সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ভিপিএনের আড়ালে সাইবার অপরাধের বিস্তার, সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

রাত গভীর হলে শহরের গলির ভেতর কিছু দরজা খোলে যা দিনের আলোয় দেখা যায় না। ডিজিটাল দুনিয়াতেও তেমনই একটি দরজা আছে; নাম তার নাম Virtual Private Network (VPN) বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। লাখো ব্যবহারকারীর কাছে এ প্রযুক্তি আজ পরিণত হয়েছে পরিচয় আড়ালের ঢাল, অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে। আর এই অন্ধকারের দরজা দিয়ে যে বিষ ঢুকছে, তা এখন বাংলাদেশের শিশুদের শরীর ও মনকে ধ্বংস করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দরজা কি আরও বেশিক্ষণ খোলা রাখার বিলাসিতা আমাদের আছে? পরিচয় লুকানো মানেই কি সন্দেহজনক নয়?

 

 

একজন সৎ মানুষের মুখ ঢাকার কী প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি সরল হলেও এর উত্তর অনেক কিছু বলে দেয়। ভিপিএন ব্যবহারকারীদের বিপুল একটি অংশ প্রযুক্তিটি বেছে নেন নিজের অনলাইন পরিচয় ও অবস্থান লুকাতে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য পরিচয় লুকানোর এত প্রয়োজন কেন? সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ভিপিএন ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পরিচালিত হয় ভূ-অবরুদ্ধ অবৈধ কনটেন্টে প্রবেশ, পর্নোগ্রাফি; বিশেষত শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং সাইবার অপরাধের উদ্দেশ্যে।

 

 

বাংলাদেশে যখন কোনো ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বন্ধ করে দেয়, তখন কিছু ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে ভিপিএনের দ্বারস্থ হন। এই প্রবণতা কী ইঙ্গিত দেয়? রাষ্ট্রের আইনি সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশের এই তাড়া কার্যত আইন অমান্যের একটি সংগঠিত সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। যে রাষ্ট্র নাগরিকের ভালোর জন্য একটি দরজা বন্ধ করে, ভিপিএন সেই দরজার দেয়াল ভেঙে দেয়।

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি মহামারির রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান বারবার দেখিয়েছে যে প্রতি বছর শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষত ভিপিএন সুরক্ষিত পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট একটি গুরুতর নিয়ামক হিসেবে উঠে আসছে।

সম্পর্কটি বোঝার জন্য একটি সরল প্রশ্ন করা যাক: একজন কিশোর বা তরুণ যখন বছরের পর বছর ধরে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা চরমপন্থি পর্নোগ্রাফি দেখে, তার মানসিকতায় কী পরিবর্তন আসে? মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এই ধরনের কনটেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে (রিওয়ার্ড সিস্টেম) পুনর্গঠিত করে, শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ধর্ষণকে ক্ষমতার প্রকাশ হিসেবে মহিমান্বিত করে। এটি কোনো অনুমান নয়, এটি পুনঃ পুনঃ প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

 

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব দেশে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ-প্রতিক্রিয়ার এই শৃঙ্খলটি উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যে মুহূর্তে শিশু ধর্ষণের ঘটনা মহামারির রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশে ভিপিএন ডাউনলোড অস্বাভাবিক সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় যা ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি কনটেন্টে প্রবেশের ঘটনাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দুটো তথ্য একসাথে রাখলে যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় তা হলো: আমরা কি এই সম্পর্ককে আর অস্বীকার করতে পারি?

 

 

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো অনলাইন গ্রুমিং বা শিশু প্রলোভন প্রক্রিয়া। ভিপিএন ব্যবহার করে পরিচয় আড়াল করা প্রাপ্তবয়স্করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে, ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করে এবং তারপর তাদের যৌন নিপীড়নের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভিপিএন অপরাধীকে দ্বিগুণ সুবিধা দেয়। প্রথমত, তার আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখে; দ্বিতীয়ত, তদন্তকারীদের পক্ষে তাকে ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। ফলে ধর্ষক ধরা পড়ে না, শিশুটি ন্যায়বিচার পায় না এবং অপরাধী একই কাজ বারবার করতে সাহস পায়।

 

 

বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যে প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে জরুরি তা হলো: ধরা পড়া শিশু নির্যাতনকারীদের কতজনের ডিভাইসে ভিপিএন পাওয়া গেছে এবং তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখতেন? এই তথ্যটি পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ করা শুরু হলে এ প্রযুক্তি ও শিশু ধর্ষণের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নীতিনির্ধারকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

শিশু শোষণের ডিজিটাল সুড়ঙ্গ

ইউনিসেফ এবং ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা সিএসএএম বিতরণের ক্ষেত্রে ভিপিএন একটি প্রধান হাতিয়ার। অপরাধীরা তাদের অবস্থান ও পরিচয় আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদান করে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেপ্তার হওয়া শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের একটি বড় অংশের ডিভাইসে ভিপিএন সফটওয়্যার পাওয়া গেছে।

 

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিপদটি আরও গভীর। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ইন্টারনেটের দাম কমছে, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার অবকাঠামো সেই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে না। ফলে ভিপিএনের আড়ালে পরিচালিত শিশু শোষণের ঘটনাগুলো তদন্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের এখনও অপ্রতুল। অপরাধী জানে সে ধরা পড়বে না; এই দায়মুক্তির নিশ্চয়তাই তাকে বারবার অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।

 

 

সামাজিক অবক্ষয়ের নীরব জোয়ার

ভিপিএনের সাহায্যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে প্রবেশ এখন অত্যন্ত সহজ। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ব্যবহারকারীরা নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এবং সামাজিক সম্পর্কের জন্য ধ্বংসাত্মক কনটেন্টে ডুবে যাচ্ছে।

 

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই কনটেন্টের সংস্পর্শ তাদের যৌন মনোভাব, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব সম্পর্কের ধারণাকে মারাত্মকভাবে বিকৃত করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিশোর যখন বাস্তব জীবনে তার কল্পনার প্রতিফলন খোঁজে, তখন সে প্রতিরোধের মুখে পড়লে সহিংস হয়ে ওঠে। এই মনস্তাত্ত্বিক পথটিই বহু ক্ষেত্রে ধর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। তাই ভিপিএনসুলভ পর্নোগ্রাফি এবং শিশু ধর্ষণের মহামারির মধ্যে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো টানা আছে যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এখনই উপলব্ধি করতে হবে।

 

 

সাইবার অপরাধের নিরাপদ বর্ম

ডিজিটাল প্রতারণা, পরিচয় চুরি, র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ, হ্যাকিং; এই অপরাধগুলোর তদন্তে বিশ্বের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে বাধার মুখে পড়ে তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভিপিএন। অপরাধী যখন একটি দেশের ভিপিএন সার্ভারের আড়াল থেকে অন্য দেশে হামলা চালায়, তখন তদন্তকারীরা আসল অপরাধীর কাছে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ ভিপিএন সার্ভার লগ রাখে না বা রাখলেও তা ভিন্ন দেশের এখতিয়ারে।

 

 

বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ই-কমার্স প্রতারণা; এসব অপরাধের একটি বড় অংশে ভিপিএন ব্যবহার করে অপরাধীরা পরিচয় আড়াল করে। ভুক্তভোগীরা বিচার পান না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি সমাজে অপরাধের প্রবণতাকে উৎসাহিত করে।

 

 

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদ যখন কোনো কনটেন্ট নিষিদ্ধ করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে সামাজিক ঐকমত্য ও আইনি কর্তৃত্ব। ভিপিএন সেই কর্তৃত্বকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়। এটি কেবল আইন অমান্য নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রযুক্তিগত বিদ্রোহ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে যার প্রযুক্তিগত সামর্থ্য আছে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে?

 

 

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ, যেমন- চীন, রাশিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিপিএন ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো স্বৈরাচারী প্রবৃত্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র আসলে কতটুকু সার্বভৌম? বিশেষত যখন সেই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক শিশুদের ক্ষতি করছে, তখন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আর রাজনৈতিক থাকে না, এটি হয়ে ওঠে নৈতিক দায়িত্ব।

 

 

যাচাইয়ের অধিকার : রাষ্ট্রের ন্যায্য দাবি

বিপুলসংখ্যক ভিপিএন ব্যবহারকারী আসলে কী উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন? প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, রাস্তায় যানবাহন চেকিং হয়, ব্যাংকে লেনদেন যাচাই হয়; এগুলো কি ব্যক্তির অধিকারের লঙ্ঘন? না, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একটি ন্যূনতম স্বচ্ছতা প্রয়োজন। ডিজিটাল জগতে সেই স্বচ্ছতার দাবি করা কি অন্যায্য? বিশেষত যখন সেই অস্বচ্ছতার আড়ালে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটছে?

 

 

ভিপিএন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা যায় ব্যবহারকারীর লগ সংরক্ষণ করতে এবং আইনি আদেশের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের কাছে তা সরবরাহ করতে। এটি গণনজরদারি নয়, এটি প্রচলিত টেলিযোগাযোগ আইনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ মাত্র। ফোন কোম্পানিগুলো যেমন আদালতের আদেশে কল রেকর্ড দেয়, ভিপিএন প্রতিষ্ঠানগুলোও তেমনি লগ সরবরাহ করতে বাধ্য হওয়া উচিত। একজন শিশু ধর্ষককে শনাক্ত করতে পারলে যদি কোনো ব্যক্তির ভিপিএন লগ দেখতে হয়, সেই মূল্য পরিশোধ করতে সভ্য সমাজের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

সিদ্ধান্তের সময় : শিশুর জীবন না প্রযুক্তির স্বাধীনতা?

প্রযুক্তি নিরপেক্ষ, কিন্তু তার ব্যবহার নিরপেক্ষ নয়। ভিপিএন একটি হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার কারও হাতে সাংবাদিকতার ঢাল, কারও হাতে শিশু শোষণের অস্ত্র; দুটোই সত্য। কিন্তু যখন সেই অস্ত্রের আঘাতে একটি শিশুর শৈশব চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যখন একজন ধর্ষক ভিপিএনের আড়ালে নিশ্চিন্তে পরবর্তী শিকার খুঁজছে, তখন ‘প্রযুক্তির স্বাধীনতা’ কথাটি ব্যবহার করতে বিবেক বাধা দেওয়া উচিত।

 

 

বাংলাদেশে আজ শিশু ধর্ষণ মহামারির যে রূপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়তে হলে কেবল আইনি সংস্কার বা সামাজিক সচেতনতা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল পরিবেশকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভিপিএনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশ রুদ্ধ করা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়া এবং ভিপিএন সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা; এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার সময় এখনই।

 

 

অন্ধকারের দরজা খোলা রাখা কখনও সভ্যতার লক্ষণ নয়। বিশেষত যখন সেই দরজা দিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢুকছে। একটি জাতির সভ্যতার পরিমাপ হয় তার সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদের সে কতটুকু রক্ষা করতে পারছে তার মানদণ্ডে। আমাদের শিশুরা রক্ষা পাচ্ছে না- এই ব্যর্থতার একটি বড় অংশের দায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণহীনতার, ভিপিএনের অপব্যবহারের এবং আমাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তার।

 

 

ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের ফলাফল জানাল সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ব্রাজিল। আগামীকাল শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের খুবই বিরল। ১৯৭৮ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকেনি তারা।

 

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে ব্রাজিলের অনেক পেছনে হাইতি। র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ৬ নম্বরে, আর হাইতি ৮৪ নম্বরে— দুই দলের মধ্যে পার্থক্য ৭৮ ধাপ। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ব্রাজিলকেই স্পষ্ট ফেবারিট ধরা হচ্ছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারও সেলেসাওদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৮৭.৩ শতাংশ। বিপরীতে হাইতির জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৪.৩ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ৮.৪ শতাংশ।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও ব্রাজিলের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনো বেশ উজ্জ্বল। অপটার হিসাব বলছে, গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থান অর্জনের সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৫২ শতাংশ। শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ৯০.৩ শতাংশ। এমনকি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও ৫.৪ শতাংশ ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় হাইতির সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ৫.৮ শতাংশ। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেমে এসেছে ০.৪ শতাংশে।

পরিসংখ্যানের হিসাবেও ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট ব্রাজিল। দুই দলের অতীত রেকর্ড একেবারেই একপেশে। এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচগুলোতে ১৭ গোল করেছে সেলেসাওরা, বিপরীতে হাইতির গোল মাত্র একটি। সর্বশেষ ২০১৬ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল হাইতিকে।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি উন্মোচন, আটক ৪৯

খাদ্য অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক’ পদের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর ঢাকা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ডিভাইসসহ ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাদের মধ্যে ৪ জন পালিয়ে যায়। পরে ২১ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আরও ২৮ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে।

সেলিমুল আজম বলেন, আমরা সবাইকে যে ধরতে পেরেছি, তা বলছি না। তবে বিগত পরীক্ষাগুলোর তুলনায় আজকের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে নারী-পুরুষসহ মোট ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাটারি এবং ছোট আকারের ব্লুটুথ টাইপের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে নকআউটের টিকিট সবার আগে মেক্সিকোর

সবার আগে গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে মেক্সিকো। স্বাগতিকদের সমর্থনে গর্জে ওঠা গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা। গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কেটে নেয় মেক্সিকানরা।

 

 

পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও পার্থক্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের একটি ভুল। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং-গিউয়ের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লুইস রোমো। জুলিয়ান কিনোনেসের ক্রস থেকে রাউল হিমেনেজের হেডার আকাশে উঠে গেলে বলটি ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন কিম। তার হাত ফসকে সামনে পড়ে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন রোমো।

 

 

গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে না পারলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল বাড়িয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেক্সিকান রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রেঞ্জেল তাদের হতাশ করেন।

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে। একটি ক্রস থেকে চো গে-সুংয়ের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রেঞ্জেল।

ফিরতি বলেও চোকে গোল করতে দেননি তিনি। যোগ করা সময়েও কর্নার থেকে সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়ানরা, কিন্তু হান-বিওম লির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ আশা নিভে যায় তাদের। প্রথমার্ধে দুই দলই খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। মেক্সিকো শুরুতে চাপ সৃষ্টি করলেও দক্ষিণ কোরিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি কমিয়ে আনে। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যে ছিল।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করা প্রথম দল হয়ে গেল মেক্সিকো। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে চেকিয়াকে হারানো দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।

 

 

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে চেকিয়ার, আর দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই সন হিউং-মিনদের।

শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছে না, সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও ২ প্রাণহানি

 

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

 

গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিওতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৬১ জন ভর্তি রয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার ৭ মাস বয়সী ছেলে সারহান ও সিলেটের ওসমানীনগরের উজ্জল মিয়ার ৫ মাস বয়সের ছেলে আহিয়ান।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৬ জন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৮ জন এবং সিলেটে ১০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬১ জন সন্দেহজনক রোগী।

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা যায়, সিলেটে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২৭ জন ও নিশ্চিত হামে ২ জনসহ মোট ২৯ জন, হবিগঞ্জে ৬ জন, মৌলভীবাজারে ১০ জন (সন্দেহজনক ৯ ও নিশ্চিত ১) এবং সুনামগঞ্জে ৩১ জন (সন্দেহজনক ৩০ ও নিশ্চিত ১) মারা গেছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৭২ জন এবং নিশ্চিত হামে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করল আফগানিস্তান, প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় পাকিস্তান

আফগানিস্তান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে তারা একাধিক হামলা চালিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কথিত আইএসআইএসের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই স্থানগুলো শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের সহায়তায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার ক্ষেত্রেও এসব ঘাঁটি অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে আফগানিস্তানের এই দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গি তৎপরতা এবং একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি আর সহ্য করবে না।

মাধ্যমিকের শুরুতেই বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

 

শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা।

তিনি আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন পাস হওয়ায় এখন থেকে ডিজিটাল নকলের সাজা দেওয়া হবে। সবাইকে উচ্চ শিক্ষা দিয়ে বেকারত্বের কারখানা তৈরি করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ইস্যুতে নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক পুলিশ প্রশাসন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দলটির সম্ভাব্য কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা এড়াতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিলসহ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে।

 

 

এ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।

এর ফলে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে।

 

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

 

 

এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ ও কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহাখালীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এ সময় তিনজনকে আটকও করা হয়েছে। এছাড়া, গণভবনের সামনে যুবলীগও মিছিল করে।

 

 

পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

 

 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের জানাজায় বিভিন্ন মহলের অংশগ্রহণ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম কারি মো. আবু রায়হান।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই জানাজা সম্পন্ন হয়।

 

 

জানাজার শুরুতেই মরহুম হারুন অর রশিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং পরিবারের পক্ষে মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) জানাজায় উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, হারুন অর রশিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অমায়িক, সজ্জন, সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন অর রশিদ দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থা ভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

 

 

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন অর রশিদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে হারুন আর রশিদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

 

জানাজা শেষে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্য হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া ও কর্মকর্তারা।

 

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, হারুন অর রশিদ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

জানাজা অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভাড়া বাসায় আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ, তদন্ত শুরু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলার ১১টার দিকে জীবননগর শহরের বসুতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জীবননগর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

 

 

নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হলেও পরে তা মিটে যেত। তিনি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন সকালে স্বামীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

তিনি আরও জানান, সকালে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাজারে যান। ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে মাহমুদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

 

 

নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে হঠাৎ ফোন কেটে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।

 

 

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরায়েলি সেনা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে তীব্র লড়াই চলছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। তিনি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় নিহত হন।

 

 

একই ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত ওই তিন সেনার নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি উল্লেখ থাকলেও তা মানছে না ইসরায়েলি বাহিনী।

সীমান্তে নতুন করে পুশ-ইনের অভিযোগ, উত্তেজনা মেহেরপুরে

মেহেরপুরে সীমান্ত দিয়ে আবারও চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে নোম্যান্স ল্যান্ড ও ভারতীয় জমির মধ্যবর্তী স্থানে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে এক নারী ও তিন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে চাষাবাদ করা স্থানীয় কৃষকরা। পরে বিষয়টি তারা বিজিবিকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা করা ওই ব্যক্তিদের আর খুঁজে পায়নি বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। তাদের বিএসএফ ফেরত নিয়ে গেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে ভারতীয় জমি, নোম্যান্স ল্যান্ড এবং বাংলাদেশের জমিতে পাটের আবাদ থাকায় ওই এলাকায় কেউ লুকিয়ে থাকলে তাদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।

এদিকে স্থানীয়রা আরও জানান, ভোরে সীমান্ত এলাকায় চারজনকে অবস্থান করতে দেখার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

 

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনকে বিএসএফ শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সাতজন শূন্যরেখায় অবস্থান করার সময় পার্শ্ববর্তী ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৫-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে আরও ছয়জনকে পুশ-ইন করা হয় বলে জানা যায়। পুশ-ইন হওয়া ১৩ জনের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।

তিস্তা ব্যারাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণে তিন মন্ত্রীর সফর

তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদী তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাট সফরে যাচ্ছেন সরকারের তিন মন্ত্রী।

 

 

সফরসূচি অনুযায়ী, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু দুপুরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করবেন।

 

 

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিস্তা পাড়ের ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখবেন তারা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলোও সরাসরি শুনবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথকে আরও বেগবান করবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

 

 

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, ‘মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিস্ফোরক মামলায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের পদচ্যুত চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোররাতে তাড়াশ পৌর শহরের নিজবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল শেখ তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

 

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদারের নির্বাচনী জনসভায় হামলার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বারুহাস ইউনিয়নের বিনোদপুর বাজারে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিতে যান বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদার। এ সময় তার ওপরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মান্নান তালুকদারের গাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণও ঘটায়। ওই সময় পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে মান্নান তালুকদারের জীবন রক্ষা করেন। এ হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন।

 

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বারুহাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল আজিজসহ ৯৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বাবুল শেখ।

 

‘ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের আবেগ ও দুর্বলতা’

 

আমাদের দেশে রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে যে আবেগ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়, তদ্রুপ বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ঘিরেও একই ধরণের আবেগ ও উন্মাদনা লক্ষ্যনীয়।

 

আয়োজক যে দেশই হোক না কেন বাংলাদেশে এই দুই দলের সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ ও নানা আয়োজন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো দেশের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরে আবাহনী-মোহামেডান মানেই ছিল অনিন্দম আকর্ষণ। পাড়ায় মহল্লায় ছাদে বা গাছে শোভা পেত ক্লাব পতাকা সেগুলোর মধ্যে দেশীয় ফুটবলের ছাপ ছিল।

 

নব্বই দশকে এই দেশে টিভি দেখার সীমাবদ্ধতা ছিল,  হাতে গোনা দুই এক বাসায় টিভি ছিল, বৈঠকখানা বা উঠানে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য। বিনোদনের সীমাবদ্ধতা ছিল তথাপি বিশ্বকাপ মানুষ উপভোগ করেছে। এখন ঘরে ঘরে টিভি, সকলের দোরগোড়ায় বিনোদন, কিন্তু ভক্তদের দলীয় আবেগী প্রদর্শন ও নিন্দনীয় ব্যবহারিক দিক বেশি পরিলক্ষিত হয়। এখন ফুটবল খেলা যতটা না উপভোগ্য তার চেয়ে বেশি হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি অন্যকে ঘায়েল করা বেশ পরিলক্ষিত হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ নিজ সমর্থিত দলের হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেওয়া কমেন্টস করা নিত্য নৈমত্তিক ব্যপার। আর পাড়ায় মহল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারামারি, মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি-সেটাই এখানে আলোচ্য বিষয়।

যে সকল দেশ নান্দনিক ফুটবল খেলে আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে,  বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল আর্জেন্টিনা, চিলি উরুগুয়ে, আফ্রিকার মরোক্ক, ঘানা, নাইজেরিয়া, ইজিপ্ট এবং ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, পর্তুগাল। এশিয়ার জাপান, কোরিয়া, সৌদি আরব সবাই নান্দনিক ফুটবল খেলে।  তাই সবার খেলাই আমাকে আনন্দ দেয়।

 

কোনো কোনো দেশ শিরোপা না জিতলেও বিশ্বব্যাপী ফুটবল অনুরক্ত ভক্ত রেখে গেছে যেমন: পোল্যান্ড পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, মেক্সিকো। আমাদের দেশে ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে উন্মাদনা এতটাই বেশি যে তারা রাজনৈতিক কর্মীদের মতো আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও লোক দেখানো প্রতিযোগিতা করে থাকেন।  দেশব্যাপী বিদেশী পতাকার অযাচিত ব্যবহার বাড়িঘর রং দিয়ে দৃষ্টি আকৰ্ষণ, পাড়ায় মহল্লায় পরিবেশের যে বিপর্যয় সেটা বড্ডো বাড়াবাড়ি বলে আমার কাছে মনে হয়।

 

নিজ পছন্দের দলকে ঈশ্বর বানিয়ে বাকি দলগুলোকে হেয় করা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা তিরস্কার করা থেকে বিরত হন। আপনারা কে কতবড় জ্ঞানী সেটা জাহির করতে অন্যকে বিদ্রুপ করা, ছোট করা, আঘাত করা থেকে বিরত হন। খেলায় দলীয় পছন্দের ভিন্নতা থাকতে পারে তাই বলে বন্ধুত্ব নষ্ট করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা, বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে দূরত্ব তৈরী করা খুবই অস্বাভাবিক। খেলা শেষে সবাই যে যার জায়গায় ফিরবেন, আবারও সবার সাথে দেখা হবে কিন্তু সম্পর্কটা স্বাভাবিক হবে তো ?

বিশ্ব ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ নম্বর। যে দেশ দক্ষিণ এশিয়া জয় করতে পারে না, এশিয়ান কোয়ালিফাই করতে পারা দিবাস্বপ্ন সেখানে বিশ্বকাপ আমাদের কাছে টেলিস্কোপে মহাকাশ দেখার সামিল। ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ অথচ ওয়ার্ল্ডকাপে অংশ নেয়া অন্য দেশগুলোকে আমরা কতটাই না তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি। আমাদের চেয়ে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন দেশকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা আপনাদের জন্য কতটা মানানসই বোধগম্য না।

 

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তিত্বের লড়াই, জ্ঞানের লড়াই তা নিতান্তই ছেলেমানুষি। যাদের নিয়ে আপনাদের এতো আবেগ সে দেশের ৯০% মানুষ হয়তো বাংলাদেশকে চেনেই না। যেমন প্রতিবেশী চীনের মতো দেশের অধিকাংশ মানুষ বাংলাদেশকে চেনে না। তেমনি যারা আপনাকে চেনেনা যাদের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের ফুটবলকে সমর্থন করতে গিয়ে আপনি আপনার পরিবার , আত্মীয় , মহল্লা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে বিতর্কিত করছেন। নিজের আত্মঅহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হাতাহাতি, মারামারি, খুন পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা কে শ্রেষ্ট সেইটা নিয়ে ঘরে ঘরে মহল্লায় মহল্লায় যুদ্ধ হয় ।

আপনারা পারেনও বটে সবকিছুর মধ্যে একজনকেই শ্রেষ্ট বানাতে। সেটা ফুটবল হোক, সিনেমার নায়ক নতুবা অন্য কোনো পেশা। পূর্বে আমাদের দেশে নায়কের অভাব ছিলোনা কিন্তু দেশে নায়ক মানেই বলা হয় নায়ক রাজ রাজ্জাক। কেননা তার নামের পূর্বে রাজ্ শব্দছিল তাই তিনি নায়কদের রাজা বাকিরা প্রজা। এই নায়ক রাজ রাজ্জাক সাহেবের নামের কারণে অভিনেতা ফারুক, উজ্জ্বল, সোহেল রানা, জাভেদ, মিডিয়াতে কখনোই নায়ক হতে পারে নাই। এখনো অনেক ভালো নায়ক আছে কিন্তু সাকিব খানই একমাত্র নায়ক, বলিউডে সালমান খান না শাহরুখ খান কে শ্রেষ্ঠ সেটা নিয়েও আমাদের দেশ ঘরে ঘরে বিতর্ক হয়। এক কেন্দ্রিক এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এক প্রকার গরিব মানুষিকতা ও রুচির দুর্ভিক্ষের শামিল। ফুটবলে আমাদের আবেগ নিয়ে আদর্শিক পরিবর্তন জরুরি কেননা যে সকল দেশ বিশ্বকাপ খেলছে তাদের মধ্যে আমাদের মতো এতো উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় না।

 

ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ওয়ার্ল্ডকাপ খেললেও সে দেশের রাস্তায় সেই উত্তেজনা দেখা যায় না। যদিও তারা ঐতিহ্যগতভাবে ফুটবল জাতি তথাপি তাদের মধ্যে আমাদের মতো সেই আদিখ্যাত নেই যেমনটা আমরা ফুটবল নিয়ে করি।

কেউ সাপোর্ট করে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা কেউ ফ্রান্স জার্মানি সেটা তাদের ব্যক্তি পছন্দ। দয়াকরে তাদের সেই পছন্দকে সন্মান দিতে শিখুন। মহল্লায় আপনার দলীয় সমর্থক থাকতে পারে তাই বলে আন্যান্য ছোট গ্রুপকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন সেটা আপনার পারিবারিক জ্ঞান ও শিষ্টাচারের দুর্বলতা। প্রতি চার বৎসর পর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এর মাধ্যমে আমরা আয়োজক দেশের শক্তি সামর্থ, অবকাঠামো, কৃষ্টি কালচার জানতে পারি। এখান থেকেও অন্য দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার আছে।

 

ফুটবল এক বিশ্ব বিনোদন- সেই বিনোদনকে নিজেদের নোংরা মানুষিকতা ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে দূরে রাখি -রাজনৈতিক দলীয় আবেগ দিয়ে বিশ্ব বিনোদনকে না দেখি।  আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দিলেই আপনি আর্জেন্টাইন বা ব্রাজিলিয়ান হয়ে যাচ্ছেন না। পারলে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, তারিক কাজির জার্সি গায়ে জড়িয়ে অন্য দেশের খেলা দেখুন এতে দেশের প্রতি আপনার সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা পাবে,খেলাধুলার আবেগ প্রতিষ্ঠা পাবে। আর এভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণের উৎসব।এখান থেকে আমরা মাদকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করি।

লেখক: লায়ন মাহফুজ রহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষকও সমাজকর্মী,
প্রবাসী পেশাজীবী সম্পাদক, কেন্দ্রীয় পেশাজীবী অধিকার পরিষদ (BPRC)
কনসালটেন্ট এজেন্ট ব্রিটিশ কাউন্সিল

স্থগিত হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

 

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠক স্থগিত হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।

 

এই বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

 

তবে আলোচনার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় সফর ও বৈঠক-দুটিই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরে নতুন তথ্য জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন।

 

সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে।

 

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করবে পাকিস্তান!

 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

 

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আরব সাগরের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের নৌবহরে এ শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

 

চীন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে পাকিস্তানের ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইসলামাবাদ এখন কেবল উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত উপস্থিতির মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের মুখোমুখি হতে আগ্রহী।

 

গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি। ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্য রাতারাতি বদলে দেওয়ার মতো না হলেও, এটি ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ কর্তৃক ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দেওয়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সতর্ক করছে যে, এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

 

মাদরাসায় রাখা ‘মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবারটি কার, খতিয়ে দেখছে র‌্যাব

ঢাকার আশুলিয়ায় থানার একটি মাদরাসায় নির্মাণাধীন ওয়াশরুমের ভেতরে পাওয়া গেল মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি।

 

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে আশুলিয়া থানার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।

 

তবে এই অস্ত্র কিভাবে এসেছে কে নিয়ে এসেছে এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টাতেও কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

 

র‌্যাব জানায়, ওই মাদরাসায় মাদক মজুদ রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। পরে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ওয়েটিং রুমের পাশের একটি নির্মাণাধীন ওয়াশরুমে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে ওয়াশরুমের টয়লেটের মেঝেতে কয়েকটি ইটের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি ছেঁড়া শপিং ব্যাগের সন্ধান মেলে। সেই ব্যাগের ভেতর সবুজ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড ২২ বোরের গুলি পাওয়া যায়।

 

র‍্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, উদ্ধারকৃত আট চেম্বারবিশিষ্ট সিলিন্ডারের রিভলবারটির ব্যারেল, ট্রিগার ও হ্যামারসহ সবকিছু অক্ষত রয়েছে। অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’লেখা খোদাই করা রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া গুলির পেছনেও ইংরেজি অক্ষর ‘টি’ খোদাই করা ছিল।

 

তিনিবলেন, এই অস্ত্রের মূল উৎস কী এবং কারা এটি মাদরাসায় এনে লুকিয়ে রেখেছিল, তা উদ্‌ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ: ৫,৫০০ কোটির প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ১২,৫০০ কোটি

স্থবির হয়ে পড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্প গতি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

 

 

 

আট বছরের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও প্রকল্পের পরিধি সম্প্রসারণের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

 

 

 

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে নতুন এই ৭৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ হলে এ পথে দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার। এতে যাত্রার সময় বাঁচবে প্রায় তিন ঘণ্টা। প্রকল্প সূত্র বলেছে, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জমি বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে।

 

 

 

নতুন এই ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এই প্রকল্পে ভারতীয় ঋণে অর্থায়ন করার কথা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের মার্চে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পে ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

 

 

 

বর্তমানে প্রকল্পটির অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। আগে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি ১৪ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রকল্প দপ্তর। মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সংশোধিত ডিপিপি এক মাসের মধ্যে একনেক সভায় উঠবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর দাম, ডলারের বিনিময় হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। জমির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ব্যয় বাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। সর্বশেষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে ইঞ্জিনিয়ারিং চাহিদার পরিবর্তন, রেল ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কাজের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রকল্পের রুট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা জানান।

 

 

 

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থসহ সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যে প্রস্তাব প্রকল্প ও জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

 

মূল ডিপিপিতে ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়নের পর প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০১ দশমিক ৭৭ একর। এরপর বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলনে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু এ খাতেই ব্যয় বেড়েছে ৩২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

 

 

 

প্রকল্প সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে দুই জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার:
সংশোধিত ডিপিপি সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

 

 

 

বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

 

 

 

প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

 

 

 

এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।

 

 

 

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু জাফর মিঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংশোধিত ডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করতে আরও প্রায় ৯ মাস লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের চুক্তিপত্র করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে যখন ডিপিপি করা হয়েছিল, তখনকার দামের ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্মাণসামগ্রীসহ প্রায় সবকিছুর দাম, বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহের কারণে প্রকল্পটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা প্রকল্পটিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রেললাইনটি অনেক আগেই নির্মাণ হওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে জমি অধিগ্রহণ, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। তবে শুরু থেকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

 

মার্কিন-ইরান সমঝোতার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

 

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল হামলা চালাল।

 

 

 

শুক্রবার সকালে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র ইসরায়েলি অভিযান। এ সময় একাধিক আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

 

 

 

নাবাতিয়েহ শহর ছাড়াও কফার জৌজ, কফার রেমান এবং জেবদিনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করে। পরে কফার তিবনিত ও রাইহান পাহাড়ি এলাকাতেও ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।

 

 

হামলায় নাবাতিয়েহ ও হারুফ এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হন। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দৌইরের মধ্যবর্তী একটি বাড়িতে হামলায় চারজন প্রাণ হারান। কফার সির শহরে একটি পৃথক হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

 

এদিকে দৌইর পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

 

 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

 

পটুয়াখালীর বাউফলের পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে। এ মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন রয়েছে।

 

 

 

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে সাতজন। একই কক্ষে ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করতে দেখা যায়। আবার কয়েকজন শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে গল্প করতেও দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতাও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, অন্য একটি এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ ছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

 

 

মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

 

আগস্টে সারা দেশে শোডাউনের পরিকল্পনা আ.লীগের, ২৪টি কমিটি গঠন

 

আসন্ন আগস্ট মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তা করছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী। এজন্য নানা কৌশলে তারা সংঘটিত ও সক্রিয় হচ্ছে।

 

 

 

নিষিদ্ধ থাকার পরও এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি দিয়েছে ছাত্রলীগ। সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ প্রায় দুই ডজন কমিটি গঠন করেছে তারা।

 

 

 

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা যায়। নির্বাচনের পরপরই আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির কিছু নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশ থেকেও কিছু নেতা দেশে ফিরেছেন। তবে এসব নেতা এলাকায় চুপচাপ অবস্থান করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার সামনে আরও বাড়তে পারে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বর্তমানে সরকারের কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছে না।

 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান টার্গেট ছিল ড. ইউনূস। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর ড. ইউনূস প্রথম ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে ডিস্টার্ব করলে ভারতের সেভেন সিস্টার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ড. ইউনূস।

 

 

এ ছাড়া বাংলাদেশে সংস্কার আনা, মার্কিন চুক্তি ও দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকুক- এটা ভারত চায় না। এসব কারণে ড. ইউনূস ভারতের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। আর ভারতের টার্গেট মানেই আওয়ামী লীগের টার্গেট। মূলত এদেশে ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় ড. ইউনূসকে নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে আবার একজোট হওয়া উচিত।

 

 

 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম কালবেলাকে বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করলে ব্যক্তির চেয়ে দেশের সুনাম বেশি নষ্ট করা হবে। আমার নেতিবাচক কোনো সমালোচনাকে সমর্থন করি না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকবে, তবে যুক্তিতর্ক দিয়ে সমালোচনা করতে হবে। গায়ের জোরে লাগামহীন সমালোচনা করা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়।

 

 

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন কালবেলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক কৌশলে ফেরার চেষ্টা করবে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করবে; দেশে ঢোকার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে যাই করতে হবে, আইনি কাঠামোর মাধ্যমে। কোনো হঠকারিতা দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না।

 

সংসদে প্রবেশে মাথা নত করার প্রথা বাতিলে স্পিকারকে অভিনন্দন মুহিউদ্দীনের

 

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের জন্য স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলার সামনে সিজদা ও অবনত হওয়াই একজন মুসলমানের ঈমানি চেতনার দাবি। তাই জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বকীয়তা ও আত্মপরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবে। দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রথার অবসান ঘটিয়ে স্পিকার দূরদর্শিতা, সাহসিকতা ও জনগণের আবেগ-অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিচয় দিয়েছেন।’

মাওলানা রাব্বানী আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও জনগণের বিশ্বাস-পরিপন্থী প্রথা পর্যালোচনা করে দেশীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনাসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

তিনি স্পিকারের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা যেন ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে কামনা করেন।

 

 

নীলফামারীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ অনলাইন জুয়ারি গ্রেপ্তার

নীলফামারীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো ও বেটিং অ্যাপের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন রাতে পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতলুবর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোরসালিন ইসলাম (২৫), রাসেল ইসলাম (২১), মারুফ ইসলাম (২৩), রুবেল ইসলাম (২০) ও লাজু হোসাইন ওরফে বাবু (৩৩)। তাদের মধ্যে দুজন নীলফামারী সদর উপজেলার এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ঘটনাস্থলেই পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং অ্যাপ্লিকেশন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোভিত্তিক বেটিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করল জামায়াত

 

নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) নেত্রকোনা আদালতে উপজেলার হোগলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি এমদাদুল হক আকন্দ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ডাক (নিলাম) চলাকালে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে একই দিন বিকেলে আগিয়া বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, হামলার সময় কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বধলা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটির বিষয়ে এখনো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথিপত্র পাইনি। আদালতের নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থানায় পৌঁছলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, গত ২০ মে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৫ মে পূর্বধলা থানায় জামায়াতের নায়েবে আমির ও এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ।

 

বিশ্বকাপের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান কোথায়?

 

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলই অন্তত একটি করে ম্যাচ খেলেছে। প্রথম রাউন্ড শেষে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং রানার্সআপ ফ্রান্স দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। একই সঙ্গে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড।

 

 

 

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্পেন, নেদারল্যান্ড ও পর্তুগাল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। জয়হীন শুরু করেছে ব্রাজিলও।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ড শেষে ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল তাদের বিশ্বকাপ পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। সেখানে শীর্ষস্থান দখল করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে তারা বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে।

 

 

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের অসাধারণ নৈপুণ্যে দলটি সহজ জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে।

গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি ছিল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই। হেরিকেনের জোড়া গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া ইংল্যান্ড পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

 

 

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও চতুর্থ স্থানে আছে স্পেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় না থাকা জার্মানি ৭-১ গোলের বড় জয় দিয়ে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।

 

 

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় না পেলেও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পর্তুগাল সমতা দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ব্রাজিল আছে সপ্তম স্থানে।

 

 

 

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কো রয়েছে অষ্টম স্থানে। আর আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে, ফলে নেদারল্যান্ড নেমে গেছে দশে। ডাচদের রুখে দেওয়া জাপান রয়েছে ১১ নম্বরে।

 

 

 

এদিকে বেলজিয়াম নেমে গেছে ১২তম স্থানে। স্বাগতিক দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যথাক্রমে ১৩ ও ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। আর গত দুই বিশ্বকাপের চমকপ্রদ দল ক্রোয়েশিয়া নেমে গেছে ২০তম স্থানে।

 

রায়গঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ক্ষিরতলা বাজারে রায়গঞ্জ থানার উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কাজী মুদ্দীন কাজী।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্য।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিপেন্দ্র নাথ মাহাতো, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র মাহাতো, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মলিন চন্দ্র মাহাতো এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সকলকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নীলফামারীতে ভিসা ও থাই লটারি প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার চিনির মসজিদ সংলগ্ন ইসলামবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. হোসেন রকি (২৫) ও মো. সাহেব হোসেন (২৩) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ডিভাইস পর্যালোচনা করে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন এডিটকৃত কাগজপত্র, ভুয়া বিদেশি নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইমো বেটা ও ইমো এইচডি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাপসও শনাক্ত করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে আসছিল।
এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রায়গঞ্জে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে চিপস উৎপাদনের অভিযোগে জরিমানা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিকর রং ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরএফ ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের হাসিল বটতলা বাজার এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে শিশুদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিপস উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল বলে অভিযোগ ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযান শেষে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইব্রাহিম হোসেন।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম রোধে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে দুটি নতুন বিষয়: মাহদী আমিন

 

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

 

 

 

তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ নামে আরও দুটি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সমতা, ন্যায্যতা এবং সুযোগের সমবণ্টন নিশ্চিত হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে এনে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চায়, যা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলবে। এ লক্ষ্যেই দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দেশব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইনোভেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

 

 

 

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং কর্মজীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব স্থাপন করা হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

সূত্র: বাসস

 

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় কৃষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুর রহিম ওরফে কাইল্যা মন্ডল (৫৩) নামে এক কৃষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন ওরফে জমির মন্ডলের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রিনাত ফেরদৌসী রিনিত রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট সকালে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় আসামি আব্দুর রহিম তাকে শশা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের একটি শশা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩০ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

 

শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চুর মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন

 

ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকদের মাদকাসক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও জনসচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

 

 

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাশিদাজ্জোহা সরকারী মহিলা কলেজ, হাজী আহম্মদ আলী আলিয়া মাদ্রাসা ও বিকেলে সবুজ কানন স্কুল এন্ড কলেজে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

 

এসময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ, কলম ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করা হয়,একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

 

 

 

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের সমাজের শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারী শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদকে না বলতে হবে।

 

 

 

মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইনে আরও বক্তব্য রাখেন রাশিদাজ্জোহা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা ছালমা হোসেন, সবুজ কানন স্কুলের প্রভাতি শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস.এম এনামুল কবীর, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাইনুল হোসেন, এডুকেটিভ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমরান প্রমূখ।

 

 

 

এসময় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের অবগত করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ্য, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন।

 

 

 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান। মাদকবিরোধী এমন উদ্যোগকে শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল স্বাগতম জানিয়েছেন।

 

আফগানিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

 

আফগানিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সাধারণ জনগণের ওপরও আরোপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

 

 

আফগানিস্তানের সামরিক আদালতের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ সপ্তাহ থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এতে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা, সাধারণ মুজাহিদিন এবং সেবাকর্মীদের স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক তালেবান কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোন থেকে নির্দেশনা পাঠ করতে দেখা যায়। একই ভিডিওতে অন্য একজনকে স্মার্টফোন ভাঙতে দেখা গেছে।

 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করলে তার ফোন ভেঙে ফেলা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইন ও শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার লিখিত অনুমোদন নিয়ে ছাড় পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আফগানিস্তানের বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি সব জায়গায় একইভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। কোথাও এটি শুধু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, আবার কিছু শহর ও প্রদেশে নারী, সাধারণ নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ওপরও এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।

 

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর তালেবানের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে দুই দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে সময় কর্তৃপক্ষ ‘অশ্লীলতা প্রতিরোধ’ এর কথা বললেও সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ওই ইন্টারনেট বন্ধের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্যাংকিং সেবা, জরুরি সেবা এবং বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

 

 

 

এছাড়া সরকারি নথি ও বৈঠকের তথ্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনাও তালেবান প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্মকর্তারা ছবি তুলে বা তথ্য সংরক্ষণ করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে বাইরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

তালেবান সরকারের ধারণা, কর্মকর্তারা কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন, যা তাদের কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

 

 

তাই নতুন এ সিদ্ধান্তকে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, বরং আফগানিস্তানে তথ্যপ্রবাহ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

নোয়াখালীর সদর, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে ৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় নোয়াখালীর উদ্যোগে ১৭ ও ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানে জেলার সুধারাম মডেল থানাধীন দত্তেরহাট ও সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা, সেনবাগ উপজেলার ৩ নম্বর ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মতইন গ্রাম এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৩ নম্বর চাষীরহাট ইউনিয়নের রথি গ্রামে অভিযান চালানো হয়।
১৭ জুন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিয়া তাবাসসুম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইয়াবা সেবনের দায়ে মো. বাদশা (৩০) ও ফখরুল ইসলাম রানা (২৮) নামের দুইজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
একই দিনে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাছরিন আকতার ইয়াবা সেবনের দায়ে কামাল উদ্দিন সুজন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়া ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুকসুদুস সালেহীন, মোসাদ্দেক হোসেন ও মো. সেজান আহম্মেদ পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লিটন মিয়া (৫৪), মো. শামীম হোসেন (২৭), জোবায়ের ব্যাপারী (২৩) ও মোহন হোসেন (১৯)-কে ইয়াবা সেবনের অপরাধে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় নোয়াখালীর উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এমপিরা ‘ঋণখেলাপি’ নন, ‘ঋণগ্রস্ত’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, কড়া জবাব রুমিনের

 

জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) ‘ঋণখেলাপি’ বলা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আইনিভাবে বর্তমান সংসদের কোনো এমপি ‘ঋণখেলাপি’ নন, তারা বড়জোর ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন। 

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির কড়া জবাব দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল (রিসিডিউলিং) করা হয় এবং উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে নির্বাচন করা হয়, তা সবারই জানা। 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

 

 

 

‘ব্যাংকগুলো সরকারকে কীভাবে ঋণ দেবে?’
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগ যদি একপাশে সরিয়েও রাখি, ব্যাংক সরকারকে ঋণ দেবে কোথা থেকে? এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে, দেশে মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

এর সঙ্গে অবলোপন, পুনঃতফসিল করা এবং মামলার কারণে আটকে থাকা টাকা—যেটা এখনো খাতায় তোলা হয় নাই, তা যোগ করলে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ৫৯.৭৩ শতাংশ। ব্যাংকগুলো চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপানো ছাড়া উপায় থাকে না, যাকে আমরা ‘হাই পাওয়ারড মানি’ বলি। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।

 

 

 

এসময় সংসদে ফ্লোর নিয়ে বর্তমান সংসদের মর্যাদা তুলে ধরে ফজলুল হক মিলন বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।

 

 

 

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাটো করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে—‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’। (এ সময় তিনি প্রথমে ভুলবশত অন্য এক সংসদ সদস্যের নাম নিলেও পরে উল্লেখ করা হয় যে কথাটি রুমিন ফারহানা বলেছিলেন)। 

 

 

 

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে—‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়? 

 

 

 

বক্তব্যের শেষে স্পিকারের রুলিং চেয়ে তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব, আপনি এই শব্দটি এখান থেকে এক্সপাঞ্জ করেন। আর ভবিষ্যতে বক্তব্য রাখার সময় নিজেদের মানসম্মান হানি হয়, অতি উৎসাহিত হয়ে এমন কথা যেন আমরা না বলি, সেই বিনীত অনুরোধ সবার প্রতি রাখছি। 

 

 

 

‘এটি ঋণখেলাপিদের সংসদ’
অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম অধিবেশনেও অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্যের কত ঋণখেলাপি রয়েছে, তার সংখ্যা উল্লেখ করেছিলাম, তবে সম্মানের কারণে নাম প্রকাশ করিনি। এখন যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তাদের দায়। সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলবে।

 

 

 

তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংসদকে আমরা সার্বভৌম বলি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারি, তাহলে কোথায় বলব? আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের শব্দ এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার মতো কোনো বক্তব্য নয়। 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ব্যাখ্যা ও আপত্তি
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের উচিত। এখানে যারা আছেন, কেউ ঋণখেলাপি নন। নির্বাচনী আইন (আরপিও) এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুসারে, আদালত কর্তৃক কেউ ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হন। তার নমিনেশন অবৈধ হয়ে যায়। 

 

 

 

তিনি বলেন, যাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে ব্যাংকের বা প্রাইভেট মামলা ছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে সেগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পরই তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন, কিন্তু ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে তাদের ডিফেম (মানহানি) করা হচ্ছে। এটি মানহানিকর বক্তব্য, এটি এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত। 

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রুমিন ফারহানার পাল্টা জবাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে আইনি ফাঁকফোকরের বিষয়টি তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টিআইবি সম্প্রতি বলেছে, এই সংসদের সদস্যদের কাছে দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।’ 

 

 

 

আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে রিশিডিউলিং করা হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সিআইবির (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম আসার পর কীভাবে রিট পিটিশন দাখিল করে তা স্টে (স্থগিত) করে ইলেকশন করা হয় এবং এরপর আবারও সুদ দেওয়া বন্ধ করা হয়, সেটাও আমরা ভালো বুঝি। 

 

দিনাজপুরের ২৯ বিজিবির অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক চোরাচালান জব্দ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও দাইনুর সীমান্তে পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন এবং ইস্কফ সিরাপ জব্দ করেছে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এসব চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ২০০ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ দাইনুর বিওপি’র একটি চৌকস দল দীর্ঘ পরিকল্পনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩,২০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং ৪৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ আটক করা হয়। অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে আসছে। ভবিষ্যতেও মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল আটক এবং এর সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে বিজিবির এই ধরনের চিরুনি অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশনের দাবিতে শহরজুড়ে পথসভা

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথে রায়পুর স্টেশন এলাকায় জংশন করার দাবিতে আগামি শনিবারের মানববন্ধনকে সফল করার লক্ষ্যে শহরজুড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

“সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন’ এর উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শহরের চৌরাস্তা মোড়, বড়পুলের পশ্চিমপাড়ে, ১ নম্বর খলিফা পট্টির মাথায়, বড় বাজার, বাজার স্টেশন চত্বর ও মুক্তাপ্লাজার সামনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তারা বলেন, নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথকে রায়পুর স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত এবং রায়পুর স্টেশনকে উত্তরাঞ্চলগামী রেল যোগাযোগের কেন্দ্রীয় জংশন হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে শহরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুল, জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, রেল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক, কবি জাহিদ হোসেন ও সঞ্জয় গৌড়।

 

 

৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ নাকি ৪-৪-২? যে ফর্মেশনে এবারের বিশ্বকাপে বাজিমাত

 

৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৫-৩-২—ফুটবলের ধারাভাষ্যে এই সংখ্যাগুলো প্রায়ই শোনা যায়। অনেকের কাছে এগুলো ধাঁধা। যদিও জটিল কিছু নয়। সহজ বাংলায়, গোলরক্ষক বাদ দিয়ে মাঠের ১০ ফুটবলারকে কোন ছকে সাজানো হচ্ছে, সেটাই বোঝায় এই বিন্যাস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ফর্মেশন অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কোচেরা সাধারণত নিজেদের পছন্দের ফর্মেশন নিয়ে মাঠে নামলেও প্রতিপক্ষ, ম্যাচের পরিস্থিতি কিংবা নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের সামর্থ্য মাথায় রেখে পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। অনেক দল এক ছকে ম্যাচ শুরু করেন, শেষ করেন অন্য ছকে।

 

 

 

সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ছক

গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ৪-৪-২ ফর্মেশন। ৪৮টি দলের মধ্যে ১২টি দল এই সিস্টেমে খেলেছে। চার ডিফেন্ডার, চার মিডফিল্ডার ও দুই ফরোয়ার্ডের এই ঐতিহ্যবাহী ফর্মুলা ভারসাম্যের জন্য পরিচিত। তবে সাফল্যের নিরিখে খুব একটা এগিয়ে নেই। মাত্র দু’টি জয় এসেছে এই ছকে—স্কটল্যান্ডের হাইতির বিপক্ষে এবং ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট।

অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৩-১ ব্যবহার করেছে ১০টি দল। এখানে দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেন, তাদের সামনে তিন আক্রমণভাগের ফুটবলার একমাত্র স্ট্রাইকারকে সাহায্য করেন। এই ছকে জিতেছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া।

আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে ৪-১-২-৩

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে সবচেয়ে সফল ফর্মেশনগুলোর একটি ৪-১-২-৩। চার ডিফেন্ডার, এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, দুই মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে গড়া এই ছকে খেলেছে আটটি দল। মেক্সিকো, নরওয়ে, ঘানা এবং কলম্বিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে এই ফর্মেশন ব্যবহার করে। একমাত্র রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার থাকায় আক্রমণে বাড়তি ফুটবলার পাওয়া যায়। দুই উইঙ্গার ও একজন সেন্টার ফরোয়ার্ডকে ঘিরে তৈরি হয় দ্রুত উপরে ওঠার সুযোগ। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার স্পেন ও নেদারল্যান্ডসও এই ছক বেছে নিয়েছে।

 

 

পুরনো ছক, নতুন ভাবনা

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা খেলছে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ জয়ে মেসির হ্যাটট্রিকের পিছনেও ছিল এই পরিচিত ছকের কার্যকারিতা। তিন মিডফিল্ডার সামনে দুই প্রান্তের আক্রমণভাগের ফুটবলার ও স্ট্রাইকারকে বল জোগান দেন। ১৯৭০ সালের পেলের ব্রাজিল এই ফর্মেশন কাজে লাগায়। আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপও জিতেছিল একই ছকে।

 

 

 

অন্যদিকে ৫-৩-২ ফর্মেশন ব্যবহার করে এখনও কোনও দল জিততে পারেনি। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে চমক দেখিয়েছে কঙ্গো। চেক প্রজাতন্ত্র একমাত্র দল হিসেবে খেলেছে ৫-২-৩ ছকে। অস্ট্রেলিয়া ৫-৪-১ ফর্মেশন ব্যবহার করে তুরস্ককে ঘোল খাইয়েছে।

 

 

 

৩-৪-১-২ ফর্মেশনে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া খেলেছে ৩-৪-৩ ছকে। জার্মানি এই বিন্যাসেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাত গোল করেছে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে ইইউ, বরাদ্দ দেড় কোটি ইউরো

বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক কোটি ৪০ লাখ ইউরো (১৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করবে।

ঘোষিত ইইউ-এর এই অর্থায়ন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান ২৩ মিলিয়ন (দুই কোটি ৩০ লাখ) ইউরোর কয়েক বছরের (২০২৪-২০২৭) একটি চুক্তির অংশ।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সহায়তা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা পাওয়া, মৌলিক চাহিদা পূরণ, একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন।

 

 

সিরাজগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জে উদ্বোধন করা হলো তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফলমেলা। করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে বাজার স্টেশন পৌর মুক্তমঞ্চে এই ফলমেলার উদ্বোধন করা হয়।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির আয়োজনে তিনদিনব্যাপী ফলমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম মনজুরে মাওলার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ারুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ, হর্টিকালচার সেন্টার, খোকশাবাড়ীর সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস. এম. নাসিম হোসেন, তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শমিষ্ঠা সেনগুপ্ত প্রমূখ।

 

 

এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষিপরিবার, বাগান ও নার্সারি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইদী রহমান।
উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশীয় ফলের উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদ, সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল রপ্তানির সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ. কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আনারস ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে। নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

 

উল্লেখ্য, জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য, পুষ্টিগুণ এবং আধুনিক উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।

 

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণে কৃষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাটে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুর রহিম ওরফে কাইল্যা মন্ডল (৫৩) নামে এক কৃষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন ওরফে জমির মন্ডলের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রিনাত ফেরদৌসী রিনিত রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট সকালে ওই শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এসময় আসামী আব্দুর রহিম শিশুটিকে শশা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের শশা ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে অসুস্থ্য হলে বাবা মাকে বিষয়টি খুলে বলে। এরপর তাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেলারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩০ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ ৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল সাজিনাজে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন শিশুর মা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আমাতুল মাকনুন নামে ওই নারী আটজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (তৃতীয়) আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী কনসালটেন্ট ডা. আনোয়ার হোসেন (৫০), সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান (৪৫), শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান (৬০), কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ (৫০), ডা. মো. তানিম সাফায়েত চৌধুরী আলভি (৪৫) ও সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী(৫২)। এছাড়া সাজিনাজ হাসপাতালে ওই সময়ে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদেরও আসামি করা হয়েছে।

বাদীর আদালতে দাখিলকৃত আর্জি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হলে ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তীতে তিনি ঈদুল আজহার ছুটিতে গেলে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন বাচ্চার নিয়মিত চিকিৎসা দেন।

চিকিৎসার ৫ দিনের মাথায় ভিজিটিং আওয়ারে বাচ্চাকে দেখতে গেলে বাম হাতে একটি ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং চিকিৎসকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কিছু না’ বলে তারা এড়িয়ে যান৷ পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল ছুটি থেকে ফিরে এসে বাচ্চার হাত দেখালে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চেয়ে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাননি।

পরবর্তীতে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে না। ওই সময় হাতের কালোভাব শুরুতে কিছুটা কমলেও দুই একদিন পর আবারও তা খারাপের দিকে যাওয়ার কারণে পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদের মাধ্যমে ছোট একটা অপারেশন করানো হয়৷

 

 

এরপর তারা আইসিইউ এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ব্যান্ডেজ খুলে দেখে বাচ্চার হাতের কবজি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন এবং এর কারণে বাচ্চার পুরো শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। পরবর্তীতে ইবনেসিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অপারগতা প্রকাশ করলে এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওইখানে ডাক্তারদের পরামর্শমতে বাম হাত কেটে ফেলা হলেও বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।

 

 

গত ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নবজাতক শিশুটির মায়ের একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে সাজিনাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

 

 

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পূর্বের হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় শিশুটির ডান পায়ের তালুতে কাটা দাগ ও বাম হাতের উপরের অঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফোলা বিদ্যমান ছিলো যা ভর্তির সময়ই নবজাতকের পিতাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী আমাতুল মাকনুন কালবেলাকে জানান, সিজারের পর থেকে আমি অসুস্থ থাকায় এতদিন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন সুস্থতা অনুভব করলে আদালতে এই ব্যাপারে মামলা করতে এসেছি। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।

 

 

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা জানান, ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালত আমাদের দেওয়া আর্জি আমলে নিয়ে সিআইডিকে এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্ত সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী জানান, আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আগাব।

 

 

দুই মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত করল আদালত

সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

 

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক।

এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগে রাত সোয়া ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’

জানা যায়, সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এবং হবিগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর থানার একটি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার আরও দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ব্যারিস্টার সুমন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বৃহস্পতিবার ওই দুই মামলার জামিন স্থগিতের আদেশ দেন।

 

 

সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারে অভিনেতা জোভান আহত

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন অভিনেতা। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জোভান। একই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভক্ত-অনুরাগীদের নিরাপদে যানবাহন চালানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

ফেসবুক পোস্টে জোভান লেখে, ‘কিছুদিন আগে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে আমি বাইক এক্সিডেন্ট করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু ঘটনাটি আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।’

 

 

তিনি আরও লেখেন, “রাস্তায় আমরা অনেক সময় ভাবি, ‘আরেকটু স্পিডে গেলে কী হবে?’ বা ‘আমি তো ভালোই চালাই।’ কিন্তু দুর্ঘটনা কখন, কীভাবে, কার সঙ্গে ঘটবে—তা কেউ জানে না। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা জীবন বদলে দিতে পারে।”

সড়কে সবসময় নিরাপত্তার সঙ্গে বাইক চালানোর আহ্বান জানিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কারণ আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে আপনার পরিবার, আপনার প্রিয় মানুষগুলো।গন্তব্যে একটু দেরিতে পৌঁছানো ভালো, কিন্তু নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

অভিনেতার এই পোস্টে তার ভক্ত-অনুরাগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মন্তব্য করছেন।

ক্যাম্পের আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া শিবির

দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন ক্যাম্পের কাছে সন্দেহজনক একটি ড্রোন দেখা যাওয়ার পর সেটি নামিয়ে দিয়েছে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী। দেশটির ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘অননুমোদিত ড্রোন’ শনাক্ত এবং পরে সেটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়।

 

 

ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন চলাকালীন সময়। দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো জানান, অনুশীলনের সময় আকাশে একটি ড্রোন দেখা যায়, তবে তা অনুশীলন শুরুর আগেই ছিল, ফলে দলের প্রস্তুতিতে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের শিবিরের গোপন কথা জানার জন্য ড্রোন পাঠানো হয়েছিল কি না তা জানি না। তবে যা হয়েছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় আমাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনটি দক্ষিণ কোরিয়া দল বা তাদের কোচিং স্টাফকে নজরদারির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মেক্সিকোর ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরে—এই তিনটি আয়োজক শহরের স্টেডিয়াম, অনুশীলন ক্যাম্প ও ফ্যান জোনের নিরাপত্তা এলাকাগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

 

 

এর আগে মার্চ মাসে মেক্সিকোর সরকার ‘প্ল্যান কুকুলকান’ নামে বিশ্বকাপ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যেখানে প্রায় এক লাখ সেনা ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এই পরিকল্পনায় স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, সড়ক ও হোটেলে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দল, কর্মকর্তা ও দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে কানাডায় বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠের ওপর অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ৭ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কানাডার নারী ফুটবল দল নিউজিল্যান্ডের একটি অনুশীলন সেশন নজরদারির অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় কয়েকজন কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করা হয় এবং প্রধান কোচ বেভ প্রিস্টম্যানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কানাডা ফুটবল দলকে প্রতিযোগিতা থেকে ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তিও দেওয়া হয়।

 

 

কানাডা ফুটবল কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, ওই ঘটনা ছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং তদারকির ঘাটতির একটি ধারাবাহিক সমস্যার অংশ।

শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণমন্ত্রী

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে হত্যার শিকার সাত বছরের শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে তিনি শিশু নন্দিনীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে তাদের বাড়িতে যান।

 

 

শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, নন্দিনীর হত্যা একটি নির্মম-নৃশংস ও বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। যারা ছোট্ট শিশুকে হত্যা করতে পারে তারা আসলে মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যা উদাহরণ হিসেবে থেকে যায়। ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের কাজে যুক্ত না হয়।

 

 

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ইতোমধ্যে তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডটি সে ঘটিয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন এখানে এসেছিল শান্তি রক্ষার জন্য। যাওয়ার পথে যারা আক্রমণ করেছে, প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা চায়নি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা একটা ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করতে চায় তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সেটির গোয়েন্দা রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেব। ইতোমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে। সাধারণ জনগণের এখানে ভয়ের কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

নতুন পে-স্কেল: সুবিধা বাড়বে নাকি কমবে?

নবম জাতীয় পে স্কেলের বেতন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় দেওয়া বিশেষ সুবিধা (স্পেশাল ইনসেনটিভ) বাতিল করা হবে। বিশেষ সুবিধাকে মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল চালুর ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনকাঠামো-সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

 

 

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। তবে নবম বেতনকাঠামো কার্যকর হলে এ সুবিধা আর আলাদাভাবে বহাল থাকবে না।

 

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

 

ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে নতুন বেতনকাঠামোর মধ্যেই তা সমন্বয় করা হবে।

সরকারি উদ্যোগে বিশ্বকাপ যাত্রা, কানাডায় উড়লেন কাতারি ভক্তরা

কানাডার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে বিশেষ সরকারি উদ্যোগে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে পৌঁছেছেন প্রায় ১ হাজার কাতারি সমর্থক। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির চার্টার করা বিমানে তারা ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছান।

 

 

এই সমর্থকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে শহরের বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে, যার মধ্যে ফেয়ারমন্ট ও জেডব্লিউ ম্যারিয়ট পার্ক উল্লেখযোগ্য। শহরের কেন্দ্রাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি নজর কাড়ছে, যেখানে তারা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘দারবুকা’ বাজিয়ে দলকে উজ্জীবিত করছেন।

 

 

দলের অধিনায়ক আবদুলআজিজ হাতেম সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যারা এই যাত্রা সম্ভব করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, দল তাদের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং গর্বিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

কাতারের সোশ্যাল অ্যান্ড স্পোর্ট কন্ট্রিবিউশন ফান্ড এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘কাতারি ফ্যানস ডেলিগেশন প্রোগ্রাম’ পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সমর্থকদের বিমান ভাড়া, হোটেল, স্থানীয় পরিবহনসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্টেডিয়ামে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করা, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থানরত কাতারি শিক্ষার্থীদেরও ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে স্বাগতিক কানাডার লাল জার্সিধারী সমর্থকদের তুলনায় কাতারি সমর্থকদের সংখ্যা অনেক কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল রপ্তানিতে অন্যতম শীর্ষ দেশ কাতারের জনসংখ্যা প্রায় ৩.২ মিলিয়ন। দেশটি ২০২২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে এবং ইতিহাসে প্রথম আয়োজক দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে হেরেছিল।

 

 

এবারের আসরে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করছে কাতার। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে যোগ করা সময়ে বোলেম খৌখি হেডে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় আনেন।

 

 

অন্যদিকে স্বাগতিক কানাডাও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের মাধ্যমে। সেই ম্যাচে সাইল লারিন ৭৮তম মিনিটে সমতা ফেরানো গোলটি করেন।

এসএসএফের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী, পরখ করলেন নিশানার দক্ষতা

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় এই ফায়ারিং রেঞ্জে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই নিশানা পরীক্ষা করেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বা সুরক্ষার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হেনস্থা বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকে এসএসএফ-কে বিশেষ নজর দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে এসএসএফের সমন্বয়কারী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ বয়স থেকেই মায়ের সরকারপ্রধান থাকাকালীন তিনি এই এলিট বাহিনীর পেশাদারত্ব ও কার্যক্রম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

 

 

এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করলেন সংসদ সদস্য মো: কামরুজ্জামান রতন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টার উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়ন এর বড় কালীপুরা থেকে তনু সরকারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর সংরক্ষণে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ পরিদর্শন করেন তিনি,এরপর উপজেলা পরিষদ হল রুমে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৩৭জন অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান প্রদান করেন।এছাড়াও তিনি ভবেরচর বাজারস্থ নবনির্মিত কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া,অফিসার ইনচার্জ মো:হাসান আলী,উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন,ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার,উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব নাজির শিকদার,উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রাসেল দেওয়ান,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো:মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী।

বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

শেষ হলো আরেকটি অধ্যায়। দীর্ঘ দুই বছরের হাসি-কান্না, খুনসুটি আর শেখার পালা চুকিয়ে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় নিলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন কলেজ মিলনায়তনে “বিদায় অনুষ্ঠান-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছিল বেলুন, ফেস্টুন ও ফুলে সজ্জিত। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কলেজের সম্মানিত সভাপতি  তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাবা নুসরাত জাহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়, বরং তোমাদের নতুন পথচলার সূচনা। বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ তোমাদের শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সততা, নিষ্ঠা আর মেধাকে পাথেয় করো। শিক্ষকদের আশীর্বাদ আর প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাও। আসন্ন এইচএসি পরীক্ষায় তোমাদের সাফল্য কামনা করি।”

শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “এই শ্রেণিকক্ষ, এই বারান্দা, শিক্ষকদের শাসন আর সহপাঠীদের ভালোবাসা — আজ সবই স্মৃতি। আপনাদের দেওয়া শিক্ষাই আমাদের আগামীর পথের পাথেয়।”

শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে সিনিয়র আপুদের বিদায় জানায়। তাদের আবেগী পরিবেশনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকের চোখেই জল চলে আসে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, স্মারক উপহার ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। জাতীয় সংগীতের সুরে যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়, তখন পুরো ক্যাম্পাসে নেমে আসে এক বিষণ্ণ নীরবতা।

বিদায়ের বেদনা আর নতুন স্বপ্নের প্রত্যয় নিয়ে এক আবেগঘন দিন পার করলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ পরিবার।

রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর কোন রুটে কোন কোম্পানির বাস চলাচল করবে, তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি রুটের বাসমালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে।’

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোকে একটা কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ যেসব জায়গায় বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে না। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার রাস্তায় একই রং, নির্দিষ্ট মান ও ফিটনেস বজায় রেখে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে বাস চালাতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার ইলেকট্রিক যানকে উৎসাহিত করছে। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’

ঢাকা শহর থেকে ৪টি বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে। মহাখালী বাস টার্মিনাল যাবে উত্তরার আবদুল্লাহপুরের কাছাকাছি জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে। অন্যদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।’

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশ দম্পতি

খুলনায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের মামলায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগীর মা মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপ‌লিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবাল গ্রেপ্তার পু‌লিশ দম্প‌ত্তি‌কে কারাগারে প্রেরণের নি‌র্দেশ দেন।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- সঞ্জয় কুমার সাহা এবং তার স্ত্রী পরি রানী সাহা। তারা দুজনই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় গিয়ে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার মেয়ে ওই বাসায় কাজ করছিল। মেয়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের কথা তিনি জানতেন না। মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই কিশোরী। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বুধবার দুপুরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

 

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার অজুহাতে গৃহকর্মী মিলনের ওপর চড়াও হন এএসআই সঞ্জয়ের স্ত্রী পপি রানী সাহা। তিনি মিলনকে মারধর করার পাশাপাশি তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেন। নির্যাতনের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার বিকেলেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে আসে এবং এএসআই সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেয়।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, গতকাল বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের ভবনের ভেতরে একজনকে নির্যাতন করতে দেখেন। দূর থেকে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় রেকর্ড করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গরম কড়াই দিয়ে ওই তরুণীর শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ওসি আরও বলেন, বুধবার থেকে এই পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। অবশেষে আজ দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা দুজনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

গ্রুপ পর্ব শেষ না হতেই নকআউটে যারা

বিশ্বকাপে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে কারা? সেই দলের নাম জানা যেতে পারে আগামীকাল শুক্রবার সকালেই। এ গ্রুপের ম্যাচে গুয়াদালাহারায় সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া। এ ম্যাচে জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমনকি পরের ম্যাচে হারলেও।

 

 

বিশ্বকাপে প্রতিটা দলেরই একটি করে ম্যাচ খেলা শেষ হয়েছে। আজ সকালেই গ্রুপ পর্বের শেষ দল হিসেবে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ফেবারিটদের বেশির ভাগই নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালো ফল করেছে।

 

 

তবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে স্পেন। তারা ড্র করেছে কেপ ভার্দের মতো দলের সঙ্গে। স্পেনের জন্য অবশ্য নকআউটের দরোজা এখনো খোলা আছে। তবে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার ভাগ্য হতে পারে মেক্সিকো কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার। এ ছাড়া বি গ্রুপের ম্যাচ আছে আজ রাত ও কাল ভোরে। তবে এ গ্রুপে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ম্যাচ শেষে চার দলেরই সংগ্রহ এক পয়েন্ট করে। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলে কেবল নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে তারা।

বি গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া এবং কানাডা-কাতার। এ ছাড়া এ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-চেক প্রজাতন্ত্র। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছে মেক্সিকোর কাছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র পরাজিত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে।

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের ইঙ্গিত পাকিস্তানের

পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের সবচেয়ে নতুন ও অত্যাধুনিক সাবমেরিন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ বঙ্গোপসাগরে মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

 

 

পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক বলেন, সম্প্রতি নৌবহরে যুক্ত হওয়া ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গরকে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে এ অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর তৎপরতা খুবই সীমিত ছিল। খবর মেরিটাইম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেয়ার্ড মেরিটাইমের।

 

 

ফারুক জানান, হ্যাঙ্গর এবং একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন যুক্ত হলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করবে।

চীন থেকে নির্মাণ শেষে সাবমেরিনটি পাকিস্তানে আনার পথে শ্রীলঙ্কায় যাত্রাবিরতিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সে সময় চীন থেকে দেশে ফেরার পথে পিএনএস হ্যাঙ্গরকে নিরাপদে নিয়ে আসা পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহরের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে উল্লেখযোগ্য নৌ উপস্থিতি রয়েছে ভারতের। বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের দায়িত্বাধীন এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর কার্যক্রম এতদিন মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও আরব সাগরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসি থেকে রোনালদো—তারকাদের জার্সিতে একই ধরনের ‘প্যাচ’ কেন?

এবারের ফিফা বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জার্সিতে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন বিশেষ প্যাচ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জার্সির হাতায় সোনালি রঙের একটি বিশেষ ব্যাজ নজর কাড়ছে, যা তার দলের অন্য সদস্যদের জার্সিতে নেই।

 

 

একই ধরনের ব্যাজ দেখা গেছে আরও কিছু তারকা খেলোয়াড়ের জার্সিতেও, যা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা।

 

 

এই প্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো গোল্ডেন বুটজয়ীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ব্যাজ। রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইন, কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে ছয় গোল করে শীর্ষ স্কোরার হওয়া হামেস রদ্রিগেজ—সবাই এই বিশেষ সম্মানের আওতায় এসেছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শুধু বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ীরাই এই সোনালি ব্যাজ পরতে পারেন।

এছাড়া বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে আলাদা সোনালি ব্যাজ, যেখানে ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নাম যুক্ত রয়েছে। এই ব্যাজ মূলত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জার্সিতে থাকা ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ। দুই মহাতারকা এবারের আসরে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড। তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বিশেষ ব্যাজ চালু করেছে।

এই ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজে রয়েছে সোনালি বিশ্বকাপ লোগো, খেলোয়াড়ের নাম, দেশের পতাকা এবং ব্যক্তিগত উদযাপনের প্রতীক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ব্যাজে তার বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন এবং লিওনেল মেসির ব্যাজে তার দুই হাত প্রসারিত উদযাপনের চিত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ ছিল ২০০৬ সালে, এবং এবারের আসরেই সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে তাদের অংশগ্রহণকে।

 

 

বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবে করেছেন লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন, যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান। পরবর্তী ম্যাচে আরেকটি গোল করলেই তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন।

 

 

অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শুরুটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে গোলশূন্য থেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যেখানে দলও ১-১ গোলে ড্র করেছে। তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

 

 

বিশ্বকাপে নতুন অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ প্যাচ যুক্ত করেছে ফিফা, যেখানে ‘Debut FIFA World Cup’ লেখা ব্যাজ তাদের প্রথম অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একইভাবে পাঁচ বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের জন্য রয়েছে ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ, যা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান জানায়।

 

 

এই তালিকায় রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার ও জাপানের ইউতো নাগাতোমো। গোলরক্ষকদের জন্যও রয়েছে আলাদা স্বীকৃতি, যেখানে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও বেলজিয়ামের থিবু কোর্তোয়ার মতো গোল্ডেন গ্লাভসজয়ীরা বিশেষ এই প্যাচ পাচ্ছেন।

 

 

ফিফার মতে, এসব প্যাচের মূল উদ্দেশ্য হলো ফুটবলের ইতিহাসে অবদান রাখা কিংবদন্তিদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দেওয়া। ম্যাচ শেষে এসব ব্যাজ সংরক্ষণযোগ্য স্মারক হিসেবে রাখা হবে, যা ভবিষ্যতে ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে ভোজিনহার, প্রথমবার মাঠ থেকে খেলা দেখবেন মা

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ছাত্রলীগের মিছিল

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিন মিছিল করলো সিরাজগঞ্জ জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে কামারখন্দের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের পলাশডাঙ্গা যুবশিবির স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় আনন্দ মিছিল করে তারা।

 

 

এদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে নবগঠিত জেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই মিছিলে অংশ নেয়। দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে তৌসিফ (৯) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌসিফের মৃত্যু হয়। মৃত শিশু তৌসিফ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরমিতা গ্রামের আজাদ উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৪ শিশু। বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৭ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ শিশুদের মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

তোমাকে চাই

মহসিন আলম মুহিন
আমি শুধু তোমাকে চাই,
আর কিছুই চাওয়ার নাই।
ভোরের রবি উঠবে যখন,
পাশে তুমি থেকো তখন।।
মাধবী রাতে নীল জ্যোৎস্নায়,
তুমিই থেকো মোর আঙিনায়।
পৃথিবী ভুলে তোমার আঁচলে,
ভেসে বেড়াবো প্রেমের ভেলায়।।
মেঘ যেমন আকাশে উড়ে,
তুমিই রবে আমায় ঘিরে।
বৃষ্টি পড়লে টাপুর টুপুর,
তুমি এসো লাগবে মধুর।।
আমার তনু, আমার হিয়া,
তোমাকেই চায় পরাণ প্রিয়া।
তুমিই থাকলে সবই পূর্ণ,
তুমি হীনা কেবলই শূন্য।।

হিলিতে জাতীয় ফল মেলা অনুষ্ঠিত: প্রদর্শিত হলো ৪৪ প্রজাতির ফল

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফল মেলা।
আজ বৃহস্পতিবার ১৮ই জুন বেলা ১২টায় হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগমের সভাপতিত্বে মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দেশি-বিদেশি ফলের বিশাল সমাহার। দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের ফল চেনার সুবিধার্থে মেলায় মোট ৪৪ প্রকারের ফলের প্রদর্শনী করা হয়। স্টলগুলোতে সাজানো উল্লেখযোগ্য ফল ও তাদের জাতগুলোর একটি তালিকা ছিল আম (গৌড়মতি, নাগফজলি, আশ্বিনা, বারি আম-১১, বারি আম-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, ফজলি ইত্যাদি), মাল্টা ও ড্রাগন (ভিয়েতনামী মাল্টা, বারি মাল্টা-১ এবং বারি ড্রাগন-১)। অন্যান্য ফলের মধ্যে ছিল পেয়ারা, বেল, আমড়া, বিলিম্বি, শরীফা, জাম, কাঠবাদাম, কলা, ডাব, কাঁঠাল, করমচা, ডেউয়া, লটকন, কামরাঙ্গা, চালতা, অড়বরই, জাম্বুরা ও তাল। বিশেষ জাতের ফলের মধ্যে ছিল স্মার্ট বক্স তরমুজ, শাহী পেঁপে, হানি কুইন আনারস, বারি সফেদা-১ এবং স্থানীয় উন্নত জাতের লেবু।
আলোচনা সভায় বক্তারা মানবদেহে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বারো মাস ফল চাষ ও সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব।
মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলগুলো পরিচিত করে তুলতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছাড়াও তার রাজনৈতিক পরামর্শক কামরান ধাঙ্গাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।

 

 

বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। এর মধ্যে ৭৪ জন ইতোমধ্যে পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

 

 

আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচিত ইকরা মৃত্যু: আদালতে আত্মসমর্পণ অভিনেতা আলভীর

স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে নিয়ামত উল্লাহ ভুইয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে শুনানি হবে।

 

 

 

এর আগে ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা তানভীর আহমেদ আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও দুই বছর ধরে অবহেলা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

 

প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উধাও কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’

নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, প্রলোভনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুরে আলম নামে সৌদি প্রবাসী। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকট আত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।

 

 

 

লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম অভিযোগ করেন, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

নুরে আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নকিব কসাই নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত আনুমানিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলম দাবি করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।

 

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

নুরে আলম আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জ্বিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

 

 

একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলাতে চান ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট লুলা!

চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক শুরু নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মজার ছলে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। দলের পারফরম্যান্স সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেছেন, ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে সই করানোর কথা ভাবছেন তিনি।

 

 

 

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে, যা তাদের খেলার বেশ কয়েকটি দুর্বলতা জনসম্মুখে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা বেশ দারুণ শুরু করেছে; মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি একাই করেছেন তিন গোল।

 

 

 

বিশ্বকাপে নিজ দেশের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লুলা হাসতে হাসতে বলেন, আমি ভাবছিলাম ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য মেসিকে সই করাবো।

তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মরক্কোর সঙ্গে ড্র করাটা ব্রাজিলের জন্য “খুব বড় কোনো চিন্তার বিষয়” নয়। কারণ তার মতে, মরক্কোই এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

 

তিনি বলেন, অনেকেই বলেন যে যখনই ব্রাজিলকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করা হয়, ঠিক তখনই তারা বিশ্বকাপ জেতে… দেখা যাক কী হয়।

 

 

আগামী শুক্রবার নিজেদের পরের ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

 

 

 

এদিকে সবার নজর এখন ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের দিকে। চোট এবং ফর্মহীনতার কারণে প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর দলে ফিরেছেন তিনি। গত মাসে পায়ের পেশিতে (কাফ মাসল) চোট পাওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো দলের সঙ্গে অনুশীলনে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা।

 

 

 

মাঠে হালকা অনুশীলনের জন্য দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাসতে হাসতে নেইমার চিৎকার করে বলেন, তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?

 

 

 

তবে চলতি আসরের ঠিক কবে বা কোন ম্যাচে তিনি মাঠে নামবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

 

 

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

 

স্বপ্নে জীবিত দেখার পর ১৮ দিন পর মৃত তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

দাফনের ১৮ দিন পর ‘কবরের মধ্যে তরুণী জীবিত আছেন’— এমন স্বপ্নের জেরে মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা। অলৌকিক এই গুজবের জেরে কবরস্থানে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। মৃত মরিয়ম ওই বাড়ির দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।

 

 

 

সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্টগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।

 

 

স্থানীয় পাঞ্জেকানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে দিয়ে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্য আলেমদের পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে, এটি অবাস্তব।

 

অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা কবরে মাটি দেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩শ থেকে ৪শ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খোঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন।

 

 

 

প্রতিবেশী মো. লোকমান লাহারি বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতেন মরিয়ম। কোরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিলেন। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুই দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বাবা-মা ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়।

 

 

 

পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে। আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন তিনি মৃত অবস্থায় রয়েছে। কবর খোঁড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি।

 

 

 

এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোঁড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম, মো. নাজিম, সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন, আমরা শুনেছি তিনি নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুঁড়েছে। বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম তিনি কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

 

 

 

তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও এক পর্যায়ে জানিয়েছেন, সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল এবং সন্দেহ দূর হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিলেন তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদের বলেছি যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোঁড়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।

 

বাজারের আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে একটি বাজারের পাঁচটি দোকান। আগুন নেভাতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবুল মোল্যা নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

 

 

 

নিহত বাবুল মোল্যা (৩৫) বোয়ালমারী উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় নসিমনচালক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাজারে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন বাবুল মোল্যাও। একপর্যায়ে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাবুল মোল্যা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন স্থানীয়রা।

 

পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক বাবুল মোল্যাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে। আগুনের লেলিহান শিখায় একের পর এক দোকান গ্রাস করতে থাকলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

 

 

 

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 

 

 

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, জাকির মোল্যার কাপড়ের দোকান, কেসমত আলীর সার কীটনাশকের দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজন নিহত হন এবং তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

2 thoughts on “ভিপিএনের আড়ালে সাইবার অপরাধের বিস্তার, সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ভিপিএনের আড়ালে সাইবার অপরাধের বিস্তার, সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

আপডেট টাইম : ০৪:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

রাত গভীর হলে শহরের গলির ভেতর কিছু দরজা খোলে যা দিনের আলোয় দেখা যায় না। ডিজিটাল দুনিয়াতেও তেমনই একটি দরজা আছে; নাম তার নাম Virtual Private Network (VPN) বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। লাখো ব্যবহারকারীর কাছে এ প্রযুক্তি আজ পরিণত হয়েছে পরিচয় আড়ালের ঢাল, অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে। আর এই অন্ধকারের দরজা দিয়ে যে বিষ ঢুকছে, তা এখন বাংলাদেশের শিশুদের শরীর ও মনকে ধ্বংস করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দরজা কি আরও বেশিক্ষণ খোলা রাখার বিলাসিতা আমাদের আছে? পরিচয় লুকানো মানেই কি সন্দেহজনক নয়?

 

 

একজন সৎ মানুষের মুখ ঢাকার কী প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি সরল হলেও এর উত্তর অনেক কিছু বলে দেয়। ভিপিএন ব্যবহারকারীদের বিপুল একটি অংশ প্রযুক্তিটি বেছে নেন নিজের অনলাইন পরিচয় ও অবস্থান লুকাতে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য পরিচয় লুকানোর এত প্রয়োজন কেন? সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ভিপিএন ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পরিচালিত হয় ভূ-অবরুদ্ধ অবৈধ কনটেন্টে প্রবেশ, পর্নোগ্রাফি; বিশেষত শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং সাইবার অপরাধের উদ্দেশ্যে।

 

 

বাংলাদেশে যখন কোনো ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বন্ধ করে দেয়, তখন কিছু ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে ভিপিএনের দ্বারস্থ হন। এই প্রবণতা কী ইঙ্গিত দেয়? রাষ্ট্রের আইনি সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশের এই তাড়া কার্যত আইন অমান্যের একটি সংগঠিত সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। যে রাষ্ট্র নাগরিকের ভালোর জন্য একটি দরজা বন্ধ করে, ভিপিএন সেই দরজার দেয়াল ভেঙে দেয়।

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি মহামারির রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান বারবার দেখিয়েছে যে প্রতি বছর শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষত ভিপিএন সুরক্ষিত পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট একটি গুরুতর নিয়ামক হিসেবে উঠে আসছে।

সম্পর্কটি বোঝার জন্য একটি সরল প্রশ্ন করা যাক: একজন কিশোর বা তরুণ যখন বছরের পর বছর ধরে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা চরমপন্থি পর্নোগ্রাফি দেখে, তার মানসিকতায় কী পরিবর্তন আসে? মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এই ধরনের কনটেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে (রিওয়ার্ড সিস্টেম) পুনর্গঠিত করে, শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ধর্ষণকে ক্ষমতার প্রকাশ হিসেবে মহিমান্বিত করে। এটি কোনো অনুমান নয়, এটি পুনঃ পুনঃ প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

 

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব দেশে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ-প্রতিক্রিয়ার এই শৃঙ্খলটি উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যে মুহূর্তে শিশু ধর্ষণের ঘটনা মহামারির রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশে ভিপিএন ডাউনলোড অস্বাভাবিক সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় যা ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি কনটেন্টে প্রবেশের ঘটনাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দুটো তথ্য একসাথে রাখলে যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় তা হলো: আমরা কি এই সম্পর্ককে আর অস্বীকার করতে পারি?

 

 

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো অনলাইন গ্রুমিং বা শিশু প্রলোভন প্রক্রিয়া। ভিপিএন ব্যবহার করে পরিচয় আড়াল করা প্রাপ্তবয়স্করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে, ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করে এবং তারপর তাদের যৌন নিপীড়নের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভিপিএন অপরাধীকে দ্বিগুণ সুবিধা দেয়। প্রথমত, তার আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখে; দ্বিতীয়ত, তদন্তকারীদের পক্ষে তাকে ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। ফলে ধর্ষক ধরা পড়ে না, শিশুটি ন্যায়বিচার পায় না এবং অপরাধী একই কাজ বারবার করতে সাহস পায়।

 

 

বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যে প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে জরুরি তা হলো: ধরা পড়া শিশু নির্যাতনকারীদের কতজনের ডিভাইসে ভিপিএন পাওয়া গেছে এবং তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখতেন? এই তথ্যটি পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ করা শুরু হলে এ প্রযুক্তি ও শিশু ধর্ষণের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নীতিনির্ধারকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

শিশু শোষণের ডিজিটাল সুড়ঙ্গ

ইউনিসেফ এবং ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা সিএসএএম বিতরণের ক্ষেত্রে ভিপিএন একটি প্রধান হাতিয়ার। অপরাধীরা তাদের অবস্থান ও পরিচয় আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদান করে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেপ্তার হওয়া শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের একটি বড় অংশের ডিভাইসে ভিপিএন সফটওয়্যার পাওয়া গেছে।

 

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিপদটি আরও গভীর। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ইন্টারনেটের দাম কমছে, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার অবকাঠামো সেই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে না। ফলে ভিপিএনের আড়ালে পরিচালিত শিশু শোষণের ঘটনাগুলো তদন্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের এখনও অপ্রতুল। অপরাধী জানে সে ধরা পড়বে না; এই দায়মুক্তির নিশ্চয়তাই তাকে বারবার অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।

 

 

সামাজিক অবক্ষয়ের নীরব জোয়ার

ভিপিএনের সাহায্যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে প্রবেশ এখন অত্যন্ত সহজ। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ব্যবহারকারীরা নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এবং সামাজিক সম্পর্কের জন্য ধ্বংসাত্মক কনটেন্টে ডুবে যাচ্ছে।

 

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই কনটেন্টের সংস্পর্শ তাদের যৌন মনোভাব, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব সম্পর্কের ধারণাকে মারাত্মকভাবে বিকৃত করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিশোর যখন বাস্তব জীবনে তার কল্পনার প্রতিফলন খোঁজে, তখন সে প্রতিরোধের মুখে পড়লে সহিংস হয়ে ওঠে। এই মনস্তাত্ত্বিক পথটিই বহু ক্ষেত্রে ধর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। তাই ভিপিএনসুলভ পর্নোগ্রাফি এবং শিশু ধর্ষণের মহামারির মধ্যে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো টানা আছে যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এখনই উপলব্ধি করতে হবে।

 

 

সাইবার অপরাধের নিরাপদ বর্ম

ডিজিটাল প্রতারণা, পরিচয় চুরি, র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ, হ্যাকিং; এই অপরাধগুলোর তদন্তে বিশ্বের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে বাধার মুখে পড়ে তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভিপিএন। অপরাধী যখন একটি দেশের ভিপিএন সার্ভারের আড়াল থেকে অন্য দেশে হামলা চালায়, তখন তদন্তকারীরা আসল অপরাধীর কাছে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ ভিপিএন সার্ভার লগ রাখে না বা রাখলেও তা ভিন্ন দেশের এখতিয়ারে।

 

 

বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ই-কমার্স প্রতারণা; এসব অপরাধের একটি বড় অংশে ভিপিএন ব্যবহার করে অপরাধীরা পরিচয় আড়াল করে। ভুক্তভোগীরা বিচার পান না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি সমাজে অপরাধের প্রবণতাকে উৎসাহিত করে।

 

 

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদ যখন কোনো কনটেন্ট নিষিদ্ধ করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে সামাজিক ঐকমত্য ও আইনি কর্তৃত্ব। ভিপিএন সেই কর্তৃত্বকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়। এটি কেবল আইন অমান্য নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রযুক্তিগত বিদ্রোহ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে যার প্রযুক্তিগত সামর্থ্য আছে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে?

 

 

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ, যেমন- চীন, রাশিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিপিএন ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো স্বৈরাচারী প্রবৃত্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র আসলে কতটুকু সার্বভৌম? বিশেষত যখন সেই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক শিশুদের ক্ষতি করছে, তখন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আর রাজনৈতিক থাকে না, এটি হয়ে ওঠে নৈতিক দায়িত্ব।

 

 

যাচাইয়ের অধিকার : রাষ্ট্রের ন্যায্য দাবি

বিপুলসংখ্যক ভিপিএন ব্যবহারকারী আসলে কী উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন? প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, রাস্তায় যানবাহন চেকিং হয়, ব্যাংকে লেনদেন যাচাই হয়; এগুলো কি ব্যক্তির অধিকারের লঙ্ঘন? না, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একটি ন্যূনতম স্বচ্ছতা প্রয়োজন। ডিজিটাল জগতে সেই স্বচ্ছতার দাবি করা কি অন্যায্য? বিশেষত যখন সেই অস্বচ্ছতার আড়ালে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটছে?

 

 

ভিপিএন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা যায় ব্যবহারকারীর লগ সংরক্ষণ করতে এবং আইনি আদেশের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের কাছে তা সরবরাহ করতে। এটি গণনজরদারি নয়, এটি প্রচলিত টেলিযোগাযোগ আইনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ মাত্র। ফোন কোম্পানিগুলো যেমন আদালতের আদেশে কল রেকর্ড দেয়, ভিপিএন প্রতিষ্ঠানগুলোও তেমনি লগ সরবরাহ করতে বাধ্য হওয়া উচিত। একজন শিশু ধর্ষককে শনাক্ত করতে পারলে যদি কোনো ব্যক্তির ভিপিএন লগ দেখতে হয়, সেই মূল্য পরিশোধ করতে সভ্য সমাজের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

সিদ্ধান্তের সময় : শিশুর জীবন না প্রযুক্তির স্বাধীনতা?

প্রযুক্তি নিরপেক্ষ, কিন্তু তার ব্যবহার নিরপেক্ষ নয়। ভিপিএন একটি হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার কারও হাতে সাংবাদিকতার ঢাল, কারও হাতে শিশু শোষণের অস্ত্র; দুটোই সত্য। কিন্তু যখন সেই অস্ত্রের আঘাতে একটি শিশুর শৈশব চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যখন একজন ধর্ষক ভিপিএনের আড়ালে নিশ্চিন্তে পরবর্তী শিকার খুঁজছে, তখন ‘প্রযুক্তির স্বাধীনতা’ কথাটি ব্যবহার করতে বিবেক বাধা দেওয়া উচিত।

 

 

বাংলাদেশে আজ শিশু ধর্ষণ মহামারির যে রূপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়তে হলে কেবল আইনি সংস্কার বা সামাজিক সচেতনতা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল পরিবেশকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভিপিএনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশ রুদ্ধ করা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়া এবং ভিপিএন সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা; এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার সময় এখনই।

 

 

অন্ধকারের দরজা খোলা রাখা কখনও সভ্যতার লক্ষণ নয়। বিশেষত যখন সেই দরজা দিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢুকছে। একটি জাতির সভ্যতার পরিমাপ হয় তার সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদের সে কতটুকু রক্ষা করতে পারছে তার মানদণ্ডে। আমাদের শিশুরা রক্ষা পাচ্ছে না- এই ব্যর্থতার একটি বড় অংশের দায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণহীনতার, ভিপিএনের অপব্যবহারের এবং আমাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তার।

 

 

ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের ফলাফল জানাল সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ব্রাজিল। আগামীকাল শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের খুবই বিরল। ১৯৭৮ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকেনি তারা।

 

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে ব্রাজিলের অনেক পেছনে হাইতি। র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ৬ নম্বরে, আর হাইতি ৮৪ নম্বরে— দুই দলের মধ্যে পার্থক্য ৭৮ ধাপ। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ব্রাজিলকেই স্পষ্ট ফেবারিট ধরা হচ্ছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারও সেলেসাওদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৮৭.৩ শতাংশ। বিপরীতে হাইতির জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৪.৩ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ৮.৪ শতাংশ।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও ব্রাজিলের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনো বেশ উজ্জ্বল। অপটার হিসাব বলছে, গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থান অর্জনের সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৫২ শতাংশ। শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ৯০.৩ শতাংশ। এমনকি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও ৫.৪ শতাংশ ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় হাইতির সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ৫.৮ শতাংশ। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেমে এসেছে ০.৪ শতাংশে।

পরিসংখ্যানের হিসাবেও ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট ব্রাজিল। দুই দলের অতীত রেকর্ড একেবারেই একপেশে। এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচগুলোতে ১৭ গোল করেছে সেলেসাওরা, বিপরীতে হাইতির গোল মাত্র একটি। সর্বশেষ ২০১৬ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল হাইতিকে।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি উন্মোচন, আটক ৪৯

খাদ্য অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক’ পদের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর ঢাকা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম।

 

 

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ডিভাইসসহ ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাদের মধ্যে ৪ জন পালিয়ে যায়। পরে ২১ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আরও ২৮ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে।

সেলিমুল আজম বলেন, আমরা সবাইকে যে ধরতে পেরেছি, তা বলছি না। তবে বিগত পরীক্ষাগুলোর তুলনায় আজকের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে নারী-পুরুষসহ মোট ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাটারি এবং ছোট আকারের ব্লুটুথ টাইপের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে নকআউটের টিকিট সবার আগে মেক্সিকোর

সবার আগে গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে মেক্সিকো। স্বাগতিকদের সমর্থনে গর্জে ওঠা গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা। গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কেটে নেয় মেক্সিকানরা।

 

 

পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও পার্থক্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের একটি ভুল। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং-গিউয়ের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লুইস রোমো। জুলিয়ান কিনোনেসের ক্রস থেকে রাউল হিমেনেজের হেডার আকাশে উঠে গেলে বলটি ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন কিম। তার হাত ফসকে সামনে পড়ে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন রোমো।

 

 

গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে না পারলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল বাড়িয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেক্সিকান রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রেঞ্জেল তাদের হতাশ করেন।

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে। একটি ক্রস থেকে চো গে-সুংয়ের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রেঞ্জেল।

ফিরতি বলেও চোকে গোল করতে দেননি তিনি। যোগ করা সময়েও কর্নার থেকে সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়ানরা, কিন্তু হান-বিওম লির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ আশা নিভে যায় তাদের। প্রথমার্ধে দুই দলই খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। মেক্সিকো শুরুতে চাপ সৃষ্টি করলেও দক্ষিণ কোরিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি কমিয়ে আনে। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যে ছিল।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করা প্রথম দল হয়ে গেল মেক্সিকো। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে চেকিয়াকে হারানো দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।

 

 

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে চেকিয়ার, আর দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই সন হিউং-মিনদের।

শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছে না, সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও ২ প্রাণহানি

 

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

 

গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিওতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৬১ জন ভর্তি রয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার ৭ মাস বয়সী ছেলে সারহান ও সিলেটের ওসমানীনগরের উজ্জল মিয়ার ৫ মাস বয়সের ছেলে আহিয়ান।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৬ জন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৮ জন এবং সিলেটে ১০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬১ জন সন্দেহজনক রোগী।

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা যায়, সিলেটে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২৭ জন ও নিশ্চিত হামে ২ জনসহ মোট ২৯ জন, হবিগঞ্জে ৬ জন, মৌলভীবাজারে ১০ জন (সন্দেহজনক ৯ ও নিশ্চিত ১) এবং সুনামগঞ্জে ৩১ জন (সন্দেহজনক ৩০ ও নিশ্চিত ১) মারা গেছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৭২ জন এবং নিশ্চিত হামে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করল আফগানিস্তান, প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় পাকিস্তান

আফগানিস্তান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে তারা একাধিক হামলা চালিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কথিত আইএসআইএসের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই স্থানগুলো শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের সহায়তায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার ক্ষেত্রেও এসব ঘাঁটি অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে আফগানিস্তানের এই দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গি তৎপরতা এবং একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি আর সহ্য করবে না।

মাধ্যমিকের শুরুতেই বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

 

শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা।

তিনি আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন পাস হওয়ায় এখন থেকে ডিজিটাল নকলের সাজা দেওয়া হবে। সবাইকে উচ্চ শিক্ষা দিয়ে বেকারত্বের কারখানা তৈরি করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ইস্যুতে নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক পুলিশ প্রশাসন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দলটির সম্ভাব্য কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা এড়াতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিলসহ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে।

 

 

এ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।

এর ফলে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে।

 

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

 

 

এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ ও কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহাখালীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এ সময় তিনজনকে আটকও করা হয়েছে। এছাড়া, গণভবনের সামনে যুবলীগও মিছিল করে।

 

 

পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

 

 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের জানাজায় বিভিন্ন মহলের অংশগ্রহণ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম কারি মো. আবু রায়হান।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই জানাজা সম্পন্ন হয়।

 

 

জানাজার শুরুতেই মরহুম হারুন অর রশিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং পরিবারের পক্ষে মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) জানাজায় উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, হারুন অর রশিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অমায়িক, সজ্জন, সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন অর রশিদ দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থা ভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

 

 

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন অর রশিদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে হারুন আর রশিদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

 

জানাজা শেষে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্য হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া ও কর্মকর্তারা।

 

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, হারুন অর রশিদ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

জানাজা অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভাড়া বাসায় আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ, তদন্ত শুরু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলার ১১টার দিকে জীবননগর শহরের বসুতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জীবননগর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

 

 

নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হলেও পরে তা মিটে যেত। তিনি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন সকালে স্বামীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

তিনি আরও জানান, সকালে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাজারে যান। ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে মাহমুদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

 

 

নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে হঠাৎ ফোন কেটে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।

 

 

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরায়েলি সেনা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে তীব্র লড়াই চলছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

 

 

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। তিনি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় নিহত হন।

 

 

একই ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত ওই তিন সেনার নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি উল্লেখ থাকলেও তা মানছে না ইসরায়েলি বাহিনী।

সীমান্তে নতুন করে পুশ-ইনের অভিযোগ, উত্তেজনা মেহেরপুরে

মেহেরপুরে সীমান্ত দিয়ে আবারও চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে নোম্যান্স ল্যান্ড ও ভারতীয় জমির মধ্যবর্তী স্থানে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে এক নারী ও তিন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে চাষাবাদ করা স্থানীয় কৃষকরা। পরে বিষয়টি তারা বিজিবিকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা করা ওই ব্যক্তিদের আর খুঁজে পায়নি বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। তাদের বিএসএফ ফেরত নিয়ে গেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে ভারতীয় জমি, নোম্যান্স ল্যান্ড এবং বাংলাদেশের জমিতে পাটের আবাদ থাকায় ওই এলাকায় কেউ লুকিয়ে থাকলে তাদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।

এদিকে স্থানীয়রা আরও জানান, ভোরে সীমান্ত এলাকায় চারজনকে অবস্থান করতে দেখার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

 

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনকে বিএসএফ শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সাতজন শূন্যরেখায় অবস্থান করার সময় পার্শ্ববর্তী ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৫-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে আরও ছয়জনকে পুশ-ইন করা হয় বলে জানা যায়। পুশ-ইন হওয়া ১৩ জনের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।

তিস্তা ব্যারাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণে তিন মন্ত্রীর সফর

তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদী তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাট সফরে যাচ্ছেন সরকারের তিন মন্ত্রী।

 

 

সফরসূচি অনুযায়ী, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু দুপুরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করবেন।

 

 

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিস্তা পাড়ের ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখবেন তারা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলোও সরাসরি শুনবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথকে আরও বেগবান করবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

 

 

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, ‘মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিস্ফোরক মামলায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের পদচ্যুত চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোররাতে তাড়াশ পৌর শহরের নিজবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল শেখ তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

 

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদারের নির্বাচনী জনসভায় হামলার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বারুহাস ইউনিয়নের বিনোদপুর বাজারে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিতে যান বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদার। এ সময় তার ওপরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মান্নান তালুকদারের গাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণও ঘটায়। ওই সময় পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে মান্নান তালুকদারের জীবন রক্ষা করেন। এ হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন।

 

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বারুহাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল আজিজসহ ৯৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বাবুল শেখ।

 

‘ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের আবেগ ও দুর্বলতা’

 

আমাদের দেশে রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে যে আবেগ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়, তদ্রুপ বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ঘিরেও একই ধরণের আবেগ ও উন্মাদনা লক্ষ্যনীয়।

 

আয়োজক যে দেশই হোক না কেন বাংলাদেশে এই দুই দলের সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ ও নানা আয়োজন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো দেশের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরে আবাহনী-মোহামেডান মানেই ছিল অনিন্দম আকর্ষণ। পাড়ায় মহল্লায় ছাদে বা গাছে শোভা পেত ক্লাব পতাকা সেগুলোর মধ্যে দেশীয় ফুটবলের ছাপ ছিল।

 

নব্বই দশকে এই দেশে টিভি দেখার সীমাবদ্ধতা ছিল,  হাতে গোনা দুই এক বাসায় টিভি ছিল, বৈঠকখানা বা উঠানে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য। বিনোদনের সীমাবদ্ধতা ছিল তথাপি বিশ্বকাপ মানুষ উপভোগ করেছে। এখন ঘরে ঘরে টিভি, সকলের দোরগোড়ায় বিনোদন, কিন্তু ভক্তদের দলীয় আবেগী প্রদর্শন ও নিন্দনীয় ব্যবহারিক দিক বেশি পরিলক্ষিত হয়। এখন ফুটবল খেলা যতটা না উপভোগ্য তার চেয়ে বেশি হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি অন্যকে ঘায়েল করা বেশ পরিলক্ষিত হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ নিজ সমর্থিত দলের হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেওয়া কমেন্টস করা নিত্য নৈমত্তিক ব্যপার। আর পাড়ায় মহল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারামারি, মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি-সেটাই এখানে আলোচ্য বিষয়।

যে সকল দেশ নান্দনিক ফুটবল খেলে আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে,  বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল আর্জেন্টিনা, চিলি উরুগুয়ে, আফ্রিকার মরোক্ক, ঘানা, নাইজেরিয়া, ইজিপ্ট এবং ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, পর্তুগাল। এশিয়ার জাপান, কোরিয়া, সৌদি আরব সবাই নান্দনিক ফুটবল খেলে।  তাই সবার খেলাই আমাকে আনন্দ দেয়।

 

কোনো কোনো দেশ শিরোপা না জিতলেও বিশ্বব্যাপী ফুটবল অনুরক্ত ভক্ত রেখে গেছে যেমন: পোল্যান্ড পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, মেক্সিকো। আমাদের দেশে ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে উন্মাদনা এতটাই বেশি যে তারা রাজনৈতিক কর্মীদের মতো আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও লোক দেখানো প্রতিযোগিতা করে থাকেন।  দেশব্যাপী বিদেশী পতাকার অযাচিত ব্যবহার বাড়িঘর রং দিয়ে দৃষ্টি আকৰ্ষণ, পাড়ায় মহল্লায় পরিবেশের যে বিপর্যয় সেটা বড্ডো বাড়াবাড়ি বলে আমার কাছে মনে হয়।

 

নিজ পছন্দের দলকে ঈশ্বর বানিয়ে বাকি দলগুলোকে হেয় করা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা তিরস্কার করা থেকে বিরত হন। আপনারা কে কতবড় জ্ঞানী সেটা জাহির করতে অন্যকে বিদ্রুপ করা, ছোট করা, আঘাত করা থেকে বিরত হন। খেলায় দলীয় পছন্দের ভিন্নতা থাকতে পারে তাই বলে বন্ধুত্ব নষ্ট করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা, বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে দূরত্ব তৈরী করা খুবই অস্বাভাবিক। খেলা শেষে সবাই যে যার জায়গায় ফিরবেন, আবারও সবার সাথে দেখা হবে কিন্তু সম্পর্কটা স্বাভাবিক হবে তো ?

বিশ্ব ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ নম্বর। যে দেশ দক্ষিণ এশিয়া জয় করতে পারে না, এশিয়ান কোয়ালিফাই করতে পারা দিবাস্বপ্ন সেখানে বিশ্বকাপ আমাদের কাছে টেলিস্কোপে মহাকাশ দেখার সামিল। ফুটবলে আমাদের অবস্থান ১৮১ অথচ ওয়ার্ল্ডকাপে অংশ নেয়া অন্য দেশগুলোকে আমরা কতটাই না তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি। আমাদের চেয়ে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন দেশকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা আপনাদের জন্য কতটা মানানসই বোধগম্য না।

 

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তিত্বের লড়াই, জ্ঞানের লড়াই তা নিতান্তই ছেলেমানুষি। যাদের নিয়ে আপনাদের এতো আবেগ সে দেশের ৯০% মানুষ হয়তো বাংলাদেশকে চেনেই না। যেমন প্রতিবেশী চীনের মতো দেশের অধিকাংশ মানুষ বাংলাদেশকে চেনে না। তেমনি যারা আপনাকে চেনেনা যাদের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের ফুটবলকে সমর্থন করতে গিয়ে আপনি আপনার পরিবার , আত্মীয় , মহল্লা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে বিতর্কিত করছেন। নিজের আত্মঅহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হাতাহাতি, মারামারি, খুন পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা কে শ্রেষ্ট সেইটা নিয়ে ঘরে ঘরে মহল্লায় মহল্লায় যুদ্ধ হয় ।

আপনারা পারেনও বটে সবকিছুর মধ্যে একজনকেই শ্রেষ্ট বানাতে। সেটা ফুটবল হোক, সিনেমার নায়ক নতুবা অন্য কোনো পেশা। পূর্বে আমাদের দেশে নায়কের অভাব ছিলোনা কিন্তু দেশে নায়ক মানেই বলা হয় নায়ক রাজ রাজ্জাক। কেননা তার নামের পূর্বে রাজ্ শব্দছিল তাই তিনি নায়কদের রাজা বাকিরা প্রজা। এই নায়ক রাজ রাজ্জাক সাহেবের নামের কারণে অভিনেতা ফারুক, উজ্জ্বল, সোহেল রানা, জাভেদ, মিডিয়াতে কখনোই নায়ক হতে পারে নাই। এখনো অনেক ভালো নায়ক আছে কিন্তু সাকিব খানই একমাত্র নায়ক, বলিউডে সালমান খান না শাহরুখ খান কে শ্রেষ্ঠ সেটা নিয়েও আমাদের দেশ ঘরে ঘরে বিতর্ক হয়। এক কেন্দ্রিক এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এক প্রকার গরিব মানুষিকতা ও রুচির দুর্ভিক্ষের শামিল। ফুটবলে আমাদের আবেগ নিয়ে আদর্শিক পরিবর্তন জরুরি কেননা যে সকল দেশ বিশ্বকাপ খেলছে তাদের মধ্যে আমাদের মতো এতো উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় না।

 

ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, ওয়ার্ল্ডকাপ খেললেও সে দেশের রাস্তায় সেই উত্তেজনা দেখা যায় না। যদিও তারা ঐতিহ্যগতভাবে ফুটবল জাতি তথাপি তাদের মধ্যে আমাদের মতো সেই আদিখ্যাত নেই যেমনটা আমরা ফুটবল নিয়ে করি।

কেউ সাপোর্ট করে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা কেউ ফ্রান্স জার্মানি সেটা তাদের ব্যক্তি পছন্দ। দয়াকরে তাদের সেই পছন্দকে সন্মান দিতে শিখুন। মহল্লায় আপনার দলীয় সমর্থক থাকতে পারে তাই বলে আন্যান্য ছোট গ্রুপকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন সেটা আপনার পারিবারিক জ্ঞান ও শিষ্টাচারের দুর্বলতা। প্রতি চার বৎসর পর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এর মাধ্যমে আমরা আয়োজক দেশের শক্তি সামর্থ, অবকাঠামো, কৃষ্টি কালচার জানতে পারি। এখান থেকেও অন্য দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার আছে।

 

ফুটবল এক বিশ্ব বিনোদন- সেই বিনোদনকে নিজেদের নোংরা মানুষিকতা ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে দূরে রাখি -রাজনৈতিক দলীয় আবেগ দিয়ে বিশ্ব বিনোদনকে না দেখি।  আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দিলেই আপনি আর্জেন্টাইন বা ব্রাজিলিয়ান হয়ে যাচ্ছেন না। পারলে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, তারিক কাজির জার্সি গায়ে জড়িয়ে অন্য দেশের খেলা দেখুন এতে দেশের প্রতি আপনার সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা পাবে,খেলাধুলার আবেগ প্রতিষ্ঠা পাবে। আর এভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণের উৎসব।এখান থেকে আমরা মাদকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করি।

লেখক: লায়ন মাহফুজ রহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষকও সমাজকর্মী,
প্রবাসী পেশাজীবী সম্পাদক, কেন্দ্রীয় পেশাজীবী অধিকার পরিষদ (BPRC)
কনসালটেন্ট এজেন্ট ব্রিটিশ কাউন্সিল

স্থগিত হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

 

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠক স্থগিত হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।

 

এই বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

 

তবে আলোচনার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় সফর ও বৈঠক-দুটিই আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরে নতুন তথ্য জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন।

 

সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে।

 

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করবে পাকিস্তান!

 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

 

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আরব সাগরের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের নৌবহরে এ শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

 

চীন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে পাকিস্তানের ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইসলামাবাদ এখন কেবল উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত উপস্থিতির মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের মুখোমুখি হতে আগ্রহী।

 

গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি। ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্য রাতারাতি বদলে দেওয়ার মতো না হলেও, এটি ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ কর্তৃক ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দেওয়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সতর্ক করছে যে, এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

 

মাদরাসায় রাখা ‘মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবারটি কার, খতিয়ে দেখছে র‌্যাব

ঢাকার আশুলিয়ায় থানার একটি মাদরাসায় নির্মাণাধীন ওয়াশরুমের ভেতরে পাওয়া গেল মেইড ইন পাকিস্তান লেখা রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি।

 

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে আশুলিয়া থানার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।

 

তবে এই অস্ত্র কিভাবে এসেছে কে নিয়ে এসেছে এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টাতেও কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

 

র‌্যাব জানায়, ওই মাদরাসায় মাদক মজুদ রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। পরে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ওয়েটিং রুমের পাশের একটি নির্মাণাধীন ওয়াশরুমে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে ওয়াশরুমের টয়লেটের মেঝেতে কয়েকটি ইটের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি ছেঁড়া শপিং ব্যাগের সন্ধান মেলে। সেই ব্যাগের ভেতর সবুজ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড ২২ বোরের গুলি পাওয়া যায়।

 

র‍্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, উদ্ধারকৃত আট চেম্বারবিশিষ্ট সিলিন্ডারের রিভলবারটির ব্যারেল, ট্রিগার ও হ্যামারসহ সবকিছু অক্ষত রয়েছে। অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’লেখা খোদাই করা রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া গুলির পেছনেও ইংরেজি অক্ষর ‘টি’ খোদাই করা ছিল।

 

তিনিবলেন, এই অস্ত্রের মূল উৎস কী এবং কারা এটি মাদরাসায় এনে লুকিয়ে রেখেছিল, তা উদ্‌ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ: ৫,৫০০ কোটির প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে ১২,৫০০ কোটি

স্থবির হয়ে পড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্প গতি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

 

 

 

আট বছরের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও প্রকল্পের পরিধি সম্প্রসারণের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

 

 

 

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে নতুন এই ৭৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ হলে এ পথে দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার। এতে যাত্রার সময় বাঁচবে প্রায় তিন ঘণ্টা। প্রকল্প সূত্র বলেছে, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জমি বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে।

 

 

 

নতুন এই ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এই প্রকল্পে ভারতীয় ঋণে অর্থায়ন করার কথা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের মার্চে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পে ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

 

 

 

বর্তমানে প্রকল্পটির অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। আগে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি ১৪ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রকল্প দপ্তর। মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সংশোধিত ডিপিপি এক মাসের মধ্যে একনেক সভায় উঠবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর দাম, ডলারের বিনিময় হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। জমির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ব্যয় বাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। সর্বশেষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে ইঞ্জিনিয়ারিং চাহিদার পরিবর্তন, রেল ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কাজের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রকল্পের রুট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা জানান।

 

 

 

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থসহ সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যে প্রস্তাব প্রকল্প ও জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

 

মূল ডিপিপিতে ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়নের পর প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০১ দশমিক ৭৭ একর। এরপর বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলনে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু এ খাতেই ব্যয় বেড়েছে ৩২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

 

 

 

প্রকল্প সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে দুই জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার:
সংশোধিত ডিপিপি সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

 

 

 

বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

 

 

 

প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

 

 

 

এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।

 

 

 

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু জাফর মিঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংশোধিত ডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করতে আরও প্রায় ৯ মাস লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের চুক্তিপত্র করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে যখন ডিপিপি করা হয়েছিল, তখনকার দামের ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্মাণসামগ্রীসহ প্রায় সবকিছুর দাম, বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহের কারণে প্রকল্পটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা প্রকল্পটিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রেললাইনটি অনেক আগেই নির্মাণ হওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে জমি অধিগ্রহণ, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। তবে শুরু থেকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

 

মার্কিন-ইরান সমঝোতার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

 

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল হামলা চালাল।

 

 

 

শুক্রবার সকালে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র ইসরায়েলি অভিযান। এ সময় একাধিক আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

 

 

 

নাবাতিয়েহ শহর ছাড়াও কফার জৌজ, কফার রেমান এবং জেবদিনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করে। পরে কফার তিবনিত ও রাইহান পাহাড়ি এলাকাতেও ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।

 

 

হামলায় নাবাতিয়েহ ও হারুফ এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হন। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দৌইরের মধ্যবর্তী একটি বাড়িতে হামলায় চারজন প্রাণ হারান। কফার সির শহরে একটি পৃথক হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

 

এদিকে দৌইর পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

 

 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী!

 

পটুয়াখালীর বাউফলের পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে। এ মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় সরেজমিনে মাদ্রাসায় দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই। উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন রয়েছে।

 

 

 

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে সাতজন। একই কক্ষে ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করতে দেখা যায়। আবার কয়েকজন শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে গল্প করতেও দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতাও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, অন্য একটি এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ ছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

 

 

মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

 

আগস্টে সারা দেশে শোডাউনের পরিকল্পনা আ.লীগের, ২৪টি কমিটি গঠন

 

আসন্ন আগস্ট মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে বড় ধরনের শোডাউন করার চিন্তা করছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী। এজন্য নানা কৌশলে তারা সংঘটিত ও সক্রিয় হচ্ছে।

 

 

 

নিষিদ্ধ থাকার পরও এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি দিয়েছে ছাত্রলীগ। সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ প্রায় দুই ডজন কমিটি গঠন করেছে তারা।

 

 

 

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা যায়। নির্বাচনের পরপরই আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির কিছু নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশ থেকেও কিছু নেতা দেশে ফিরেছেন। তবে এসব নেতা এলাকায় চুপচাপ অবস্থান করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার সামনে আরও বাড়তে পারে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বর্তমানে সরকারের কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছে না।

 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান টার্গেট ছিল ড. ইউনূস। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর ড. ইউনূস প্রথম ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন। ক্ষমতায় এসে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশকে ডিস্টার্ব করলে ভারতের সেভেন সিস্টার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ড. ইউনূস।

 

 

এ ছাড়া বাংলাদেশে সংস্কার আনা, মার্কিন চুক্তি ও দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকুক- এটা ভারত চায় না। এসব কারণে ড. ইউনূস ভারতের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। আর ভারতের টার্গেট মানেই আওয়ামী লীগের টার্গেট। মূলত এদেশে ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় ড. ইউনূসকে নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে আবার একজোট হওয়া উচিত।

 

 

 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম কালবেলাকে বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করলে ব্যক্তির চেয়ে দেশের সুনাম বেশি নষ্ট করা হবে। আমার নেতিবাচক কোনো সমালোচনাকে সমর্থন করি না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকবে, তবে যুক্তিতর্ক দিয়ে সমালোচনা করতে হবে। গায়ের জোরে লাগামহীন সমালোচনা করা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়।

 

 

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন কালবেলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক কৌশলে ফেরার চেষ্টা করবে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করবে; দেশে ঢোকার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে যাই করতে হবে, আইনি কাঠামোর মাধ্যমে। কোনো হঠকারিতা দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না।

 

সংসদে প্রবেশে মাথা নত করার প্রথা বাতিলে স্পিকারকে অভিনন্দন মুহিউদ্দীনের

 

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের জন্য স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলার সামনে সিজদা ও অবনত হওয়াই একজন মুসলমানের ঈমানি চেতনার দাবি। তাই জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বকীয়তা ও আত্মপরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবে। দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রথার অবসান ঘটিয়ে স্পিকার দূরদর্শিতা, সাহসিকতা ও জনগণের আবেগ-অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিচয় দিয়েছেন।’

মাওলানা রাব্বানী আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও জনগণের বিশ্বাস-পরিপন্থী প্রথা পর্যালোচনা করে দেশীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনাসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

তিনি স্পিকারের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা যেন ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে কামনা করেন।

 

 

নীলফামারীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ অনলাইন জুয়ারি গ্রেপ্তার

নীলফামারীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো ও বেটিং অ্যাপের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন রাতে পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতলুবর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোরসালিন ইসলাম (২৫), রাসেল ইসলাম (২১), মারুফ ইসলাম (২৩), রুবেল ইসলাম (২০) ও লাজু হোসাইন ওরফে বাবু (৩৩)। তাদের মধ্যে দুজন নীলফামারী সদর উপজেলার এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ঘটনাস্থলেই পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং অ্যাপ্লিকেশন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোভিত্তিক বেটিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করল জামায়াত

 

নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) নেত্রকোনা আদালতে উপজেলার হোগলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি এমদাদুল হক আকন্দ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মে উপজেলা পরিষদ হলরুমে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ডাক (নিলাম) চলাকালে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে একই দিন বিকেলে আগিয়া বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, হামলার সময় কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বধলা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটির বিষয়ে এখনো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথিপত্র পাইনি। আদালতের নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থানায় পৌঁছলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, গত ২০ মে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৫ মে পূর্বধলা থানায় জামায়াতের নায়েবে আমির ও এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ।

 

বিশ্বকাপের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান কোথায়?

 

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলই অন্তত একটি করে ম্যাচ খেলেছে। প্রথম রাউন্ড শেষে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং রানার্সআপ ফ্রান্স দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। একই সঙ্গে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড।

 

 

 

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্পেন, নেদারল্যান্ড ও পর্তুগাল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। জয়হীন শুরু করেছে ব্রাজিলও।

 

 

 

গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ড শেষে ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল তাদের বিশ্বকাপ পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। সেখানে শীর্ষস্থান দখল করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে তারা বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে।

 

 

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের অসাধারণ নৈপুণ্যে দলটি সহজ জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে।

গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি ছিল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার লড়াই। হেরিকেনের জোড়া গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া ইংল্যান্ড পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

 

 

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও চতুর্থ স্থানে আছে স্পেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় না থাকা জার্মানি ৭-১ গোলের বড় জয় দিয়ে উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।

 

 

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় না পেলেও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পর্তুগাল সমতা দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ব্রাজিল আছে সপ্তম স্থানে।

 

 

 

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কো রয়েছে অষ্টম স্থানে। আর আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে, ফলে নেদারল্যান্ড নেমে গেছে দশে। ডাচদের রুখে দেওয়া জাপান রয়েছে ১১ নম্বরে।

 

 

 

এদিকে বেলজিয়াম নেমে গেছে ১২তম স্থানে। স্বাগতিক দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যথাক্রমে ১৩ ও ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। আর গত দুই বিশ্বকাপের চমকপ্রদ দল ক্রোয়েশিয়া নেমে গেছে ২০তম স্থানে।

 

রায়গঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের ক্ষিরতলা বাজারে রায়গঞ্জ থানার উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কাজী মুদ্দীন কাজী।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্য।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিপেন্দ্র নাথ মাহাতো, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র মাহাতো, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মলিন চন্দ্র মাহাতো এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সকলকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নীলফামারীতে ভিসা ও থাই লটারি প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার চিনির মসজিদ সংলগ্ন ইসলামবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. হোসেন রকি (২৫) ও মো. সাহেব হোসেন (২৩) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ডিভাইস পর্যালোচনা করে ভিসা ও থাই লটারির নামে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন এডিটকৃত কাগজপত্র, ভুয়া বিদেশি নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইমো বেটা ও ইমো এইচডি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাপসও শনাক্ত করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে আসছিল।
এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রায়গঞ্জে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে চিপস উৎপাদনের অভিযোগে জরিমানা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিকর রং ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরএফ ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের হাসিল বটতলা বাজার এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে শিশুদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিপস উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল বলে অভিযোগ ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযান শেষে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইব্রাহিম হোসেন।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম রোধে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে দুটি নতুন বিষয়: মাহদী আমিন

 

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

 

 

 

তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ নামে আরও দুটি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সমতা, ন্যায্যতা এবং সুযোগের সমবণ্টন নিশ্চিত হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে এনে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চায়, যা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলবে। এ লক্ষ্যেই দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দেশব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইনোভেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

 

 

 

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং কর্মজীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব স্থাপন করা হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

সূত্র: বাসস

 

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় কৃষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুর রহিম ওরফে কাইল্যা মন্ডল (৫৩) নামে এক কৃষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন ওরফে জমির মন্ডলের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রিনাত ফেরদৌসী রিনিত রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট সকালে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় আসামি আব্দুর রহিম তাকে শশা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের একটি শশা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩০ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

 

শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চুর মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন

 

ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকদের মাদকাসক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও জনসচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

 

 

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাশিদাজ্জোহা সরকারী মহিলা কলেজ, হাজী আহম্মদ আলী আলিয়া মাদ্রাসা ও বিকেলে সবুজ কানন স্কুল এন্ড কলেজে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

 

এসময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ, কলম ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করা হয়,একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

 

 

 

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের সমাজের শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারী শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদকে না বলতে হবে।

 

 

 

মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইনে আরও বক্তব্য রাখেন রাশিদাজ্জোহা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা ছালমা হোসেন, সবুজ কানন স্কুলের প্রভাতি শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস.এম এনামুল কবীর, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাইনুল হোসেন, এডুকেটিভ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমরান প্রমূখ।

 

 

 

এসময় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের অবগত করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ্য, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন।

 

 

 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান। মাদকবিরোধী এমন উদ্যোগকে শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল স্বাগতম জানিয়েছেন।

 

আফগানিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

 

আফগানিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সাধারণ জনগণের ওপরও আরোপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

 

 

আফগানিস্তানের সামরিক আদালতের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ সপ্তাহ থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এতে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা, সাধারণ মুজাহিদিন এবং সেবাকর্মীদের স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক তালেবান কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোন থেকে নির্দেশনা পাঠ করতে দেখা যায়। একই ভিডিওতে অন্য একজনকে স্মার্টফোন ভাঙতে দেখা গেছে।

 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করলে তার ফোন ভেঙে ফেলা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইন ও শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার লিখিত অনুমোদন নিয়ে ছাড় পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আফগানিস্তানের বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি সব জায়গায় একইভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। কোথাও এটি শুধু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, আবার কিছু শহর ও প্রদেশে নারী, সাধারণ নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ওপরও এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।

 

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর তালেবানের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে দুই দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে সময় কর্তৃপক্ষ ‘অশ্লীলতা প্রতিরোধ’ এর কথা বললেও সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ওই ইন্টারনেট বন্ধের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্যাংকিং সেবা, জরুরি সেবা এবং বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

 

 

 

এছাড়া সরকারি নথি ও বৈঠকের তথ্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনাও তালেবান প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্মকর্তারা ছবি তুলে বা তথ্য সংরক্ষণ করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে বাইরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

তালেবান সরকারের ধারণা, কর্মকর্তারা কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন, যা তাদের কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

 

 

তাই নতুন এ সিদ্ধান্তকে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, বরং আফগানিস্তানে তথ্যপ্রবাহ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

নোয়াখালীর সদর, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে ৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় নোয়াখালীর উদ্যোগে ১৭ ও ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানে জেলার সুধারাম মডেল থানাধীন দত্তেরহাট ও সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা, সেনবাগ উপজেলার ৩ নম্বর ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মতইন গ্রাম এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৩ নম্বর চাষীরহাট ইউনিয়নের রথি গ্রামে অভিযান চালানো হয়।
১৭ জুন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিয়া তাবাসসুম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইয়াবা সেবনের দায়ে মো. বাদশা (৩০) ও ফখরুল ইসলাম রানা (২৮) নামের দুইজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
একই দিনে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাছরিন আকতার ইয়াবা সেবনের দায়ে কামাল উদ্দিন সুজন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়া ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুকসুদুস সালেহীন, মোসাদ্দেক হোসেন ও মো. সেজান আহম্মেদ পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লিটন মিয়া (৫৪), মো. শামীম হোসেন (২৭), জোবায়ের ব্যাপারী (২৩) ও মোহন হোসেন (১৯)-কে ইয়াবা সেবনের অপরাধে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় নোয়াখালীর উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এমপিরা ‘ঋণখেলাপি’ নন, ‘ঋণগ্রস্ত’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, কড়া জবাব রুমিনের

 

জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) ‘ঋণখেলাপি’ বলা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আইনিভাবে বর্তমান সংসদের কোনো এমপি ‘ঋণখেলাপি’ নন, তারা বড়জোর ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন। 

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির কড়া জবাব দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল (রিসিডিউলিং) করা হয় এবং উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে নির্বাচন করা হয়, তা সবারই জানা। 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

 

 

 

‘ব্যাংকগুলো সরকারকে কীভাবে ঋণ দেবে?’
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগ যদি একপাশে সরিয়েও রাখি, ব্যাংক সরকারকে ঋণ দেবে কোথা থেকে? এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে, দেশে মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

এর সঙ্গে অবলোপন, পুনঃতফসিল করা এবং মামলার কারণে আটকে থাকা টাকা—যেটা এখনো খাতায় তোলা হয় নাই, তা যোগ করলে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ৫৯.৭৩ শতাংশ। ব্যাংকগুলো চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপানো ছাড়া উপায় থাকে না, যাকে আমরা ‘হাই পাওয়ারড মানি’ বলি। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে।

 

 

 

এসময় সংসদে ফ্লোর নিয়ে বর্তমান সংসদের মর্যাদা তুলে ধরে ফজলুল হক মিলন বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সবাই বলছেন যে এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে, একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আমরা সম্মানিত হয়েছি, দেশবাসীও সম্মানিত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে কলুষিত করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উচ্চে বলে আমরা মনে করি।

 

 

 

নিজের ভাবমূর্তি নিজেরা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না, কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাটো করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে—‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’। (এ সময় তিনি প্রথমে ভুলবশত অন্য এক সংসদ সদস্যের নাম নিলেও পরে উল্লেখ করা হয় যে কথাটি রুমিন ফারহানা বলেছিলেন)। 

 

 

 

এর প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মিলন বলেন, কথাটি যেই বলুক, বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে—‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টিকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়? 

 

 

 

বক্তব্যের শেষে স্পিকারের রুলিং চেয়ে তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব, আপনি এই শব্দটি এখান থেকে এক্সপাঞ্জ করেন। আর ভবিষ্যতে বক্তব্য রাখার সময় নিজেদের মানসম্মান হানি হয়, অতি উৎসাহিত হয়ে এমন কথা যেন আমরা না বলি, সেই বিনীত অনুরোধ সবার প্রতি রাখছি। 

 

 

 

‘এটি ঋণখেলাপিদের সংসদ’
অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম অধিবেশনেও অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্যের কত ঋণখেলাপি রয়েছে, তার সংখ্যা উল্লেখ করেছিলাম, তবে সম্মানের কারণে নাম প্রকাশ করিনি। এখন যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তাদের দায়। সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলবে।

 

 

 

তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংসদকে আমরা সার্বভৌম বলি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারি, তাহলে কোথায় বলব? আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের শব্দ এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার মতো কোনো বক্তব্য নয়। 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ব্যাখ্যা ও আপত্তি
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের উচিত। এখানে যারা আছেন, কেউ ঋণখেলাপি নন। নির্বাচনী আইন (আরপিও) এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুসারে, আদালত কর্তৃক কেউ ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হন। তার নমিনেশন অবৈধ হয়ে যায়। 

 

 

 

তিনি বলেন, যাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে ব্যাংকের বা প্রাইভেট মামলা ছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে সেগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পরই তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন, কিন্তু ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে তাদের ডিফেম (মানহানি) করা হচ্ছে। এটি মানহানিকর বক্তব্য, এটি এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত। 

 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রুমিন ফারহানার পাল্টা জবাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে আইনি ফাঁকফোকরের বিষয়টি তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টিআইবি সম্প্রতি বলেছে, এই সংসদের সদস্যদের কাছে দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।’ 

 

 

 

আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে রিশিডিউলিং করা হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সিআইবির (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম আসার পর কীভাবে রিট পিটিশন দাখিল করে তা স্টে (স্থগিত) করে ইলেকশন করা হয় এবং এরপর আবারও সুদ দেওয়া বন্ধ করা হয়, সেটাও আমরা ভালো বুঝি। 

 

দিনাজপুরের ২৯ বিজিবির অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক চোরাচালান জব্দ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও দাইনুর সীমান্তে পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন এবং ইস্কফ সিরাপ জব্দ করেছে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এসব চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ২০০ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ দাইনুর বিওপি’র একটি চৌকস দল দীর্ঘ পরিকল্পনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩,২০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং ৪৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ আটক করা হয়। অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে আসছে। ভবিষ্যতেও মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল আটক এবং এর সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে বিজিবির এই ধরনের চিরুনি অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশনের দাবিতে শহরজুড়ে পথসভা

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথে রায়পুর স্টেশন এলাকায় জংশন করার দাবিতে আগামি শনিবারের মানববন্ধনকে সফল করার লক্ষ্যে শহরজুড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

“সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন’ এর উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শহরের চৌরাস্তা মোড়, বড়পুলের পশ্চিমপাড়ে, ১ নম্বর খলিফা পট্টির মাথায়, বড় বাজার, বাজার স্টেশন চত্বর ও মুক্তাপ্লাজার সামনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তারা বলেন, নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথকে রায়পুর স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত এবং রায়পুর স্টেশনকে উত্তরাঞ্চলগামী রেল যোগাযোগের কেন্দ্রীয় জংশন হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে শহরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

 

এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুল, জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, রেল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক, কবি জাহিদ হোসেন ও সঞ্জয় গৌড়।

 

 

৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ নাকি ৪-৪-২? যে ফর্মেশনে এবারের বিশ্বকাপে বাজিমাত

 

৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৫-৩-২—ফুটবলের ধারাভাষ্যে এই সংখ্যাগুলো প্রায়ই শোনা যায়। অনেকের কাছে এগুলো ধাঁধা। যদিও জটিল কিছু নয়। সহজ বাংলায়, গোলরক্ষক বাদ দিয়ে মাঠের ১০ ফুটবলারকে কোন ছকে সাজানো হচ্ছে, সেটাই বোঝায় এই বিন্যাস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ফর্মেশন অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কোচেরা সাধারণত নিজেদের পছন্দের ফর্মেশন নিয়ে মাঠে নামলেও প্রতিপক্ষ, ম্যাচের পরিস্থিতি কিংবা নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের সামর্থ্য মাথায় রেখে পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। অনেক দল এক ছকে ম্যাচ শুরু করেন, শেষ করেন অন্য ছকে।

 

 

 

সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ছক

গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ৪-৪-২ ফর্মেশন। ৪৮টি দলের মধ্যে ১২টি দল এই সিস্টেমে খেলেছে। চার ডিফেন্ডার, চার মিডফিল্ডার ও দুই ফরোয়ার্ডের এই ঐতিহ্যবাহী ফর্মুলা ভারসাম্যের জন্য পরিচিত। তবে সাফল্যের নিরিখে খুব একটা এগিয়ে নেই। মাত্র দু’টি জয় এসেছে এই ছকে—স্কটল্যান্ডের হাইতির বিপক্ষে এবং ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট।

অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৩-১ ব্যবহার করেছে ১০টি দল। এখানে দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেন, তাদের সামনে তিন আক্রমণভাগের ফুটবলার একমাত্র স্ট্রাইকারকে সাহায্য করেন। এই ছকে জিতেছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া।

আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে ৪-১-২-৩

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে সবচেয়ে সফল ফর্মেশনগুলোর একটি ৪-১-২-৩। চার ডিফেন্ডার, এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, দুই মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে গড়া এই ছকে খেলেছে আটটি দল। মেক্সিকো, নরওয়ে, ঘানা এবং কলম্বিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে এই ফর্মেশন ব্যবহার করে। একমাত্র রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার থাকায় আক্রমণে বাড়তি ফুটবলার পাওয়া যায়। দুই উইঙ্গার ও একজন সেন্টার ফরোয়ার্ডকে ঘিরে তৈরি হয় দ্রুত উপরে ওঠার সুযোগ। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার স্পেন ও নেদারল্যান্ডসও এই ছক বেছে নিয়েছে।

 

 

পুরনো ছক, নতুন ভাবনা

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা খেলছে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ জয়ে মেসির হ্যাটট্রিকের পিছনেও ছিল এই পরিচিত ছকের কার্যকারিতা। তিন মিডফিল্ডার সামনে দুই প্রান্তের আক্রমণভাগের ফুটবলার ও স্ট্রাইকারকে বল জোগান দেন। ১৯৭০ সালের পেলের ব্রাজিল এই ফর্মেশন কাজে লাগায়। আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপও জিতেছিল একই ছকে।

 

 

 

অন্যদিকে ৫-৩-২ ফর্মেশন ব্যবহার করে এখনও কোনও দল জিততে পারেনি। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে চমক দেখিয়েছে কঙ্গো। চেক প্রজাতন্ত্র একমাত্র দল হিসেবে খেলেছে ৫-২-৩ ছকে। অস্ট্রেলিয়া ৫-৪-১ ফর্মেশন ব্যবহার করে তুরস্ককে ঘোল খাইয়েছে।

 

 

 

৩-৪-১-২ ফর্মেশনে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া খেলেছে ৩-৪-৩ ছকে। জার্মানি এই বিন্যাসেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাত গোল করেছে।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে ইইউ, বরাদ্দ দেড় কোটি ইউরো

বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক কোটি ৪০ লাখ ইউরো (১৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করবে।

ঘোষিত ইইউ-এর এই অর্থায়ন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান ২৩ মিলিয়ন (দুই কোটি ৩০ লাখ) ইউরোর কয়েক বছরের (২০২৪-২০২৭) একটি চুক্তির অংশ।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সহায়তা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা পাওয়া, মৌলিক চাহিদা পূরণ, একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন।

 

 

সিরাজগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জে উদ্বোধন করা হলো তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফলমেলা। করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে বাজার স্টেশন পৌর মুক্তমঞ্চে এই ফলমেলার উদ্বোধন করা হয়।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির আয়োজনে তিনদিনব্যাপী ফলমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম মনজুরে মাওলার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ারুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ, হর্টিকালচার সেন্টার, খোকশাবাড়ীর সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস. এম. নাসিম হোসেন, তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শমিষ্ঠা সেনগুপ্ত প্রমূখ।

 

 

এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষিপরিবার, বাগান ও নার্সারি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইদী রহমান।
উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশীয় ফলের উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদ, সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল রপ্তানির সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ. কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আনারস ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে। নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

 

উল্লেখ্য, জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য, পুষ্টিগুণ এবং আধুনিক উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।

 

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণে কৃষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাটে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুর রহিম ওরফে কাইল্যা মন্ডল (৫৩) নামে এক কৃষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার জালিয়াপাড়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন ওরফে জমির মন্ডলের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রিনাত ফেরদৌসী রিনিত রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট সকালে ওই শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এসময় আসামী আব্দুর রহিম শিশুটিকে শশা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের শশা ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে অসুস্থ্য হলে বাবা মাকে বিষয়টি খুলে বলে। এরপর তাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট জেলারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ৩০ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ ৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল সাজিনাজে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন শিশুর মা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আমাতুল মাকনুন নামে ওই নারী আটজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (তৃতীয়) আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী কনসালটেন্ট ডা. আনোয়ার হোসেন (৫০), সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান (৪৫), শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান (৬০), কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ (৫০), ডা. মো. তানিম সাফায়েত চৌধুরী আলভি (৪৫) ও সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী(৫২)। এছাড়া সাজিনাজ হাসপাতালে ওই সময়ে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদেরও আসামি করা হয়েছে।

বাদীর আদালতে দাখিলকৃত আর্জি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হলে ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তীতে তিনি ঈদুল আজহার ছুটিতে গেলে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন বাচ্চার নিয়মিত চিকিৎসা দেন।

চিকিৎসার ৫ দিনের মাথায় ভিজিটিং আওয়ারে বাচ্চাকে দেখতে গেলে বাম হাতে একটি ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং চিকিৎসকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কিছু না’ বলে তারা এড়িয়ে যান৷ পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল ছুটি থেকে ফিরে এসে বাচ্চার হাত দেখালে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চেয়ে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাননি।

পরবর্তীতে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে না। ওই সময় হাতের কালোভাব শুরুতে কিছুটা কমলেও দুই একদিন পর আবারও তা খারাপের দিকে যাওয়ার কারণে পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদের মাধ্যমে ছোট একটা অপারেশন করানো হয়৷

 

 

এরপর তারা আইসিইউ এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ব্যান্ডেজ খুলে দেখে বাচ্চার হাতের কবজি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন এবং এর কারণে বাচ্চার পুরো শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। পরবর্তীতে ইবনেসিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অপারগতা প্রকাশ করলে এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওইখানে ডাক্তারদের পরামর্শমতে বাম হাত কেটে ফেলা হলেও বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।

 

 

গত ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নবজাতক শিশুটির মায়ের একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে সাজিনাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

 

 

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পূর্বের হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় শিশুটির ডান পায়ের তালুতে কাটা দাগ ও বাম হাতের উপরের অঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফোলা বিদ্যমান ছিলো যা ভর্তির সময়ই নবজাতকের পিতাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী আমাতুল মাকনুন কালবেলাকে জানান, সিজারের পর থেকে আমি অসুস্থ থাকায় এতদিন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন সুস্থতা অনুভব করলে আদালতে এই ব্যাপারে মামলা করতে এসেছি। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।

 

 

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা জানান, ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালত আমাদের দেওয়া আর্জি আমলে নিয়ে সিআইডিকে এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

মামলায় অভিযুক্ত সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী জানান, আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আগাব।

 

 

দুই মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত করল আদালত

সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

 

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক।

এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগে রাত সোয়া ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’

জানা যায়, সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এবং হবিগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর থানার একটি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার আরও দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ব্যারিস্টার সুমন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বৃহস্পতিবার ওই দুই মামলার জামিন স্থগিতের আদেশ দেন।

 

 

সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারে অভিনেতা জোভান আহত

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন অভিনেতা। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জোভান। একই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভক্ত-অনুরাগীদের নিরাপদে যানবাহন চালানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

ফেসবুক পোস্টে জোভান লেখে, ‘কিছুদিন আগে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে আমি বাইক এক্সিডেন্ট করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু ঘটনাটি আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।’

 

 

তিনি আরও লেখেন, “রাস্তায় আমরা অনেক সময় ভাবি, ‘আরেকটু স্পিডে গেলে কী হবে?’ বা ‘আমি তো ভালোই চালাই।’ কিন্তু দুর্ঘটনা কখন, কীভাবে, কার সঙ্গে ঘটবে—তা কেউ জানে না। কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা জীবন বদলে দিতে পারে।”

সড়কে সবসময় নিরাপত্তার সঙ্গে বাইক চালানোর আহ্বান জানিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কারণ আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে আপনার পরিবার, আপনার প্রিয় মানুষগুলো।গন্তব্যে একটু দেরিতে পৌঁছানো ভালো, কিন্তু নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

অভিনেতার এই পোস্টে তার ভক্ত-অনুরাগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মন্তব্য করছেন।

ক্যাম্পের আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া শিবির

দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন ক্যাম্পের কাছে সন্দেহজনক একটি ড্রোন দেখা যাওয়ার পর সেটি নামিয়ে দিয়েছে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী। দেশটির ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘অননুমোদিত ড্রোন’ শনাক্ত এবং পরে সেটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়।

 

 

ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ কোরিয়া দলের অনুশীলন চলাকালীন সময়। দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো জানান, অনুশীলনের সময় আকাশে একটি ড্রোন দেখা যায়, তবে তা অনুশীলন শুরুর আগেই ছিল, ফলে দলের প্রস্তুতিতে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের শিবিরের গোপন কথা জানার জন্য ড্রোন পাঠানো হয়েছিল কি না তা জানি না। তবে যা হয়েছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় আমাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনটি দক্ষিণ কোরিয়া দল বা তাদের কোচিং স্টাফকে নজরদারির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মেক্সিকোর ফেডারেল এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরে—এই তিনটি আয়োজক শহরের স্টেডিয়াম, অনুশীলন ক্যাম্প ও ফ্যান জোনের নিরাপত্তা এলাকাগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

 

 

এর আগে মার্চ মাসে মেক্সিকোর সরকার ‘প্ল্যান কুকুলকান’ নামে বিশ্বকাপ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যেখানে প্রায় এক লাখ সেনা ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এই পরিকল্পনায় স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, সড়ক ও হোটেলে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দল, কর্মকর্তা ও দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে কানাডায় বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠের ওপর অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ৭ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কানাডার নারী ফুটবল দল নিউজিল্যান্ডের একটি অনুশীলন সেশন নজরদারির অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিল। ওই ঘটনায় কয়েকজন কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করা হয় এবং প্রধান কোচ বেভ প্রিস্টম্যানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কানাডা ফুটবল দলকে প্রতিযোগিতা থেকে ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তিও দেওয়া হয়।

 

 

কানাডা ফুটবল কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, ওই ঘটনা ছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়, বরং তদারকির ঘাটতির একটি ধারাবাহিক সমস্যার অংশ।

শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণমন্ত্রী

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে হত্যার শিকার সাত বছরের শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে তিনি শিশু নন্দিনীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে তাদের বাড়িতে যান।

 

 

শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, নন্দিনীর হত্যা একটি নির্মম-নৃশংস ও বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। যারা ছোট্ট শিশুকে হত্যা করতে পারে তারা আসলে মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যা উদাহরণ হিসেবে থেকে যায়। ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের কাজে যুক্ত না হয়।

 

 

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ইতোমধ্যে তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে হত্যাকাণ্ডটি সে ঘটিয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন এখানে এসেছিল শান্তি রক্ষার জন্য। যাওয়ার পথে যারা আক্রমণ করেছে, প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা চায়নি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা একটা ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করতে চায় তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সেটির গোয়েন্দা রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেব। ইতোমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে। সাধারণ জনগণের এখানে ভয়ের কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

নতুন পে-স্কেল: সুবিধা বাড়বে নাকি কমবে?

নবম জাতীয় পে স্কেলের বেতন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় দেওয়া বিশেষ সুবিধা (স্পেশাল ইনসেনটিভ) বাতিল করা হবে। বিশেষ সুবিধাকে মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল চালুর ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনকাঠামো-সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

 

 

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। তবে নবম বেতনকাঠামো কার্যকর হলে এ সুবিধা আর আলাদাভাবে বহাল থাকবে না।

 

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

 

ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে নতুন বেতনকাঠামোর মধ্যেই তা সমন্বয় করা হবে।

সরকারি উদ্যোগে বিশ্বকাপ যাত্রা, কানাডায় উড়লেন কাতারি ভক্তরা

কানাডার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে বিশেষ সরকারি উদ্যোগে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে পৌঁছেছেন প্রায় ১ হাজার কাতারি সমর্থক। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির চার্টার করা বিমানে তারা ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছান।

 

 

এই সমর্থকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে শহরের বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে, যার মধ্যে ফেয়ারমন্ট ও জেডব্লিউ ম্যারিয়ট পার্ক উল্লেখযোগ্য। শহরের কেন্দ্রাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি নজর কাড়ছে, যেখানে তারা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘দারবুকা’ বাজিয়ে দলকে উজ্জীবিত করছেন।

 

 

দলের অধিনায়ক আবদুলআজিজ হাতেম সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যারা এই যাত্রা সম্ভব করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, দল তাদের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং গর্বিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

কাতারের সোশ্যাল অ্যান্ড স্পোর্ট কন্ট্রিবিউশন ফান্ড এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘কাতারি ফ্যানস ডেলিগেশন প্রোগ্রাম’ পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সমর্থকদের বিমান ভাড়া, হোটেল, স্থানীয় পরিবহনসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্টেডিয়ামে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করা, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থানরত কাতারি শিক্ষার্থীদেরও ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে স্বাগতিক কানাডার লাল জার্সিধারী সমর্থকদের তুলনায় কাতারি সমর্থকদের সংখ্যা অনেক কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল রপ্তানিতে অন্যতম শীর্ষ দেশ কাতারের জনসংখ্যা প্রায় ৩.২ মিলিয়ন। দেশটি ২০২২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে এবং ইতিহাসে প্রথম আয়োজক দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে হেরেছিল।

 

 

এবারের আসরে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করছে কাতার। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে যোগ করা সময়ে বোলেম খৌখি হেডে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় আনেন।

 

 

অন্যদিকে স্বাগতিক কানাডাও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের মাধ্যমে। সেই ম্যাচে সাইল লারিন ৭৮তম মিনিটে সমতা ফেরানো গোলটি করেন।

এসএসএফের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী, পরখ করলেন নিশানার দক্ষতা

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় এই ফায়ারিং রেঞ্জে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই নিশানা পরীক্ষা করেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বা সুরক্ষার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হেনস্থা বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকে এসএসএফ-কে বিশেষ নজর দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে এসএসএফের সমন্বয়কারী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ বয়স থেকেই মায়ের সরকারপ্রধান থাকাকালীন তিনি এই এলিট বাহিনীর পেশাদারত্ব ও কার্যক্রম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

 

 

এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করলেন সংসদ সদস্য মো: কামরুজ্জামান রতন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টার উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়ন এর বড় কালীপুরা থেকে তনু সরকারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর সংরক্ষণে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ পরিদর্শন করেন তিনি,এরপর উপজেলা পরিষদ হল রুমে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৩৭জন অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান প্রদান করেন।এছাড়াও তিনি ভবেরচর বাজারস্থ নবনির্মিত কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া,অফিসার ইনচার্জ মো:হাসান আলী,উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন,ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার,উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব নাজির শিকদার,উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রাসেল দেওয়ান,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো:মিজানুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী।

বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

শেষ হলো আরেকটি অধ্যায়। দীর্ঘ দুই বছরের হাসি-কান্না, খুনসুটি আর শেখার পালা চুকিয়ে আবেগঘন পরিবেশে বিদায় নিলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন কলেজ মিলনায়তনে “বিদায় অনুষ্ঠান-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছিল বেলুন, ফেস্টুন ও ফুলে সজ্জিত। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কলেজের সম্মানিত সভাপতি  তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাবা নুসরাত জাহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়, বরং তোমাদের নতুন পথচলার সূচনা। বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ তোমাদের শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সততা, নিষ্ঠা আর মেধাকে পাথেয় করো। শিক্ষকদের আশীর্বাদ আর প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাও। আসন্ন এইচএসি পরীক্ষায় তোমাদের সাফল্য কামনা করি।”

শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “এই শ্রেণিকক্ষ, এই বারান্দা, শিক্ষকদের শাসন আর সহপাঠীদের ভালোবাসা — আজ সবই স্মৃতি। আপনাদের দেওয়া শিক্ষাই আমাদের আগামীর পথের পাথেয়।”

শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে সিনিয়র আপুদের বিদায় জানায়। তাদের আবেগী পরিবেশনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকের চোখেই জল চলে আসে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, স্মারক উপহার ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। জাতীয় সংগীতের সুরে যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়, তখন পুরো ক্যাম্পাসে নেমে আসে এক বিষণ্ণ নীরবতা।

বিদায়ের বেদনা আর নতুন স্বপ্নের প্রত্যয় নিয়ে এক আবেগঘন দিন পার করলো বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ পরিবার।

রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর কোন রুটে কোন কোম্পানির বাস চলাচল করবে, তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি রুটের বাসমালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে।’

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোকে একটা কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ যেসব জায়গায় বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে না। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার রাস্তায় একই রং, নির্দিষ্ট মান ও ফিটনেস বজায় রেখে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে বাস চালাতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার ইলেকট্রিক যানকে উৎসাহিত করছে। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।’

ঢাকা শহর থেকে ৪টি বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে। মহাখালী বাস টার্মিনাল যাবে উত্তরার আবদুল্লাহপুরের কাছাকাছি জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে। অন্যদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।’

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশ দম্পতি

খুলনায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের মামলায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগীর মা মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপ‌লিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবাল গ্রেপ্তার পু‌লিশ দম্প‌ত্তি‌কে কারাগারে প্রেরণের নি‌র্দেশ দেন।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- সঞ্জয় কুমার সাহা এবং তার স্ত্রী পরি রানী সাহা। তারা দুজনই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় গিয়ে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার মেয়ে ওই বাসায় কাজ করছিল। মেয়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের কথা তিনি জানতেন না। মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই কিশোরী। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বুধবার দুপুরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

 

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার অজুহাতে গৃহকর্মী মিলনের ওপর চড়াও হন এএসআই সঞ্জয়ের স্ত্রী পপি রানী সাহা। তিনি মিলনকে মারধর করার পাশাপাশি তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেন। নির্যাতনের এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার বিকেলেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে আসে এবং এএসআই সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেয়।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, গতকাল বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের ভবনের ভেতরে একজনকে নির্যাতন করতে দেখেন। দূর থেকে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় রেকর্ড করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গরম কড়াই দিয়ে ওই তরুণীর শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

ওসি আরও বলেন, বুধবার থেকে এই পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। অবশেষে আজ দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা দুজনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

গ্রুপ পর্ব শেষ না হতেই নকআউটে যারা

বিশ্বকাপে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে কারা? সেই দলের নাম জানা যেতে পারে আগামীকাল শুক্রবার সকালেই। এ গ্রুপের ম্যাচে গুয়াদালাহারায় সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া। এ ম্যাচে জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমনকি পরের ম্যাচে হারলেও।

 

 

বিশ্বকাপে প্রতিটা দলেরই একটি করে ম্যাচ খেলা শেষ হয়েছে। আজ সকালেই গ্রুপ পর্বের শেষ দল হিসেবে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ফেবারিটদের বেশির ভাগই নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালো ফল করেছে।

 

 

তবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে স্পেন। তারা ড্র করেছে কেপ ভার্দের মতো দলের সঙ্গে। স্পেনের জন্য অবশ্য নকআউটের দরোজা এখনো খোলা আছে। তবে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার ভাগ্য হতে পারে মেক্সিকো কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার। এ ছাড়া বি গ্রুপের ম্যাচ আছে আজ রাত ও কাল ভোরে। তবে এ গ্রুপে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ম্যাচ শেষে চার দলেরই সংগ্রহ এক পয়েন্ট করে। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলে কেবল নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে তারা।

বি গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া এবং কানাডা-কাতার। এ ছাড়া এ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-চেক প্রজাতন্ত্র। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছে মেক্সিকোর কাছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র পরাজিত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে।

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের ইঙ্গিত পাকিস্তানের

পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের সবচেয়ে নতুন ও অত্যাধুনিক সাবমেরিন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ বঙ্গোপসাগরে মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

 

 

পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক বলেন, সম্প্রতি নৌবহরে যুক্ত হওয়া ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গরকে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে এ অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর তৎপরতা খুবই সীমিত ছিল। খবর মেরিটাইম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেয়ার্ড মেরিটাইমের।

 

 

ফারুক জানান, হ্যাঙ্গর এবং একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন যুক্ত হলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করবে।

চীন থেকে নির্মাণ শেষে সাবমেরিনটি পাকিস্তানে আনার পথে শ্রীলঙ্কায় যাত্রাবিরতিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সে সময় চীন থেকে দেশে ফেরার পথে পিএনএস হ্যাঙ্গরকে নিরাপদে নিয়ে আসা পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহরের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে উল্লেখযোগ্য নৌ উপস্থিতি রয়েছে ভারতের। বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের দায়িত্বাধীন এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর কার্যক্রম এতদিন মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও আরব সাগরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসি থেকে রোনালদো—তারকাদের জার্সিতে একই ধরনের ‘প্যাচ’ কেন?

এবারের ফিফা বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জার্সিতে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন বিশেষ প্যাচ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জার্সির হাতায় সোনালি রঙের একটি বিশেষ ব্যাজ নজর কাড়ছে, যা তার দলের অন্য সদস্যদের জার্সিতে নেই।

 

 

একই ধরনের ব্যাজ দেখা গেছে আরও কিছু তারকা খেলোয়াড়ের জার্সিতেও, যা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা।

 

 

এই প্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো গোল্ডেন বুটজয়ীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ব্যাজ। রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইন, কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে ছয় গোল করে শীর্ষ স্কোরার হওয়া হামেস রদ্রিগেজ—সবাই এই বিশেষ সম্মানের আওতায় এসেছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শুধু বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ীরাই এই সোনালি ব্যাজ পরতে পারেন।

এছাড়া বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে আলাদা সোনালি ব্যাজ, যেখানে ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নাম যুক্ত রয়েছে। এই ব্যাজ মূলত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জার্সিতে থাকা ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ। দুই মহাতারকা এবারের আসরে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড। তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বিশেষ ব্যাজ চালু করেছে।

এই ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজে রয়েছে সোনালি বিশ্বকাপ লোগো, খেলোয়াড়ের নাম, দেশের পতাকা এবং ব্যক্তিগত উদযাপনের প্রতীক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ব্যাজে তার বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন এবং লিওনেল মেসির ব্যাজে তার দুই হাত প্রসারিত উদযাপনের চিত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ ছিল ২০০৬ সালে, এবং এবারের আসরেই সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে তাদের অংশগ্রহণকে।

 

 

বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবে করেছেন লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন, যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান। পরবর্তী ম্যাচে আরেকটি গোল করলেই তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন।

 

 

অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শুরুটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে গোলশূন্য থেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যেখানে দলও ১-১ গোলে ড্র করেছে। তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

 

 

বিশ্বকাপে নতুন অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ প্যাচ যুক্ত করেছে ফিফা, যেখানে ‘Debut FIFA World Cup’ লেখা ব্যাজ তাদের প্রথম অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একইভাবে পাঁচ বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের জন্য রয়েছে ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ, যা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান জানায়।

 

 

এই তালিকায় রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার ও জাপানের ইউতো নাগাতোমো। গোলরক্ষকদের জন্যও রয়েছে আলাদা স্বীকৃতি, যেখানে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও বেলজিয়ামের থিবু কোর্তোয়ার মতো গোল্ডেন গ্লাভসজয়ীরা বিশেষ এই প্যাচ পাচ্ছেন।

 

 

ফিফার মতে, এসব প্যাচের মূল উদ্দেশ্য হলো ফুটবলের ইতিহাসে অবদান রাখা কিংবদন্তিদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দেওয়া। ম্যাচ শেষে এসব ব্যাজ সংরক্ষণযোগ্য স্মারক হিসেবে রাখা হবে, যা ভবিষ্যতে ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে ভোজিনহার, প্রথমবার মাঠ থেকে খেলা দেখবেন মা

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা ফি মওকুফ করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

 

 

৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, উচ্চ ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচের কারণে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বকাপ দেখতে পারছিলেন না। কার্লো-ন্যাশনালিস্টসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

 

 

বিষয়টি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে তিনি কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেফ্রিজ বলেন, কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’-এর লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্যে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দিত হলেও ভোজিনহার মায়ের অনুপস্থিতির খবর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানের ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়া উচিত নয়।

জেফ্রিজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ম অনুযায়ী সব ভিসা ফি মওকুফ করেছে এবং ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা এভোরা আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। বর্তমানে মা-ছেলের পুনর্মিলনের জন্য মায়ামিতে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

 

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকারের প্রতিনিধি এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রায় এই মানবিক উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফলের পর এখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও ভোজিনহা মাঠে নামবেন। মায়ের উপস্থিতি তাকে দিবে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ছাত্রলীগের মিছিল

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে টানা দ্বিতীয় দিন মিছিল করলো সিরাজগঞ্জ জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে কামারখন্দের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের পলাশডাঙ্গা যুবশিবির স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় আনন্দ মিছিল করে তারা।

 

 

এদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে নবগঠিত জেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই মিছিলে অংশ নেয়। দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

 

 

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে তৌসিফ (৯) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌসিফের মৃত্যু হয়। মৃত শিশু তৌসিফ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরমিতা গ্রামের আজাদ উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৪ শিশু। বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৭ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ শিশুদের মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

তোমাকে চাই

মহসিন আলম মুহিন
আমি শুধু তোমাকে চাই,
আর কিছুই চাওয়ার নাই।
ভোরের রবি উঠবে যখন,
পাশে তুমি থেকো তখন।।
মাধবী রাতে নীল জ্যোৎস্নায়,
তুমিই থেকো মোর আঙিনায়।
পৃথিবী ভুলে তোমার আঁচলে,
ভেসে বেড়াবো প্রেমের ভেলায়।।
মেঘ যেমন আকাশে উড়ে,
তুমিই রবে আমায় ঘিরে।
বৃষ্টি পড়লে টাপুর টুপুর,
তুমি এসো লাগবে মধুর।।
আমার তনু, আমার হিয়া,
তোমাকেই চায় পরাণ প্রিয়া।
তুমিই থাকলে সবই পূর্ণ,
তুমি হীনা কেবলই শূন্য।।

হিলিতে জাতীয় ফল মেলা অনুষ্ঠিত: প্রদর্শিত হলো ৪৪ প্রজাতির ফল

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফল মেলা।
আজ বৃহস্পতিবার ১৮ই জুন বেলা ১২টায় হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগমের সভাপতিত্বে মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দেশি-বিদেশি ফলের বিশাল সমাহার। দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের ফল চেনার সুবিধার্থে মেলায় মোট ৪৪ প্রকারের ফলের প্রদর্শনী করা হয়। স্টলগুলোতে সাজানো উল্লেখযোগ্য ফল ও তাদের জাতগুলোর একটি তালিকা ছিল আম (গৌড়মতি, নাগফজলি, আশ্বিনা, বারি আম-১১, বারি আম-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, ফজলি ইত্যাদি), মাল্টা ও ড্রাগন (ভিয়েতনামী মাল্টা, বারি মাল্টা-১ এবং বারি ড্রাগন-১)। অন্যান্য ফলের মধ্যে ছিল পেয়ারা, বেল, আমড়া, বিলিম্বি, শরীফা, জাম, কাঠবাদাম, কলা, ডাব, কাঁঠাল, করমচা, ডেউয়া, লটকন, কামরাঙ্গা, চালতা, অড়বরই, জাম্বুরা ও তাল। বিশেষ জাতের ফলের মধ্যে ছিল স্মার্ট বক্স তরমুজ, শাহী পেঁপে, হানি কুইন আনারস, বারি সফেদা-১ এবং স্থানীয় উন্নত জাতের লেবু।
আলোচনা সভায় বক্তারা মানবদেহে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বারো মাস ফল চাষ ও সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব।
মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলগুলো পরিচিত করে তুলতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছাড়াও তার রাজনৈতিক পরামর্শক কামরান ধাঙ্গাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।

 

 

বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। এর মধ্যে ৭৪ জন ইতোমধ্যে পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

 

 

আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচিত ইকরা মৃত্যু: আদালতে আত্মসমর্পণ অভিনেতা আলভীর

স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে নিয়ামত উল্লাহ ভুইয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে শুনানি হবে।

 

 

 

এর আগে ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা তানভীর আহমেদ আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও দুই বছর ধরে অবহেলা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

 

প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উধাও কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’

নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, প্রলোভনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুরে আলম নামে সৌদি প্রবাসী। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকট আত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।

 

 

 

লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম অভিযোগ করেন, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

নুরে আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নকিব কসাই নিজেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত আনুমানিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলম দাবি করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।

 

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

নুরে আলম আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জ্বিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

 

 

একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলাতে চান ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট লুলা!

চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক শুরু নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মজার ছলে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। দলের পারফরম্যান্স সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেছেন, ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে সই করানোর কথা ভাবছেন তিনি।

 

 

 

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে, যা তাদের খেলার বেশ কয়েকটি দুর্বলতা জনসম্মুখে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা বেশ দারুণ শুরু করেছে; মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি একাই করেছেন তিন গোল।

 

 

 

বিশ্বকাপে নিজ দেশের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লুলা হাসতে হাসতে বলেন, আমি ভাবছিলাম ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য মেসিকে সই করাবো।

তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মরক্কোর সঙ্গে ড্র করাটা ব্রাজিলের জন্য “খুব বড় কোনো চিন্তার বিষয়” নয়। কারণ তার মতে, মরক্কোই এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।

 

তিনি বলেন, অনেকেই বলেন যে যখনই ব্রাজিলকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করা হয়, ঠিক তখনই তারা বিশ্বকাপ জেতে… দেখা যাক কী হয়।

 

 

আগামী শুক্রবার নিজেদের পরের ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

 

 

 

এদিকে সবার নজর এখন ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের দিকে। চোট এবং ফর্মহীনতার কারণে প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর দলে ফিরেছেন তিনি। গত মাসে পায়ের পেশিতে (কাফ মাসল) চোট পাওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো দলের সঙ্গে অনুশীলনে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা।

 

 

 

মাঠে হালকা অনুশীলনের জন্য দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাসতে হাসতে নেইমার চিৎকার করে বলেন, তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?

 

 

 

তবে চলতি আসরের ঠিক কবে বা কোন ম্যাচে তিনি মাঠে নামবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

 

 

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

 

স্বপ্নে জীবিত দেখার পর ১৮ দিন পর মৃত তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

দাফনের ১৮ দিন পর ‘কবরের মধ্যে তরুণী জীবিত আছেন’— এমন স্বপ্নের জেরে মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা। অলৌকিক এই গুজবের জেরে কবরস্থানে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। মৃত মরিয়ম ওই বাড়ির দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।

 

 

 

সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্টগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।

 

 

স্থানীয় পাঞ্জেকানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে দিয়ে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্য আলেমদের পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে, এটি অবাস্তব।

 

অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা কবরে মাটি দেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩শ থেকে ৪শ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খোঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে। পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন।

 

 

 

প্রতিবেশী মো. লোকমান লাহারি বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতেন মরিয়ম। কোরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিলেন। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুই দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বাবা-মা ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়।

 

 

 

পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে। আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন তিনি মৃত অবস্থায় রয়েছে। কবর খোঁড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি।

 

 

 

এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোঁড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম, মো. নাজিম, সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন, আমরা শুনেছি তিনি নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুঁড়েছে। বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম তিনি কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।

 

 

 

তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও এক পর্যায়ে জানিয়েছেন, সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল এবং সন্দেহ দূর হয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিলেন তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদের বলেছি যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোঁড়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।

 

বাজারের আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে একটি বাজারের পাঁচটি দোকান। আগুন নেভাতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবুল মোল্যা নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

 

 

 

নিহত বাবুল মোল্যা (৩৫) বোয়ালমারী উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় নসিমনচালক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাজারে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন বাবুল মোল্যাও। একপর্যায়ে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাবুল মোল্যা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন স্থানীয়রা।

 

পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক বাবুল মোল্যাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে। আগুনের লেলিহান শিখায় একের পর এক দোকান গ্রাস করতে থাকলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

 

 

 

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 

 

 

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, জাকির মোল্যার কাপড়ের দোকান, কেসমত আলীর সার কীটনাশকের দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজন নিহত হন এবং তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।