তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন ম্যাট রেনশো।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিসের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় অজিরা। ৬ বলে ১১ রান করা ইংলিসকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। তিনে নামা কুপার কনোলি সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করা কনোলিকে ফেরান নাহিদ রানা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলেন ১৯ বলে ২০ রানের ইনিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।
পাওয়ারপ্লের পর টাইগার বোলারদের উপর চড়াও হন অজি ব্যাটাররা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ম্যাট রেনশো এবং টিম ডেভিড। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন রেনশো এবং ডেভিড। আগ্রাসি ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়েছেন দুজন। দলের ১৪১ রানের মাথাতে ২৬ বলে ৪৫ রান করে থামেন ডেভিড। রেনশ অবশ্য ফিফটি ছুঁয়েছেন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন রেনশো। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরী খেলেছেন ৬ বলে ৮ রানের ইনিংস। রেনশোর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ফিফটির পরেও চলেছে। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন রেনশো। অজিরাও ছুটেছে দুইশ রানের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুইশর খুব কাছে গিয়ে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে টিকে ছিলেন রেনশো। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা।
বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

ভিপিএনের আড়ালে সাইবার অপরাধের বিস্তার, সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
রাত গভীর হলে শহরের গলির ভেতর কিছু দরজা খোলে যা দিনের আলোয় দেখা যায় না। ডিজিটাল দুনিয়াতেও তেমনই একটি দরজা আছে; নাম তার নাম Virtual Private Network (VPN) বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। লাখো ব্যবহারকারীর কাছে এ প্রযুক্তি আজ পরিণত হয়েছে পরিচয় আড়ালের ঢাল, অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে। আর এই অন্ধকারের দরজা দিয়ে যে বিষ ঢুকছে, তা এখন বাংলাদেশের শিশুদের শরীর ও মনকে ধ্বংস করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দরজা কি আরও বেশিক্ষণ খোলা রাখার বিলাসিতা আমাদের আছে? পরিচয় লুকানো মানেই কি সন্দেহজনক নয়?
একজন সৎ মানুষের মুখ ঢাকার কী প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি সরল হলেও এর উত্তর অনেক কিছু বলে দেয়। ভিপিএন ব্যবহারকারীদের বিপুল একটি অংশ প্রযুক্তিটি বেছে নেন নিজের অনলাইন পরিচয় ও অবস্থান লুকাতে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য পরিচয় লুকানোর এত প্রয়োজন কেন? সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ভিপিএন ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পরিচালিত হয় ভূ-অবরুদ্ধ অবৈধ কনটেন্টে প্রবেশ, পর্নোগ্রাফি; বিশেষত শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং সাইবার অপরাধের উদ্দেশ্যে।
বাংলাদেশে যখন কোনো ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বন্ধ করে দেয়, তখন কিছু ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে ভিপিএনের দ্বারস্থ হন। এই প্রবণতা কী ইঙ্গিত দেয়? রাষ্ট্রের আইনি সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশের এই তাড়া কার্যত আইন অমান্যের একটি সংগঠিত সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। যে রাষ্ট্র নাগরিকের ভালোর জন্য একটি দরজা বন্ধ করে, ভিপিএন সেই দরজার দেয়াল ভেঙে দেয়।
বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি মহামারির রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান বারবার দেখিয়েছে যে প্রতি বছর শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষত ভিপিএন সুরক্ষিত পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট একটি গুরুতর নিয়ামক হিসেবে উঠে আসছে।
সম্পর্কটি বোঝার জন্য একটি সরল প্রশ্ন করা যাক: একজন কিশোর বা তরুণ যখন বছরের পর বছর ধরে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা চরমপন্থি পর্নোগ্রাফি দেখে, তার মানসিকতায় কী পরিবর্তন আসে? মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এই ধরনের কনটেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে (রিওয়ার্ড সিস্টেম) পুনর্গঠিত করে, শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ধর্ষণকে ক্ষমতার প্রকাশ হিসেবে মহিমান্বিত করে। এটি কোনো অনুমান নয়, এটি পুনঃ পুনঃ প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্য।
গবেষকরা দেখেছেন, যেসব দেশে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ-প্রতিক্রিয়ার এই শৃঙ্খলটি উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যে মুহূর্তে শিশু ধর্ষণের ঘটনা মহামারির রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশে ভিপিএন ডাউনলোড অস্বাভাবিক সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় যা ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি কনটেন্টে প্রবেশের ঘটনাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দুটো তথ্য একসাথে রাখলে যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় তা হলো: আমরা কি এই সম্পর্ককে আর অস্বীকার করতে পারি?
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো অনলাইন গ্রুমিং বা শিশু প্রলোভন প্রক্রিয়া। ভিপিএন ব্যবহার করে পরিচয় আড়াল করা প্রাপ্তবয়স্করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে, ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করে এবং তারপর তাদের যৌন নিপীড়নের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভিপিএন অপরাধীকে দ্বিগুণ সুবিধা দেয়। প্রথমত, তার আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখে; দ্বিতীয়ত, তদন্তকারীদের পক্ষে তাকে ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। ফলে ধর্ষক ধরা পড়ে না, শিশুটি ন্যায়বিচার পায় না এবং অপরাধী একই কাজ বারবার করতে সাহস পায়।
বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যে প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে জরুরি তা হলো: ধরা পড়া শিশু নির্যাতনকারীদের কতজনের ডিভাইসে ভিপিএন পাওয়া গেছে এবং তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখতেন? এই তথ্যটি পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ করা শুরু হলে এ প্রযুক্তি ও শিশু ধর্ষণের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নীতিনির্ধারকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিশু শোষণের ডিজিটাল সুড়ঙ্গ
ইউনিসেফ এবং ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা সিএসএএম বিতরণের ক্ষেত্রে ভিপিএন একটি প্রধান হাতিয়ার। অপরাধীরা তাদের অবস্থান ও পরিচয় আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদান করে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেপ্তার হওয়া শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের একটি বড় অংশের ডিভাইসে ভিপিএন সফটওয়্যার পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিপদটি আরও গভীর। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ইন্টারনেটের দাম কমছে, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার অবকাঠামো সেই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে না। ফলে ভিপিএনের আড়ালে পরিচালিত শিশু শোষণের ঘটনাগুলো তদন্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের এখনও অপ্রতুল। অপরাধী জানে সে ধরা পড়বে না; এই দায়মুক্তির নিশ্চয়তাই তাকে বারবার অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
সামাজিক অবক্ষয়ের নীরব জোয়ার
ভিপিএনের সাহায্যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে প্রবেশ এখন অত্যন্ত সহজ। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ব্যবহারকারীরা নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এবং সামাজিক সম্পর্কের জন্য ধ্বংসাত্মক কনটেন্টে ডুবে যাচ্ছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই কনটেন্টের সংস্পর্শ তাদের যৌন মনোভাব, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব সম্পর্কের ধারণাকে মারাত্মকভাবে বিকৃত করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিশোর যখন বাস্তব জীবনে তার কল্পনার প্রতিফলন খোঁজে, তখন সে প্রতিরোধের মুখে পড়লে সহিংস হয়ে ওঠে। এই মনস্তাত্ত্বিক পথটিই বহু ক্ষেত্রে ধর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। তাই ভিপিএনসুলভ পর্নোগ্রাফি এবং শিশু ধর্ষণের মহামারির মধ্যে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো টানা আছে যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এখনই উপলব্ধি করতে হবে।
সাইবার অপরাধের নিরাপদ বর্ম
ডিজিটাল প্রতারণা, পরিচয় চুরি, র্যানসমওয়্যার আক্রমণ, হ্যাকিং; এই অপরাধগুলোর তদন্তে বিশ্বের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে বাধার মুখে পড়ে তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভিপিএন। অপরাধী যখন একটি দেশের ভিপিএন সার্ভারের আড়াল থেকে অন্য দেশে হামলা চালায়, তখন তদন্তকারীরা আসল অপরাধীর কাছে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ ভিপিএন সার্ভার লগ রাখে না বা রাখলেও তা ভিন্ন দেশের এখতিয়ারে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ই-কমার্স প্রতারণা; এসব অপরাধের একটি বড় অংশে ভিপিএন ব্যবহার করে অপরাধীরা পরিচয় আড়াল করে। ভুক্তভোগীরা বিচার পান না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি সমাজে অপরাধের প্রবণতাকে উৎসাহিত করে।
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদ যখন কোনো কনটেন্ট নিষিদ্ধ করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে সামাজিক ঐকমত্য ও আইনি কর্তৃত্ব। ভিপিএন সেই কর্তৃত্বকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়। এটি কেবল আইন অমান্য নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রযুক্তিগত বিদ্রোহ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে যার প্রযুক্তিগত সামর্থ্য আছে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে?
বিশ্বের বেশ কিছু দেশ, যেমন- চীন, রাশিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিপিএন ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো স্বৈরাচারী প্রবৃত্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র আসলে কতটুকু সার্বভৌম? বিশেষত যখন সেই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক শিশুদের ক্ষতি করছে, তখন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আর রাজনৈতিক থাকে না, এটি হয়ে ওঠে নৈতিক দায়িত্ব।
যাচাইয়ের অধিকার : রাষ্ট্রের ন্যায্য দাবি
বিপুলসংখ্যক ভিপিএন ব্যবহারকারী আসলে কী উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন? প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, রাস্তায় যানবাহন চেকিং হয়, ব্যাংকে লেনদেন যাচাই হয়; এগুলো কি ব্যক্তির অধিকারের লঙ্ঘন? না, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একটি ন্যূনতম স্বচ্ছতা প্রয়োজন। ডিজিটাল জগতে সেই স্বচ্ছতার দাবি করা কি অন্যায্য? বিশেষত যখন সেই অস্বচ্ছতার আড়ালে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটছে?
ভিপিএন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা যায় ব্যবহারকারীর লগ সংরক্ষণ করতে এবং আইনি আদেশের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের কাছে তা সরবরাহ করতে। এটি গণনজরদারি নয়, এটি প্রচলিত টেলিযোগাযোগ আইনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ মাত্র। ফোন কোম্পানিগুলো যেমন আদালতের আদেশে কল রেকর্ড দেয়, ভিপিএন প্রতিষ্ঠানগুলোও তেমনি লগ সরবরাহ করতে বাধ্য হওয়া উচিত। একজন শিশু ধর্ষককে শনাক্ত করতে পারলে যদি কোনো ব্যক্তির ভিপিএন লগ দেখতে হয়, সেই মূল্য পরিশোধ করতে সভ্য সমাজের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
সিদ্ধান্তের সময় : শিশুর জীবন না প্রযুক্তির স্বাধীনতা?
প্রযুক্তি নিরপেক্ষ, কিন্তু তার ব্যবহার নিরপেক্ষ নয়। ভিপিএন একটি হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার কারও হাতে সাংবাদিকতার ঢাল, কারও হাতে শিশু শোষণের অস্ত্র; দুটোই সত্য। কিন্তু যখন সেই অস্ত্রের আঘাতে একটি শিশুর শৈশব চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যখন একজন ধর্ষক ভিপিএনের আড়ালে নিশ্চিন্তে পরবর্তী শিকার খুঁজছে, তখন ‘প্রযুক্তির স্বাধীনতা’ কথাটি ব্যবহার করতে বিবেক বাধা দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে আজ শিশু ধর্ষণ মহামারির যে রূপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়তে হলে কেবল আইনি সংস্কার বা সামাজিক সচেতনতা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল পরিবেশকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভিপিএনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশ রুদ্ধ করা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়া এবং ভিপিএন সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা; এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার সময় এখনই।
অন্ধকারের দরজা খোলা রাখা কখনও সভ্যতার লক্ষণ নয়। বিশেষত যখন সেই দরজা দিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢুকছে। একটি জাতির সভ্যতার পরিমাপ হয় তার সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদের সে কতটুকু রক্ষা করতে পারছে তার মানদণ্ডে। আমাদের শিশুরা রক্ষা পাচ্ছে না- এই ব্যর্থতার একটি বড় অংশের দায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণহীনতার, ভিপিএনের অপব্যবহারের এবং আমাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তার।

ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের ফলাফল জানাল সুপার কম্পিউটার
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:৪৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ব্রাজিল। আগামীকাল শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের খুবই বিরল। ১৯৭৮ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকেনি তারা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে ব্রাজিলের অনেক পেছনে হাইতি। র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ৬ নম্বরে, আর হাইতি ৮৪ নম্বরে— দুই দলের মধ্যে পার্থক্য ৭৮ ধাপ। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ব্রাজিলকেই স্পষ্ট ফেবারিট ধরা হচ্ছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারও সেলেসাওদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৮৭.৩ শতাংশ। বিপরীতে হাইতির জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৪.৩ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ৮.৪ শতাংশ।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও ব্রাজিলের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনো বেশ উজ্জ্বল। অপটার হিসাব বলছে, গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থান অর্জনের সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৫২ শতাংশ। শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ৯০.৩ শতাংশ। এমনকি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও ৫.৪ শতাংশ ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় হাইতির সমীকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ৫.৮ শতাংশ। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেমে এসেছে ০.৪ শতাংশে।
পরিসংখ্যানের হিসাবেও ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট ব্রাজিল। দুই দলের অতীত রেকর্ড একেবারেই একপেশে। এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই জিতেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচগুলোতে ১৭ গোল করেছে সেলেসাওরা, বিপরীতে হাইতির গোল মাত্র একটি। সর্বশেষ ২০১৬ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল হাইতিকে।

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি উন্মোচন, আটক ৪৯
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
খাদ্য অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক’ পদের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর ঢাকা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ডিভাইসসহ ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাদের মধ্যে ৪ জন পালিয়ে যায়। পরে ২১ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আরও ২৮ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে।
সেলিমুল আজম বলেন, আমরা সবাইকে যে ধরতে পেরেছি, তা বলছি না। তবে বিগত পরীক্ষাগুলোর তুলনায় আজকের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে নারী-পুরুষসহ মোট ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাটারি এবং ছোট আকারের ব্লুটুথ টাইপের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্বকাপে নকআউটের টিকিট সবার আগে মেক্সিকোর
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:৩১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
সবার আগে গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে মেক্সিকো। স্বাগতিকদের সমর্থনে গর্জে ওঠা গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা। গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কেটে নেয় মেক্সিকানরা।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও পার্থক্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের একটি ভুল। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং-গিউয়ের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন লুইস রোমো। জুলিয়ান কিনোনেসের ক্রস থেকে রাউল হিমেনেজের হেডার আকাশে উঠে গেলে বলটি ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন কিম। তার হাত ফসকে সামনে পড়ে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন রোমো।
গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে না পারলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল বাড়িয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেক্সিকান রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক রেঞ্জেল তাদের হতাশ করেন।
ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে। একটি ক্রস থেকে চো গে-সুংয়ের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রেঞ্জেল।
ফিরতি বলেও চোকে গোল করতে দেননি তিনি। যোগ করা সময়েও কর্নার থেকে সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়ানরা, কিন্তু হান-বিওম লির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ আশা নিভে যায় তাদের। প্রথমার্ধে দুই দলই খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। মেক্সিকো শুরুতে চাপ সৃষ্টি করলেও দক্ষিণ কোরিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি কমিয়ে আনে। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যে ছিল।
এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে নকআউট নিশ্চিত করা প্রথম দল হয়ে গেল মেক্সিকো। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে চেকিয়াকে হারানো দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে চেকিয়ার, আর দক্ষিণ কোরিয়া লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই সন হিউং-মিনদের।

শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছে না, সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও ২ প্রাণহানি
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিওতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৬১ জন ভর্তি রয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার ৭ মাস বয়সী ছেলে সারহান ও সিলেটের ওসমানীনগরের উজ্জল মিয়ার ৫ মাস বয়সের ছেলে আহিয়ান।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৬ জন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৮ জন এবং সিলেটে ১০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬১ জন সন্দেহজনক রোগী।
জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা যায়, সিলেটে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২৭ জন ও নিশ্চিত হামে ২ জনসহ মোট ২৯ জন, হবিগঞ্জে ৬ জন, মৌলভীবাজারে ১০ জন (সন্দেহজনক ৯ ও নিশ্চিত ১) এবং সুনামগঞ্জে ৩১ জন (সন্দেহজনক ৩০ ও নিশ্চিত ১) মারা গেছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৭২ জন এবং নিশ্চিত হামে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করল আফগানিস্তান, প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় পাকিস্তান
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:১৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
আফগানিস্তান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে তারা একাধিক হামলা চালিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কথিত আইএসআইএসের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই স্থানগুলো শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের সহায়তায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া অতীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার ক্ষেত্রেও এসব ঘাঁটি অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে আফগানিস্তানের এই দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গি তৎপরতা এবং একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি আর সহ্য করবে না।

মাধ্যমিকের শুরুতেই বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন পাস হওয়ায় এখন থেকে ডিজিটাল নকলের সাজা দেওয়া হবে। সবাইকে উচ্চ শিক্ষা দিয়ে বেকারত্বের কারখানা তৈরি করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ইস্যুতে নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক পুলিশ প্রশাসন
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:০২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দলটির সম্ভাব্য কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা এড়াতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিলসহ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারে।
এ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।
এর ফলে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এ অবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ ও কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মহাখালীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এ সময় তিনজনকে আটকও করা হয়েছে। এছাড়া, গণভবনের সামনে যুবলীগও মিছিল করে।
পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের মাধ্যমে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের জানাজায় বিভিন্ন মহলের অংশগ্রহণ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৩:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম কারি মো. আবু রায়হান।
শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজার শুরুতেই মরহুম হারুন অর রশিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং পরিবারের পক্ষে মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) জানাজায় উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, হারুন অর রশিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অমায়িক, সজ্জন, সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন অর রশিদ দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থা ভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন অর রশিদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে হারুন আর রশিদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
জানাজা শেষে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্য হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া ও কর্মকর্তারা।
শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, হারুন অর রশিদ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
জানাজা অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ভাড়া বাসায় আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ, তদন্ত শুরু
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৩:৫১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) বেলার ১১টার দিকে জীবননগর শহরের বসুতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জীবননগর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হলেও পরে তা মিটে যেত। তিনি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন সকালে স্বামীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সকালে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাজারে যান। ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে মাহমুদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে হঠাৎ ফোন কেটে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরায়েলি সেনা
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে তীব্র লড়াই চলছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহোন (৩২)। তিনি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় নিহত হন।
একই ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত ওই তিন সেনার নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি উল্লেখ থাকলেও তা মানছে না ইসরায়েলি বাহিনী।

সীমান্তে নতুন করে পুশ-ইনের অভিযোগ, উত্তেজনা মেহেরপুরে
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৩:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
মেহেরপুরে সীমান্ত দিয়ে আবারও চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে নোম্যান্স ল্যান্ড ও ভারতীয় জমির মধ্যবর্তী স্থানে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে এক নারী ও তিন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে চাষাবাদ করা স্থানীয় কৃষকরা। পরে বিষয়টি তারা বিজিবিকে অবহিত করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা করা ওই ব্যক্তিদের আর খুঁজে পায়নি বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। তাদের বিএসএফ ফেরত নিয়ে গেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় তারকাটার এ পাশে ভারতীয় জমি, নোম্যান্স ল্যান্ড এবং বাংলাদেশের জমিতে পাটের আবাদ থাকায় ওই এলাকায় কেউ লুকিয়ে থাকলে তাদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।
এদিকে স্থানীয়রা আরও জানান, ভোরে সীমান্ত এলাকায় চারজনকে অবস্থান করতে দেখার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।
এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনকে বিএসএফ শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সাতজন শূন্যরেখায় অবস্থান করার সময় পার্শ্ববর্তী ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৫-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে আরও ছয়জনকে পুশ-ইন করা হয় বলে জানা যায়। পুশ-ইন হওয়া ১৩ জনের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।


ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 























































































2 thoughts on “অস্ট্রেলিয়ার রেনশোর বিধ্বংসী ইনিংস, বাংলাদেশকে পাহাড়সম লক্ষ্য”