারপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

 

 

 

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, বুধবার সকালে ধোপাকান্দি এলাকায় মহাসড়কের একটি কালভার্টের নীচে অজ্ঞাতনামা ওই মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরুতহাল প্রস্তুত করার পর দুপুরের দিকে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

 

 

তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমের অপসারণ দাবীতে মানববন্ধন‎

নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তুলে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নুরুল হুদার অপসারণের দাবি উঠেছে।

 

 

 

বুধবার (১৭জুন) উল্লাপাড়া আরএস এলাকায় সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মূচিতে এমন দাবি করেন গ্রাহক ও স্থানীয়রা।

 

 

 

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জিএমের অপসারণ দাবী করে স্থানীয়রা।

 

 

 

‎বুধবার ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় গ্রামবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জিএম নুরুল হুদা নিজের ইচ্ছামতো অফিস পরিচালনা করছেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও তোলেন তারা।

 

 

 

‎বক্তারা আরও বলেন, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে বিভিন্ন স্থানের গাছ কেটে বিক্রির ঘটনাসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট জিএম। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

 

 

 

‎অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। তারা বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

 

 

 

‎মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বক্তব্য রাখেন, সোলায়মান, মোছা. সুফিয়া খাতুন, ইলেকট্রিশিয়ান হান্নান, মোহাম্মদ মইন উদ্দিন, রিন্টু, আমজাদ হোসেন, রুহুল আমিন, মনসুর প্রমূখ।

 

 

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুরুল হুদা বলেন, কিছু দালাল ও ইলেকট্রিশয়ান সুবিধা করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্য অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে।

 

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির ঝটিকা মিছিল

সিরাজগঞ্জে ঝটিকা মিছিল করলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

‎বুধবার (১৭ জুন) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম এলাকায় মহাসড়কে এই ঝটিকা মিছিল বের করে তারা।

 

 

 

জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে জেলা ও থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ এই মিছিলে অংশ নেন।

 

 

 

ছাত্রলীগের মিছিলের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

 

 

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বক্কার মাতুব্বর বলেন, ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলমান রয়েছে।

 

তাবলিগের আমির হত্যা: আপিলে মুক্তি পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী

সিলেটের তাবলিগ জামাতের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় আঞ্চলিক শাখার আমির ইব্রাহিম আবু খলিল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বুধবার (১৭ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তার আপিল মঞ্জুর করে রায়টি দেন।

 

 

 

আদালতে আপিলকারী মাশকুরার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।

 

 

 

এর আগে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ এবং আসামির আপিল খারিজ করে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছিলেন।

 

 

সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেন মাশকুরা।

 

 

জানা যায়, সিলেটের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় আঞ্চলিক শাখার আমির ইব্রাহিম খলিলের নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ১৮ মে গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে আটক করে পুলিশ। এরপর মাশকুরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

 

একই বছরের ২৪ আগস্ট ফাতিহার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিচার শেষে ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা একমাত্র আসামি খলিলের স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

 

 

 

এরপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।

 

কুমিল্লা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে গাঁজা সরবরাহের সময় ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কুমিল্লা থেকে এসে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী এলাকায় মাদক সরবরাহের সময়  গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১ টায় র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এসব তথ্য জানান।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভূল্লী উপজেলার ভূল্লীবাজার থেকে ফারাবাড়ি যাওয়ার পথে ডারাপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় সন্দেহভাজন একটি পিকআপ ভ্যান তল্লাশি চালিয়ে ৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার হন, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর ভল্লাক এলাকার খোরশেদ (৪৫) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামচন্দ্রগড় এলাকার সিরাজ মিয়া (৪০)।
র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পিকআপ চালানোর আড়ালে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। তারা রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।
র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতসহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৮ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য ১৬বারের মতো সময় পেল তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। যদিও সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত ২৮ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান এই তথ্য জানান।

 

 

 

ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক, মুখপাত্র ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দিন গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

 

শরিফ ওসমান বিন হাদি ‎হত্যা মামলা তদন্ত করে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলার বাদী এ অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

 

দুই বছরে শরীয়তপুরে ২০ হাজার বৃক্ষরোপণের ঘোষণা চরভাগা উন্নয়ন ফোরামের

আগামী দুই বছরের মধ্যে শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০ হাজার ওষুধি, ফলজ ও ফুলের গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক সংগঠন চরভাগা উন্নয়ন ফোরাম।

 

 

 

বুধবার (১৭ জন) সকালে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের চরভাগা নতুন বাজার এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক। এ সময় ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক হাজার ওষুধি গাছ রোপণ করা হয়।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগামী দুই বছরে মোট ২০ হাজার ওষুধি, ফলজ ও ফুলের গাছ রোপণ করা হবে।

 

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও হাফিজুল হক বলেন, “তরুণদের এ উদ্যোগ দেশের মানুষের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি ভবিষ্যতেও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

 

 

 

এসময় সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসেন, চরভাগা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সংগঠনটির এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের একটি দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আয়োজকরা জানান।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে কৃষি দপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে নিরাপদ খাদ্য (ফসল) উৎপাদন বিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন)  বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরামের সভাপতিত্বে ও স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাস। এসময় উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের ভ্যাটেনারী সার্জন নূসরাত জাহান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দীন খান ও বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। তিনটি প্রদর্শনী স্টলে উত্তোম কৃষি চর্চার মাধ্যমে এ অঞ্চলে উৎপাদিত রপ্তানীযোগ্য ফলের প্রদর্শন করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে সাড়ে ৬ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ, আটক ১

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

 

 

 

জানা গেছে, টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

 

 

 

জব্দ করা ইয়াবা ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার (১৬ জুন) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

সেনবাগে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ৫ জন আটক, দুই ছাত্রী বহিষ্কার

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগে তিন বহিরাগত যুবক ও দুই ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আটক তিন বহিরাগত যুবককে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে একই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার প্রথম দিনে ইউএনও কে ফুলেল শুভেচ্ছা

ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রথম দিনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় খাইরুল ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভূল্লী উপজেলার ২ নং বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় নবগঠিত উপজেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা বলেন, দীর্ঘ প্রত্যাশার পর ভূল্লী উপজেলা হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। নতুন এই উপজেলার উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ভূল্লী উপজেলা একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি ও সামগ্রিক উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শুভেচ্ছা গ্রহণ করে ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, নবগঠিত এই উপজেলার দায়িত্ব পাওয়া একটি বড় দায়িত্ব। ভূল্লী উপজেলার উন্নয়ন, মানুষের সেবা নিশ্চিত করা এবং একটি সুন্দর, আধুনিক ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা হবে। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন কাজ করবে।
এ সময় উপস্হিত ছিলেন, বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির স্হানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজিমুল ইসলাম লাল, জেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল হক, দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, শুখানপুকুরী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন রানা মান্নান, বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রীস আলী, সহসাধারন সম্পাদক নুর ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন, বড়গাও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডাঃ আহমেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান, আউলিয়াপুর বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান, দেবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ ছাড়াও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে ভূল্লী প্রেসক্লাবের সকল সদস্য, বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

হিলিতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ: আলজেরিয়াকে ৩ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা

দেশজুড়ে চলছে ফিফা বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনা। সেই উন্মাদনার জোয়ারে ভাসছে দিনাজপুরের হাকিমপুরও। আজ সেখানে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছে আলবিসেলেস্তেরা। প্রিয় দলের এমন দুর্দান্ত জয়ে আনন্দের জোয়ার বইছে স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মাঝে।
​আজ সকাল থেকেই হাকিমপুরের বাংলাহিলি বাজার সরকারি খাদ্য গুদাম মোড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলাটি বড় পর্দায় সরাসরি দেখানোর আয়োজন করায় সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীরা। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব স্তরের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতিতে এলাকাটি মুখরিত হয়ে ওঠে। বড় পর্দায় প্রিয় তারকাদের প্রতিটি মুভমেন্ট দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত দর্শকরা।
​ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই আর্জেন্টিনা প্রথম গোলের দেখা পেলে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। এরপর আলজেরিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের রসায়নের সামনে তারা পরাস্ত হয়। ম্যাচের শেষপর্যন্ত আলজেরিয়ার জালে আরও দুইবার বল জড়িয়ে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা দল।
খেলা শেষে এক উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, আজকের খেলায় আলজেরিয়াকে ৩ গোল দিয়ে আমরা আমাদের শক্তি বুঝিয়ে দিয়েছি। দলের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে আমরা শতভাগ আশাবাদী—এবারও বিশ্বকাপ ট্রফি আর্জেন্টিনার ঘরেই যাবে।

মৌলভীবাজারে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামেলী কার্ড পাইলটিং কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করতে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে মৌলভীবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মৌলভীবাজার পৌঁছান তিনি।

 

 

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সিলেট পৌঁছান।

 

 

 

পরে সেখান থেকে তিনি মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। মৌলভীবাজার পৌঁছে তিনি সরাসরি শ্রীমঙ্গলের পথে রওয়ানা হয়েছেন। দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে ফ্যামেলী কার্ড বিতরণ কর্মসূচীতে যোগ দিবেন।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পুরো মৌলভীবাজারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢেকে ফেলা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছেন।

 

 

গত কয়েকদিন থেকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ঝেড়ে-মোছে পরিষ্কার করা হয়েছে। সার্কিট হাউস, জেলা জজ আদালত, মৌলভীবাজার পৌরসভা ভবন সহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা পরিষ্কার ও রঙ করা হয়। সড়কের ব্রীজ-কালভার্টে লাল-সাদা রঙে রাঙিয়েছেন মিস্ত্রীরা।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ বুঝে নিয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স।

 

স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, পদ হারালেন বেরোবি ছাত্রদল নেতা

নেশার টাকার জন্য স্ত্রীর উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পিকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পিকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

 

এর আগে মাইদুল ইসলাম বাপ্পির স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

 

অভিযোগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নেশার টাকার জন্য মারধর, মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি দাবি করেন, এটি তাদের পারিবারিক বিষয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

 

এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

আওয়ামী যুবলীগ নেতা নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে ঢাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুবলীগ নেতা আরাফাত কাওলিবেড়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের বাসিন্দা।

 

 

 

জানা গেছে, আরাফাতের বিরুদ্ধে থানা ভাঙচুর ও বিস্ফোরক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর প্রধান সহযোগী। ৫ আগস্টের পর তিনি পালিয়ে যান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে আরাফাতের নেতৃত্বে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যুবলীগ ঝটিকা মিছিল বের করে। তার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি গত শুক্রবার বিক্ষোভ করে।

 

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের নেতা আরাফাতের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছিল। অবশেষে ডিবির জালে ধরা পড়েছে আরাফাত। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানা ভাঙচুর, বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অফিসিয়ালি কাগজ-কলমে তাকে পাইনি। তবে ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে বিষয়টি আমি নিশ্চিত হয়েছি।

2 thoughts on “এমপিরা ‘ঋণখেলাপি’ নন, ‘ঋণগ্রস্ত’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, কড়া জবাব রুমিনের

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

এমপিরা ‘ঋণখেলাপি’ নন, ‘ঋণগ্রস্ত’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, কড়া জবাব রুমিনের

আপডেট টাইম : ০৮:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) ‘ঋণখেলাপি’ বলা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আইনিভাবে বর্তমান সংসদের কোনো এমপি ‘ঋণখেলাপি’ নন, তারা বড়জোর ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন।

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির কড়া জবাব দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল (রিসিডিউলিং) করা হয় এবং উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে নির্বাচন করা হয়, তা সবারই জানা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

 

 

 

‘ব্যাংকগুলো সরকারকে কীভাবে ঋণ দেবে?’
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগ যদি একপাশে সরিয়েও রাখি, ব্যাংক সরকারকে ঋণ দেবে কোথা থেকে? এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে, দেশে মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

এর সঙ্গে অবলোপন, পুনঃতফসিল করা এবং মামলার কারণে আটকে থাকা টাকা—যেটা এখনো খাতায় তোলা হয় নাই, তা যোগ করলে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ৫৯.৭৩ শতাংশ। ব্যাংকগুলো চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপানো ছাড়া উপায় থাকে না, যাকে আমরা ‘হাই পাওয়ারড মানি’ বলি। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।

 

 

 

এসময় সংসদে ফ্লোর নিয়ে বর্তমান সংসদের মর্যাদা তুলে ধরে ফজলুল হক মিলন বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।

 

 

 

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাটো করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে—‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’। (এ সময় তিনি প্রথমে ভুলবশত অন্য এক সংসদ সদস্যের নাম নিলেও পরে উল্লেখ করা হয় যে কথাটি রুমিন ফারহানা বলেছিলেন)।

 

 

 

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে—‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?

 

 

 

বক্তব্যের শেষে স্পিকারের রুলিং চেয়ে তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব, আপনি এই শব্দটি এখান থেকে এক্সপাঞ্জ করেন। আর ভবিষ্যতে বক্তব্য রাখার সময় নিজেদের মানসম্মান হানি হয়, অতি উৎসাহিত হয়ে এমন কথা যেন আমরা না বলি, সেই বিনীত অনুরোধ সবার প্রতি রাখছি।

 

 

 

‘এটি ঋণখেলাপিদের সংসদ’
অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম অধিবেশনেও অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্যের কত ঋণখেলাপি রয়েছে, তার সংখ্যা উল্লেখ করেছিলাম, তবে সম্মানের কারণে নাম প্রকাশ করিনি। এখন যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তাদের দায়। সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলবে।

 

 

 

তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংসদকে আমরা সার্বভৌম বলি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারি, তাহলে কোথায় বলব? আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের শব্দ এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার মতো কোনো বক্তব্য নয়।

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ব্যাখ্যা ও আপত্তি
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের উচিত। এখানে যারা আছেন, কেউ ঋণখেলাপি নন। নির্বাচনী আইন (আরপিও) এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুসারে, আদালত কর্তৃক কেউ ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হন। তার নমিনেশন অবৈধ হয়ে যায়।

 

 

 

তিনি বলেন, যাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে ব্যাংকের বা প্রাইভেট মামলা ছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে সেগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পরই তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন, কিন্তু ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে তাদের ডিফেম (মানহানি) করা হচ্ছে। এটি মানহানিকর বক্তব্য, এটি এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত।

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রুমিন ফারহানার পাল্টা জবাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে আইনি ফাঁকফোকরের বিষয়টি তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টিআইবি সম্প্রতি বলেছে, এই সংসদের সদস্যদের কাছে দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।’

 

 

 

আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে রিশিডিউলিং করা হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সিআইবির (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম আসার পর কীভাবে রিট পিটিশন দাখিল করে তা স্টে (স্থগিত) করে ইলেকশন করা হয় এবং এরপর আবারও সুদ দেওয়া বন্ধ করা হয়, সেটাও আমরা ভালো বুঝি।

 

দিনাজপুরের ২৯ বিজিবির অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক চোরাচালান জব্দ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও দাইনুর সীমান্তে পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন এবং ইস্কফ সিরাপ জব্দ করেছে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এসব চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ২০০ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ দাইনুর বিওপি’র একটি চৌকস দল দীর্ঘ পরিকল্পনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩,২০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং ৪৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ আটক করা হয়। অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে আসছে। ভবিষ্যতেও মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল আটক এবং এর সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে বিজিবির এই ধরনের চিরুনি অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশনের দাবিতে শহরজুড়ে পথসভা

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথে রায়পুর স্টেশন এলাকায় জংশন করার দাবিতে আগামি শনিবারের মানববন্ধনকে সফল করার লক্ষ্যে শহরজুড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

“সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন’ এর উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শহরের চৌরাস্তা মোড়, বড়পুলের পশ্চিমপাড়ে, ১ নম্বর খলিফা পট্টির মাথায়, বড় বাজার, বাজার স্টেশন চত্বর ও মুক্তাপ্লাজার সামনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তারা বলেন, নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথকে রায়পুর স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত এবং রায়পুর স্টেশনকে উত্তরাঞ্চলগামী রেল যোগাযোগের কেন্দ্রীয় জংশন হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে শহরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুল, জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, রেল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক, কবি জাহিদ হোসেন ও সঞ্জয় গৌড়।

 

 

৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ নাকি ৪-৪-২? যে ফর্মেশনে এবারের বিশ্বকাপে বাজিমাত

 

৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৫-৩-২—ফুটবলের ধারাভাষ্যে এই সংখ্যাগুলো প্রায়ই শোনা যায়। অনেকের কাছে এগুলো ধাঁধা। যদিও জটিল কিছু নয়। সহজ বাংলায়, গোলরক্ষক বাদ দিয়ে মাঠের ১০ ফুটবলারকে কোন ছকে সাজানো হচ্ছে, সেটাই বোঝায় এই বিন্যাস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ফর্মেশন অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কোচেরা সাধারণত নিজেদের পছন্দের ফর্মেশন নিয়ে মাঠে নামলেও প্রতিপক্ষ, ম্যাচের পরিস্থিতি কিংবা নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের সামর্থ্য মাথায় রেখে পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। অনেক দল এক ছকে ম্যাচ শুরু করেন, শেষ করেন অন্য ছকে।

 

 

 

সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ছক

গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ৪-৪-২ ফর্মেশন। ৪৮টি দলের মধ্যে ১২টি দল এই সিস্টেমে খেলেছে। চার ডিফেন্ডার, চার মিডফিল্ডার ও দুই ফরোয়ার্ডের এই ঐতিহ্যবাহী ফর্মুলা ভারসাম্যের জন্য পরিচিত। তবে সাফল্যের নিরিখে খুব একটা এগিয়ে নেই। মাত্র দু’টি জয় এসেছে এই ছকে—স্কটল্যান্ডের হাইতির বিপক্ষে এবং ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট।

অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৩-১ ব্যবহার করেছে ১০টি দল। এখানে দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেন, তাদের সামনে তিন আক্রমণভাগের ফুটবলার একমাত্র স্ট্রাইকারকে সাহায্য করেন। এই ছকে জিতেছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া।

আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে ৪-১-২-৩

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে সবচেয়ে সফল ফর্মেশনগুলোর একটি ৪-১-২-৩। চার ডিফেন্ডার, এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, দুই মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে গড়া এই ছকে খেলেছে আটটি দল। মেক্সিকো, নরওয়ে, ঘানা এবং কলম্বিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে এই ফর্মেশন ব্যবহার করে। একমাত্র রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার থাকায় আক্রমণে বাড়তি ফুটবলার পাওয়া যায়। দুই উইঙ্গার ও একজন সেন্টার ফরোয়ার্ডকে ঘিরে তৈরি হয় দ্রুত উপরে ওঠার সুযোগ। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার স্পেন ও নেদারল্যান্ডসও এই ছক বেছে নিয়েছে।

 

 

পুরনো ছক, নতুন ভাবনা

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা খেলছে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ জয়ে মেসির হ্যাটট্রিকের পিছনেও ছিল এই পরিচিত ছকের কার্যকারিতা। তিন মিডফিল্ডার সামনে দুই প্রান্তের আক্রমণভাগের ফুটবলার ও স্ট্রাইকারকে বল জোগান দেন। ১৯৭০ সালের পেলের ব্রাজিল এই ফর্মেশন কাজে লাগায়। আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপও জিতেছিল একই ছকে।

 

 

 

অন্যদিকে ৫-৩-২ ফর্মেশন ব্যবহার করে এখনও কোনও দল জিততে পারেনি। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে চমক দেখিয়েছে কঙ্গো। চেক প্রজাতন্ত্র একমাত্র দল হিসেবে খেলেছে ৫-২-৩ ছকে। অস্ট্রেলিয়া ৫-৪-১ ফর্মেশন ব্যবহার করে তুরস্ককে ঘোল খাইয়েছে।

 

 

 

৩-৪-১-২ ফর্মেশনে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া খেলেছে ৩-৪-৩ ছকে। জার্মানি এই বিন্যাসেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাত গোল করেছে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে ইইউ, বরাদ্দ দেড় কোটি ইউরো

বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক কোটি ৪০ লাখ ইউরো (১৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করবে।

ঘোষিত ইইউ-এর এই অর্থায়ন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান ২৩ মিলিয়ন (দুই কোটি ৩০ লাখ) ইউরোর কয়েক বছরের (২০২৪-২০২৭) একটি চুক্তির অংশ।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সহায়তা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা পাওয়া, মৌলিক চাহিদা পূরণ, একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন।

 

 

সিরাজগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জে উদ্বোধন করা হলো তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফলমেলা। করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে বাজার স্টেশন পৌর মুক্তমঞ্চে এই ফলমেলার উদ্বোধন করা হয়।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির আয়োজনে তিনদিনব্যাপী ফলমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম মনজুরে মাওলার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ারুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ, হর্টিকালচার সেন্টার, খোকশাবাড়ীর সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস. এম. নাসিম হোসেন, তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শমিষ্ঠা সেনগুপ্ত প্রমূখ।

 

 

এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষিপরিবার, বাগান ও নার্সারি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইদী রহমান।
উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশীয় ফলের উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদ, সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল রপ্তানির সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ. কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আনারস ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে। নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

 

উল্লেখ্য, জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য, পুষ্টিগুণ এবং আধুনিক উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।

 

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণে কৃষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাটে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুর রহিম ওরফে কাইল্যা মন্ডল (৫৩) নামে এক কৃষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন ওরফে জমির মন্ডলের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রিনাত ফেরদৌসী রিনিত রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট সকালে ওই শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এসময় আসামী আব্দুর রহিম শিশুটিকে শশা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের শশা ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে অসুস্থ্য হলে বাবা মাকে বিষয়টি খুলে বলে। এরপর তাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেলারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩০ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ ৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল সাজিনাজে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন শিশুর মা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আমাতুল মাকনুন নামে ওই নারী আটজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (তৃতীয়) আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী কনসালটেন্ট ডা. আনোয়ার হোসেন (৫০), সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান (৪৫), শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান (৬০), কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ (৫০), ডা. মো. তানিম সাফায়েত চৌধুরী আলভি (৪৫) ও সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী(৫২)। এছাড়া সাজিনাজ হাসপাতালে ওই সময়ে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদেরও আসামি করা হয়েছে।

বাদীর আদালতে দাখিলকৃত আর্জি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হলে ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তীতে তিনি ঈদুল আজহার ছুটিতে গেলে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন বাচ্চার নিয়মিত চিকিৎসা দেন।

চিকিৎসার ৫ দিনের মাথায় ভিজিটিং আওয়ারে বাচ্চাকে দেখতে গেলে বাম হাতে একটি ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং চিকিৎসকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কিছু না’ বলে তারা এড়িয়ে যান৷ পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল ছুটি থেকে ফিরে এসে বাচ্চার হাত দেখালে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চেয়ে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাননি।

পরবর্তীতে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে না। ওই সময় হাতের কালোভাব শুরুতে কিছুটা কমলেও দুই একদিন পর আবারও তা খারাপের দিকে যাওয়ার কারণে পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদের মাধ্যমে ছোট একটা অপারেশন করানো হয়৷

 

 

এরপর তারা আইসিইউ এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ব্যান্ডেজ খুলে দেখে বাচ্চার হাতের কবজি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন এবং এর কারণে বাচ্চার পুরো শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। পরবর্তীতে ইবনেসিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অপারগতা প্রকাশ করলে এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওইখানে ডাক্তারদের পরামর্শমতে বাম হাত কেটে ফেলা হলেও বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।

 

 

গত ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নবজাতক শিশুটির মায়ের একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে সাজিনাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

 

 

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পূর্বের হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় শিশুটির ডান পায়ের তালুতে কাটা দাগ ও বাম হাতের উপরের অঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফোলা বিদ্যমান ছিলো যা ভর্তির সময়ই নবজাতকের পিতাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী আমাতুল মাকনুন কালবেলাকে জানান, সিজারের পর থেকে আমি অসুস্থ থাকায় এতদিন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন সুস্থতা অনুভব করলে আদালতে এই ব্যাপারে মামলা করতে এসেছি। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।

 

 

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা জানান, ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালত আমাদের দেওয়া আর্জি আমলে নিয়ে সিআইডিকে এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্ত সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী জানান, আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আগাব।

 

 

দুই মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত করল আদালত

সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

 

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক।

এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগে রাত সোয়া ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’

জানা যায়, সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এবং হবিগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর থানার একটি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার আরও দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ব্যারিস্টার সুমন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বৃহস্পতিবার ওই দুই মামলার জামিন স্থগিতের আদেশ দেন।

 

 

সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারে অভিনেতা জোভান আহত

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন অভিনেতা। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জোভান। একই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভক্ত-অনুরাগীদের নিরাপদে যানবাহন চালানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

ফেসবুক পোস্টে জোভান লেখে, ‘কিছুদিন আগে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে আমি বাইক এক্সিডেন্ট করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু ঘটনাটি আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।’

 

 

তিনি আরও লেখেন, “রাস্তায় আমরা অনেক সময় ভাবি, ‘আরেকটু স্পিডে গেলে কী হবে?’ বা ‘আমি তো ভালোই চালাই।’ কিন্তু দুর্ঘটনা কখন, কীভাবে, কার সঙ্গে ঘটবে—তা কেউ জানে না। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা জীবন বদলে দিতে পারে।”

সড়কে সবসময় নিরাপত্তার সঙ্গে বাইক চালানোর আহ্বান জানিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কারণ আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে আপনার পরিবার, আপনার প্রিয় মানুষগুলো।গন্তব্যে একটু দেরিতে পৌঁছানো ভালো, কিন্তু নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

অভিনেতার এই পোস্টে তার ভক্ত-অনুরাগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মন্তব্য করছেন।

ক্যাম্পের আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া শিবির

দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন ক্যাম্পের কাছে সন্দেহজনক একটি ড্রোন দেখা যাওয়ার পর সেটি নামিয়ে দিয়েছে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী। দেশটির ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘অননুমোদিত ড্রোন’ শনাক্ত এবং পরে সেটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়।

 

 

ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন চলাকালীন সময়। দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো জানান, অনুশীলনের সময় আকাশে একটি ড্রোন দেখা যায়, তবে তা অনুশীলন শুরুর আগেই ছিল, ফলে দলের প্রস্তুতিতে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের শিবিরের গোপন কথা জানার জন্য ড্রোন পাঠানো হয়েছিল কি না তা জানি না। তবে যা হয়েছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় আমাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনটি দক্ষিণ কোরিয়া দল বা তাদের কোচিং স্টাফকে নজরদারির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মেক্সিকোর ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরে—এই তিনটি আয়োজক শহরের স্টেডিয়াম, অনুশীলন ক্যাম্প ও ফ্যান জোনের নিরাপত্তা এলাকাগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

 

 

এর আগে মার্চ মাসে মেক্সিকোর সরকার ‘প্ল্যান কুকুলকান’ নামে বিশ্বকাপ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যেখানে প্রায় এক লাখ সেনা ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এই পরিকল্পনায় স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, সড়ক ও হোটেলে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দল, কর্মকর্তা ও দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে কানাডায় বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠের ওপর অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ৭ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কানাডার নারী ফুটবল দল নিউজিল্যান্ডের একটি অনুশীলন সেশন নজরদারির অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় কয়েকজন কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করা হয় এবং প্রধান কোচ বেভ প্রিস্টম্যানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কানাডা ফুটবল দলকে প্রতিযোগিতা থেকে ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তিও দেওয়া হয়।

 

 

কানাডা ফুটবল কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, ওই ঘটনা ছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং তদারকির ঘাটতির একটি ধারাবাহিক সমস্যার অংশ।

শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণমন্ত্রী

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে হত্যার শিকার সাত বছরের শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে তিনি শিশু নন্দিনীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে তাদের বাড়িতে যান।

 

 

শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, নন্দিনীর হত্যা একটি নির্মম-নৃশংস ও বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। যারা ছোট্ট শিশুকে হত্যা করতে পারে তারা আসলে মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যা উদাহরণ হিসেবে থেকে যায়। ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের কাজে যুক্ত না হয়।

 

 

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ইতোমধ্যে তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডটি সে ঘটিয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন এখানে এসেছিল শান্তি রক্ষার জন্য। যাওয়ার পথে যারা আক্রমণ করেছে, প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা চায়নি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা একটা ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করতে চায় তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সেটির গোয়েন্দা রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেব। ইতোমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে। সাধারণ জনগণের এখানে ভয়ের কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

নতুন পে-স্কেল: সুবিধা বাড়বে নাকি কমবে?

নবম জাতীয় পে স্কেলের বেতন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় দেওয়া বিশেষ সুবিধা (স্পেশাল ইনসেনটিভ) বাতিল করা হবে। বিশেষ সুবিধাকে মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল চালুর ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনকাঠামো-সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

 

 

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। তবে নবম বেতনকাঠামো কার্যকর হলে এ সুবিধা আর আলাদাভাবে বহাল থাকবে না।

 

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

 

ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে নতুন বেতনকাঠামোর মধ্যেই তা সমন্বয় করা হবে।

সরকারি উদ্যোগে বিশ্বকাপ যাত্রা, কানাডায় উড়লেন কাতারি ভক্তরা

কানাডার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে বিশেষ সরকারি উদ্যোগে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে পৌঁছেছেন প্রায় ১ হাজার কাতারি সমর্থক। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির চার্টার করা বিমানে তারা ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছান।

 

 

এই সমর্থকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে শহরের বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে, যার মধ্যে ফেয়ারমন্ট ও জেডব্লিউ ম্যারিয়ট পার্ক উল্লেখযোগ্য। শহরের কেন্দ্রাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি নজর কাড়ছে, যেখানে তারা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘দারবুকা’ বাজিয়ে দলকে উজ্জীবিত করছেন।

 

 

দলের অধিনায়ক আবদুলআজিজ হাতেম সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যারা এই যাত্রা সম্ভব করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, দল তাদের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং গর্বিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

কাতারের সোশ্যাল অ্যান্ড স্পোর্ট কন্ট্রিবিউশন ফান্ড এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘কাতারি ফ্যানস ডেলিগেশন প্রোগ্রাম’ পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সমর্থকদের বিমান ভাড়া, হোটেল, স্থানীয় পরিবহনসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্টেডিয়ামে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করা, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থানরত কাতারি শিক্ষার্থীদেরও ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে স্বাগতিক কানাডার লাল জার্সিধারী সমর্থকদের তুলনায় কাতারি সমর্থকদের সংখ্যা অনেক কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল রপ্তানিতে অন্যতম শীর্ষ দেশ কাতারের জনসংখ্যা প্রায় ৩.২ মিলিয়ন। দেশটি ২০২২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে এবং ইতিহাসে প্রথম আয়োজক দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে হেরেছিল।

 

 

এবারের আসরে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করছে কাতার। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে যোগ করা সময়ে বোলেম খৌখি হেডে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় আনেন।

 

 

অন্যদিকে স্বাগতিক কানাডাও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের মাধ্যমে। সেই ম্যাচে সাইল লারিন ৭৮তম মিনিটে সমতা ফেরানো গোলটি করেন।

এসএসএফের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী, পরখ করলেন নিশানার দক্ষতা

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় এই ফায়ারিং রেঞ্জে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই নিশানা পরীক্ষা করেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বা সুরক্ষার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হেনস্থা বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকে এসএসএফ-কে বিশেষ নজর দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে এসএসএফের সমন্বয়কারী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ বয়স থেকেই মায়ের সরকারপ্রধান থাকাকালীন তিনি এই এলিট বাহিনীর পেশাদারত্ব ও কার্যক্রম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

 

 

এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করলেন সংসদ সদস্য মো: কামরুজ্জামান রতন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টার উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়ন এর বড় কালীপুরা থেকে তনু সরকারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর সংরক্ষণে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ পরিদর্শন করেন তিনি,এরপর উপজেলা পরিষদ হল রুমে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৩৭জন অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান প্রদান করেন।এছাড়াও তিনি ভবেরচর বাজারস্থ নবনির্মিত কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া,অফিসার ইনচার্জ মো:হাসান আলী,উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন,ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার,উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব নাজির শিকদার,উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রাসেল দেওয়ান,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো:মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী।

বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

শেষ হলো আরেকটি অধ্যায়। দীর্ঘ দুই বছরের হাসি-কান্না, খুনসুটি আর শেখার পালা চুকিয়ে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় নিলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন কলেজ মিলনায়তনে “বিদায় অনুষ্ঠান-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছিল বেলুন, ফেস্টুন ও ফুলে সজ্জিত। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কলেজের সম্মানিত সভাপতি  তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাবা নুসরাত জাহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়, বরং তোমাদের নতুন পথচলার সূচনা। বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ তোমাদের শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সততা, নিষ্ঠা আর মেধাকে পাথেয় করো। শিক্ষকদের আশীর্বাদ আর প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাও। আসন্ন এইচএসি পরীক্ষায় তোমাদের সাফল্য কামনা করি।”

শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “এই শ্রেণিকক্ষ, এই বারান্দা, শিক্ষকদের শাসন আর সহপাঠীদের ভালোবাসা — আজ সবই স্মৃতি। আপনাদের দেওয়া শিক্ষাই আমাদের আগামীর পথের পাথেয়।”

শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে সিনিয়র আপুদের বিদায় জানায়। তাদের আবেগী পরিবেশনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকের চোখেই জল চলে আসে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, স্মারক উপহার ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। জাতীয় সংগীতের সুরে যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়, তখন পুরো ক্যাম্পাসে নেমে আসে এক বিষণ্ণ নীরবতা।

বিদায়ের বেদনা আর নতুন স্বপ্নের প্রত্যয় নিয়ে এক আবেগঘন দিন পার করলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ পরিবার।

রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর কোন রুটে কোন কোম্পানির বাস চলাচল করবে, তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি রুটের বাসমালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে।’

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোকে একটা কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ যেসব জায়গায় বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে না। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার রাস্তায় একই রং, নির্দিষ্ট মান ও ফিটনেস বজায় রেখে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে বাস চালাতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার ইলেকট্রিক যানকে উৎসাহিত করছে। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’

ঢাকা শহর থেকে ৪টি বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে। মহাখালী বাস টার্মিনাল যাবে উত্তরার আবদুল্লাহপুরের কাছাকাছি জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে। অন্যদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।’

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশ দম্পতি

খুলনায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের মামলায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগীর মা মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপ‌লিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবাল গ্রেপ্তার পু‌লিশ দম্প‌ত্তি‌কে কারাগারে প্রেরণের নি‌র্দেশ দেন।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- সঞ্জয় কুমার সাহা এবং তার স্ত্রী পরি রানী সাহা। তারা দুজনই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় গিয়ে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার মেয়ে ওই বাসায় কাজ করছিল। মেয়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের কথা তিনি জানতেন না। মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই কিশোরী। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বুধবার দুপুরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

 

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার অজুহাতে গৃহকর্মী মিলনের ওপর চড়াও হন এএসআই সঞ্জয়ের স্ত্রী পপি রানী সাহা। তিনি মিলনকে মারধর করার পাশাপাশি তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেন। নির্যাতনের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার বিকেলেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে আসে এবং এএসআই সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেয়।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, গতকাল বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের ভবনের ভেতরে একজনকে নির্যাতন করতে দেখেন। দূর থেকে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় রেকর্ড করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গরম কড়াই দিয়ে ওই তরুণীর শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ওসি আরও বলেন, বুধবার থেকে এই পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। অবশেষে আজ দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা দুজনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

গ্রুপ পর্ব শেষ না হতেই নকআউটে যারা

বিশ্বকাপে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে কারা? সেই দলের নাম জানা যেতে পারে আগামীকাল শুক্রবার সকালেই। এ গ্রুপের ম্যাচে গুয়াদালাহারায় সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া। এ ম্যাচে জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমনকি পরের ম্যাচে হারলেও।

 

 

বিশ্বকাপে প্রতিটা দলেরই একটি করে ম্যাচ খেলা শেষ হয়েছে। আজ সকালেই গ্রুপ পর্বের শেষ দল হিসেবে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ফেবারিটদের বেশির ভাগই নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালো ফল করেছে।

 

 

তবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে স্পেন। তারা ড্র করেছে কেপ ভার্দের মতো দলের সঙ্গে। স্পেনের জন্য অবশ্য নকআউটের দরোজা এখনো খোলা আছে। তবে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার ভাগ্য হতে পারে মেক্সিকো কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার। এ ছাড়া বি গ্রুপের ম্যাচ আছে আজ রাত ও কাল ভোরে। তবে এ গ্রুপে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ম্যাচ শেষে চার দলেরই সংগ্রহ এক পয়েন্ট করে। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলে কেবল নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে তারা।

বি গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া এবং কানাডা-কাতার। এ ছাড়া এ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-চেক প্রজাতন্ত্র। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছে মেক্সিকোর কাছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র পরাজিত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে।

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের ইঙ্গিত পাকিস্তানের

পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের সবচেয়ে নতুন ও অত্যাধুনিক সাবমেরিন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ বঙ্গোপসাগরে মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

 

 

পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক বলেন, সম্প্রতি নৌবহরে যুক্ত হওয়া ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গরকে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে এ অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর তৎপরতা খুবই সীমিত ছিল। খবর মেরিটাইম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেয়ার্ড মেরিটাইমের।

 

 

ফারুক জানান, হ্যাঙ্গর এবং একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন যুক্ত হলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করবে।

চীন থেকে নির্মাণ শেষে সাবমেরিনটি পাকিস্তানে আনার পথে শ্রীলঙ্কায় যাত্রাবিরতিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সে সময় চীন থেকে দেশে ফেরার পথে পিএনএস হ্যাঙ্গরকে নিরাপদে নিয়ে আসা পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহরের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে উল্লেখযোগ্য নৌ উপস্থিতি রয়েছে ভারতের। বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের দায়িত্বাধীন এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর কার্যক্রম এতদিন মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও আরব সাগরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসি থেকে রোনালদো—তারকাদের জার্সিতে একই ধরনের ‘প্যাচ’ কেন?

এবারের ফিফা বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জার্সিতে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন বিশেষ প্যাচ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জার্সির হাতায় সোনালি রঙের একটি বিশেষ ব্যাজ নজর কাড়ছে, যা তার দলের অন্য সদস্যদের জার্সিতে নেই।

 

 

একই ধরনের ব্যাজ দেখা গেছে আরও কিছু তারকা খেলোয়াড়ের জার্সিতেও, যা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা।

 

 

এই প্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো গোল্ডেন বুটজয়ীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ব্যাজ। রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইন, কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে ছয় গোল করে শীর্ষ স্কোরার হওয়া হামেস রদ্রিগেজ—সবাই এই বিশেষ সম্মানের আওতায় এসেছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শুধু বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ীরাই এই সোনালি ব্যাজ পরতে পারেন।

এছাড়া বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে আলাদা সোনালি ব্যাজ, যেখানে ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নাম যুক্ত রয়েছে। এই ব্যাজ মূলত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জার্সিতে থাকা ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ। দুই মহাতারকা এবারের আসরে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড। তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বিশেষ ব্যাজ চালু করেছে।

এই ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজে রয়েছে সোনালি বিশ্বকাপ লোগো, খেলোয়াড়ের নাম, দেশের পতাকা এবং ব্যক্তিগত উদযাপনের প্রতীক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ব্যাজে তার বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন এবং লিওনেল মেসির ব্যাজে তার দুই হাত প্রসারিত উদযাপনের চিত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ ছিল ২০০৬ সালে, এবং এবারের আসরেই সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে তাদের অংশগ্রহণকে।

 

 

বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবে করেছেন লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন, যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান। পরবর্তী ম্যাচে আরেকটি গোল করলেই তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন।

 

 

অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শুরুটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে গোলশূন্য থেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যেখানে দলও ১-১ গোলে ড্র করেছে। তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

 

 

বিশ্বকাপে নতুন অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ প্যাচ যুক্ত করেছে ফিফা, যেখানে ‘Debut FIFA World Cup’ লেখা ব্যাজ তাদের প্রথম অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একইভাবে পাঁচ বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের জন্য রয়েছে ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ, যা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান জানায়।

 

 

এই তালিকায় রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার ও জাপানের ইউতো নাগাতোমো। গোলরক্ষকদের জন্যও রয়েছে আলাদা স্বীকৃতি, যেখানে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও বেলজিয়ামের থিবু কোর্তোয়ার মতো গোল্ডেন গ্লাভসজয়ীরা বিশেষ এই প্যাচ পাচ্ছেন।

 

 

ফিফার মতে, এসব প্যাচের মূল উদ্দেশ্য হলো ফুটবলের ইতিহাসে অবদান রাখা কিংবদন্তিদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দেওয়া। ম্যাচ শেষে এসব ব্যাজ সংরক্ষণযোগ্য স্মারক হিসেবে রাখা হবে, যা ভবিষ্যতে ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে ভোজিনহার, প্রথমবার মাঠ থেকে খেলা দেখবেন মা

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ছাত্রলীগের মিছিল

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিন মিছিল করলো সিরাজগঞ্জ জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে কামারখন্দের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের পলাশডাঙ্গা যুবশিবির স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় আনন্দ মিছিল করে তারা।

 

 

এদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে নবগঠিত জেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই মিছিলে অংশ নেয়। দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে তৌসিফ (৯) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌসিফের মৃত্যু হয়। মৃত শিশু তৌসিফ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরমিতা গ্রামের আজাদ উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৪ শিশু। বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৭ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ শিশুদের মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

তোমাকে চাই

মহসিন আলম মুহিন
আমি শুধু তোমাকে চাই,
আর কিছুই চাওয়ার নাই।
ভোরের রবি উঠবে যখন,
পাশে তুমি থেকো তখন।।
মাধবী রাতে নীল জ্যোৎস্নায়,
তুমিই থেকো মোর আঙিনায়।
পৃথিবী ভুলে তোমার আঁচলে,
ভেসে বেড়াবো প্রেমের ভেলায়।।
মেঘ যেমন আকাশে উড়ে,
তুমিই রবে আমায় ঘিরে।
বৃষ্টি পড়লে টাপুর টুপুর,
তুমি এসো লাগবে মধুর।।
আমার তনু, আমার হিয়া,
তোমাকেই চায় পরাণ প্রিয়া।
তুমিই থাকলে সবই পূর্ণ,
তুমি হীনা কেবলই শূন্য।।

হিলিতে জাতীয় ফল মেলা অনুষ্ঠিত: প্রদর্শিত হলো ৪৪ প্রজাতির ফল

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফল মেলা।
আজ বৃহস্পতিবার ১৮ই জুন বেলা ১২টায় হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগমের সভাপতিত্বে মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দেশি-বিদেশি ফলের বিশাল সমাহার। দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের ফল চেনার সুবিধার্থে মেলায় মোট ৪৪ প্রকারের ফলের প্রদর্শনী করা হয়। স্টলগুলোতে সাজানো উল্লেখযোগ্য ফল ও তাদের জাতগুলোর একটি তালিকা ছিল আম (গৌড়মতি, নাগফজলি, আশ্বিনা, বারি আম-১১, বারি আম-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, ফজলি ইত্যাদি), মাল্টা ও ড্রাগন (ভিয়েতনামী মাল্টা, বারি মাল্টা-১ এবং বারি ড্রাগন-১)। অন্যান্য ফলের মধ্যে ছিল পেয়ারা, বেল, আমড়া, বিলিম্বি, শরীফা, জাম, কাঠবাদাম, কলা, ডাব, কাঁঠাল, করমচা, ডেউয়া, লটকন, কামরাঙ্গা, চালতা, অড়বরই, জাম্বুরা ও তাল। বিশেষ জাতের ফলের মধ্যে ছিল স্মার্ট বক্স তরমুজ, শাহী পেঁপে, হানি কুইন আনারস, বারি সফেদা-১ এবং স্থানীয় উন্নত জাতের লেবু।
আলোচনা সভায় বক্তারা মানবদেহে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বারো মাস ফল চাষ ও সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব।
মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলগুলো পরিচিত করে তুলতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছাড়াও তার রাজনৈতিক পরামর্শক কামরান ধাঙ্গাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।

 

 

বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। এর মধ্যে ৭৪ জন ইতোমধ্যে পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

 

 

আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচিত ইকরা মৃত্যু: আদালতে আত্মসমর্পণ অভিনেতা আলভীর

স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে নিয়ামত উল্লাহ ভুইয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে শুনানি হবে।

 

 

 

এর আগে ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা তানভীর আহমেদ আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও দুই বছর ধরে অবহেলা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

 

প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উধাও কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’

নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, প্রলোভনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুরে আলম নামে সৌদি প্রবাসী। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকট আত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।

 

 

 

লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম অভিযোগ করেন, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

নুরে আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নকিব কসাই নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত আনুমানিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলম দাবি করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।

 

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

নুরে আলম আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জ্বিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

 

 

একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলাতে চান ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট লুলা!

চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক শুরু নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মজার ছলে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। দলের পারফরম্যান্স সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেছেন, ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে সই করানোর কথা ভাবছেন তিনি।

 

 

 

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে, যা তাদের খেলার বেশ কয়েকটি দুর্বলতা জনসম্মুখে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা বেশ দারুণ শুরু করেছে; মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি একাই করেছেন তিন গোল।

 

 

 

বিশ্বকাপে নিজ দেশের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লুলা হাসতে হাসতে বলেন, আমি ভাবছিলাম ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য মেসিকে সই করাবো।

তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মরক্কোর সঙ্গে ড্র করাটা ব্রাজিলের জন্য “খুব বড় কোনো চিন্তার বিষয়” নয়। কারণ তার মতে, মরক্কোই এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

 

তিনি বলেন, অনেকেই বলেন যে যখনই ব্রাজিলকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করা হয়, ঠিক তখনই তারা বিশ্বকাপ জেতে… দেখা যাক কী হয়।

 

 

আগামী শুক্রবার নিজেদের পরের ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

 

 

 

এদিকে সবার নজর এখন ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের দিকে। চোট এবং ফর্মহীনতার কারণে প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর দলে ফিরেছেন তিনি। গত মাসে পায়ের পেশিতে (কাফ মাসল) চোট পাওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো দলের সঙ্গে অনুশীলনে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা।

 

 

 

মাঠে হালকা অনুশীলনের জন্য দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাসতে হাসতে নেইমার চিৎকার করে বলেন, তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?

 

 

 

তবে চলতি আসরের ঠিক কবে বা কোন ম্যাচে তিনি মাঠে নামবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

 

 

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

 

স্বপ্নে জীবিত দেখার পর ১৮ দিন পর মৃত তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

দাফনের ১৮ দিন পর ‘কবরের মধ্যে তরুণী জীবিত আছেন’— এমন স্বপ্নের জেরে মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা। অলৌকিক এই গুজবের জেরে কবরস্থানে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। মৃত মরিয়ম ওই বাড়ির দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।

 

 

 

সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্টগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।

 

 

স্থানীয় পাঞ্জেকানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে দিয়ে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্য আলেমদের পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে, এটি অবাস্তব।

 

অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা কবরে মাটি দেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩শ থেকে ৪শ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খোঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন।

 

 

 

প্রতিবেশী মো. লোকমান লাহারি বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতেন মরিয়ম। কোরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিলেন। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুই দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বাবা-মা ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়।

 

 

 

পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে। আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন তিনি মৃত অবস্থায় রয়েছে। কবর খোঁড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি।

 

 

 

এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোঁড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম, মো. নাজিম, সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন, আমরা শুনেছি তিনি নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুঁড়েছে। বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম তিনি কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

 

 

 

তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও এক পর্যায়ে জানিয়েছেন, সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল এবং সন্দেহ দূর হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিলেন তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদের বলেছি যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোঁড়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।

 

বাজারের আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে একটি বাজারের পাঁচটি দোকান। আগুন নেভাতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবুল মোল্যা নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

 

 

 

নিহত বাবুল মোল্যা (৩৫) বোয়ালমারী উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় নসিমনচালক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাজারে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন বাবুল মোল্যাও। একপর্যায়ে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাবুল মোল্যা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন স্থানীয়রা।

 

পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক বাবুল মোল্যাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে। আগুনের লেলিহান শিখায় একের পর এক দোকান গ্রাস করতে থাকলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

 

 

 

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 

 

 

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, জাকির মোল্যার কাপড়ের দোকান, কেসমত আলীর সার কীটনাশকের দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজন নিহত হন এবং তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলে ভাইরাল সেই এমপির বাবা এখনো জীবিত

জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

 

 

 

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। এ ছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন।

 

 

তিনি বলেন, আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

তবে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

জানা গেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করেন।

 

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তার ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

 

 

 

সংসদ সদস্যের সহকর্মী ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

শ্রমিক কারখানায় পানি পান করে হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক শ্রমিক

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ‘ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন শ্রমিকরা। কিছুক্ষণ পরই তাদের মধ্যে অনেকের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠায়।

অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, কারখানার পানিতে দুর্গন্ধ ছিল। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ বোধ করেন। ধীরে ধীরে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

কারখানার এজিএম (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টির কারণে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা পানিতে ডুবে যাওয়া কলের পানি পান করে এবং আজ সকালে কাজে এসে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারখানার পানিতে কোনো সমস্যা আমরা পাইনি।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমার হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছে।

 

 

 

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, পানি খেয়ে বেশকিছু শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা অসুস্থ হয়েছে তারা এখন পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

 

সিরাজগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৫৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোহাম্মদ সালমান নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১২।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কক্সবাজার সদর উপজেলার ডিককুল উত্তর পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ইসহাকের ছেলে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ফারহান-উজ-জামান।

 

 

তিনি জানান, গত ১৭ জুন র‌্যাব-১২ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে আসছিল।

 

 

 

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যমুনা সেতু পশ্চিম থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, আইনি সহায়তা ও বিচার দাবি

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের চাওড়া ডাঙ্গী (ডাঙ্গাপাড়া) এলাকায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত চলাচলের রাস্তা দখল ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

গত ১৬ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের একমাত্র চলাচলের পথটি বন্ধ করার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মিজানুর রহমান (পিতা-মৃত রহমান আলী), তফেল উদ্দিন (পিতা-মৃত আলিমুদ্দিন), আতাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম (উভয়ের পিতা-মমিনুর রহমান), রজিদুল ইসলাম (পিতা-মৃত আব্দুল গফুর) এবং আবুয়াল হোসেন (পিতা-মৃত কছিমুদ্দিন)সহ অন্যান্যরা পরিকল্পিতভাবে রাস্তার উপর সুপারি গাছ রোপণ করেন এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

রশিদুল ইসলামের দাবি, গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর প্রায় ২টার দিকে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তাদের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশ, গুম ও হত্যার হুমকি দেয়।

স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মো. আজিজুল ইসলাম (পিতা-মৃত আলাউদ্দিন), মো. আপন (পিতা-রেজাউল ইসলাম) এবং সেলিম হোসেন (পিতা-রেফাজ উদ্দিন)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি মৌজা চাওড়া ডাঙ্গী, জে.এল. নং-১১, বিএস খতিয়ান নং-১, দাগ নং-৬৬৪, জমির পরিমাণ ০৬ শতক এবং পুরাতন দাগ নং-৮০৮-এর অন্তর্ভুক্ত।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এবং আশপাশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারি রেকর্ডভুক্ত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবিলম্বে উন্মুক্ত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

শ্বশুরবাড়ির এলাকায় চুরি করতে গিয়ে ধরা খেলেন জামাতা

মাদক এবং অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাড় করতে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন জামাতা। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের জোড়বহ গ্রামে বুধবার (১৭ জুন) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

আটক হওয়া জামাইয়ের নাম ফারুক হোসেন (৩৩)। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলায়। তিনি ধলাপাড়া ইউনিয়নের জোড়বহ গ্রামের মাসুম মিয়ার মেয়ের জামাই।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফারুক হোসেনের সঙ্গে ঘাটাইলের ধলাপাড়া ইউনিয়নের মাসুম মিয়ার মেয়ের কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে ফারুক মাদকাসক্ত ও জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়।

 

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত ফারুক নানান ধরনের মাদক গ্রহণ করেন এবং অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত। এতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে টাকা জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। বুধবার রাত ৩টার দিকে ফারুক শ্বশুরবাড়ি এলাকার জোড়বহ গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে কৌশলে প্রবেশ করে চুরির চেষ্টা চালান। সে সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ফারুককে হাতেনাতে আটক করেন।

 

স্থানীয়রা আরও জানান, চুরির উদ্দেশ্যে ফারুক প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করলে তাকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করলে তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেন। পরে চুরির মতো কাজে তিনি আর জড়িত হবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

 

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মোতালেব হোসেন বলেন, মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাসে যুবসমাজকে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ঠেলে দিচ্ছে। এসব থেকে গ্রামগঞ্জের কিশোর যুবকরাও রেহাই পাচ্ছে না।

 

 

 

ধলাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, ফারুক চুরি করতে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকলে তাকে আটক করা হয়। পরে সালিশ-বৈঠকে তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেন এবং আর এই ধরনের কাজে জড়িত হবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবার সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

গোলখরায় ভোগা রোনালদো, শেষ কবে পেয়েছিলেন গোলের দেখা?

এবারের বিশ্বকাপে যে ক’জন তারকা ফুটবলারের কাছে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা বেশি তাদের মধ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অন্যতম। কিন্তু দুর্ভাগ্য সিআর সেভেনের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে একেবারেই নিঃষ্প্রভ ছিলেন আল নাসরের এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।

 

 

 

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। দল জেতানো পারফরম্যান্সের পর প্রশংসায় ভাসছেন এলএমটেন। মেসি যখন দারুণ সময় পার করছেন, তখন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপের শুরুটা হয়েছে ভুলে যাওয়ার মতো।

 

 

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের ম্যাচটা পর্তুগালের বাকি ফুটবলারদের চেয়ে একটু বেশিই পীড়া দিচ্ছে রোনালদোকে। আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নিষ্প্রভ ছিলেন সাত নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার। ম্যাচজুড়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার কাঠগড়ায় রোনালদো। একই সঙ্গে সামনে এসেছে তাঁর গোল খরার বিষয়টিও।

 

 

বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে গোল খরা অব্যাহত রয়েছে রোনালদোর। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে বহু বছর ধরে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেও, বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে ৪ বছর গোল পান না তিনি। সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপে পরবর্তীতে উরুগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলে গোলশূন্য ছিলেন রোনালদো।

এরপর ২০২৪ ইউরোতে চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, জর্জিয়া, স্লোভেনিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচে খেলেও কোনো গোল পাননি রোনালদো। সবশেষ চলমান বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিপক্ষেও জালের দেখা পাননি। ম্যাচটিতে পুরো ৯০ মিনিট খেললেও গোলের কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তারকা ফুটবলার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল পাননি রোনালদো।

 

 

বড় আসরে দীর্ঘ গোল খরা এখন নতুন করে রোনালদোর ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বয়স, ভূমিকা পরিবর্তন এবং কৌশলগত সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে ফুটবল বিশ্বে।

 

গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি কারামুক্ত, জেলগেটে নেতাকর্মীদের ঢল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাইহান জামিনে মুক্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
​ রাইহানের মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাফটকে  উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক তাকে ফুলের মালা দিয়ে এবং স্লোগানে স্লোগানে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।
​দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সাথে হাতাহাতির একটি মামলায় গত ৮ মে ঢাকার একটি এলাকা থেকে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল রাইহানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১ মাস ৯ দিন কারাভোগের পর অবশেষে তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন।
​কারামুক্তির পর উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল রাইহান তার পাশে থাকার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া এবং সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
​এ সময় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

খড়ের গাদায় আগুন, নেভাতে এলো ফায়ার সার্ভিস

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভার জাহাঙ্গীর গাতী মহল্লায় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বিকেলে স্থানীয় কৃষক রওশন আলীর বসতবাড়ির খড়ের গাদায় আগুন জ্বলে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলের দিকে রওশন আলীর বাড়ির পাশে রাখা খড়ের গাদা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন তারা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

সংবাদ পাওয়ামাত্র তাড়াশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। ফায়ার ফাইটাররা প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

তাড়াশ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. স্বপন আলী মিধা বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা রওনা দিই। খড় দ্রুত আগুন ধরে, তাই পরিস্থিতি নাজুক ছিল। আমাদের টিমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে পাশের ঘরবাড়ি রক্ষা পেয়েছে।”

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা অসাবধানতাবশত আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই-বাছাই চলছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে।

নিজেকে শহীদের সন্তান দাবি করা এমপি মুনতাকিমের বাবা জীবিত!

জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের’ সন্তান দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম। অথচ নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। বেঁচে আছেন তাঁর বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দীও। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা।
নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আব্দুল মুনতাকিমের বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। অথচ গত রোববার তিনি সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের অবদান ছিল দাবি করে বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’
স্থানীয় সূত্র বলেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো জীবিত।
সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম এই প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী শিক্ষক। তাঁর মা-বাবা বেঁচে আছেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যটি স্লিপ অব টাং (মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন)। তিনি শিগগির নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সাংবাদিকদের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোববার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে। আমি এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এটি সংশোধনের জন্য সংসদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করার কাজ চলমান রয়েছে।’
সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেলবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন। ছোটবেলায় তিনি হাফেজ হয়েছেন। পরে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

তাড়াশে ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন

“বৃক্ষ নিধন আর নয়, দেশকে করবো বৃক্ষময়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের পৌষার আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচী-২০২৬ এর প্রথম ধাপের শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনের আয়োজনে ও সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বিভিন্ন দেশি গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল মন্ডল সহ অত্র প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী, কর্মচারীবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ হারুন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান সহ সংগঠনের সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথি প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান স্বপন।
প্রধান শিক্ষক শ্যামল মন্ডল বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সচেতনতা তৈরি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এমন মহৎ উদ্যোগের জন্য।”
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ হারুন সরকার জানান, “মানবতার সেবায়, সবার পাশে” এই স্লোগান নিয়ে ছিন্নমূল মানবসেবা সংগঠন পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচী তাড়াশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সম্প্রসারণ করা হবে।

গুলশান কার্যালয়ের সামনে পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের অবস্থান কর্মসূচি

যুবদলের নবঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্যদের বাদ দিয়ে রাজনীতিতে অনিয়মিত ও অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি করার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পদবঞ্চিত নেতারা। বুধবার (১৭ জুন) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

 

 

 

এতে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে দ্রুত পদায়নের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

 

 

 

তাদের দাবি, কমিটিতে ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়ন না করে ‘মাইম্যান’দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে পদবঞ্চিতদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে যুবদল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।

যুবদলের সাবেক গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা মো. দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক, সাবেক সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, ছাত্রদলে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ, অলি উদ্দিন সুমন দেওয়ান, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার জাহিদ, মুজাহিদুল ইসলাম, কাজী মেজবাউল আলম, ফজলুল হক নিরব, সুমন চৌধুরী, সাবেক বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব রাজু, সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মিরাজ আজিম, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর খান সাগর, শহিদুল ইসলাম মাসুদ, কোয়েল হোসেন, শাহাদত হোসেন ভূঁইয়া সাহেল, সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল হাসান আরিফ, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দর্শন বিভাগ জবি খন্দকার আমিনুল হক কাকন, যুবদলের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান খান, ছাত্রদলের সদস্য আজিজুল হক পাটোয়ারী, মহিবুল্লাহ জয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল নেতা মাহমুদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রনেতা জহিরুল ইসলাম দিদার, খসরু আহমেদ হিরন, ঢাবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কবির আহমেদ, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রনেতা দুলাল মাতব্বর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রনেতা মেহেদী হাসান খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়।

 

 

স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে জনগণ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো দলের সরকার নয় এটি বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন তাদের যেমন সরকার, যারা ভোট দেননি তাদেরও সরকার। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সরকারের সব সুবিধা সমানভাবে পাবেন। আমরা সবার জন্য কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের নাগরিক হলেই সে এই সব সুবিধা পাবে।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশকে স্বাধীন করেছিল এই দেশের জনগণ। বিদেশ থেকে কেউ এসে স্বাধীনতা এনে দেয়নি। একইভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে এই দেশের সাধারণ মানুষ ছাত্র, জনতা, নারী-পুরুষ সবাই মিলে রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এছাড়া এই দেশকে স্বাধীন করেছে বাংলাদেশের জনগণ। এই দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে এই বাংলাদেশের জনগণ।

তিনি আরও বলেন, এই দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি অলস হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন কখনও সম্ভব হবে না। দেশ গড়তে হলে সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে উন্নয়ন কাজ করার, শিক্ষার ব্যবস্থা করার, নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার, ঠিক একইভাবে জনগণকেও তাদের নিজস্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যখন দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল, তখন তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, এই বাংলাদেশের মাটিই তার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। কাজেই এই দেশকে যদি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ যখনই ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যায়, দেশের অর্থনীতি যখনই গতি পেতে শুরু করে, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অতীতেও ১৭৩ দিন হরতাল, ভাঙচুর ও অবরোধ দিয়ে দেশের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছিল। সেই একই মহল আজ আবার বলছে, সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এ কথা বলছে তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, নাকি নিজেদের স্বার্থে?

 

 

 

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে দেখুন, সংবাদপত্র কোনো খবর ছাপলে সেটি সরকারের পক্ষেই হোক বা বিপক্ষেই হোক সেই সংবাদপত্র কিন্তু ভয় পায় না। সে তার কথা বলে। একইভাবে যেকোনো ব্যক্তি সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে যা-ই বলতে চান, তা নির্ভয়ে বলতে পারছেন।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার অধ্যায়ের বিরুদ্ধে গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং হারানো অধিকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি, দেশের জন্য কাজ করতে পারছি। তিনি স্পষ্ট করেন, এই গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ সরকারের কল্যাণমুখী কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার হচ্ছে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সরকার। এই জন্যই আমরা বলি করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, একইসঙ্গে হচ্ছে সবার জন্য বাংলাদেশ।

 

 

 

তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য আনন্দের দিন। আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড দেব। এটা আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল। আজকেই এর বাস্তবায়ন করতে পারলাম। নারী চা শ্রমিকদের হাতে কার্ড দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। দুঃস্থ, অসহায় ও মেধাবী ছাত্রদের সহায়তা, গরিবদের চিকিৎসা সাহায্য, কৃষকদের কৃষি কার্ড দিয়েছি আমরা। প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা ও স্কুল ব্যাগ তুলে দেব।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়, ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। বর্তমান সরকার আপনাদের জন্য কাজ করছে, দেশের জন্য কাজ করছে। এই যে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিলাম এটা সব ধরনের মানুষ পেয়েছে না? আমরা সরকার জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। জনগণের অর্থ যেন সঠিকভাবে জনগণের জন্য এবং দেশের ব্যবহৃত হয়।

 

 

 

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চায়, বাংলাদেশের ৩ কোটি কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড তুলে দিতে চায়, প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা ও স্কুল ব্যাগ তুলে দিতে চায়, ইমাম ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের নূন্যতম সম্মানী ব্যবস্থা করে দিতে চায়, এই দেশের খালগুলোকে খনন এবং পুনঃখনন করতে চায়, এই দেশের মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে চায়, তার জন্য বৃক্ষরোপণ করতে চায়। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে চায়।

 

 

 

তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি, তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ট্যাক্স তুলে নিয়েছি, যেন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বিএনপি করে, যারা আমার দলের দলীয় নেতাকর্মী, যারা শহীদ জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক আমরা সব সময় একটি কথা বলি আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমাদের রাজনীতিও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। এই জনগণই আমাদেরকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছে। এই জনগণ সঙ্গে ছিল বলে গত এক যুগের আন্দোলন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সফল হয়েছে। নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ম্যানোফেস্টো দিয়েছিলাম, নির্বাচনের আগে ছিল এটা বিএনপির ম্যানোফেস্টো। নির্বাচনের ফলাফলের পরে এটি প্রমাণ করেছে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ম্যানোফেস্টো। আমাদের প্রতিশ্রুতি, এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি নয় এটা জনগণের প্রতিশ্রতি।

 

 

 

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে দেশের ২০টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি দুস্থ অসহায়দের সহযোগিতা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে অর্থ সহায়তা, পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান, চা শ্রমিকদের মাঝে বরাদ্দ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি তুলে দেন তিনি।

 

 

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছ, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বিসিবি পরিচালক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।

 

 

 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এছাড়াও অন্যান্য আসনের সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

এদিকে সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের দুসাই রির্সোটে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সভা হয়েছে। সেখান থেকে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী অসুস্থ খালেদা রাব্বানীকে দেখতে যান।

 

 

 

এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা ২১ মিনিটে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে সেখান থেকে সড়কপথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

নদীতে ভাসছিল অজ্ঞাত মহিলার লাশ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

বুধবার দুপুরে উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কৃষ্ণগোবিন্দপুর গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে ওই মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

ইউপি সদস্য মামুনুর রহমান জানান, সকালে ইছামতী নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে জনগণ পুলিশকে ফোন করে। আমিও খবর পেয়ে সেখানে যাই। মরদেহটি ধুনট ও কাজিপুর উপজেলার সীমানায় ইছামতী নদীতে ভাসছিলো। উদ্ধারের পর আমরা কেউই মরদেহ চিনতে পারিনি।

 

 

 

কাজিপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (তদন্ত) মনোজ কুমার জানান, সকালে ইছামতী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জনগণ পুলিশকে ফোন করে। খবর পেয়ে আমরা আসি। যেহেতু মরদেহ নদীতে ভাসমান সেহেতু সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশকে খবর দিলে তারা আসলে মরদেহ পানি থেকে তোলা হয়। মরদেহের পরনে কোন কাপড় ছিলো না। গায়ের চামড়া অনেকাংশে খুলে গেছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ময়না তদন্তের জন্যে মরদেহ সিরাজগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হবে।

 

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বাড়ির আঙিনায় গাঁজা চাষ, ৩ কেজির তাজা গাছ উদ্ধার

বাড়ির আঙিনায় সবজি বা ফুলের বদলে চাষ করা হচ্ছিল মাদক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি তাজা গাঁজার গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লীর একটি বাড়ি থেকে গাছটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছেন ঘরের মালিক ও গাঁজা চাষে অভিযুক্ত রবিন মাহাতো ওরফে চয়ন (৪০)। সে ওই গ্রামের রোশকা মাহাতোর ছেলে।

​পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে গোপনে গাঁজার চাষ করা হচ্ছিল-এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পাঁচবিবি থানা পুলিশ। অভিযানে বাড়ির আঙিনা থেকে মাটি খুঁড়ে তাজা ও পরিপক্ব গাঁজার গাছটি জব্দ করা হয়, যার ওজন প্রায় ৩ কেজি।

​পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান জানান, জেলা পুলিশ সুপারের কড়া নির্দেশনায় পুরো উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে এই গাছটি উদ্ধার করা হয়।

​তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত রবিন মাহাতো পলাতক থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পাঁচবিবি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

এমবাপ্পে-মেসি পেরেছেন, রোনালদো কি তা পারবেন?

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা তারকাদের তালিকায় উপরের দিকে রয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই তিন তারকার মধ্যে এমবাপ্পে আর মেসি ইতোমধ্যেই নিজেদের মিশন শুরু করে দিয়েছেন। স্ব স্ব ম্যাচে দুই তারকাই আলো ছড়িয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের দাপুটে জয়ের ম্যাচে একাই জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, আজ ভোরে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৩-০ গোলের উড়ন্ত সূচনার ম্যাচে সবকটি গোলই এসেছে এলএম টেনের পা থেকে।

 

 

 

এরপর থেকেই প্রশ্নটা ভক্ত-অনুরাগীদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাছে যে, মেসি-এমবাপ্পে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জ্বলে উঠেছেন; ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কী পারবেন? আজ রাতেই যে মাঠে নামছেন আল নাসরের এই পুর্তগিজ সুপারস্টার। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে সিআর সেভেনের পর্তুগাল।

 

 

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই এমন দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পেরেছেন, যেমনটা পেরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন পর্তুগালের এই মহাতারকা। তবে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তার আরেকটি বিশ্বকাপ অধ্যায়, যা হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপও।

 

পর্তুগালের সামনে এবার বড় সুযোগ। শক্তিশালী মাঝমাঠ, অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ এবং প্রতিভাবান আক্রমণভাগ নিয়ে দলটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে সব আলো এখনো রোনালদোর ওপরই। প্রশ্ন একটাই-তিনি কি এখনো পর্তুগালকে শিরোপার পথে টেনে নিতে পারবেন, নাকি তার উপস্থিতিই দলের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে?

 

ইউরো ২০২৪-এ রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে নিষ্প্রভ দেখা গিয়েছিল। আবার ২০২২ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ গোল করেছিল পর্তুগাল। এসব কারণে অনেকেই মনে করেন, আগের সেই রোনালদোকে আর দেখা যায় না।

 

 

তবে পর্তুগাল শিবিরে তার গুরুত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ জানিয়েছেন, এটি রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ হলেও তার প্রস্তুতি, আবেগ ও একাগ্রতা যেন প্রথম বিশ্বকাপ খেলা কোনো তরুণ ফুটবলারের মতো। মার্তিনেজ বলছিলেন, ‘সে আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। গোল করার পাশাপাশি অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি করে দিতে পারে।’

 

 

 

সতীর্থদের কাছেও রোনালদো অনুপ্রেরণার নাম। মিডফিল্ডার মাতেউস নুনেস বলেছেন, রোনালদোর সঙ্গে খেলা তার জন্য গর্বের বিষয়। অন্যদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেস জানিয়েছেন, ছোটবেলায় টেলিভিশনে যাকে দেখে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে একই দলে খেলা বিশেষ সম্মানের।

 

 

 

কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়েন দেশাব্রেও রোনালদোর প্রশংসা করেছেন, ‘ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি। বিশেষ করে সেট পিসে এখনো ভয়ংকর।’

র‌্যাবের ৪ ইউনিটের যৌথ অভিযানে গণধর্ষণ মামলার ২ আসামি গ্রেপ্তার

র‌্যাব-১২, র‌্যাব-৪, সিপিসি র‌্যাব-২ ও সিপিসি-৩ যৌথভাবে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের আলোচিত গণধর্ষণ মামলার ২ আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সোয়া ১টার দিকে ঢাকা মহানগরের শেরেবাংলানগর থানার তালতলা এলাকা থেকে দুর্জয় সরকার (২০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

এর আগে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ‘ঢাকা জেলার সাভার থানার ইম্যান্দীপুর রানাপ্লাজা এলাকা থেকে মো. রাসূল (২০) নামে অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

 

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার সহকারি পুলিশ সুপার মো. মমিনুর রহমান।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসূল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের মৃত বুদ্দু সরকারের ছেলে ও মো. দূর্জয় সরকার একই গ্রামের মৃত হামেদ সরকারের ছেলে।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণী গত ৬ জুন চাকরির জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে রওয়ানা হন। কিন্তু ট্রেনের টিকিট না থাকায় টিটিই সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডার মোড় রেলওয়ে স্টেশন তাকে নামিয়ে দেন টিটিই। এরপর তিনি কড্ডা থেকে পায়ে হেঁটে সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যান। রাত ৮টার দিকে পূণরায় কড্ডার মোড় স্টেশনে যাওয়ার জন্য সয়দাবাদ স্টেশন থেকে অটোভ্যান ভাড়া করেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে ওই অটোভ্যানে আরও তিন যাত্রী উঠে তরুণীর সঙ্গে গল্প শুরু করেন। গল্পের ফাঁকে কৌশলে মহাসড়কের ডানপাশে ইকোনোমিক জোনের গেট থেকে ভেতর দিয়ে বয়রার চরের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ভ্যানচালক ও যাত্রীসহ চারজন জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে এবং রাস্তার পূর্ব পাশে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে পরস্পরের সহায়তায় জোরপূর্বক পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে ১শ টাকা দিয়ে অন্য একটি ভ্যানগাড়ীতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪ আসামির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার উল্লেখ করেন, গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে র‌্যাব-৪ ও সিপিসি-২ এর একটি দল সাভার থানার ইম্যান্দীপুর রানাপ্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রাসূলকে গ্রেপ্তার করে। আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে র‌্যাব-২ ও সিপিসি- এর একটি দল শেরেবাংলা নগর থানার তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি দুর্জয় সরকারকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাব কমান্ডার মমিনুর রহমান।

 

 

সিরাজগঞ্জে মহাসড়কের পাশেই মিললো রক্তাক্ত মরদেহ

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মহাসড়কের পাশে আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তির (৪৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরের দিকে যমুনা সেতু-হাটিকুমরুল মহাসড়কে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ধোপাকান্দি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

নিহত আব্দুস সালাম বগুড়া জেলার সদর উপজেলার ঝোপগাড়ী ঠিকাদারপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

 

 

 

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, বুধবার সকালে ধোপাকান্দি এলাকায় মহাসড়কের একটি কালভার্টের নীচে অজ্ঞাতনামা ওই মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরুতহাল প্রস্তুত করার পর দুপুরের দিকে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

 

 

তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমের অপসারণ দাবীতে মানববন্ধন‎

নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তুলে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নুরুল হুদার অপসারণের দাবি উঠেছে।

 

 

 

বুধবার (১৭জুন) উল্লাপাড়া আরএস এলাকায় সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মূচিতে এমন দাবি করেন গ্রাহক ও স্থানীয়রা।

 

 

 

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জিএমের অপসারণ দাবী করে স্থানীয়রা।

 

 

 

‎বুধবার ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় গ্রামবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জিএম নুরুল হুদা নিজের ইচ্ছামতো অফিস পরিচালনা করছেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও তোলেন তারা।

 

 

 

‎বক্তারা আরও বলেন, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে বিভিন্ন স্থানের গাছ কেটে বিক্রির ঘটনাসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট জিএম। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

 

 

 

‎অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। তারা বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

 

 

 

‎মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বক্তব্য রাখেন, সোলায়মান, মোছা. সুফিয়া খাতুন, ইলেকট্রিশিয়ান হান্নান, মোহাম্মদ মইন উদ্দিন, রিন্টু, আমজাদ হোসেন, রুহুল আমিন, মনসুর প্রমূখ।

 

 

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুরুল হুদা বলেন, কিছু দালাল ও ইলেকট্রিশয়ান সুবিধা করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্য অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে।

 

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির ঝটিকা মিছিল

সিরাজগঞ্জে ঝটিকা মিছিল করলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

‎বুধবার (১৭ জুন) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম এলাকায় মহাসড়কে এই ঝটিকা মিছিল বের করে তারা।

 

 

 

জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে জেলা ও থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ এই মিছিলে অংশ নেন।

 

 

 

ছাত্রলীগের মিছিলের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

 

 

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বক্কার মাতুব্বর বলেন, ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলমান রয়েছে।

 

তাবলিগের আমির হত্যা: আপিলে মুক্তি পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী

সিলেটের তাবলিগ জামাতের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় আঞ্চলিক শাখার আমির ইব্রাহিম আবু খলিল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বুধবার (১৭ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তার আপিল মঞ্জুর করে রায়টি দেন।

 

 

 

আদালতে আপিলকারী মাশকুরার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।

 

 

 

এর আগে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ এবং আসামির আপিল খারিজ করে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছিলেন।

 

 

সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেন মাশকুরা।

 

 

জানা যায়, সিলেটের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় আঞ্চলিক শাখার আমির ইব্রাহিম খলিলের নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ১৮ মে গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে আটক করে পুলিশ। এরপর মাশকুরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

 

একই বছরের ২৪ আগস্ট ফাতিহার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিচার শেষে ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা একমাত্র আসামি খলিলের স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

 

 

 

এরপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।

 

কুমিল্লা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে গাঁজা সরবরাহের সময় ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কুমিল্লা থেকে এসে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী এলাকায় মাদক সরবরাহের সময়  গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১ টায় র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এসব তথ্য জানান।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভূল্লী উপজেলার ভূল্লীবাজার থেকে ফারাবাড়ি যাওয়ার পথে ডারাপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় সন্দেহভাজন একটি পিকআপ ভ্যান তল্লাশি চালিয়ে ৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার হন, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর ভল্লাক এলাকার খোরশেদ (৪৫) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামচন্দ্রগড় এলাকার সিরাজ মিয়া (৪০)।
র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পিকআপ চালানোর আড়ালে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। তারা রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।
র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতসহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৮ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য ১৬বারের মতো সময় পেল তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

 

 

বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। যদিও সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত ২৮ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান এই তথ্য জানান।

 

 

 

ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক, মুখপাত্র ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দিন গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

 

শরিফ ওসমান বিন হাদি ‎হত্যা মামলা তদন্ত করে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলার বাদী এ অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

 

দুই বছরে শরীয়তপুরে ২০ হাজার বৃক্ষরোপণের ঘোষণা চরভাগা উন্নয়ন ফোরামের

আগামী দুই বছরের মধ্যে শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০ হাজার ওষুধি, ফলজ ও ফুলের গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক সংগঠন চরভাগা উন্নয়ন ফোরাম।

 

 

 

বুধবার (১৭ জন) সকালে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের চরভাগা নতুন বাজার এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক। এ সময় ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক হাজার ওষুধি গাছ রোপণ করা হয়।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগামী দুই বছরে মোট ২০ হাজার ওষুধি, ফলজ ও ফুলের গাছ রোপণ করা হবে।

 

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও হাফিজুল হক বলেন, “তরুণদের এ উদ্যোগ দেশের মানুষের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি ভবিষ্যতেও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

 

 

 

এসময় সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসেন, চরভাগা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সংগঠনটির এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের একটি দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আয়োজকরা জানান।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে কৃষি দপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে নিরাপদ খাদ্য (ফসল) উৎপাদন বিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন)  বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরামের সভাপতিত্বে ও স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাস। এসময় উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের ভ্যাটেনারী সার্জন নূসরাত জাহান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দীন খান ও বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। তিনটি প্রদর্শনী স্টলে উত্তোম কৃষি চর্চার মাধ্যমে এ অঞ্চলে উৎপাদিত রপ্তানীযোগ্য ফলের প্রদর্শন করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে সাড়ে ৬ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ, আটক ১

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

 

 

 

জানা গেছে, টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

 

 

 

জব্দ করা ইয়াবা ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার (১৬ জুন) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

সেনবাগে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ৫ জন আটক, দুই ছাত্রী বহিষ্কার

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগে তিন বহিরাগত যুবক ও দুই ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আটক তিন বহিরাগত যুবককে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে একই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার প্রথম দিনে ইউএনও কে ফুলেল শুভেচ্ছা

ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রথম দিনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় খাইরুল ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভূল্লী উপজেলার ২ নং বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় নবগঠিত উপজেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা বলেন, দীর্ঘ প্রত্যাশার পর ভূল্লী উপজেলা হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। নতুন এই উপজেলার উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ভূল্লী উপজেলা একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি ও সামগ্রিক উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শুভেচ্ছা গ্রহণ করে ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, নবগঠিত এই উপজেলার দায়িত্ব পাওয়া একটি বড় দায়িত্ব। ভূল্লী উপজেলার উন্নয়ন, মানুষের সেবা নিশ্চিত করা এবং একটি সুন্দর, আধুনিক ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা হবে। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন কাজ করবে।
এ সময় উপস্হিত ছিলেন, বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির স্হানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজিমুল ইসলাম লাল, জেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল হক, দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, শুখানপুকুরী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন রানা মান্নান, বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রীস আলী, সহসাধারন সম্পাদক নুর ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন, বড়গাও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডাঃ আহমেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান, আউলিয়াপুর বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান, দেবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ ছাড়াও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে ভূল্লী প্রেসক্লাবের সকল সদস্য, বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

হিলিতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ: আলজেরিয়াকে ৩ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা

দেশজুড়ে চলছে ফিফা বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনা। সেই উন্মাদনার জোয়ারে ভাসছে দিনাজপুরের হাকিমপুরও। আজ সেখানে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছে আলবিসেলেস্তেরা। প্রিয় দলের এমন দুর্দান্ত জয়ে আনন্দের জোয়ার বইছে স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মাঝে।
​আজ সকাল থেকেই হাকিমপুরের বাংলাহিলি বাজার সরকারি খাদ্য গুদাম মোড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলাটি বড় পর্দায় সরাসরি দেখানোর আয়োজন করায় সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীরা। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব স্তরের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতিতে এলাকাটি মুখরিত হয়ে ওঠে। বড় পর্দায় প্রিয় তারকাদের প্রতিটি মুভমেন্ট দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত দর্শকরা।
​ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই আর্জেন্টিনা প্রথম গোলের দেখা পেলে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। এরপর আলজেরিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের রসায়নের সামনে তারা পরাস্ত হয়। ম্যাচের শেষপর্যন্ত আলজেরিয়ার জালে আরও দুইবার বল জড়িয়ে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা দল।
খেলা শেষে এক উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনা সমর্থক বলেন, আজকের খেলায় আলজেরিয়াকে ৩ গোল দিয়ে আমরা আমাদের শক্তি বুঝিয়ে দিয়েছি। দলের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে আমরা শতভাগ আশাবাদী—এবারও বিশ্বকাপ ট্রফি আর্জেন্টিনার ঘরেই যাবে।

মৌলভীবাজারে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামেলী কার্ড পাইলটিং কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করতে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে মৌলভীবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মৌলভীবাজার পৌঁছান তিনি।

 

 

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সিলেট পৌঁছান।

 

 

 

পরে সেখান থেকে তিনি মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। মৌলভীবাজার পৌঁছে তিনি সরাসরি শ্রীমঙ্গলের পথে রওয়ানা হয়েছেন। দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে ফ্যামেলী কার্ড বিতরণ কর্মসূচীতে যোগ দিবেন।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পুরো মৌলভীবাজারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢেকে ফেলা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছেন।

 

 

গত কয়েকদিন থেকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ঝেড়ে-মোছে পরিষ্কার করা হয়েছে। সার্কিট হাউস, জেলা জজ আদালত, মৌলভীবাজার পৌরসভা ভবন সহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা পরিষ্কার ও রঙ করা হয়। সড়কের ব্রীজ-কালভার্টে লাল-সাদা রঙে রাঙিয়েছেন মিস্ত্রীরা।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ বুঝে নিয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স।

 

স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, পদ হারালেন বেরোবি ছাত্রদল নেতা

নেশার টাকার জন্য স্ত্রীর উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পিকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পিকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

 

এর আগে মাইদুল ইসলাম বাপ্পির স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

 

অভিযোগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নেশার টাকার জন্য মারধর, মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি দাবি করেন, এটি তাদের পারিবারিক বিষয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

 

এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

আওয়ামী যুবলীগ নেতা নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে ঢাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুবলীগ নেতা আরাফাত কাওলিবেড়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের বাসিন্দা।

 

 

 

জানা গেছে, আরাফাতের বিরুদ্ধে থানা ভাঙচুর ও বিস্ফোরক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর প্রধান সহযোগী। ৫ আগস্টের পর তিনি পালিয়ে যান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে আরাফাতের নেতৃত্বে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যুবলীগ ঝটিকা মিছিল বের করে। তার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি গত শুক্রবার বিক্ষোভ করে।

 

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের নেতা আরাফাতের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছিল। অবশেষে ডিবির জালে ধরা পড়েছে আরাফাত। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানা ভাঙচুর, বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অফিসিয়ালি কাগজ-কলমে তাকে পাইনি। তবে ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে বিষয়টি আমি নিশ্চিত হয়েছি।