বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়াতে অবস্থিত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টার সময় পুত্রাজায়ায় সরজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চ পর্যায়ের সীমিত বৈঠক শুরু হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারেক রহমান পুত্রাজায়ায় পৌঁছানোর পর তাকে লালা গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও অভিবাদন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
পেরাদানা পুত্রা ভবনের সামনে মালয়েশিয়া মাদানী স্কয়ার যেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রতীক্ষায়। পরে এখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
দেখা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক কার্যালয়ে দীর্ঘ লম্বা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রাজায়াতে অবস্থিত। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভবনটি মালয়, ইসলামিক-মুঘল এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ গঠিত, যার কেন্দ্রে রয়েছে আইকনিক সবুজ গম্বুজ।
পুত্রাজায়া স্কয়ারের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা উড়ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ভবনে যা নাম ‘পেরাদানা পুত্রা’ সেই ভবনের মালয়েশিয়ার পতাকার পাশে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।
কক্সবাজারে দিন দিন এইচআইভি রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধ যৌন সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে, স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে।
সূত্র জানায়, জেলার মোট এইচআইভি আক্রান্তদের প্রায় ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা শরণার্থী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের পাশাপাশি কক্সবাজার এখন আরেকটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে কক্সবাজারেই রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ১৭০ জন। বাকি অধিকাংশই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢলের পর থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ২১৭ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, যাদের সবাই রোহিঙ্গা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ২১৫ জন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার অনেক বেশি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত মায়েদের মাধ্যমে নবজাতকদের শরীরেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় বা প্রতিরোধ করা যায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অসচেতন থাকলে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতা নিশ্চিত না করা হলে গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের সময় শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে।
কক্সবাজার এআরটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মেজবাহ জানান, বর্তমানে কয়েকজন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা জন্মগতভাবে মায়ের কাছ থেকে ভাইরাসটি পেয়েছে। এ ধরনের সংক্রমণ রোধে ‘প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি)’ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত মায়েদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতা কার্যক্রম, নিয়মিত পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ভবিষ্যতে এটি আরও বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।

প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ারকে বহাল রাখার দাবি সিলেটে

সিলেটে মাজার ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিলেটের সর্বস্থরের যুব সমাজ। বিকাল ৬টায় সিলেট কোর্ট পয়েন্টে ও ডিসি অফিসের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, সিলেটের স্বার্থে, সিলেটবাসীর দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডিসি সরওয়ার আলমকে বহাল রাখতে হবে। জনমতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত সিলেটবাসী মেনে নেবে না।
গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দায়িত্ব পালনকালে একাধিক আলোচিত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ঘিরে সারওয়ার আলমের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ মাজার ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপই জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা তাদের।
মাজার-ভক্ত-অনুসারীরা জানান, প্রায় ৭০০ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দানবাক্সে সিলগালা করা হয়েছে, এটা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।
সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি শামসুল বাসিত শেরো বলেন, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মেরামতের মত সামান্য কাজ দুবছরে করতে পারেননি জেলা প্রশাসক। দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল বাকী, নাইটগার্ডের ১৮ মাসের বেতন বাকি।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বদলির বিষয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেট শাখার সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম কালবেলাকে বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদাপাথর লুটের সময় তিনি লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পাথর পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া র্যাবে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তিনি জনমনে পরিচিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ বিশেষ করে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ‘ডেগ সিলগালা’ এবং সেখানে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন অনেকের কাছে বিতর্কিত ও অশোভন মনে হয়েছে।
এতে মাজার সংশ্লিষ্টদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে এবং ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানে জলঢাকা থানার ওসিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে নীলফামারী জেলা প্রশাসন। আজ রবিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক জনাব নায়িরুজ্জামান তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। নীলফামারী জেলার সকল থানার মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রন, চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম দমন সহ সার্বিক তৎপরতায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখায় জনাব নাজমুল আলম কৃতিত্বপূর্ণ এই সম্মান অর্জন করেন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার নীলফামারী, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী সহ নীলফামারী জেলাধীন সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলম মর্যাদাপুর্ন এই সম্মান অর্জন জলঢাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরও কর্মতৎপর ও উৎসাহী করে তুলবে বলে মনে করছেন জলঢাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি! অতঃপর…

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই নারীকে নিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ের পর নিজেকে তার পূর্বের বৈধ স্বামী দাবি করে হাজির হয়েছেন আরেক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাস, স্থানীয় এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম গত ১৯ জুন একই কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়াশোনার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে বিয়েতে রূপ নেয়।
তবে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি এখনও তার বৈধ স্বামী। তার অভিযোগ, স্বর্ণাকে কৌশলে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুরাদ হোসেন বলেন,
“স্বর্ণা আমার স্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। এখন তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, “এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়। পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।”
অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন দাবি করেন, “স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি। নিজেকে স্বামী দাবি করা ব্যক্তি প্রতারণার চেষ্টা করছেন। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবির কোনো ভিত্তি নেই।”
ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, “মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং প্রাপ্তবয়স্ক। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এলিজা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
এদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বর্ণা খাতুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের দাবিকৃত পূর্ববর্তী বিয়ের কোনো নথিপত্রও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী বৈবাহিক দাবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সক্রিয় হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং ইরানে হামলা চালাবে।
রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি লেখেন, ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের উচ্চ বেতনভুক্ত প্রক্সিদের ঝামেলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা ইরানকে আবারও খুব কঠোরভাবে আঘাত করবো; গত সপ্তাহের চেয়েও বেশি শক্তি দিয়ে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নতুন পর্ব শুরু হওয়ার মধ্যে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।
এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্ত, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ বাস্তবায়িত হয়নি। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় লালগালিচা সংবর্ধনা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।
টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।
সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে ২ দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনীসহ সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে থাকবেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সফরে রয়েছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।
তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এই সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন।
সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপির ছেলেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

চাঁদাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে সজীবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বেচ্ছায় এসপি কার্যালয়ে আসেন।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে অভিযোগের প্রকৃতি কিংবা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
এদিকে সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় গণমাধ্যমকে জানানো হয়, খাইরুল ইসলাম সজীবকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সজীব বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহজাদপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
শনিবার (২১ জুন) সকালে শাহজাদপুর থানা চত্বরে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ উদ্দিনসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর থানার এসআই মন্তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে টহল পুলিশের একটি দল বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের টেটিয়ারকান্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৬ বস্তা অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে গাড়িটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
আটক পিকআপের চালকের কাছ থেকে জানা যায়, জালগুলো পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকা থেকে বগুড়ায় নেওয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত ১৬টি বস্তার মধ্যে মোট ৯৩ পিস অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পিকআপটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন বলেন, চায়না দুয়ারি জাল উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের তৎপরতায় জালগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে এবং আমার উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বা পরিবহন দেখতে পেলে দ্রুত প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগকে জানাতে হবে।
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
রোববার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ খান হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহীদুল হাসান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাদের সেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, দৈনিক কলম সৈনিকের সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, ফজল-এ-খোদা লিটন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম তফিজ উদ্দিন, বর্তমান সহ-সভাপতি হীরক গুণ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা রুবেল, অর্থ সম্পাদক নয়াদিগন্তের রিপোর্টার নূরুল ইসলাম রইসী, বর্ণিক বার্তার রিপোর্টার অশোক ব্যানার্জী, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রিংকু কুণ্ডু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একাত্তর টেলিভিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চ্যানেলটি দর্শকদের আস্থা অর্জন করেছে এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও মানবিক সংবাদ পরিবেশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রধান অতিথি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, একাত্তর টেলিভিশন দেশের মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে একাত্তর টেলিভিশন ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
আলোচনা শেষে অতিথিরা একাত্তর টিভির প্রতিনিধিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ প্রশসান, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও শিক্ষাবিদগণ এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৪ পাউন্ডের কেক কর্তনের মধ্যদিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

“প্রাণের খোঁজে বিশ্বময়” এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ, আবৃত্তি-চিত্রাঙ্কন রচনা প্রতিযোগিতা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে গাছের চারা বিতরণ, পরিবেশের ওপরে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২১জুন) সকালে শহরের শিল্পকলা একাডেমী অডিটোরিয়ামে পরিবেশবাদী সংগঠন “প্রানের খোঁজে বিশ্বময়” এর আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

প্রানের খোঁজে বিশ্বময়’র সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ব বিদ্যালয় বাংলাদেশ এর বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হামিদ সরকার, সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম, অ্যাডভোকেট মাহবুব-এ-খোদা টুটল, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বৃক্ষপ্রেমী মাহবুব পলাশ প্রমূখ।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে যুবককে হত্যা, প্রতিবাদে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও

চুরির অভিযোগে এক যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কোতোয়ালি থানার ওসি জায়েদ নূর বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত চলছে।পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জাতীয় কবির ভাবনা-দর্শন ছড়িয়ে দিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এক বছরের জন্য ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রোববার (২১ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা ২৫ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এ সময়জুড়ে কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তার মানবতাবাদী ও বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে গাছগুলো কর্তন করে। পরে গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন,সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”
এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই। জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে আশাবাদী মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা

ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এই সফরের মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ঝিমিয়ে পড়া শ্রমবাজারের পুনরুজ্জীবন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন প্রবাসীরা।
তাদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার সিন্ডিকেট মুক্ত হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো বন্ধ ও সীমিত হয়ে থাকা শ্রমবাজারের জটিলতা দূর করা। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিগত দিনগুলোতে নানা আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল।
প্রবাসীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে, যা বৈধ পথে এবং স্বল্প খরচে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার অর্থনীতির জানালা পুরোপুরি খুলে দেবে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বিমান টিকিট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি প্রবাসীদের। তারা জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি অন্যতম প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে বিমানের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সাধারণ প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ টিকিটের পেছনেই উজাড় করে দিতে বাধ্য হন।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর প্রথম মালয়েশিয়া সফর করছেন এটি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে-দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি কিছু পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ হবে।’
কয়েকজন প্রবাসী আকুতি জানিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে বিমান টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী লুটে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।
সরকারি খরচে মরদেহ দেশে পাঠানোর দাবি
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবাসীদের মাঝে সবচেয়ে যে বিষয়টি প্রভাব ফেলে সেটি হলো কেউ মারা গেলে তার লাশ দেশে পাঠানো নিয়ে। কেননা, মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক অনটনে পড়তে হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি, কোনো প্রবাসী মারা গেলে যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তার লাশ বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তারা চান, প্রধানমন্ত্রী যেন এবারের সফরেই এই মানবিক দাবিটি পূরণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেন।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুবদলের মালয়েশিয়া শাখার কর্মবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে চাকা সচল রাখছেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এই বিশাল ত্যাগ ও অবদানের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। কুয়ালালামপুরের বুকজুড়ে এখন একটাই সুর—প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে কাটবে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, আর উন্মোচিত হবে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—যেন প্রবাসীদের মৃতদেহ তিনদিনের মধ্যে দেশে বিনা খরচে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে বিমানের টিকিট ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সব ধরনের সিন্ডিকেট যেন ভেঙে দেওয়া হয়।’
মালয়েশিয়া যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল পাঠান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়। এই সফরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাধা দুর হবে, এটাই আমাদের চাওয়া।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেন তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ সময় রোববার (২১ জুন) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৮৬-এ কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন সোমবার স্থানীয় সময় পুত্রজায়ায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক (টেট-আ-টেট) অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।
তাছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রম অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের কল্যাণ সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে। বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠনও শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার, অবৈধ দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।
এ সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া নির্বাচন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত বহন করে।
এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং হালাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা বা যৌথ ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে সফরটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রীর খসড়া কর্মসূচি
খসড়া কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরে তিনি রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। গার্ড অব অনারের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সীমিত পরিসরের বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন উভয় দেশের উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও একটি নোট বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমনসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে দলিল বিনিময়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।
সরকারি কর্মসূচিতে আরও রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ। একই দিনে মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে সম্ভাব্য সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি তখনও নির্ধারিত হয়নি।
এ ছাড়া এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দুই দিনের সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের ডালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সাহায্য চেয়ে কেমিক্যাল প্রয়োগ; শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

মহিলাদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটা দল। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার (২০জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একদল সদস্য।
রোববার (২১জুন) বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করে। এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল scopolamine ব্যবহার করে ওই সকল মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের নিকট থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়।
এসপি বলেন, এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্তে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়। সেই সকল মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
এসপি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। এবং তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতিমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদেরকে টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সলঙ্গায় আল আমিন সামিদুলের মাদক ব্যবসার নেপথ্যের খুঁটির জোর কোথায়

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় চিহ্নিত মাদক কারবারি আল আমিন ওরফে সামিদুলের বেপরোয়া মাদক ব্যবসার পেছনে নেপথ্যের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লোক চক্ষুর আড়ালে এলাকায় মাদক বিক্রি ও তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলঙ্গার পাঁচলিয়া ও ধোপাকান্দি এলাকার বাসিন্দা আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও চোরাই মালামাল ক্রয় বিক্রয়সহ মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত। স্থানীয় যুবসমাজকে টার্গেট করে সে তার এই অবৈধ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, তার এই প্রকাশ্য মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা এবং নেপথ্যের এক শ্রেণির অসাধু চক্রের ছত্রছায়ায় সে প্রতিনিয়ত পার পেয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান চালালেও আল আমিন প্রতিবারই কৌশলে আত্মগোপন করে বা আগাম তথ্য পেয়ে সটকে পড়ে। ফলে তার মূল সিন্ডিকেটটি সবসময়ই অধরা থেকে যায়।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সলঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে আল আমিন আর সামিদুল ও তার নেপথ্যের সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

রায়গঞ্জে ভূয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী রাসেল আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগর গ্রামে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে রাসেল নামে এক যুবককে আটক করেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ।
রবিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে মালতিনগর গ্রামের জিন্নাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটককৃত রাসেল সলঙ্গা ইউনিয়নের সাতটিকরী গ্রামের মছের আলীর ছেলে। রবিবার সকালে তিনি নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে মালতিনগর গ্রামের জিন্নাহর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় একটি মামলা থেকে রক্ষা করার কথা বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের কাছে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তারা সলঙ্গা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে সলঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাসেলকে আটক করেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, “ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, আটক রাসেলের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

৩০০ শিল্পীর একক সুরে ভরতনাট্যমের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা

চলছে দেশের নৃত্যজগতের দুই পুরোধা শিবলী মোহাম্মদ আর শামীম আরা নীপার প্রতিষ্ঠান নৃত্যাঞ্চলের বছরব্যাপী রজতজয়ন্তী উদ্যাপন। সেই অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো শাস্ত্রীয় নৃত্যের বিশেষ আয়োজন ‘ভরতনাট্যম সন্ধ্যা’।
নৃত্যাঞ্চলের ৩০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ আয়োজন শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর বাংলাদেশে ভরতনাট্যম নৃত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন বিশিষ্ট নৃত্যগুরু বেলায়েত হোসেন খান, আনিসুল ইসলাম হিরু ও ড. সোমা মুমতাজকে প্রদাণ করা হয় ‘নৃত্যাঞ্চল সম্মাননা ২০২৬’।
মূল আয়োজন নৃত্যানুষ্ঠানে ভরতনাট্যম নৃত্যের শুরু থেকে শেষ, সবগুলো বিষয়কে উপস্থাপন করা হয়। পুষ্পাঞ্জলি নৃত্য থেকে তিল্লানা ও মঙ্গলাম— ধারাবাহিক এসব পরিবেশনা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের নৃত্য পরিচালনা করেন তরুণ মেধাবি ভরতনাট্যম শিল্পী ও নৃত্যাঞ্চলের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ববি।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদ। তারা জানান, রজতজয়ন্তী উদ্যাপনের সমাপনী আয়োজন হিসেবে শিশুদের ছড়াগানভিত্তিক নৃত্য প্রযোজনা ‘ছড়াছন্দে নৃত্যমালা’ মঞ্চস্থ হবে আগামী আগস্টে।
শুদ্ধ নৃত্যচর্চার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে রুচি, সৃজন আর শিল্পের অনবদ্য মেলবদ্ধন তৈরি মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে নৃত্যাঞ্চল সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বকাপের বল তৈরি করে যে দেশ, তাদের নেই ফুটবলের ইতিহাস!

বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।
মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা।
একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।
4 thoughts on “প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ”