সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

গোল্ডেন বুট দৌড়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী যে তারকারা

গোল্ডেন বুট দৌড়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী যে তারকারা

২০২৬ বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ শেষ হতেই জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে তার পেছনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের আরও কয়েকজন সেরা গোলদাতা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিততে মেসিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

 

 

 

এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনো আর্জেন্টিনার মূল ভরসা।

 

 

 

তবে খুব কাছেই রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪-এ নিয়েছেন। বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করে তিনি ইতোমধ্যে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ফ্রান্স যত দূর এগোবে, এমবাপ্পের গোলসংখ্যাও তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোল্ডেন বুটের আরেক শক্তিশালী দাবিদার নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও ৪। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করা হালান্ড এখন প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তিনটি করে গোল করেছেন জার্মানির দেনিজ উনদাভ ও কানাডার জোনাথন ডেভিড।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২ গোল করে এই দৌড়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা কেইন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গোল করলে শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারেন।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট লড়াই মূলত মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ডকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। তিন তারকার দুর্দান্ত ফর্মের কারণে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, এই প্রতিযোগিতা ততই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে।

 

 

বর্তমান অবস্থান :

মেসি (আর্জেন্টিনা) – ৫ গোল এমবাপ্পে (ফ্রান্স) – ৪ গোল হালান্ড (নরওয়ে) – ৪ গোল কেইন (ইংল্যান্ড) – ২ গোল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন এই তারকারা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট কার হাতে ওঠে— মেসি কি এগিয়ে থাকবেন, নাকি এমবাপ্পে কিংবা হালান্ড তাকে ছাড়িয়ে যাবেন।

 

গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির জন্য ছাত্রদলের সুপারিশের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি পদপ্রার্থী হামিদুর রহমান তায়েফ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কনিকাড়া ব্রিজসংলগ্ন পৌর মেয়র মার্কেট এলাকার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তার তায়েফ নবীনগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার কাতারপ্রবাসী তোফায়েল সরকারের ছেলে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তায়েফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার ও ব্যানার বিভিন্ন স্থানে লাগানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি এলাকায় আলোচনায় আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গ্রেপ্তারের পর তায়েফকে থানা হাজত থেকে মুক্ত করার জন্য উপজেলা ছাত্রদলের একটি অংশ তদবির চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম বলেন, ‘মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

 

 

তবে কোন মামলায় তায়েফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

 

 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ ও মহড়া

২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ও তৎপরতা রুখে দিতে রাজপথে নেমেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও যুবদল।

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২২ জুন) বিকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে।

 

 

 

মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ছাত্রলীগকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের মাটিতে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করলে, ছাত্রদল ও যুবদল তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ মিছিল নিয়ে মাঠে নামে। ইতিমধ্যে গত তিন দিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে রাজপথে লাগাতার পাল্টা মিছিল ও সমাবেশ করে আসছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল ও মহড়ার নেতৃত্ব দেন সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারী।

 

 

 

বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আলীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক
মনির, ছাত্রনেতা বিপ্লব, সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান সাগর, মীর আকাশ, রাসেল, সিরাজগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের মিনুল ইসলাম হৃদয়।

 

 

 

এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। রাজপথে নেতাকর্মীদের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

 

দৃষ্টি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ নেতা হাসুর পাশে হাজী আব্দুস সাত্তার

পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও ‘আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মিরপুর এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো সিরাজগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি মিরিনা সুলতানা মেরির বাসভবনে যান। সেখানে তিনি মেরির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক জীবন সংগ্রামের গল্প শোনেন।

 

 

 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে দুটি চোখ হারান মেরী।
হাজী আব্দুস সাত্তারকে পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত মেরি বলেন, “আজ মনে হচ্ছে কোনো এক ভাই তার অসহায় বোনকে দেখতে এসেছে। অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে এমন সহমর্মিতা তাঁকে বেঁচে থাকার নতুন মানসিক শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

 

এরপর মিরপুর এমদাদিয়া হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসায় যান হাজী আব্দুস সাত্তার। সেখানে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। পরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

 

 

 

 

মিরপুর থেকে বের হয়ে হাজী আব্দুস সাত্তার মাছিমপুর মহল্লায় যান। সেখানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক হাসিনুর রহমান হাসুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের পবিত্র মানবিক দায়িত্ব উল্লেখ করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই পৃথিবী তৈরি হয়েছে একে অপরের উপকার করার জন্য। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে কষ্টে থাকেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। জীবিত অবস্থায় মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।

 

 

 

তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য করা ভালো কাজই আখিরাতের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সমাজে যদি সবাই একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, তাহলে অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, হাজী আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। দুঃসময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

 

 

 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার হোসেন শিপুসহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

 

রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম ও আত্মার মুক্তি নজরুল দিয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি: ভিসি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম এবং আত্মার মুক্তি। অন্যদিকে, নজরুল আমাদের দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি। এই দুই মহান মানসের মেলবন্ধনই বাঙালি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার আলো ছড়ায় না, বরং বাঙালির এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার এক পবিত্র দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

 

 

 

সোমবার (২২জুন) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।

 

 

 

উপাচার্য আরও বলেন, আজকের এই দিনটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা আজ এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছি যা বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মাকে মুক্ত করা। যে শিক্ষা বিশ্বে বাজারে চলবে না সেটা শিক্ষা হতে পারে না। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে সেই ধরনের মানসম্মত শিক্ষা আমাদের দিতে হবে, নিতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামকে সাহিত্যিকের বাইরে সমাজ সংষ্কারক, মানবিকতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। এরপর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-১-এর গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

 

 

 

সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আকলিমা ইসলাম কুহেলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর পারভেজ সুমন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার।

 

 

 

বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে “রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সময়চিন্তা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবেদ ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

 

 

বিকেলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র ও নজরুলের সৃষ্টিকে তুলে ধরেন।

 

 

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলী জানান, উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ( ২৩ জুন) সকাল থেকে রবীন্দ্র মেলা পুনরায় শুরু হবে। এদিন দুপুর ২.০০টায় “নজরুলের দেশপ্রেম ও বিশ্বমানব-দর্শন: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

আওয়ামী লীগের দেশ বিরোধী তৎপরতার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

 

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

 

 

 

সোমবার বিকেলে শহরের মিলনমোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরেরর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসময় তারা ‘লীগ ধর; জেলে ভর’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা সিরাজগঞ্জে হবেনা’‘শেখ হাসিনার দালালেরা; হুশিয়ার সাবধান’, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও; শেখ হাসিনার আস্তানা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

 

 

এসময় সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দল, সরকার ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, “সিরাজগঞ্জে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।”

 

 

 

মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

গাজীপুরে আ.লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

 

গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন জিএমপি ওসি মিডিয়া জালাল উদ্দিন মাহমুদ। মঙ্গলবার (২১ জুন) থেকে সোমবার (২২ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জানা যায়, অভিযানে সদর থেকে আটজন, বাসন থানা থেকে ছয়জন, কোনাবাড়ি থেকে দুজন, কাশিমপুর থেকে তিনজন, গাছা থেকে পাঁচজন, পূবাইল থেকে দুজন, টঙ্গী পূর্ব থেকে দুজন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

সোমবার বিকেলে জিএমপি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, বাসন থানাধীন মোগরখাল সাকিনস্থ কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে ময়মনসিংহ-ঢাকাগামী পাকা রাস্তার ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি প্রদানের অপরাধে ৩০ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎জিএমপি ওসি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে।

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

 

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

 

 

 

 

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

 

উল্লেখ্য, বিজিবি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া লাশ ৬ দিন পর ভেসে উঠলো

 

নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া বুলবুল (৩০) নামে আরেক যুবকের লাশ ছয়দিন পর ভেসে উঠেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এ নিয়ে নিলক্ষায় সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। নিহত বুলবুল নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দী গ্রামের হরমুজ মিয়ার ছেলে।

 

 

 

এর আগে নিহত চারজন হলেন নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার অনিক মিয়া (২২), বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার কাউসার আহমেদ (৩৭), কান্দাপাড়ার মালয়েশিয়াপ্রবাসী লতিফ মোল্লা (৩৫) এবং হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (৩৬)।

 

 

 

গত ১৬ জুন ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সির (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন অনিক মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন বুধবার (১৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে টেটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার আহমেদের লাশ ভেসে আঠে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে ভেসে উঠে লতিফ মোল্লার লাশ।

 

এদিকে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মোস্তফা মিয়া দীর্ঘ পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধিন খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। খবর পেয়ে নিখোঁজ বুলবুলের পরিবারের লোকজন খাককান্দা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে নিহতের লাশ শনাক্ত করে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে।

 

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, খাককান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ বুলবুলের বলে তার পরিবারের লোকজন শনাক্ত করে। নিলক্ষায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত রায়পুরা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। অপর দিকে নিহত কাউসারের স্ত্রী মুন্নি আক্তার রবিবার (২১ জুন) বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৬-১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না : মোমিন মেহেদী

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না। নতুন করে আর কোনো জুলাই ঘটাতে চাইলে তাদের শেষ পরিণতি হবে গণধোলাইতে। তারা প্রায় দুই বছরে রাজনৈতিক-সামাজিক-প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক-ধর্ম-মানবিক বা ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা আনতে না পারলেও নিজেদের সাথে জনতার বৈষম্য তৈরি করে এমপি হয়েছে, উপদেষ্টা হয়েছে এমনকি রাজনৈতিক দল গঠন করে সমাজকে শত ভাবে বিভক্ত করেছে।
২২ জুন পুরানা পল্টনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, বৈষম্য দূর করবার খবর নাই, দ্রব্যমূল্য কমানোর খবর নাই, দুর্নীতি থামানোর খবর নাই, খুন-ধর্ষণ থামানোর খবর নাই, তাদের কেবল জুলাই চাই, সুরক্ষা চাই; এই সব হয়েনাদেরকে দেশের মানুষ সহিংসতা বন্ধ না করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে তৈরি হচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ বোঝে না, বিএনপি বোঝে না, নতুনধারা বোঝে না। বোঝে কেবল লোভ মোহহীন-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এমপি হওয়ার পর প্রতারণার মধ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর খেসারত দিতে হবে। আর এ কারণেই সারাদেশে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য।
সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. হামিদুজ্জামান, চন্দন সেনগুপ্ত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যে লক্ষ্য থেকে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেডর‌্যালীর মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, সেই লক্ষ্য পুরণ করতে ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সকল শর্ত মেনে নিবন্ধনের আবেদন করলেও নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে শেখ হাসিনা সরকার ও ইউনুস সরকার প্রমাণ করেছে যে, জাতির জন্য নিবেদিত থাকা রাজনৈতিক প্লাটফর্মকে রাজপথে দেখতে ভয় পায়। যে কারণে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে প্যাড সর্বস্ব প্লাটফর্মকে নিবন্ধন দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বন্দর, বিকল কোটি টাকার আরটিজি ক্রেন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অগ্নিনির্বাপণ দল। তবে আগুনে ক্রেনটি অচল হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডটিতে আপাতত কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৩ নম্বর জেটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে কন্টেইনার ওঠানামা ও ডেলিভারি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একটি আরটিজি ক্রেনে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আগুনের তাপের কারণে পাশে থাকা একটি রেফ্রিজারেটেড (রিফার) কন্টেইনারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আগুন আশপাশের অন্যান্য কন্টেইনার কিংবা যন্ত্রপাতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আরটিজি ক্রেনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। ফলে ওই ক্রেন ব্যবহার করে আপাতত কোনো কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে ডেলিভারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও বন্দরের অন্যান্য সব ইয়ার্ডে পণ্য খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণত একেকটি গেন্ট্রি ক্রেনের দাম পড়ে ১৫ থেকে ২৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এনসিটির একটি আরটিজি ক্রেনে আগুন লেগেছিল। ফায়ার সার্ভিস ও বন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেনটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ৭.৬৩ টিসিএফ: সরকারি হিসাব

দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য (রিকভারেবল) সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে, প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

 

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আটটি গ্রাহক শ্রেণির অনুমোদিত গ্যাস লোডের ভিত্তিতে বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গড়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় দুই হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে। আর মজুত রয়েছে সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।

সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচির আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।’

 

 

তিনি জানান, অবশিষ্ট কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

 

 

নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করতে চলমান সিসমিক জরিপ কার্যক্রমের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় প্রায় চার হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এসব তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে।’

 

 

এছাড়া হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশে এক হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরো জানান, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় ৬৬০ বর্গকিলোমিটার, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন কাঠামোতে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আরও থ্রিডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

 

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দুই হাজার এবং এক হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি নতুন ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

রাণীনগরে ভূমিসেবা সহজ করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

নওগাঁর রাণীনগরে ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আবাদপুকুর বাজারে কালীগ্রাম-একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটায় উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের আয়োজনে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর, নাগরিক নিবন্ধন, DLRMS সংক্রান্ত আবেদন, খাস জমি বন্দোবস্ত এবং ভূমিসেবা গ্রহণে বিভিন্ন জটিলতা ও জনভোগান্তির বিষয় তুলে ধরেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। তারা সরাসরি তাদের মতামত, অভিযোগ ও সমস্যার কথা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন। কর্মকর্তারা মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন এবং রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা ভূমিসেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, অনলাইনে আবেদন এবং ভূমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন তারা।
উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ শোনা এবং তা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে জনসাধারণের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরির সুযোগ: রেশম উন্নয়ন বোর্ডে ১৬৭ পদে নিয়োগ

চাকরি দিচ্ছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব খাতভুক্ত ১৪ থেকে ২০ গ্রেডের পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মোট পদসংখ্যা ১৬৭। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: সহকারী হিসাবরক্ষক

পদসংখ্যা: ৫

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪)।

২. পদের নাম: টেকনিক্যাল সুপারভাইজার

পদসংখ্যা: ৯৬

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৩. পদের নাম: ড্রাফটসম্যান

পদসংখ্যা: ১

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৪. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ১৮

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৫. পদের নাম: এক্সপার্ট উইভার

পদসংখ্যা: ৪

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৬. পদের নাম: অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা: ৪৩

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)।

বয়সসীমা: ১ জুন ২০২৬ তারিখে ১৮-৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করবেন।

আবেদন ফি: ১ থেকে ৫ নম্বর পদ: ১১২ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ); ৬ নম্বর পদ: ৫৬ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ)।

আবেদনের সময়সীমা: আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু ২২ জুন ২০২৬

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬

*বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এখানে

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে গণনা শেষে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে। মাজারের দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা, প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। গণনা শেষে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

গণনায় দেখা যায়, দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ, দুটি সৌদি রিয়াল, ডলার ও পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা।

মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা দান করে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ৭শ শত বছরের প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে অর্থ গণনার এ উদ্যোগকে ঘিরে মাজারসংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

পাঁচ ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফেরত চেয়ে আন্দোলন

চাকরি পুনর্বহাল, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দেশের পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন অনেক কর্মী। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক হারে ছাঁটাইয়ের ফলে অসংখ্য পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে তাঁরা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেন।

 

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্বের পদ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ অবিলম্বে পুনর্বহাল করা, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা।

 

 

এ ছাড়া ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

 

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আমাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের চাকরি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। এ দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছি।”

 

 

আরেক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আদনান মালেক বলেন, ৫ আগস্টের পর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

 

 

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের একটি দল মোতায়েন ছিল।

 

 

কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন শেষে স্থান ত্যাগ করেছেন। মানববন্ধনের কারণে নগরীর যান চলাচলেও উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত ভারতীয় কোচিং সেন্টার, প্রাণ গেল ১৩ জনের

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার সংবলিত ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) এ দুর্ঘটনায় ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বহু মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম তলা থেকে লাফ দেন।

 

 

স্থানীয় সময় দুপুরে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাণিজ্যিক এলাকার তিনতলা ভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আগুন লাগার পর অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। তিনি একটি বেড়ার ওপর আছড়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এটি তিনতলা ভবন। ওপরের তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজের জন্য কয়েকটি জানালা ভেঙে ফেলা হয়।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ আটকা পড়েছিলেন। তবে কতজন আটকা ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

 

 

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী লাফ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাড় ভেঙে গেছে।

 

 

 

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বিদেশি পর্যটককে হয়রানি, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করেছে পুলিশ

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকায় এক বিদেশি পর্যটককে নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ধারণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে টুরিস্ট পুলিশ জয়পুরহাট সদর থানার ছোট মাঝিপাড়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা’কে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

 

জানা গেছে, গত ১৯ জুন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে কেন্দ্র করে আব্দুল মাবুত এবং সঙ্গে থাকা নারী একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওর একপর্যায়ে আব্দুল মাবুত ওরফে হিরো নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলতে থাকেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা ঘটনাটিকে বিদেশি পর্যটকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নজরে এলে পাহাড়পুর টুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। যাচাইবাছাই শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং পরবর্তী আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, পাহাড়পুর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি পর্যটককে হেনস্তার ভিডিওটি নজরে আসার পর টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে নওগাঁ জেলা টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়াতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যাতে হিরো নানা নামে একজন ব্যক্তি বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে হাত ধরে কথা বলছে। এক পর্যায়ে সে কিছু অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে। সোস্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টোডিয়ান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হিরো নানাকে আমরা আটক করি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বদলগাছী থানাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

বদলগাছী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচের সময় ও মোবাইলে দেখার উপায়

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রিয়া ম্যাচের দোরগোড়ায়।

 

 

আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই।

 

 

লিওনেল মেসির এই ম্যাচ ঘরে বসেই টিভিতে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার ম্যাচ।

 

 

 

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

৬ জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য তৎপরতা প্রতিরোধে ছয় জেলায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

 

 

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এ ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও একজন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলায় র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

 

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল সওদাগর (৫৩) মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। তার বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজ এলাকায়।

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানিয়েছে, সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আইয়ুব আলী চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লয়েল রোড এলাকার নবী মার্কেটের সামনে অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত দুইদিনে এ মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- আলী আকবর (২৬) ও মো. ইমরান (২৫)।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

দুর্দান্তভাবে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সোমবার (২২ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ডালাসে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

 

 

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও একাদশে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় গঞ্জালো মন্টিয়েলকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে আজ। তার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন নাহুয়েল মোলিনা।

 

 

এ ছাড়া আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া মূল একাদশই প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও ম্যাচ ফিটনেসে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় আপাতত লাউতারোর ওপরই আস্থা রাখছেন স্কালোনি।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো ডি পল, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, থিয়াগো আলমাদা/নিকোলাস গঞ্জালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজ।

হিলিতে পৃথক মাদক অভিযানে ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে পৃথক তিনটি মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।
আজ সোমবার ২২ শে জুন বৈকাল ৫টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের পৃথক চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন উপজেলার বোয়ালদার (খানপাড়া) গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হক খানের ছেলে মোঃ মাজেদ আলী খান (৪৬)। উত্তর বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম (৪০)। একই গ্রামের মোঃ বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজা মিয়া (৩০)। চকচকা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ মমিন প্রধান (৫০)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ বিকেলে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, মাদক ও অপরাধ দমনে থানা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেলজিয়াম ম্যাচে আলোচনায় আসা আলিরেজার জীবনের ৫ অবাক করা তথ্য

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে ইরানের হয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক হিসেবে উঠে এসেছেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি থামিয়ে দেন বেলজিয়ামের তারকা আক্রমণভাগ যেখানে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ।

 

 

২৩টি শটের মধ্যে ৭টি অন টার্গেট সবকটিই রুখে দেন বেইরানভান্দ। বিশেষ করে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের পরপর দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বলে ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ম্যাচ শেষে তিনি পান সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

 

 

ইরানের জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে খেলছেন ট্র্যাক্টর দলে। এর আগে তিনি পার্সেপোলিস, বোয়াভিস্তা এবং রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের মতো ক্লাবেও খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০১৮ ও ২০২২ আসরেও ইরানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন ১৯৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই তারকা। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি সেভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক আলিরেজা বেইরানভান্দের জীবনের ৫টি চমকপ্রদ তথ্য-

১. যাযাবর কুর্দি পরিবার থেকে উঠে আসা ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদে জন্ম বেইরানভান্দের। কুর্দি লাক যাযাবর পরিবারে বড় হয়ে ওঠা এই গোলরক্ষক ছোটবেলায় পাহাড়ি এলাকায় পশুপালনের কাজও করেছেন। রাখাল জীবন থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার গল্প তাকে অনন্য করে তুলেছে।

 

 

 

২. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী

দূরপাল্লার থ্রোয়ের জন্য বিখ্যাত বেইরানভান্দ। ফুটবলে সবচেয়ে দূরে বল ছোড়ার রেকর্ড (২০০.১৪ ফুট) এবং দীর্ঘতম ড্রপ-কিক (২৫৫.৯৫ ফুট) দুটি রেকর্ডই তার দখলে, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

 

 

৩. বেলজিয়ামের বিপক্ষে অসাধারণ পরিসংখ্যান

এই ম্যাচে তিনি ৭টি সেভ করেন। পাশাপাশি ৩৪টি পাসের মধ্যে ২০টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং ২৪টি লং বলের মধ্যে ১১টি সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন যা তার গোলরক্ষার পাশাপাশি বিল্ড-আপ দক্ষতাও তুলে ধরে।

 

 

৪. ইরানি ফুটবলের শীর্ষ তারকা

গত এক দশকে ইরানি ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন বেইরানভান্দ। তিনি টানা চার মৌসুম লিগের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে ইরানের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।

 

 

৫. রোনালদোর পেনাল্টি সেভে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি

২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন বেইরানভান্দ। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, আর তার সেই সেভ আজও ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।

 

ইরানের এই গোলরক্ষক তাই শুধু একজন খেলোয়াড় নন তিনি এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে পাহাড়ি যাযাবর জীবন থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে নায়ক হওয়ার কাহিনি লেখা হয়েছে নতুন করে।

 

পারিবারিক কলহের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলের হাতে নিহত বাবা

রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হামলায় রেজাউল করিম নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত রেজাউল করিম (৬০) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত তার ছেলে রাকিবুল করিম (২৭)। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকালে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবা ও ছেলে রাকিবুলের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাকিবুল ঘরে থাকা একটি কাঠ দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত রেজাউল করিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত রাকিবুল দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

মনিরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোমবার (২২ জুন ২০২৬) ভোররাতে হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. মিনহাজুল আবেদিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের বসতঘর থেকে মাদক ব্যবসায়ী মো. শাখাওয়াত (২২) কে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তার শাখাওয়াত হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। অভিযানের সময় তার সহযোগী মো. সাঈদ উদ্দিন (৩০) পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামি ও পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জলঢাকায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

নীলফামারীর জলঢাকায় প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুলার ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রিসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রাম এর আওতায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
সোমবার ২২ শে জুন  সকালে উক্ত অনুষ্ঠানে শুরুতে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানটির শুভসূচনা করেন নীলফামারী -৩  আসনের সাংসদ সদস্য মাওলানা  ওবায়দুল্লাহ সালাফি । পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন কৃষি বুথ ও কর্ণার পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা আমির মোখলেছুর রহমান মাস্টার, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোয়াম্মর আল হাসান , প্রেসক্লাব জলঢাকার সভাপতি কামারুজ্জামান, নীলফামারী জেলা জামায়াত ইসলামী প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি প্রভাষক সাদের  হোসেন , প্রেসক্লাব জলঢাকা সেক্রেটারি শাহজাহান কবির লেলিন,নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রশিদুল ইসলাম বাঙ্গালী,
জলঢাকা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা তথ্য অফিসার আয়েশা খাতুন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আসাদুজ্জামান আসাদ ,উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন  উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম।

সিরাজগঞ্জে জব ফেয়ার-২০২৬ অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বেকার যুবকদের চাকরির সুযোগ তৈরীর লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সোমবার, (২২ জুন) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ মেলায় জেলার বিভিন্ন বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

পিকেএসএফ এর অর্থায়নে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের সহযোগীতায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি), মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এবং মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জব ফেয়ার এর উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

 

এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বেকারত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ এর রেইজ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ফারুক হোসাইন, বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলাম, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিব উল্লাহ বাহার এবং মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এর নির্বাহী পরিচালক মাছউদ আহমেদ রোকনী।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রকল্প বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর ঋণ সহায়তা কর্মসূচির পরিচালক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও এসময় ৩০টির বেশি চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তারা বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে হলে যুবকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পান।

 

 

আয়োজকরা জানান, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতী, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তির তারিখ পেল আলোচিত সিনেমাটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’-এর। নির্মাতারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ২৬ আগস্ট।

 

 

ব্যতিক্রম একটি বিষয় হলো, সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে বুধবার। সাধারণত বড় বাজেটের ভারতীয় সিনেমাগুলো শুক্রবার মুক্তি পেলেও ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন নির্মাতারা। কারণ, মুক্তির সময়টিকে ঘিরে রয়েছে বরমহালক্ষ্মী পূজা, ওনাম ও রাখি বন্ধন-এর মতো একাধিক উৎসব ও ছুটির আবহ। ফলে টানা কয়েক দিনের ছুটির সুবিধা পেয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে বাড়তি দর্শক টানতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

মুক্তির তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমাটির নতুন পোস্টারও। পোস্টারে যশকে দেখা গেছে দুটি ভিন্ন রূপে। জানা গেছে, সিনেমাতে তার চরিত্রের নাম ‘রায়া’ এবং ‘টিকিট’। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে যশ জানিয়েছিলেন, বাইরে থেকে এটি গ্যাংস্টার ঘরানার বাণিজ্যিক সিনেমা মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে আরও গভীর গল্প। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু অপরাধজগতের গল্প নয়; বরং নৈতিক দ্বন্দ্ব, মানবমনের অন্ধকার দিক এবং আবেগের জটিলতাকে অনুসন্ধান করার একটি প্রচেষ্টা।‘

ইতোমধ্যে ‘টক্সিক’কে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে বলা হচ্ছে। সিনেমাটি একসঙ্গে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় ধারণ করা হয়েছে। পরে এটি ছয়টি ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিসরে দর্শক টানার লক্ষ্যেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এটি তার সঙ্গে যশের প্রথম কাজ। যশের পাশাপাশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা, বলিউড তারকা কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্ষ্মিনী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। ‘কেজিএফ’-এর পর যশের সবচেয়ে বড় বাজির সিনেমা হিসেবেই দেখা হচ্ছে ‘টক্সিক’-কে।

 

 

তবে মুক্তির আগেই একাধিকবার পিছিয়েছে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ। প্রথমে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল এটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুটিং ও প্রযোজনার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে নতুন তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমা।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর যশকে নতুন রূপে বড় পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন তার ভক্তরা। তাই মুক্তির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ‘টক্সিক’ ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশাও ততই বাড়ছে।

চরিত্রের গভীরে সুনেরাহ, ‘ঝরা বকুল’-এ পেলেন দর্শকের ভালোবাসা

নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক মানেই নতুন কিছু। প্রেম ভালোবাসার পাশাপাশি বরাবরই পরিবারের গল্প তুলে ধরেন তিনি। এরমধ্যে তার নির্মিত ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে এই নাটকের সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনীত মনিরা চরিত্রটি বেশ প্রশংসা পাচ্ছে।

 

 

গল্পে দেখা গেছে, মনিরা একটি গরীব পরিবারের বড় মেয়ে। সবার দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের বিয়েও করা হয়ে ওঠেনি তার। এমনকি মনিরা অন্য পরিবারে চলে গেলে কে সংসার দেখবে এই ভয়ে তার মা নিজেও তাকে বিয়ের জন্য বলে না। কিন্তু কবির (ইয়াশ রোহান) মনিরাকে চায়। এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়।

 

 

নাটকটির কমেন্টবক্সে একজন লেখেন, ‘জানিনা মানুষ সুনেরাহকে নিয়ে এত খারাপ মন্তব্য কেনো করে। ওর কণ্ঠ, ওর চেহারা সবই অন্য রকম। আর কেন জানি সব ধরনের অভিনয়ে মানিয়ে যায়। বড় লোকের মেয়ে, গরীবের বাড়ির মেয়ে, অহংকারী নিরহংকারী, সব চরিত্রে। ‘

রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দেখা যাচ্ছে। এটি প্রযোজনা করেছেন জামাল হোসেন। নাটকটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রম্য, রোমান্টিক, অতি আর্ট দেখতে দেখতে দর্শক হয়রান। এসবে গল্প আর বাস্তবতার অভাব থাকে। হাপিয়ে উঠা দর্শক এখন একটা পরিবারের সুখ দুঃখ স্ট্রাগল ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পান।’

নির্মাতা রিংকু বলেন, ‘আমি সব সময় পারিবারিক গল্পকে প্রধান্য দিয়ে আসছি। এই নাটকেও দর্শক সেটি দেখছেন। মানুষ নাটকে যখন নিজেদের খুঁজে পান তখন সেটি সহজে গ্রহণ করেন। এই কারণে হয়তো ঝরা বকুল সবার ভালো লাগছে।’

এই নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন গুনী অভিনেত্রী ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী ও গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকে।

স্কুলশিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগে শিক্ষক-ছাত্র আটক

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন দায়ের হওয়া রামগঞ্জ থানার হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল সুপার ও সহকারী অধ্যাপক এবং এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এর আগে ১৬ জুন বিকেলে উপজেলার ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।

নিহত মেহেদী উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় ১৮ জুন তার বাবা বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় মেহেদীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার চায়না জাল জব্দ, দুই ব্যক্তিকে জরিমানা ও একজনের কারাদণ্ড

​নাটোরের সিংড়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
অভিযানে প্রায় ২০ লাখ টাকার  নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ এবং এ জাল ব্যবহারের দায়ে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড ও  একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
​সোমবার  দুপুরে সিংড়া পৌর শহরের সরকার পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
​অভিযানে মৎস্য সুরক্ষা আইন অমান্য করে চায়না দুয়ারি জাল বাড়িতে মজুদ ও জাল  দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও একাক্বর (৩৭) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শহিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা সহ ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।  অপরপক্ষে অভিযুক্ত একাক্বর কে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভাম্যমান আদালত। এছাড়া  জব্দকৃত প্রায় ২০ লাখ টাকার  অবৈধ চায়না দুয়ারি  জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান ও ভাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মতা (ইউএনও)  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাট আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহাদত হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী  উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, চায়না দুয়ারি জাল বিলের ছোট বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণি ধবংস করে ফেলছে যা চলনবিলের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোন ছাড় নয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রেমিকের সঙ্গে পালানো নববধূর মরদেহ মিলল কামারখন্দ হাইওয়ের পাশে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে এক নববধূর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের মেয়ে মোছাঃ মুক্তা খাতুন (১৭)।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়িও পাওয়া গেছে। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে প্রায় ১৫ দিন আগে মুক্তা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল। তবে রোববার রাতে তিনি বাবার বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জের কড্ডা মোড় এলাকার এক প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। এর একদিন পর সোমবার সকালে কামারখন্দের কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় তার মাথা থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মরদেহটি মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

ধুনটে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে নাজমুল হকের মনোনয়ন পত্র দাখিল

বগুড়ার ধুনট  উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের  এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নাজমুল হক সরকার (২২ জুন) সোমবার দুপুরে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনায়তনে।
উক্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন  এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ , সহকারী শিক্ষক ফজলুল হক,গোলাম  মোস্তফা, আব্দুল হামিদ, বিউটি রাণী ঘোষ।
এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন পিষ্টন, এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জি এম সম্রাট,  এলাঙ্গী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া তালুকদার, ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম রতনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
৪০ বগুড়া -০৫ আসনের (শেরপুর – ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের মনোনিত এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন ।
এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মরহুম মোজাম্মেল হকের ছেলে নাজমুল হক সরকারকে।

নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক তরুণীর সঙ্গে এক চীনা নাগরিকের বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়েটি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসবের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছা. মাইশা আক্তার জুঁইয়ের সঙ্গে চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয় উত্তরা ইপিজেডে কর্মসূত্রে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ১০ জুন কোর্ট অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে লিয়াউ জিচুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নুর মোহাম্মদ নাম ধারণ করেন বলে জানা গেছে।

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৮ জুন পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়েতে তিন লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

 

 

জানা গেছে, মাইশা আক্তার জুঁই উত্তরা ইপিজেডের মেইগো বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি পরিবারের।

 

 

এদিকে, বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কনেকে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, এটি স্বাভাবিক বিয়ে নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থের বিনিময়ে করা একটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় ছিল। পরে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে।’

 

 

বিষয়টি জানতে জুঁইয়ের বাবা জুয়েল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া নবদম্পতির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

 

 

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। অর্থের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 

 

কামারখন্দে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়ি পাওয়া গেছে।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মহাসড়কের পাশে মাথা থেঁতলানো অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালেন নেতানিয়াহু

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোন থেকে ইসরায়েলি সেনা আপাতত প্রত্যাহার করা হবে না। যত দিন প্রয়োজন, তত দিন সেখানে সেনা মোতায়েন থাকবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা যাই হোক না কেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। গত এক বছরে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও জানান, সীমান্তবর্তী বাফার জোন থেকে ইসরায়েল সেনা সরাবে না। সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

 

কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিম–তারেক রহমান বৈঠক শুরু

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়াতে অবস্থিত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টার সময় পুত্রাজায়ায় সরজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

 

 

 

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চ পর্যায়ের সীমিত বৈঠক শুরু হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারেক রহমান পুত্রাজায়ায় পৌঁছানোর পর তাকে লালা গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও অভিবাদন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

 

 

পেরাদানা পুত্রা ভবনের সামনে মালয়েশিয়া মাদানী স্কয়ার যেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রতীক্ষায়। পরে এখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

 

 

দেখা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক কার্যালয়ে দীর্ঘ লম্বা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে।

 

 

 

মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রাজায়াতে অবস্থিত। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভবনটি মালয়, ইসলামিক-মুঘল এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ গঠিত, যার কেন্দ্রে রয়েছে আইকনিক সবুজ গম্বুজ।

 

 

 

পুত্রাজায়া স্কয়ারের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা উড়ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ভবনে যা নাম ‘পেরাদানা পুত্রা’ সেই ভবনের মালয়েশিয়ার পতাকার পাশে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।

 

কক্সবাজারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, অধিকাংশ রোগী রোহিঙ্গা

 

কক্সবাজারে দিন দিন এইচআইভি রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধ যৌন সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে, স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে।

 

 

 

সূত্র জানায়, জেলার মোট এইচআইভি আক্রান্তদের প্রায় ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা শরণার্থী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের পাশাপাশি কক্সবাজার এখন আরেকটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি।

 

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে কক্সবাজারেই রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ১৭০ জন। বাকি অধিকাংশই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢলের পর থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ২১৭ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, যাদের সবাই রোহিঙ্গা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ২১৫ জন।

 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার অনেক বেশি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত মায়েদের মাধ্যমে নবজাতকদের শরীরেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

 

 

এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় বা প্রতিরোধ করা যায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অসচেতন থাকলে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতা নিশ্চিত না করা হলে গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের সময় শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে।

 

 

 

কক্সবাজার এআরটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মেজবাহ জানান, বর্তমানে কয়েকজন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা জন্মগতভাবে মায়ের কাছ থেকে ভাইরাসটি পেয়েছে। এ ধরনের সংক্রমণ রোধে ‘প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি)’ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত মায়েদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতা কার্যক্রম, নিয়মিত পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ভবিষ্যতে এটি আরও বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।

 

প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ারকে বহাল রাখার দাবি সিলেটে

 

সিলেটে মাজার ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিলেটের সর্বস্থরের যুব সমাজ। বিকাল ৬টায় সিলেট কোর্ট পয়েন্টে ও ডিসি অফিসের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বক্তারা বলেন, সিলেটের স্বার্থে, সিলেটবাসীর দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডিসি সরওয়ার আলমকে বহাল রাখতে হবে। জনমতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত সিলেটবাসী মেনে নেবে না।

 

গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়।

 

 

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দায়িত্ব পালনকালে একাধিক আলোচিত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ঘিরে সারওয়ার আলমের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ মাজার ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপই জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

 

 

মাজার-ভক্ত-অনুসারীরা জানান, প্রায় ৭০০ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দানবাক্সে সিলগালা করা হয়েছে, এটা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।

 

 

 

সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি শামসুল বাসিত শেরো বলেন, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মেরামতের মত সামান্য কাজ দুবছরে করতে পারেননি জেলা প্রশাসক। দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল বাকী, নাইটগার্ডের ১৮ মাসের বেতন বাকি।

 

 

 

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বদলির বিষয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেট শাখার সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম কালবেলাকে বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদাপাথর লুটের সময় তিনি লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পাথর পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া র‌্যাবে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তিনি জনমনে পরিচিত ছিলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ বিশেষ করে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ‘ডেগ সিলগালা’ এবং সেখানে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন অনেকের কাছে বিতর্কিত ও অশোভন মনে হয়েছে।

 

 

 

এতে মাজার সংশ্লিষ্টদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে এবং ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানে জলঢাকা থানার ওসিকে  বিশেষ সম্মাননা প্রদান

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে নীলফামারী জেলা প্রশাসন। আজ রবিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক জনাব নায়িরুজ্জামান তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। নীলফামারী জেলার সকল থানার মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রন, চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম দমন সহ সার্বিক তৎপরতায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখায় জনাব নাজমুল আলম কৃতিত্বপূর্ণ এই সম্মান অর্জন করেন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার নীলফামারী, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী সহ নীলফামারী জেলাধীন সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলম মর্যাদাপুর্ন এই সম্মান অর্জন জলঢাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরও কর্মতৎপর ও উৎসাহী করে তুলবে বলে মনে করছেন জলঢাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি! অতঃপর…

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই নারীকে নিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ের পর নিজেকে তার পূর্বের বৈধ স্বামী দাবি করে হাজির হয়েছেন আরেক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাস, স্থানীয় এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম গত ১৯ জুন একই কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়াশোনার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে বিয়েতে রূপ নেয়।
তবে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি এখনও তার বৈধ স্বামী। তার অভিযোগ, স্বর্ণাকে কৌশলে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুরাদ হোসেন বলেন,
“স্বর্ণা আমার স্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। এখন তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, “এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়। পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।”
অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন দাবি করেন, “স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি। নিজেকে স্বামী দাবি করা ব্যক্তি প্রতারণার চেষ্টা করছেন। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবির কোনো ভিত্তি নেই।”
ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, “মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং প্রাপ্তবয়স্ক। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এলিজা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
এদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বর্ণা খাতুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের দাবিকৃত পূর্ববর্তী বিয়ের কোনো নথিপত্রও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী বৈবাহিক দাবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সক্রিয় হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং ইরানে হামলা চালাবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।

 

 

 

তিনি লেখেন, ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের উচ্চ বেতনভুক্ত প্রক্সিদের ঝামেলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা ইরানকে আবারও খুব কঠোরভাবে আঘাত করবো; গত সপ্তাহের চেয়েও বেশি শক্তি দিয়ে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নতুন পর্ব শুরু হওয়ার মধ্যে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

 

এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্ত, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ বাস্তবায়িত হয়নি। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

 

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় লালগালিচা সংবর্ধনা

 

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

 

 

 

টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

 

 

 

এ সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

 

সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে ২ দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনীসহ সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে থাকবেন।

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সফরে রয়েছেন তারেক রহমান।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

 

 

 

তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এই সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন।

 

 

 

সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

 

চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপির ছেলেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

 

চাঁদাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

 

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে সজীবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বেচ্ছায় এসপি কার্যালয়ে আসেন।

 

 

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

তবে অভিযোগের প্রকৃতি কিংবা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।

 

 

 

এদিকে সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় গণমাধ্যমকে জানানো হয়, খাইরুল ইসলাম সজীবকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সজীব বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

শাহজাদপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
শনিবার (২১ জুন) সকালে শাহজাদপুর থানা চত্বরে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ উদ্দিনসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর থানার এসআই মন্তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে টহল পুলিশের একটি দল বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের টেটিয়ারকান্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৬ বস্তা অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে গাড়িটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
আটক পিকআপের চালকের কাছ থেকে জানা যায়, জালগুলো পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকা থেকে বগুড়ায় নেওয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত ১৬টি বস্তার মধ্যে মোট ৯৩ পিস অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পিকআপটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন বলেন, চায়না দুয়ারি জাল উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের তৎপরতায় জালগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে এবং আমার উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বা পরিবহন দেখতে পেলে দ্রুত প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগকে জানাতে হবে।
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

 

 

রোববার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

 

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ খান হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহীদুল হাসান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাদের সেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, দৈনিক কলম সৈনিকের সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, ফজল-এ-খোদা লিটন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম তফিজ উদ্দিন, বর্তমান সহ-সভাপতি হীরক গুণ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা রুবেল, অর্থ সম্পাদক নয়াদিগন্তের রিপোর্টার নূরুল ইসলাম রইসী, বর্ণিক বার্তার রিপোর্টার অশোক ব্যানার্জী, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রিংকু কুণ্ডু প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু।

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একাত্তর টেলিভিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চ্যানেলটি দর্শকদের আস্থা অর্জন করেছে এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও মানবিক সংবাদ পরিবেশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

 

 

প্রধান অতিথি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, একাত্তর টেলিভিশন দেশের মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে একাত্তর টেলিভিশন ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

 

আলোচনা শেষে অতিথিরা একাত্তর টিভির প্রতিনিধিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ প্রশসান, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও শিক্ষাবিদগণ এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৪ পাউন্ডের কেক কর্তনের মধ্যদিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

 

 

“প্রাণের খোঁজে বিশ্বময়” এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ, আবৃত্তি-চিত্রাঙ্কন রচনা প্রতিযোগিতা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে গাছের চারা বিতরণ, পরিবেশের ওপরে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

রোববার (২১জুন) সকালে শহরের শিল্পকলা একাডেমী অডিটোরিয়ামে পরিবেশবাদী সংগঠন “প্রানের খোঁজে বিশ্বময়” এর আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

প্রানের খোঁজে বিশ্বময়’র সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ব বিদ্যালয় বাংলাদেশ এর বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হামিদ সরকার, সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম, অ্যাডভোকেট মাহবুব-এ-খোদা টুটল, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বৃক্ষপ্রেমী মাহবুব পলাশ প্রমূখ।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে যুবককে হত্যা, প্রতিবাদে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও

চুরির অভিযোগে এক যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।

 

 

নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ওসি জায়েদ নূর বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত চলছে।পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জাতীয় কবির ভাবনা-দর্শন ছড়িয়ে দিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এক বছরের জন্য ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

রোববার (২১ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে।

 

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা ২৫ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এ সময়জুড়ে কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তার মানবতাবাদী ও বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে  গাছগুলো কর্তন করে। পরে গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন,সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”
এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই।  জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা  আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে আশাবাদী মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা

ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এই সফরের মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ঝিমিয়ে পড়া শ্রমবাজারের পুনরুজ্জীবন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন প্রবাসীরা।

 

 

তাদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার সিন্ডিকেট মুক্ত হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো বন্ধ ও সীমিত হয়ে থাকা শ্রমবাজারের জটিলতা দূর করা। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিগত দিনগুলোতে নানা আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল।

প্রবাসীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে, যা বৈধ পথে এবং স্বল্প খরচে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার অর্থনীতির জানালা পুরোপুরি খুলে দেবে।

এদিকে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বিমান টিকিট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি প্রবাসীদের। তারা জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি অন্যতম প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে বিমানের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সাধারণ প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ টিকিটের পেছনেই উজাড় করে দিতে বাধ্য হন।

 

 

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর প্রথম মালয়েশিয়া সফর করছেন এটি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে-দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি কিছু পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ হবে।’

 

 

কয়েকজন প্রবাসী আকুতি জানিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে বিমান টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী লুটে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।

 

 

সরকারি খরচে মরদেহ দেশে পাঠানোর দাবি

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবাসীদের মাঝে সবচেয়ে যে বিষয়টি প্রভাব ফেলে সেটি হলো কেউ মারা গেলে তার লাশ দেশে পাঠানো নিয়ে। কেননা, মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক অনটনে পড়তে হয়।

 

 

প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি, কোনো প্রবাসী মারা গেলে যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তার লাশ বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তারা চান, প্রধানমন্ত্রী যেন এবারের সফরেই এই মানবিক দাবিটি পূরণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেন।

 

 

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

যুবদলের মালয়েশিয়া শাখার কর্মবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে চাকা সচল রাখছেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এই বিশাল ত্যাগ ও অবদানের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। কুয়ালালামপুরের বুকজুড়ে এখন একটাই সুর—প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে কাটবে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, আর উন্মোচিত হবে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।’

 

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—যেন প্রবাসীদের মৃতদেহ তিনদিনের মধ্যে দেশে বিনা খরচে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে বিমানের টিকিট ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সব ধরনের সিন্ডিকেট যেন ভেঙে দেওয়া হয়।’

 

 

মালয়েশিয়া যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল পাঠান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়। এই সফরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাধা দুর হবে, এটাই আমাদের চাওয়া।’

 

 

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেন তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ সময় রোববার (২১ জুন) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৮৬-এ কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন সোমবার স্থানীয় সময় পুত্রজায়ায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক (টেট-আ-টেট) অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

 

 

তাছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রম অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের কল্যাণ সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে। বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠনও শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার, অবৈধ দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

এ সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া নির্বাচন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত বহন করে।

 

 

এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং হালাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

 

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা বা যৌথ ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

 

 

সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে সফরটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

 

 

বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর খসড়া কর্মসূচি

খসড়া কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরে তিনি রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন।

 

 

সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। গার্ড অব অনারের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সীমিত পরিসরের বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

এদিন উভয় দেশের উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও একটি নোট বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমনসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে দলিল বিনিময়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

 

 

সরকারি কর্মসূচিতে আরও রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ। একই দিনে মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে সম্ভাব্য সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি তখনও নির্ধারিত হয়নি।

 

 

এ ছাড়া এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

 

 

দুই দিনের সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের ডালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সাহায্য চেয়ে কেমিক্যাল প্রয়োগ; শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

মহিলাদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটা দল। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার (২০জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একদল সদস্য।
রোববার (২১জুন) বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করে। এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল scopolamine ব্যবহার করে ওই সকল মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের নিকট থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়।
এসপি বলেন, এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্তে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়। সেই সকল মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
এসপি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। এবং তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতিমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদেরকে টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সলঙ্গায় আল আমিন সামিদুলের  মাদক ব্যবসার নেপথ্যের খুঁটির জোর কোথায়

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় চিহ্নিত মাদক কারবারি আল আমিন ওরফে সামিদুলের বেপরোয়া মাদক ব্যবসার পেছনে নেপথ্যের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লোক চক্ষুর আড়ালে এলাকায় মাদক বিক্রি ও তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলঙ্গার পাঁচলিয়া ও ধোপাকান্দি এলাকার বাসিন্দা আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও চোরাই মালামাল ক্রয় বিক্রয়সহ মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত। স্থানীয় যুবসমাজকে টার্গেট করে সে তার এই অবৈধ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, তার এই প্রকাশ্য মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা এবং নেপথ্যের এক শ্রেণির অসাধু চক্রের ছত্রছায়ায় সে প্রতিনিয়ত পার পেয়ে যাচ্ছে।
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান চালালেও আল আমিন প্রতিবারই কৌশলে আত্মগোপন করে বা আগাম তথ্য পেয়ে সটকে পড়ে। ফলে তার মূল সিন্ডিকেটটি সবসময়ই অধরা থেকে যায়।
​এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
​স্থানীয়দের দাবি, সলঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে আল আমিন আর সামিদুল ও তার নেপথ্যের সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

রায়গঞ্জে ভূয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী রাসেল আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগর গ্রামে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে রাসেল নামে এক যুবককে আটক করেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ।
রবিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে মালতিনগর গ্রামের জিন্নাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটককৃত রাসেল সলঙ্গা ইউনিয়নের সাতটিকরী গ্রামের মছের আলীর ছেলে। রবিবার সকালে তিনি নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে মালতিনগর গ্রামের জিন্নাহর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় একটি মামলা থেকে রক্ষা করার কথা বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের কাছে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তারা সলঙ্গা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে সলঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাসেলকে আটক করেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, “ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, আটক রাসেলের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

৩০০ শিল্পীর একক সুরে ভরতনাট্যমের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা

চলছে দেশের নৃত্যজগতের দুই পুরোধা শিবলী মোহাম্মদ আর শামীম আরা নীপার প্রতিষ্ঠান নৃত্যাঞ্চলের বছরব্যাপী রজতজয়ন্তী উদ্যাপন। সেই অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো শাস্ত্রীয় নৃত্যের বিশেষ আয়োজন ‘ভরতনাট্যম সন্ধ্যা’।

 

 

নৃত্যাঞ্চলের ৩০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ আয়োজন শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর বাংলাদেশে ভরতনাট্যম নৃত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন বিশিষ্ট নৃত্যগুরু বেলায়েত হোসেন খান, আনিসুল ইসলাম হিরু ও ড. সোমা মুমতাজকে প্রদাণ করা হয় ‘নৃত্যাঞ্চল সম্মাননা ২০২৬’।

 

 

মূল আয়োজন নৃত্যানুষ্ঠানে ভরতনাট্যম নৃত্যের শুরু থেকে শেষ, সবগুলো বিষয়কে উপস্থাপন করা হয়। পুষ্পাঞ্জলি নৃত্য থেকে তিল্লানা ও মঙ্গলাম— ধারাবাহিক এসব পরিবেশনা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের নৃত্য পরিচালনা করেন তরুণ মেধাবি ভরতনাট্যম শিল্পী ও নৃত্যাঞ্চলের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ববি।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদ। তারা জানান, রজতজয়ন্তী উদ্যাপনের সমাপনী আয়োজন হিসেবে শিশুদের ছড়াগানভিত্তিক নৃত্য প্রযোজনা ‘ছড়াছন্দে নৃত্যমালা’ মঞ্চস্থ হবে আগামী আগস্টে।

শুদ্ধ নৃত্যচর্চার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে রুচি, সৃজন আর শিল্পের অনবদ্য মেলবদ্ধন তৈরি মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে নৃত্যাঞ্চল সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বকাপের বল তৈরি করে যে দেশ, তাদের নেই ফুটবলের ইতিহাস!

বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

 

 

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।

 

 

মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা।

একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।

ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিয়ে, কলেজে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আরেক স্বামী

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা এলাকার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এক ব্যক্তির দাবিকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

 

 

জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা এলাকার শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে গত ১৯ জুন বিয়ে করেন একই কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, কলেজে পড়াশোনার সূত্র ধরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা বিয়েতে গড়ায়।

 

 

এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেছেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে বিয়ে করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

 

অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়৷ আমি আপনার সাথে পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সাথে কথা বলবে৷

 

 

অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন বলেন, স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি৷ স্বামী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিটি ফ্রট মানুষ। আমরা পারিবারিকভাবে বিয়ে দিয়েছি।

 

 

ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করে। সে কি তাহলে ছোট মানুষ। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কিনা, আমি এসব জানিনা৷

 

 

 

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশন করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর স্টেশনকে জংশন করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে রেল বাঁচাও আন্দোলন।

 

 

রোববার (২১ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. রুহুল আমিন।

 

 

এ সময় রেল বাঁচাও আন্দোলন, সিরাজগঞ্জের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব-এ-খোদা টুটুল, সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিথুন রহমান এবং জনতার কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক স্বপন চন্দ্র দাস।

 

 

স্মারকলিপিতে ৫টি পয়েন্টে রায়পুর জংশনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্য সুফল ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে সিরাজগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি পুরণে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।

 

 

কালাইয়ে সাড়ে ৮ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম: রাতের আঁধারে কার্পেটিং

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কার্পেটিংয়ের কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পুনট-মুসলিমগঞ্জ ভায়া শানিগড় রাস্তায়। রাতে ঠিকাদারের লোকজন কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই রাস্তায় সরেজমিনে গিয়ে পাথর ও পিচ বিছানোর দৃশ্য নজরে পড়ে। তবে এ সময় সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার এই রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্তকরণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে। সড়কটি আগে চওড়ায় ছিল ৫ মিটার, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ৮.৭ মিটার করা হচ্ছে এবং এর জন্য পুরো রাস্তার একপাশ খনন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গর্তে বালুর সাথে ভালো ইটের খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে দেওয়া হচ্ছে পূর্বের রাস্তার ওঠানো পরিত্যক্ত পাথর, ইটভাটার গুঁড়ো (রাবিশ) ও মাটি।

বর্তমানে পুরো রাস্তায় মাটির পুরু স্তর জমে রয়েছে। সেই ময়লা ও কাদা পরিষ্কার না করেই যৎসামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে তার ওপর রাতের আঁধারে কার্পেটিংয়ের দায়সারা কাজ সম্পন্ন করছে ঠিকাদারের লোকজন। সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা কোনো প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। এই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো তাদের ওপর চড়াও হয় এবং হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ যথাযথভাবে তদারকি করার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুনট-মুসলিমগঞ্জ রাস্তার শানিগড় বাজার থেকে মুসলিমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৭.৩৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার এবং একই রাস্তার একপাশ চওড়া করতে নতুনভাবে ৩.৭ মিটার প্রশস্তকরণে গত বছরের ৩ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা। দরপত্র ও চুক্তি অনুযায়ী কাজটির দায়িত্ব পায় নওগাঁর ‘ইথেন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

চুক্তি অনুযায়ী কাজটি গত বছরের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনেক দেরিতে কাজ শুরু করায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এখন তাড়াহুড়ো করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ঠিকাদার, যার ফলে চারিদিকে অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠছে।

স্থানীয় থল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, শুরু থেকেই এই রাস্তায় তিন নম্বর ইট, পরিত্যক্ত পাথর, রাবিশ ও মাটি দেওয়া হচ্ছে। কাদা-মাটির ওপরেই বিটুমিন ছিটিয়ে রাতের বেলায় কার্পেটিং করা হচ্ছে, যা সকালবেলা সামান্য পায়ের ঠেলাতেই উঠে যাচ্ছে। এই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী অফিসের কেউ সাইটে থাকেন না।

উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লুতু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুযোগ বুঝে রাতের বেলায় যা খুশি তাই করছে ঠিকাদারের লোকজন। এখনই যদি রাস্তার কার্পেটিং উঠে যায়, তবে ছয় মাস পর এই রাস্তার কী দশা হবে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের নামে মূলত সরকারি টাকা লোপাটের পরিকল্পনা করছে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, আসলে আমাদেরকে উপর থেকে যেভাবে এবং যখন কাজ করতে বলা হয়েছে, আমরা সেভাবেই করছি। এখানে রাত-দিন বলতে কিছু নেই, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নূর আলম বলেন, যেহেতু এটি কৃষিনির্ভর এলাকা এবং বর্তমানে ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে, তাই কৃষকদের কাজে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য রাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো অনিয়ম করা হয়নি, যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

অন্যদিকে, ইথেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার রাসেল আহমেদ বলেন, আমি নিজে সবসময় সাইটে থাকি না। তবে আমার লোকজন যদি সত্যিই রাতের বেলায় কার্পেটিংয়ের কাজ করে থাকে, তবে তা অবশ্যই ভুল করেছে।

এ প্রসঙ্গে কালাই উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, প্রথমত, রাতে কার্পেটিং করার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই। আর নিম্নমানের কাজ করার তো প্রশ্নই আসে না। যদি তারা রাতের বেলায় কাজ করে থাকে, তবে সেই কার্পেটিং পুনরায় তুলে ফেলা (ওঠানো) হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, কার্পেটিংয়ের কাজ রাতে করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজের মধ্যে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল পাস করা হবে না।

আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি, দুশ্চিন্তায় চরাঞ্চলের মানুষ

ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে সকাল ৬টায় পানির স্তর ছিল বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচে। শনিবার একই সময়ে তা ছিল ১৩ সেন্টিমিটার নিচে। ফলে পানি বাড়া-কমার এ প্রবণতায় উদ্বেগ বেড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বাদামক্ষেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ নানা ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিস্তাপাড়ের কৃষক সাজু মিয়া বলেন, তিস্তার পানি বাড়ছে-কমছে। এতে আমরা আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাবে।

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, সকাল থেকে পানি বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।

 

 

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে তিস্তার পানি বাড়ছে। দুপুর ১২টায় তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

 

 

 

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৫ হাজারের বেশি

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৫ হাজার ২৮৮ জনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর আরব নিউজের।

 

 

 

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৮৬৪ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন লঙ্ঘনের দায়ে, ৪ হাজার ৫৭৬ জন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে এবং ২ হাজার ৮৪৮ জন শ্রম আইন সংক্রান্ত অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

 

 

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক ১ হাজার ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিলেন ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন আরও ২৪ জন।

 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, কেউ অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করলে, পরিবহন বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মুখোমুখি হতে পারেন।

 

 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে সন্দেহভাজন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের তথ্য মক্কা ও রিয়াদ অঞ্চলে ৯১১ নম্বরে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ বা ৯৯৬ নম্বরে জানানো যাবে।

 

১৪৮৫ জনের বিশাল নিয়োগ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, আবেদন করুন দ্রুত

‘সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস)। গত ২৪ মে ১৪৮৫ পদের এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ২ জুন সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। চলবে ২৩ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

 

 

 

তবে, এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ ও একই বছরের ৯ জুনের বিজ্ঞপ্তির পদগুলোতে কেউ আবেদন করলে তাদের আর নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: সমাজসেবা অধিদপ্তর

পদসংখ্যা: ৫২ ক্যাটাগরিতে ১৪৮৫ শূন্য পদ

চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী/অস্থায়ী)

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

প্রার্থীর বয়স: ১৮-৩২ বছর (১ জুন ২০২৬ তারিখে)। তবে ১, ৩, ৮, ৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২৫, ২৭-৩১ ও ৩৬ নম্বর পদের বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

 

 

 

আবেদন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে https://dss.gov.bd/pages/notices/সংশোধিত-নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি-mxnjc6-6a12f8064912f6e4018b0e93 ক্লিক করে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি–পেইড নম্বর থেকে সার্ভিস চার্জসহ আবেদন ফি বাবদ ১ থেকে ৩৭ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩৮ থেকে ৫২ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা এবং সব পদের অনগ্রসর প্রার্থীদের ৫৬ টাকা অনলাইনে ফরম পূরণের অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

 

 

 

আবেদনের মাধ্যম: শুধু অনলাইনে (টেলিটকের মাধ্যমে)

আবেদন শুরুর তারিখ ও সময়: ২ জুন ২০২৬, সকাল ১০টা

আবেদন শেষের তারিখ ও সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা।

আবেদনপদ্ধতিসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে

বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় হাসপাতালের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি ও বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।

 

 

 

জানা গেছে, হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, হাসপাতালটিকে ৫শ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য দ্রুতই নতুন অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত হাসপাতালের নিজস্ব মাঠে এই নতুন বহুতল ভবন ও অবকাঠামো নির্মিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার আধুনিকায়নে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

হাসপাতালের যে ওয়ার্ডটি পূর্বে বার্ন ইউনিটের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল, সেটিকে এখন আধুনিক আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হবে। এই আইসিইউ ওয়ার্ডটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামাদি ও দক্ষ জনবল চেয়ে খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে হাসপাতাল প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

সভায় উপস্থিত বক্তারা হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে রোগীদের সার্বক্ষণিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সভায় সতর্ক করা হয়। এছাড়া হাসপাতালে নার্সসহ অন্যান্য লোকবল বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়।

 

 

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুজিদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক, বিএমএ বগুড়ার আহ্বায়ক ডা. আসফারুল হাবীব রোজ, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম রনি, সাইফুর রহমান শাহীন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ারা খাতুন প্রমুখ।

 

এমপি হানজালাকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের কটাক্ষ, ‘চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি’

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

তিনি বলেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে!

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?

তিনি বলেন, এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে।

 

 

সবশেষ তিনি লেখেন, হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধীদলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।

 

ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসাতে AI দিয়ে ছবি তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মো. আসার সরকারকে ফাঁসানোর জন্য ফেক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সম্প্রতি AI দিয়ে আসার সরকারের মদ্যপানের একটি ছবি তৈরি করে ফেক আইডিতে প্রচার করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন আসারকে ফাাসানোর জন্যই এ ধরণের কুৎস্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে এক আইডি থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখানো হয়েছে আসার সরকার বসে মদপান করছে। তার একহাতে মদের বোতল ও এক হাতে মদের গ্লাস। ওই ছবিটি  AI দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবী করে আসার সরকার বলেন, আমার চেহারার সঙ্গে ওই ছবির কোন মিল নেই।

 

তিনি বলেন, আমি সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ষড়ন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।

 

এর আগে আসার সরকারকে দুটি ফোন নম্বর থেকে  অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আ.লীগের মামলা: একজন আটক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলম। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স মামলার তথ্যটি  জানিয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘বেধড়ক পেটানোর’ অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আব্দুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

 

ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের কাছে নিজ দলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না।’

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে পরপর দুই খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের পর এটিই প্রথম। এ জয়ের প্রসঙ্গ ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তী পর্বে চলে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। কেননা, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।’

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাওয়ার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তবে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের এই বৈঠককে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

 

তাড়াশে হিন্দুর জমি জবর দখলচেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিট

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় ওই পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাড়াশ পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার রনজিত কুমার ঘোষের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ভুক্তভোগী রনজিত কুমার ঘোষ জানান, তার পৈত্রিক পাওয়া বসতবাড়ি ৭১ সাল থেকে ভোগদখলে রয়েছি। একটি জাল দলিল করে করে সাইফুল ইসলাম গং আজ শনিবার ওই জমি দখল করতে আসে। তার সঙ্গে মো. শামিম, মো. ফজলুসহ ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে জমি দখল করতে আসে।

 

 

 

এ সময় রনজিত ঘোষ ও তার পরিবার বাঁধা দিতে গেলে তার ওপর অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আহত হন রনজিত ঘোষ, মিঠুন ঘোষ, রিণা ঘোষ, রত্না ঘোষ, সুচিত্রা ঘোষ ও সন্দীপ ঘোষ। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

 

 

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় এসেছিল। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আলোচিত রেফারি, যার ঝুলিতে ৯৮০ হলুদ ও ২৫ লাল কার্ড

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিতব্য এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার সঙ্গে থাকবেন দুই সহকারী রেফারি এবং একজন চতুর্থ অফিশিয়াল, যাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মনোনীত করেছে।

 

 

কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ রেফারি হিসেবে পরিচিত আমিন মোহাম্মদ ওমর দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৩ সাল থেকেই তিনি মিসরের প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করছেন। মাঠে শান্ত ও দৃঢ়ভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে তিনি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক পর্যায়েও আস্থা অর্জন করেন।

 

 

২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মতো বড় টুর্নামেন্টেও ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবারই প্রথমবারের মতো মূল বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেলেন এই মিসরীয় রেফারি।

তার আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচে থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে দেরি হওয়ায় প্রথম রেফারি হিসেবে তিনি ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কার্যকর করে তাৎক্ষণিকভাবে কাউন্টডাউন শুরু করেন। কঠোর এই সিদ্ধান্ত মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গিকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম ম্যাচে বড় কোনো ভুল বা বিতর্ক দেখা যায়নি। সেই ম্যাচে তিনি মাত্র একটি হলুদ কার্ড দেখান, আর পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন দৃঢ়ভাবে।

মাঠের বাইরেও আমিন মোহাম্মদ ওমর একজন পেশাদার আইনজীবী। আইন পেশার সঙ্গে রেফারিংয়ের এই সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার ভাবকে আরও জোরদার করেছে বলে ফুটবল মহলে আলোচিত হয়।

 

 

এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং প্রায় ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সৌদি প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চাপপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

 

তবে গত বছর মিসরের ঘরোয়া ফুটবলে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। পিরামিডস এফসি তখন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

 

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে তার সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বদেশী মাহমুদ আবু এলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে থাকবেন স্পেনের আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ।

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ভক্তদের নিয়ে বিশেষ উদ্যোগের ইঙ্গিত রাষ্ট্রদূতের

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। সাক্ষাৎকালে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জনসাধারণের আর্জেন্টিনার প্রতি আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এসময় রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদারসহ নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন মো. আলী হোসেন ফকির। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের জনগণের ফুলবলপ্রীতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ, সিরিজ হারের পর বাড়ল হতাশা

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দর্শকমুখর পরিবেশে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের। ৭ রানে হেরে আগেভাগেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারিয়ে স্বাগতিকেরা পেল আরেক দুঃসংবাদ।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি নিয়মিত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। এবার পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন বলে বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে। মাংসপেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

 

১৪ জুন মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে গ্রেড ১ মাত্রার চোট পেয়েছিলেন লিটন। ফলে সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি তিনি। এবার তার খেলা হচ্ছে না শেষ টি-টোয়েন্টিও। আগামীকাল চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ নামবে ধবলধোলাই এড়ানোর মিশনে।

লিটন না থাকায় প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হৃদয় কয়েক দিন আগেই সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। লিটন ৩ ম্যাচ মিলিয়ে ৪৩ গড় ও ৮১.৯০ স্ট্রাইকরেটে করেন ৮৬ রান। যার মধ্যে শেষ ওয়ানডেতে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে চোটে পড়াতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয়ে গেল তার।

দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলে নাম লেখালেন কামরুল

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সমর্থকদের উন্মাদনা পৌঁছে যায় ভিন্ন মাত্রায়। প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ঘিরে চলে নানা বাজি, চ্যালেঞ্জ আর মজার সব প্রতিশ্রুতি। এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি পালন করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক।

 

 

উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেদিনগর গ্রামের কামরুল হাসান। গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ব্রাজিল যদি হাইতির বিপক্ষে জয়লাভ করে, তাহলে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছেড়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলকে সমর্থন করবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ গোলের জয় লাভ করলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি কামরুল। বন্ধুদের উপস্থিতিতে গ্রামের একটি খোলা জায়গায় দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি। এরপর খুলে ফেলেন আর্জেন্টিনার জার্সি, গায়ে তোলেন ব্রাজিলের জার্সি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

কামরুল হাসান বলেন, ব্রাজিলকে খোঁচা দিতেই মজার ছলে এমন ঘোষণা দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল তারা হয়তো জিতবে না। কিন্তু ব্রাজিল জিতে গেছে, তাই নিজের কথার মর্যাদা রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও আমি বিষয়টি উপভোগ করছি।

ব্রাজিল সমর্থক ফাইয়াজ রিয়াজ বলেন, বন্ধু কামরুল বলছে আজকের ম্যাচ জিততে পারলে সবার সামনে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে যোগ দিবে। ম্যাচ জয়ের পর আমরা তাকে ডেকে এনে তার প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরিধান করিয়ে দিই। সে এখন ব্রাজিল সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল অনেক বছর শিরোপা জিততে পারেনি সত্যি, কিন্তু তারা শৈল্পিক ফুটবলের উদ্ভাবক।

কবরস্থানে পীর সেজে থাকতেন হত্যা মামলার আসামি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী একটি পঞ্চায়েতি নির্জন কবরস্থান দখল করে কথিত পীরের আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পবিত্র কবরস্থানের ভেতরে পীর পরিচয়ের আড়ালে এক হত্যা মামলার আসামি মাদক ও জুয়ার আসর বসাচ্ছেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে এক অজ্ঞাত পীরের নির্দেশে তিনি ওই কবরস্থানে অবস্থান করছেন। সেখানে জিন সাধনা ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে তিনি কবরস্থানের ভেতরে ঘন জঙ্গল ও শতবর্ষী একটি বটগাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে দোতলা আকৃতির একটি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন।

 

 

কবর ও ঘন বাঁশঝাড়ের মাঝখানে নির্মিত হয়েছে ওই ঝুপড়ি ঘর। গয়াছ মিয়ার মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে নথ লাগানো লোহার রড, ধান কাটার কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গয়াছ মিয়া পীরের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা গড়ে তুলেছেন। সন্ধ্যার পর নিয়মিত সেখানে মদ, গাঁজা সেবন ও জুয়ার আসর বসে বলে দাবি করেন তারা।

বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, শত বছরের পবিত্র কবরস্থানে মদ-গাঁজার আসর বসানো সম্পূর্ণ হারাম। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, হত্যা মামলার একজন আসামি জামিনে এসে কবরস্থানে আস্তানা গড়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তবে মাদকের আখড়া পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে গয়াছ মিয়া বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিটেমাটিও বিক্রি হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে আমি এই কবরস্থানে আশ্রয় নিয়েছি।

 

 

এদিকে কবরস্থান রক্ষা, অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

 

 

দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুর নগরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি সরবরাহ ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রংপুর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরীর কামাল কাছনা এলাকার তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জ উপজেলার আতিকুর রহমান (৩৪) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাফিজ আল মামুন (২০) ও আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে ধাপ জেল রোড এলাকার আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের একটি ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভিযানে ১৫টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরিপ্রার্থীদের চারজনের মূল সার্টিফিকেট এবং ৫টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। তিনি এর আগে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ৫২ দিন কারাভোগ করেছিলেন। অপর একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর বেকারত্বের সুযোগে চক্রটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

 

 

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি ডাক বিভাগের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। চক্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্প, ব্ল্যাংক চেক ও অর্থ নিয়ে প্রতারণা করতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

 

 

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

চঞ্চলের তুলিতে ফুটে উঠল মেসি, অভিনয়ের বাইরে আঁকায় মুগ্ধতা ছড়ালেন তিনি

চলছে ফিফা বিশ্বকাপ। ক্রীড়ার এই মহাযজ্ঞের উত্তাপে কাঁপছে গোটা দুনিয়া। সেই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। মাঠে দল না থাকলেও সমর্থনে ভাগ হয়ে গেছে দুই পরাশক্তি—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায় রঙিন চারপাশ।

 

 

এই ফুটবল আবহে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সরব। প্রিয় দল-খেলোয়াড় নিয়ে মন্তব্য করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিক্রিয়া। তবে সবার থেকে একটু ভিন্নভাবে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

 

 

আজ শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি শেয়ার করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি–এর একটি স্কেচ। নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসির চুল, দাড়ি, চোখ—এমনকি তার স্বাভাবিক হাসিটিও।

আর এই পোস্টের ক্যাপশনে চঞ্চল লিখেছেন, ‘আমি মেসির একটা ছবি আঁকব—এটা দেখে মেসি ভক্তরা খুশি হতেই পারেন। আঁকলাম। প্রিয় খেলোয়াড় বলে কথা! এখন লাইক-শেয়ার আপনার ব্যাপার।’

স্কেচটি পোস্ট করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেইসঙ্গে ভক্ত-সমর্থকরা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অভিনেতাকে। কেউ লিখেছেন, ‘আপনি দুই বাংলার খ্যাতিমান অভিনেতা, পাশাপাশি একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পীও।’ আবার কেউ তুলনা টেনেছেন, ‘মেসি যেমন ফুটবলে সেরা, আপনি তেমন অভিনয়ে।’

অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও আঁকাআঁকিতেও সমান দক্ষ চঞ্চল চৌধুরী। নিয়মিতই প্রিয়জন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি এঁকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। ইতোমধ্যে সত্যজিৎ রায়, তারিক আনাম খান, বাপ্পা মজুমদার, সালাহউদ্দিন লাভলু, রায়হান রাফী, তাসনিয়া ফারিণ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়–সহ অনেকের প্রতিকৃতি তার ডিজিটাল তুলিতে ধরা পড়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে ভোগান্তি, ভারতের শিক্ষার্থীর কেন্দ্র আমিরাতে

ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (এনটিএ) এক বড় ভুলে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র ভারত থেকে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক এনইইটি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে তার পরীক্ষাকেন্দ্র দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে।

 

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালিব অনলাইনে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর বিষয়টি দেখতে পান। তিনি পরীক্ষার জন্য নাগপুর থেকে আবেদন করেছিলেন এবং দেশের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রবেশপত্রে বিদেশের কেন্দ্র উল্লেখ থাকায় তিনি ও তার পরিবার হতবাক হয়ে যান।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট নেই। ফলে আবুধাবিতে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া তার জন্য একেবারেই সম্ভব ছিল না।

বিষয়টি সামনে আসার পর প্রবেশপত্রের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এনটিএ-র নজরে আসে। এরপর সংস্থাটি ভুল স্বীকার করে জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা টেকনিক্যাল গ্লিচের কারণে হয়েছে।

এনটিএ আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত নতুন করে সংশোধিত প্রবেশপত্র দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীকে ভারতের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হবে।

শিক্ষার্থীর পরিবার জানিয়েছে, আবেদন করার সময় তিনি নাগপুর, ওয়ার্ধা ও ভান্ডারা—এই তিনটি শহর পছন্দ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবেশপত্রে ভুল করে বিদেশের কেন্দ্র দেখানো হয়।

 

 

এনটিএ আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র বা তথ্য ভুলভাবে এসেছে, তারা যেন দ্রুত বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়।

 

 

আগামী ২১ জুন রি-এনইইটি ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা পেন-অ্যান্ড-পেপার পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঝিনাইদহ, আহত ২০

ঝিনাইদহ হরিনাকুণ্ডতে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার ৬নং ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

 

 

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল (৫০), মোজাফ্ফর হোসেন সেন্টু (৪৫), কবির হোসেন (৪০), মিজানুর রহমান ( ৪৫), রুবেল (৩২), গোলাফ্ফার ( ৪২), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), মোতালেব হোসেন (৪০), তোতা ( ৩৫), বাচ্চু মিয়া (৩২), বিভান (২২) ও সামসুদ্দিনসহ (৪৫) অনেকে।

 

 

 

এদের মধ্যে মশিউর রহমান মশাল, মোজাফ্ফর ও কবির হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মিজানুর রহমান ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। অন্যরা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ফলসী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ঝিনাইদহ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান। অপরপক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল।

জানা যায়, শুক্রবার ( ২০ জুন) সকালে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ভাই ছোটন রহমান ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে চেয়ারম্যানের লোকজন শনিবার সকাল ছয়টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে।

 

 

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী অভিযোগ করেন, সকালে চেয়ারম্যানের পক্ষের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তারা বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশালসহ ১৫-২০ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃস্টি করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 

 

 

ফারুক হোসেন নামে ওই গ্রামের আরও একজন জানান, শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একব্যক্তি জানান, গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। এর আগেও মে মাসে দুদফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার চেয়ারম্যানের ভাইকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করেছে। এরই জেরে শনিবার ভোরে চেয়ারম্যানের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করে। তখন উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে এটি রাজনৈতিক নয় সামাজিক বিরোধ বলে জানান এই ব্যক্তি।

 

 

 

ইসরাফিল হোসেন নামে আরও একজন জানান, কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের পুকুর থেকে রাতের আঁধারে কে বা কারা মাছ লুট করে। সেই ঘটনায় মামলা হয়। মামলার জেরে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে শুক্রবার প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করে। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান জানান, একের পর এক তার লোকজনের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। তার ভাইকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

 

 

 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন বলেন, এটি সামাজিক বিরোধ। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কিছু লোক ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেছে, তাই প্রতিষোধপরায়ন হয়ে তিনি তাদের ওপর একের পর এক হামলা করেছে।

 

 

 

তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যানের ভাই একজন নারীকে লাঞ্ছিত করেছিল তাই ওই নারীর পরিবারের লোকজন তার ওপর হামলা করেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ঘুমন্ত প্রতিপক্ষের ওপর ভোরে হামলা করিয়েছে। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ককটেল ফোটানোর খবরটি সঠিক না। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর হবে। মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

অবসরের ইঙ্গিত, আর বিশ্বকাপ খেলবেন না মেসি?

অসংখ্য রেকর্ডের মালিক লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে নেমে তিনি গড়েছেন আরেকটি অনন্য কীর্তি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। একদিন পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে আলো ছড়ান মেসিই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে নতুন করে শিরোনামে উঠে আসেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

 

 

চার দিন পর ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অন্যদিকে রোনালদো পেরিয়ে গেছেন ৪১ বছর। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তারা কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন? পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই বিশ্বকাপে রোনালদোর খেলা নিয়ে জল্পনা থাকলেও মেসি বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

 

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘না (সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা) । এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’

নিজেকে এত বছর ধরে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার রহস্যও জানিয়েছেন তিনি। মেসির ভাষায়, ‘আমি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছি। প্রতিযোগিতা করেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি, যাতে বিশ্বকাপে দলকে সর্বোচ্চ সাহায্য করতে পারি। আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। এখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও সহজে ছেড়ে দেয় না। টিকে থাকতে হলে নিজের সেরা ফর্মে থাকতে হয়। এটাই আমাদের শক্তি এবং সাফল্যের মূল কারণ।’

২০৩০ বিশ্বকাপ হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। মূল আয়োজক দেশ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। আর শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।

 

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না মেসি। ক্লাব, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় সব বড় অর্জনই তার ঝুলিতে। তাই এখন তিনি যা পাচ্ছেন, সবকিছুকেই দেখছেন বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে।

 

 

মেসির কথায়, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ক্লাব, জাতীয় দল ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এখন থেকে যা কিছু আসবে, সবই আমার কাছে বোনাস।’

 

 

গোল করছেন, আনন্দে ভাসছেন, আবার আবেগে কাঁদছেনও। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির প্রাপ্তির খাতা প্রায় পূর্ণ। তবু তিনি মাঠে আছেন, লড়াই করছেন, নতুন ইতিহাস লিখছেন। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্বের চোখ এখনো তার দিকেই।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর পর প্রকাশিত ফিফার অফিসিয়াল পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেওয়ার পর এই স্বীকৃতি পেয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ফিফার তথ্যভিত্তিক পারফরম্যান্স সূচকে খেলোয়াড়দের অবদানকে আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণ—এই তিনটি আলাদা বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়। সেই সূচকে আক্রমণভাগে ১০-এর মধ্যে ৮.১৩ রেটিং পেয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন মেসি।

শ্রী রামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে বেলকুচিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপটে জুতা নিক্ষেপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বেলকুচি উপজেলার এনায়েতপুর-সয়দাবাদ আঞ্চলিক সড়কের সদর হাসপাতাল গেট সংলগ্ন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার সভাপতি বৈদ্যনাথ রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা: অমৃত নারায়ণ দে’র পরিচালনায় প্রতিবাদ কমসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নারায়ণ মালাকার, পৌর শাখার সভাপতি পলাশ কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি নয়ন কুমার ঘোষ, সদস্য সুদ্বীপ পোদ্দার, কৃষ্ণ কুমার ঘোষ, সুজয় কুমার ঘোষ, নন্দ রাজবংশী, প্রধান বক্তা ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক নিপেন্দ্র নাথ মন্ডলসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপট অবমাননা ও অনলাইনে অপপ্রচারের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে বক্তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় যা বেলকুচির প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রাফিনহাকে ঘিরে উদ্বেগ, বদলি নেওয়ার সুযোগ আছে কি ব্রাজিলের?

হাইতির বিপক্ষে আজ ফিলাডেলফিয়ায় ৪০ মিনিটে মাঠ ছেড়ে চলে যান রাফিনিয়া। চিকিৎসকেরা যখন তাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন চোখের পানি মুছছিলেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। তাতে করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

 

 

ডাগআউটে ফিরেই রাফিনহা দলের ডাক্তার রদ্রিগো লাসমারের সঙ্গে কথা বলেন। তারকা ফরোয়ার্ডকে সান্ত্বনা দেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর যখন ডান ঊরুতে রাফিনিয়া হাত রেখেছেন, তখন কোচের দুশ্চিন্তা অনেক বেড়ে যায়। কারণ, এখন তার (রাফিনহা) বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে ১২ জুন।

 

 

এমনকি টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলার ২৪ ঘণ্টা আগেও ব্রাজিল নতুন কাউকে দলে নিতে পারত। যেখানে গত ১৪ জুন বাংলাদেশ সময় ভোরে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। এখন আর সেই সুযোগ পাচ্ছে না সেলেসাওরা। এক কথায় প্রথম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর কোনো দলকেই টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য তাদের দলে আর কোনো পরিবর্তন আনার অনুমতি দেয় না।

বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের বেলায় ব্যতিক্রম রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলের ম্যাচের জন্য তিন গোলরক্ষক থাকতে হবে। কোনো গোলরক্ষক চোটের কারণে ছিটকে গেলে তার পরিবর্তে নতুন গোলরক্ষক নেওয়া সম্ভব। তা না হলে দলটি বিশ্বকাপের বাকি সময় একজন খেলোয়াড় কম নিয়েই খেলতে হবে।

এ বছরের মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। আজ হাইতির বিপক্ষে ফের ডান পায়ে চোট পাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাফিনিয়ার বিপক্ষে ৪০ মিনিটে রায়ানকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। মাথিয়াস কুনিয়া করেছেন জোড়া গোল। অপর গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন ব্রাজিল। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। মরক্কোর পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানের কারণে দলটি দুইয়ে। ১৪ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে স্কটল্যান্ড। আর দুই ম্যাচের দুটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল হাইতি।

বিয়ে নয়, হচ্ছিল ‘আংটি বদল’! চিনিকল এমডির ছেলের বাল্যবিয়ে ঠেকাল প্রশাসন

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ছেলের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। স্থান খোদ চিনিকল চত্বর! তবে গোপন এই আয়োজনের খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রশাসনের কানে। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই বাল্যবিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে প্রশাসন।

 

​জানা গেছে, বর পেশায় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং তিনি জয়পুরহাট চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যার ছেলে। কনে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, বয়স এখনো ১৮ পেরোয়নি। কনের বাবাও একই চিনিকলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

​আইন অনুযায়ী বয়সের বাধা থাকলেও শুক্রবার দুপুরে চিনিকলের ভেতরেই বিয়ের এই গোপনীয় আসর বসেছিল। দাওয়াতি মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিনিকলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও।

 

​বাল্যবিয়ের এই খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভেস্তে যায় বিয়ের আয়োজন। পরে কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করা হয় যে, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না।

 

​তবে বিয়ের মূল আয়োজনের কথা অস্বীকার করেছে বর ও কনের পরিবার। একে নিছক আংটি পরানো’ বা আক্‌দ অনুষ্ঠান বলে দাবি করেছেন ছেলের বাবা ও চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা।

 

​তিনি বলেন, আমার ছেলে এমবিবিএস পাস করেছে। চিনিকলের এক কর্মকর্তার মেয়েকে সে পছন্দ করেছে। কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স এখনো হয়নি। যেহেতু আমাদের দুজনেরই বদলির চাকরি এবং যেকোনো সময় বদলি হতে পারে, তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে কেবল আংটি পরানোর আয়োজন করা হয়েছিল।

 

​তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লোকজন আসার পর মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন। আগামী বছর যদি আমরা এখানে থাকি, তবে মেয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার পর ধুমধাম করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করব।

 

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, গোপনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মেয়েটির বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তাই কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইসরায়েলি হামলা, ১৬ জন নিহত

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিন পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।

 

 

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় চলমান হামলার ঘটনায় উদ্ধারকর্মীরা ১৬ জনের মরদেহ এবং ১২ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। খবর দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলের।

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভোর থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার সদস্যরা নাবাতিয়েহ জেলায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় অব্যাহত হামলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাজিল জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনা ভক্ত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই সমর্থকদের আবেগ, উন্মাদনা আর নানা ব্যতিক্রমী কাণ্ড। সেই উন্মাদনারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া চ্যালেঞ্জ রক্ষা করতে ব্রাজিলের জয়ের পর মাথা ন্যাড়া করেছেন ফয়সাল আহমেদ জুম্মান।

 

 

 

ফয়সাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাধুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তিনি ঘোষণা দেন- হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হলে তিনি মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘুরবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন ফয়সাল। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েই সাধুরপাড়া এলাকায় তিনি মাথা ন্যাড়া করেন। এ সময় ঘটনাটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমি ও কৌতূহলী মানুষজন।

 

মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে সেগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হলে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দেয় নানা আলোচনা।

 

 

স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। ফয়সালের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় বেশ আনন্দ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

ফয়সাল আহমেদ জুম্মান বলেন, ‘খেলাধুলা বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। আমি মজা করেই এই চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। ব্রাজিল জিতেছে, তাই কথা অনুযায়ী মাথা ন্যাড়া করেছি। প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখতে হয়।’

 

প্রথম দুই ম্যাচেই শঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার মুখে ব্রাজিলের ৩ ফুটবলার

বিশ্বকাপের দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে ব্রাজিলের। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে সেলেসাওরা। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে উদ্বেগ ব্রাজিলের ক্যাম্পে।

 

 

আগামী বুধবার স্কটিশদের সঙ্গে ড্র করলেই শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হবে ব্রাজিলের। আর জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এই ম্যাচে তিন খেলোয়াড়কে নিয়ে শঙ্কা থাকছে। আর একটি হলুদ কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞায় কপাল পুড়বে তাদের।

 

 

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ও হাইতির বিপক্ষে জয়ের পর ইবানেজ, কাসেমিরো ও ডগলাস সান্তোসের প্রত্যেকে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। আরেকবার কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেতে হবে তাদের।

বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফিফা হলুদ কার্ড ও শাস্তির নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জমে থাকা হলুদ কার্ড এখন থেকে দুটি ধাপে মুছে ফেলা হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর যখন নকআউট পর্ব বা দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে, তখন আগের কার্ডগুলো বাতিল হয়ে যাবে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেও খেলোয়াড়দের কার্ডের হিসাব আবার নতুন করে শুরু হবে।

তবে কোনো খেলোয়াড় যদি গ্রুপের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান, তবে প্রথম নকআউট রাউন্ডে নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, থাকছে একাধিক বাড়তি সুযোগ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা। বিশেষ করে টিফিন ভাতা পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর এটিই হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। টিফিন ভাতা বৃদ্ধির খবরে সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করে বেতন কমিশন। কর্মচারীদের দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, টিফিন ভাতার সুবিধা মূলত ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

নবম পে স্কেলে টিফিন ভাতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদান।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তিন মাসে বিএনপির অর্জন, ১৫ বছরে হয়নি আ.লীগের: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, ইনশাআল্লাহ, সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি সরকারের গত তিন মাসে যা কাজ হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরেও হয়নি।

 

 

শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। গত তিন মাসে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দুই হাজার মিটার সড়কের পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থলও পরিদর্শন করেন।

জরাজীর্ণ বনবিভাগ অফিসে চারা উৎপাদনের জমিতে ধান চাষ, বসেছে মাদকসেবীদের আখড়া

সরকার যেখানে দেশজুড়ে বনায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে, সেখানে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত সরকারি বন বিভাগের নার্সারী ও অফিসটি এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। সরকারিভাবে এখানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিতরণের কথা থাকলেও, বাস্তবে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে ধান চাষ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যালয়টি এখন পরিণত হয়েছে এক জরাজীর্ণ ভূতূড়ে বাড়িতে, যা স্থানীয় অপরাধী ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কার্যালয়টি সংস্কার করে বনায়নের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

 

 

সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ১৯৯০ সালে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও কেন্দ্র, জয়পুরহাট’ এবং ‘পাঁচবিবি সামাজিক বনায়ন ও বাগান’। নিয়ম অনুযায়ী এই বিশাল জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করে তা সাধারণ মানুষের মাঝে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু বর্তমানে নামমাত্র কয়েক শতক জমিতে কিছু চারা দেখা গেলেও বাকি পুরো মাঠ জুড়েই চলছে ধান চাষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের বাগান মালি মতিউর রহমান নিজেই সরকারি এই জমিতে ধান চাষ করছেন। অথচ নিয়ম মেনে এখানে চারা উৎপাদন করা হলে একদিকে যেমন স্থানীয়দের চাহিদা মিটত, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত।

 

 

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় কার্যালয়ের ছোট-বড় কয়েকটি ভবনের দরজা-জানালা ইতিমধ্যেই চুরি হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ জনশূন্য ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি এখন এক ‘ভূতূড়ে বাড়ি’। এই সুযোগে সন্ধ্যা নামলেই এখানে বসছে মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধীদের আসর, যা পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে তথ্য জানতে পাঁচবিবি বন বিভাগের অফিসে গিয়ে কোনো বন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে দায়িত্বরত বাগান মালি কামরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের ও অন্যের সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

 

 

পরবর্তীতে জয়পুরহাট জেলা বন কর্মকর্তা মুহিদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কেন্দ্রের এই নানাবিধ দৈন্যদশার কথা স্বীকার করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

 

এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। দ্রুত মাদকসেবীদের আস্তানা উচ্ছেদ করে এবং ধান চাষ বন্ধ করে এখানে পুনরায় চারা গাছ উৎপাদন শুরু করা হোক। এতে করে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, তেমনি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।

পরিত্যক্ত দোকানে ‘খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর সাইনবোর্ড!

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কেশবপুর গ্রামে একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত দোকানঘরের সামনে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে চকচকে একটি সাইনবোর্ড- ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কার্যালয’। অথচ সেখানে নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমের ন্যূনতম অস্তিত্ব। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

 

​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামো ছাড়াই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য সরকারি খাস জমির দখল বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা ‘নিয়োগ বাণিজ্য’-এর সুযোগ তৈরি করা।

 

 

​সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের সড়কের পাশে জরাজীর্ণ একটি টিনশেড ঘরের সামনে টাঙানো সাইনবোর্ডটিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ‘২০২৪ সাল’ উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সাইনবোর্ডে ‘কার্যালয়’ বানানটিও ভুল লেখা রয়েছে (‘কার্যালয’)।

 

​স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে কখনো ওই এলাকায় এই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের কথা তাঁরা শোনেননি। সাইনবোর্ডের পিছনের জরাজীর্ণ ঘরটি একসময় ওষুধ ও মুদিখানার দোকান ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

 

 

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল অনেক আগে নিজেকে ‘ভূমিহীন’ পরিচয় দিয়ে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত (লিজ) নেন। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন নন এবং সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি খাস জমি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এরপর লিজ বাতিল হওয়া থেকে জমিটি বাঁচানোর জন্য তিনি একটি ফন্দি আঁটেন। তিনি ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে, লেবু তাঁকে ওই খাস জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার বুদ্ধি দেন।

 

 

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কোনো শর্তই পূরণ করা হয়নি এখানে। তার আগেই হঠাৎ করে গত শুক্রবার বিকেলে ওই পরিত্যক্ত দোকানের সামনে কলেজের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সাইনবোর্ড টাঙানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিষয়টি টক অব দ্য ভিলেজে পরিণত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মূল উদ্যোক্তা আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে এই কলেজের সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি সামনে এল।

 

 

​জমির বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল বলেন, “আমার নামে বন্দোবস্ত নেওয়া সরকারি খাস জমিটি কলেজের জন্য দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুই এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তিনিই কলেজের অধ্যক্ষের পদে থেকে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

 

​তবে আব্দুল খালেক লেবু নিজেকে ‘অধ্যক্ষ’ নয়, ‘প্রতিষ্ঠাতা’ দাবি করে বলেন, “আব্দুল জলিল কিছু জমি দেবেন, আর কিছু জমি কেনা হবে। কলেজের জন্য মোট ৬০ শতক জমির পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে এখনো কলেজের নামে কোনো জমি দান বা ক্রয় সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

 

 

​জমির বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন যে, আব্দুল জলিল তাঁর মেয়ের জন্য একটি চাকরি চেয়েছেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদক চাকরিপ্রার্থীর মুঠোফোনে নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আব্দুল খালেক লেবু কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি দেখা করার পরামর্শ দেন।

​গত সোমবার পাঁচবিবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জহুরুল ইসলাম বলেন, “গত দুই বছরে এই উপজেলায় ওই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অনুমোদন বা তথ্য আমাদের দপ্তরে নেই। তবে কয়েক দিন ফেসবুকে সাইনবোর্ডের একটি ছবি আমি দেখেছি।”

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন (যিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমির অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন) জানান, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে তা রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল করে দেওয়া বা হস্তান্তর করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা দুর্নীতির চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”

 

 

​এ প্রসঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে একটি বেসরকারি কারিগরি বা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সুনির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা রয়েছে। প্রথমত, প্রতিষ্ঠানের নামে নিজস্ব ও দায়মুক্ত জমি (মফস্বলে সাধারণত ৫০-৬০ শতাংশ) রেজিস্ট্রি থাকতে হবে। সরকারি লিজ নেওয়া জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, যথাযথ পাকা অবকাঠামো, লাইব্রেরি, ল্যাব ও সংরক্ষিত তহবিল ব্যতিরেকে কোনো প্রতিষ্ঠান পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বা স্বীকৃতি পায় না।

 

 

রাণীনগরে ধান সংগ্রহের তথ্য গোপন, কর্মকর্তাদের ভূমিকায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সমালোচনা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশে অনিচ্ছার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলাম ও ওসি এলএসডি তারানা আফরীনের বিরুদ্ধে। তথ্য দেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পরও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম।
এই দুজনের পাশাপাশি নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরানও কৃষকদের নাম-ঠিকানাকে ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়েছেন। এর ফলে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করছে। অনলাইন আবেদন, লটারি এবং কৃষি বিভাগের তালিকার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষক বাছাই করে এই কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম থাকলেও, কার্যক্রম শেষের দিকে পৌঁছেও রাণীনগরে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদকর্মীরা তালিকা চাইতে গেলেও তাদের ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫১ টাকা কেজি দরে ৮১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। গত ১২ মে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয় এবং পরবর্তীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনাও হয়। তবে বাস্তবে খাদ্য বিভাগ থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
তথ্য জানতে চাওয়া হলে ওসি এলএসডি তারানা আফরীন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ফি জমা দেওয়ার শর্ত তুলে ধরেন। পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি প্রথমে অসন্তোষজনক মন্তব্য করে এক সপ্তাহ পর আসতে বলেন। পরের সপ্তাহে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুন মাসের হিসাব সমাপ্তির আগে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তথ্য দিতে সমস্যা কোথায়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চাহিদামতো তথ্য প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ইচ্ছা থাকলেও সব কিছু করার স্বাধীনতা তার নেই।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক দাবি করেছিলেন কৃষকদের তালিকা দেয়ালে টাঙানো হয়েছে, কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে এমন কোনো তালিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এলএসডি অফিসের কর্মীরাও তালিকার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরান মুঠোফোনে জানান, অনলাইনে আবেদন হলেও তা সবার কাছে দৃশ্যমান নয়। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্দিষ্টভাবে সব তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এতে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি জানান, কতজন কৃষক ধান দিয়েছেন এবং কী পরিমাণ ধান সংগৃহীত হয়েছে—এই সাধারণ তথ্যই তারা দিতে পারবেন। কৃষকদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত তথ্যের আওতায় পড়ে বলে তথ্য অধিকার আইনেও তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই যদি কৃষকদের তথ্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে সংগ্রহ কার্যক্রম কীভাবে তদারকি হচ্ছে? স্থানীয়দের অভিমত, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের তালিকা প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ অপরিহার্য। তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।

সৈয়দপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন ছয় শতাধিক রোগী

 নীলফামারীর সৈয়দপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে ছয় শতাধিক রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। শনিবার শহরের সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করে আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। এতে সহযোগিতা করে দিনাজপুর গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হাসপাতাল।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এ সময় শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।

 

 

 

সকালেই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিসবাহী, পারভেজ আলম গুড্ডু আশরাফী, নাদিম আশরাফী, খালিদ আযম আশরাফী, আসিফ আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বাখশি ও তৌসিফ রেজা আশরাফীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

 

গাওসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের চিকিৎসক দল রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

 

 

চক্ষু ক্যাম্পে নীলফামারী, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন। সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, আর্থিক সংকট ও যাতায়াতজনিত কারণে অনেকেই নিয়মিত চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। নিজ এলাকায় এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠেছে।

 

 

আয়োজকরা জানান, দরিদ্র, অসহায় ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

‘আপনি কি সেই মাল’ নারীকে অশোভন মন্তব্য, ওসি এনামুলকে প্রত্যাহার

নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।

 

 

এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

 

তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি গোপন সুড়ঙ্গ থেকে বহুরূপী প্রতারক মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশার ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী।

 

 

শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে গুলশান-২ এর ২৮ নম্বর রোডে অবস্থিত আবুল বাশারের বাসা ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে শনিবার সকালে বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষভাবে নির্মিত একটি গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির গুলশান অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, ‘আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।’

তিনি জানান, সর্বশেষ তার বাসায় অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি সুরঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান আরও বলেন, ‘গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবারই তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও প্রতারক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও প্রতারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

 

 

কে এই আবুল বাশার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদের পশ্চিম আউলিয়াপুরের ফখরুল ইসলামের বড় ছেলে মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন। স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের অসংখ‍্য নেতাকর্মীদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নামসর্বস্ত বিটিএল নামক একটি ভুয়া কোম্পানি খুলে দেশের বিভিন্ন জেলার ব‍্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতেন প্রতারক মির্জা আবুল বাশার। কাউকে জায়গা দিবেন, কাউকে চালের ডিলারশিপ দিবেন, কাউকে তেলের ডিলারশিপ দিবে এমন মিথ‍্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশারের প্রতারণা ফাঁদে পা দিয়েছেন সেনা সদস‍্য, পুলিশ সদস‍্য, সাংবাদিক ও অসংখ‍্য নিরীহ মানুষ। অসংখ‍্য মানুষ শেষ সম্বল গ্রামের জায়গা-জমি বিক্রি করে ভবিষ‍্যতের কথা চিন্তা করে নগদ টাকা তার হাতে তুলে দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এই প্রতারক মির্জা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।

 

 

জানা যায়, আবুল বাশার বিটিএল গ্রুপ’ (BTL Group) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। এই গ্রুপের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও অর্থ পরিশোধ না করার আরও অভিযোগ রয়েছে। গেল কোরবানির ঈদের আগে একটি এগ্রো খামার থেকে ৮টি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিলেও সেটি বাউন্স করে।

দীর্ঘ বিরতির পর ওটিটিতে ফিরছেন মিম

বিদ্যা সিনহা মিম প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও ওটিটি পর্দায় ফিরছেন। আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে, যে চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক দেখতে পাবেন সময়, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক ভিন্ন গল্প।

 

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিম জানান, দীর্ঘদিন ওটিটি থেকে দূরে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে নিজের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছি, তখনই কাজটি করেছি।’এ সময়ের মধ্যে ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমার কাজও শেষ করেছিলেন, যা সময়মতো মুক্তি পেলে বিরতির বিষয়টি এতটা আলোচনায় আসত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

‘লাইফলাইন’ সম্পর্কে মিম বলেন, ‘নামটি শুনেই বোঝা যায়, এটা একটা লাইফের জার্নি। ফিল্মটির থিমেটিক পোস্টার যদি খেয়াল করেন, দেখবেন বালুঘড়ির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ সে সময়ের মধ্যে আটকে আছে কিংবা এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যা তাকে অতিক্রম করতে হবে। সে পারবে কি পারবে না, সেটাই গল্পের বড় প্রশ্ন।’

ট্রেলারে তাকে কাউকে খুঁজতে দেখা গেলেও সেই রহস্য এখনই ভাঙতে নারাজ অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, ‘দর্শকদের জন্য এটিই বড় চমক, যা সিনেমা মুক্তির পরই জানা যাবে।’

এর আগে ‘মিশন হান্টডাউন’ সিরিজে স্বামীকে খুঁজতে বের হওয়া নীরা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিম। তবে ‘লাইফলাইন’-এর গল্পের সঙ্গে সেই কাজের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং নতুন এই ওয়েব ফিল্মে দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন মিম। তিনি জানান, কুয়াকাটার ভেতরের একটি দুর্গম চর এলাকায় শুটিং হয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে মোটরসাইকেলই ছিল প্রধান ভরসা। সরু ও উঁচুনিচু পথ, প্রচণ্ড গরম এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে বেশ কষ্ট হলেও দৃশ্য ভালো হলে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যেত।

 

 

এদিকে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার ও একটি গান প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, অনেকেই কাজটিকে ‘পরাণ’-এর পর তার আরেকটি ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ কাজ হিসেবে দেখছেন।

 

 

অন্যদিকে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘একটি সিনেমা নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। দর্শকের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’ সব মিলিয়ে ‘মালিক’-এর সাড়া নিয়ে সন্তুষ্ট অভিনেত্রী।

 

 

‘মালিক ২’-এর ঘোষণা এলেও এ বিষয়ে এখনো নির্মাতার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান মিম। তবে ভবিষ্যৎ কাজ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দুটি কাজ শেষ করেছেন এবং আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই নিয়মিতভাবে তাকে নতুন নতুন কাজে দেখতে পাবেন দর্শক।

মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় বিএনপি নেতা বাচ্চুর মতবিনিময়

ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকদের মাদকাসক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের স্কুল কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৌরএলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় সভা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

 

তার ব্যক্তি উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯জুন) রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের জুবলী বাগানে ও ৬নং ওয়ার্ডের শাহেদ নগর বেপারী পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করেন।

 

 

 

মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের সমাজের যুবকরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারীরাসহ সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের এই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদককে না বলতে হবে।

 

 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। সাইদুর রহমান বাচ্চুর এধরনের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে সমাজের সচেতন মহলসহ সকল শ্রেনীর মানুষ স্বাগতম জানিয়েছেন।

 

 

 

এসময় তিনি সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য,বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চান।

 

আমরা এ দেশের ভূমিপুত্র, অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই: হিন্দু নেতৃবৃন্দ

শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা ও গাইবান্ধাসহ সারাদেশে মন্দির গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুজিব সড়কস্থ মহাপ্রভুর আখড়ার সামনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নিজের জায়গায় আমাদের সনাতনী সম্প্রদায়ের অর্থায়নে রামের মুর্তি গড়া হচ্ছে। সেটা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, এটা কেমন স্বাধীন দেশ। প্রভু শ্রী রামের প্রতি প্রকাশ্যে অবমাননা করা হলো। এখন পর্যন্ত তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা এ দেশের ভূমিপূত্র। এখানে আমরা অধিকার নিয়ে বাচতে চাই।

 

 

 

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়, হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খ্রীষ্টান সকল সম্প্রদায়ের মানুষ জীবনকে তুচ্ছ করে অস্ত্র ধরেছিল। স্বাধীন পতাকা ছিনিয়ে এনেছিল। তখন কথা ছিল এই দেশের মানুষ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।

 

 

 

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সকল আন্দোলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছে, জীবন দিয়েছে। আমরা কি পেয়েছি, ডক্টর ইউনুস রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মাটিতে ৫৮ জন সনাতনী ভাই-বোনদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এখন পর্যন্ত সেই হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যবস্থা হয়নি।

 

 

 

আওয়ামী লীগ ১৮ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। সুতরাং আমরা বলতে চাই, আমরা আর কাঁদতে চাই না. অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

 

 

পুজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, পুজার উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ ভৌমিক, অ্যাড. রনজিত কুমার মন্ডল, অ্যাডভোকেট কল্যান সাহা, সাংবাদিক হীরক গুণ, সাংবাদিক অশোক ব্যানার্জি, বাসদ নেতা পলাশ ঘোষ প্রমূখ।

 

সিরাজগঞ্জকে রেলবঞ্চিত করা হলে মহাসড়ক-রেলসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

রেলের শহরকে সিরাজগঞ্জকে রেল বঞ্চিত করা হলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ আমাদের ২০ বছরের আন্দোলনের ফসল। সুতরাং সিরাজগঞ্জ শহরকে যদি রেল বঞ্চিত করা হয় তাহলে সিরাজগঞ্জবাসী কিন্তু আন্দোলন জানে, রেলের দাবীতে প্রয়োজন হলে কড্ডার মোড়ে অবরোধ করা হবে, বিশ্বরোড, রেলপথ অবরোধ করে বসে থাকবো।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশন স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ রেলের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ আজও জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের দাবি, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের নকশা অনুযায়ী কালিয়াহরিপুর হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত সংযোগ রেখে মাত্র দুই কিলোমিটার রায়পুরের ভেতর দিয়ে জংশন স্থাপন করা হলে জেলার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি মাহবুব-এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিম, সংস্কৃতিকর্মী পরিচালক আব্দুস সালাম মামুন, নাট্যকর্মী ফরিদুল ইসলাম সোহাগ, ডা. সাইফুল ইসলাম ও সঞ্জয় গৌর।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু হচ্ছে তার ৬ দিনের সরকারি সফর। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর এটি। এরপর সেখান থেকে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে চীনে যাবেন তারেক রহমান। মূলত চীন সফরকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মনে করছেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং এরপর ২৩-২৬ জুন চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত গত প্রায় দেড় যুগ বাংলাদেশ একটি বিশেষ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

 

 

 

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার গঠনের পর প্রায় চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার পরবর্তী গন্তব্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন। মালয়েশিয়া এবং চীন— এ দুই দেশে ছয় দিন ব্যস্ত সময় পার করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার দুপুরে একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সোমবার দিনভর সেখানে ব্যস্ত সময় পার করে ২২ জুন রাতেই তার চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এই দুটি দেশ সফরে স্বাক্ষর হতে পারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর মধ্যে কুয়ালালামপুরে জনশক্তি রপ্তানিসহ তিনটি এবং বেইজিংয়ে ১০টি এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প পার্ক, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও অর্থায়নের মতো বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। এসবের বাইরেও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২২ জুন বিকেলে মালয়েশিয়া সফর শেষে সরাসরি চীনের একটি উপকূলীয় বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে জলবায়ু এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি। ২৪ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতি, বিনিয়োগ প্রবাহ, সবুজ অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। একই দিনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রেলপথ, সেতু, বিদ্যুৎ এবং শিল্পায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে ২৬ জুন। ওই দিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দুটি সফরের দেশ নির্বাচনই স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান সরকার তার বৈদেশিক নীতিতে এক বড় ধরনের ভারসাম্য আনতে যাচ্ছে। বেইজিং সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

 

 

 

জানা গেছে, চীন সফর সফলভাবে সমাপ্ত করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিবেশী ভারত সফরে যেতে পারেন। এরপর জাপান কিংবা তুরস্ক অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশে দ্বিপক্ষীয় সফরে অংশ নেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সফরের ঠিক পরপরই নয়াদিল্লি বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার কৌশলটিই মূলত একটি বার্তা।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর প্রসঙ্গে রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থ, রাজনৈতিক সুবিধা ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ওয়ার্কআউট করার পর সরকারপ্রধান নির্ধারণ করেন কোন দেশে আগে যাবেন—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর প্রভাব অন্য কোনো দেশের ওপর পড়ার কথা নয়। প্রত্যেক দেশই জাতীয় স্বার্থনীতি আগে ঠিক করে, এরপর অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে। এখনই গেলে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে, সে জন্য প্রথম মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে চীন যাবেন, এটাও দ্বিপক্ষীয় সফর। এই সফরের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে করছি না। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এরপর বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অন্য দেশের আলাপ-আলোচনা হবে, চুক্তি স্বাক্ষরসহ প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে অন্যান্য কাজ সফলভাবে শেষ করা যাবে— সে দেশেই তিনি যাবেন। এতে আমেরিকা, ভারত, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব পড়বে না, চিন্তার কিছু নেই।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

আর্জেন্টিনার একটি বিশাল পতাকা চুরি, থানায় অভিযোগ দায়ের

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের টাঙানো একটি বড় আকারের পতাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক সমর্থক। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায়।

 

 

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের ‘ভেরুসেল এক্সপ্রেস’ ক্লাবের সদস্যরা টাকা তুলে প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করেন। এটি নদীর পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে টাঙানো হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পতাকাটি চুরি হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পতাকার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্লাবের সদস্য টুটুল শিকদার বাদী হয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

টুটুল সিকদার বলেন, ‘অনেক পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা তুলে পতাকাটি আমরা বানিয়েছিলাম। এ ঘটনায় আমরা কষ্ট পেয়েছি। ক্লাবের সদস্যরা সবাই শিক্ষার্থী, নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অথবা বাড়ি থেকে চেয়ে নিয়ে পতাকার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। তাই এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি চান তারা।

 

 

ক্লাবটির অন্য সদস্য মামুন বলেন, ‘পতাকা কেউ পেলে তাকে আমরা পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিব।’

 

 

 

এ বিষয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, পতাকা চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

 

সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে ঘটনার দিন কী হয়েছিল, জানালেন মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।

 

 

 

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক লেখেন, ৩রা এপ্রিল ২০২১। রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের এক ঘৃণ্য কালো দিবস। সেদিন আমি আমার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সেখানে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, সাংবাদিক লীগ ও ঘাদনিকের প্রায় শ খানেক সদস্য উপস্থিত হয়। রিসোর্টের রিসিপশন ডেস্ক থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়, পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। আমি আমার কক্ষের দরজা খুলতেই তারা সবাই জোরপূর্বক আমার রুমে প্রবেশ করে। সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক এবং উপস্থিত প্রায় সকলেই তাদের ডিভাইসের মাধ্যমে একযোগে লাইভ প্রচার করতে থাকে। তারা নানা ভাবে আমাদেরকে হেনস্থা করে। আমার উপর চড়াও হয়। আমার স্ত্রীকেও টেনে ধরে হ্যাচারানোর উপক্রম করে।

তিনি আরও লেখেন, তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য আমি আমার স্ত্রীকে ওয়াশরুমের দরজা খুলে সেখানে আটকে দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে লেডি পুলিশের একটি টিম এসে উপস্থিত হয় এবং ওয়াশরুমে ঢুকে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে। উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি সব সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে।

 

শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আমরা তাদের সাথে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কান্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি।

 

 

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জান্নাত আরা ইতোপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃ রহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে। আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি। উল্লেখ্য ফকীহগণ কুরআন সুন্নাহর দলিলের আলোকে সাব্যস্ত করেছেন যে, স্ত্রীর যে অধিকার স্বামীর উপর ওয়াজিব, তা স্ত্রী স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিবাহের পর আমি তাকে ঢাকা মোহাম্মদপুরস্থ কোরআন শিক্ষার কেন্দ্র নূরানী কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেই এবং সে কোর্স সুসম্পন্ন করে। এভাবে কিছুদিন থাকার পর নিজ আগ্রহে সেলাই প্রশিক্ষণসহ মেয়েলি কিছু কার্যক্রমের প্রশিক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠানে সে কাজ শিখতে থাকে। প্রথমদিকে ঢাকায় তার এক বোনের বাসায় অবস্থান করত এরপর স্বেচ্ছায় অন্য বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করা শুরু করে। আমি প্রয়োজন মত তার সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং সময় দিতাম।

 

স্কটল্যান্ড ম্যাচেই দলে ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি

দুই ম্যাচ ধরে যার জন্য অপেক্ষায় ব্রাজিল, একই সঙ্গে অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বকাপও—সেই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ক্ষণ যেন অবশেষে ঘনিয়ে এসেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ব্রাজিলের তারকা নম্বর দশ।

 

 

 

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়ার পর নেইমারের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেই দেখা যেতে পারে নেইমারকে।

 

 

 

ইতালিয়ান এই কোচ জানান, শনিবার এককভাবে অনুশীলন করবেন নেইমার। এরপর সোমবার থেকে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবেন তিনি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

ডান পায়ের কাফের চোটে প্রায় এক মাস ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে এই চোটে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। সেই কারণে ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দলেও ছিলেন না তিনি। দলের সঙ্গে সফরে না গিয়ে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের ক্যাম্পেই অবস্থান করেন।

 

হাইতি ম্যাচের আগে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নেইমারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের কিছু ছবিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নিউ জার্সির দ্য রিজ হোটেল এবং কলাম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি। প্রতিদিন দুই ধাপে চলছে তার অনুশীলন। মাঠে ফিটনেস ও বলের কাজের পাশাপাশি বিকেলে জিমে বিশেষ সেশনও করছেন নেইমার। পুরো প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে রয়েছেন ফিটনেস কোচ ক্রিশ্চিয়ানো নুনেস এবং মিনো ফুলকো।

 

 

তবে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। তাড়াহুড়া না করে শতভাগ সুস্থ অবস্থাতেই নেইমারকে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা তাদের। এ কারণেই মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলানো হয়নি।

 

 

 

চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করলেও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের পরের পর্বের টিকিট। আর সেই ম্যাচেই যদি নেইমার মাঠে নামেন, তাহলে ব্রাজিল সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান ঘটবে।

 

তিস্তা ব্যারেজ ও জলঢাকায় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন

পানিসম্পদ উপদেষ্টা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ  এলাকা ও জলঢাকা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে তাঁরা তিস্তা পাড়ের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর ড্রেজিং কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। পরে তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জন্ম থেকেই চলার শক্তি নেই, হুইলচেয়ারের আশায় দিন গুনছে কর্ন

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা উত্তর পাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু কর্ন কুমার দাস জন্মের পর থেকেই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ তার হয়নি কখনো। হাতের ভর দিয়ে চলাচল করেই কাটছে তার প্রতিদিনের জীবন। দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দ্বৈত কষ্ট নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশুটি।
কর্ন কুমার দাসের বাবা শংকর চন্দ্র দাস পেশায় একজন সেলুন কর্মী। অল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ছেলের চিকিৎসা কিংবা একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে কর্ন তার দিদার কাছেই থাকছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ দিদা সাধ্যমতো তাকে লালন-পালন করলেও শিশুটির প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্নের বাবা শংকর চন্দ্র দাস জানান, “আমার ছেলে জন্মের পর থেকেই হাঁটতে পারে না। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি সেলুনের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। কেউ যদি আমার ছেলেটার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে সে অনেক সহজে চলাফেরা করতে পারত।”
স্থানীয়দের মতে, কর্ন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একটি শিশু। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন হাতের ভর দিয়ে চলতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি হুইলচেয়ার পেলে তার জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত হবে।
বিষয়টি জানার পর রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান কর্নের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। কর্নের বিষয়টি জেনেছি। তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “কর্ন কুমার দাসের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় তাকে সরকারি সহায়তা ও প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হুইলচেয়ারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আশ্বাসে কর্নের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো জেগেছে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই একটি হুইলচেয়ার পাবে শিশুটি।
এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কর্ন কুমার দাসের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি হুইলচেয়ারই বদলে দিতে পারে অসহায় এই শিশুটির জীবন। সামান্য সহায়তাই তাকে দিতে পারে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

সৈয়দপুরে অসুস্থ চিল উদ্ধার, চিকিৎসা শেষে প্রকৃতিতে অবমুক্তের উদ্যোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অসুস্থ চিল উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা। পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মতিন মন্ডল একটি অসুস্থ চিল দেখতে পান। পরে তিনি পাখিটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখেন এবং বিষয়টি সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য চিলটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পাখিটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য আহসান হাবীব জনি, ফারুক ও রানা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাখিটির সার্বিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উড়তে সক্ষম হলে চিলটিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

রাণীনগরে ডাকাতির সময় ৩ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় নামক স্থানে ডাকাতি করার সময় তিন ডাকাতকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের  সেন্টু হোসেনের ছেলে  ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের  ফিরোজ মন্ডলের ছেলে মোঃ সানা মন্ডল (২২) এবং একই গ্রামের মসিদুল ইসলামের ছেলে  রাব্বি হাসান (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর-আত্রাইগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে ডাকাতির সময় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাগেছে।

রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল জানান, গ্রেফতার তিন ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

2 thoughts on “গোল্ডেন বুট দৌড়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী যে তারকারা

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

গোল্ডেন বুট দৌড়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী যে তারকারা

আপডেট টাইম : ১১:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ শেষ হতেই জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে তার পেছনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের আরও কয়েকজন সেরা গোলদাতা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিততে মেসিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

 

 

 

এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনো আর্জেন্টিনার মূল ভরসা।

 

 

 

তবে খুব কাছেই রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪-এ নিয়েছেন। বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করে তিনি ইতোমধ্যে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ফ্রান্স যত দূর এগোবে, এমবাপ্পের গোলসংখ্যাও তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোল্ডেন বুটের আরেক শক্তিশালী দাবিদার নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও ৪। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করা হালান্ড এখন প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তিনটি করে গোল করেছেন জার্মানির দেনিজ উনদাভ ও কানাডার জোনাথন ডেভিড।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২ গোল করে এই দৌড়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা কেইন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গোল করলে শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারেন।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট লড়াই মূলত মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ডকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। তিন তারকার দুর্দান্ত ফর্মের কারণে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, এই প্রতিযোগিতা ততই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে।

 

 

বর্তমান অবস্থান :

মেসি (আর্জেন্টিনা) – ৫ গোল এমবাপ্পে (ফ্রান্স) – ৪ গোল হালান্ড (নরওয়ে) – ৪ গোল কেইন (ইংল্যান্ড) – ২ গোল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন এই তারকারা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট কার হাতে ওঠে— মেসি কি এগিয়ে থাকবেন, নাকি এমবাপ্পে কিংবা হালান্ড তাকে ছাড়িয়ে যাবেন।

 

গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির জন্য ছাত্রদলের সুপারিশের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি পদপ্রার্থী হামিদুর রহমান তায়েফ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কনিকাড়া ব্রিজসংলগ্ন পৌর মেয়র মার্কেট এলাকার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তার তায়েফ নবীনগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার কাতারপ্রবাসী তোফায়েল সরকারের ছেলে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তায়েফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার ও ব্যানার বিভিন্ন স্থানে লাগানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি এলাকায় আলোচনায় আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গ্রেপ্তারের পর তায়েফকে থানা হাজত থেকে মুক্ত করার জন্য উপজেলা ছাত্রদলের একটি অংশ তদবির চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম বলেন, ‘মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

 

 

তবে কোন মামলায় তায়েফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

 

 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ ও মহড়া

২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ও তৎপরতা রুখে দিতে রাজপথে নেমেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও যুবদল।

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২২ জুন) বিকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে।

 

 

 

মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ছাত্রলীগকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের মাটিতে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করলে, ছাত্রদল ও যুবদল তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ মিছিল নিয়ে মাঠে নামে। ইতিমধ্যে গত তিন দিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে রাজপথে লাগাতার পাল্টা মিছিল ও সমাবেশ করে আসছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল ও মহড়ার নেতৃত্ব দেন সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারী।

 

 

 

বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আলীফ, যুগ্ম আহ্বায়ক
মনির, ছাত্রনেতা বিপ্লব, সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান সাগর, মীর আকাশ, রাসেল, সিরাজগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের মিনুল ইসলাম হৃদয়।

 

 

 

এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। রাজপথে নেতাকর্মীদের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

 

দৃষ্টি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ নেতা হাসুর পাশে হাজী আব্দুস সাত্তার

পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারানো মহিলাদল নেত্রী মেরি ও অসুস্থ দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ালেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও ‘আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মিরপুর এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো সিরাজগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি মিরিনা সুলতানা মেরির বাসভবনে যান। সেখানে তিনি মেরির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক জীবন সংগ্রামের গল্প শোনেন।

 

 

 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে দুটি চোখ হারান মেরী।
হাজী আব্দুস সাত্তারকে পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত মেরি বলেন, “আজ মনে হচ্ছে কোনো এক ভাই তার অসহায় বোনকে দেখতে এসেছে। অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে এমন সহমর্মিতা তাঁকে বেঁচে থাকার নতুন মানসিক শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

 

এরপর মিরপুর এমদাদিয়া হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসায় যান হাজী আব্দুস সাত্তার। সেখানে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। পরে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

 

 

 

 

মিরপুর থেকে বের হয়ে হাজী আব্দুস সাত্তার মাছিমপুর মহল্লায় যান। সেখানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক হাসিনুর রহমান হাসুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এই নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের পবিত্র মানবিক দায়িত্ব উল্লেখ করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই পৃথিবী তৈরি হয়েছে একে অপরের উপকার করার জন্য। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে কষ্টে থাকেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। জীবিত অবস্থায় মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।

 

 

 

তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য করা ভালো কাজই আখিরাতের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সমাজে যদি সবাই একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, তাহলে অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, হাজী আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। দুঃসময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

 

 

 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার হোসেন শিপুসহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

 

রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম ও আত্মার মুক্তি নজরুল দিয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি: ভিসি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম এবং আত্মার মুক্তি। অন্যদিকে, নজরুল আমাদের দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি। এই দুই মহান মানসের মেলবন্ধনই বাঙালি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার আলো ছড়ায় না, বরং বাঙালির এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার এক পবিত্র দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

 

 

 

সোমবার (২২জুন) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।

 

 

 

উপাচার্য আরও বলেন, আজকের এই দিনটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা আজ এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছি যা বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত।

 

 

 

তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মাকে মুক্ত করা। যে শিক্ষা বিশ্বে বাজারে চলবে না সেটা শিক্ষা হতে পারে না। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে সেই ধরনের মানসম্মত শিক্ষা আমাদের দিতে হবে, নিতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামকে সাহিত্যিকের বাইরে সমাজ সংষ্কারক, মানবিকতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। এরপর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-১-এর গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

 

 

 

সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আকলিমা ইসলাম কুহেলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর পারভেজ সুমন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার।

 

 

 

বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে “রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সময়চিন্তা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবেদ ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

 

 

বিকেলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র ও নজরুলের সৃষ্টিকে তুলে ধরেন।

 

 

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলী জানান, উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ( ২৩ জুন) সকাল থেকে রবীন্দ্র মেলা পুনরায় শুরু হবে। এদিন দুপুর ২.০০টায় “নজরুলের দেশপ্রেম ও বিশ্বমানব-দর্শন: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।

 

আওয়ামী লীগের দেশ বিরোধী তৎপরতার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

 

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

 

 

 

সোমবার বিকেলে শহরের মিলনমোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরেরর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসময় তারা ‘লীগ ধর; জেলে ভর’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা সিরাজগঞ্জে হবেনা’‘শেখ হাসিনার দালালেরা; হুশিয়ার সাবধান’, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও; শেখ হাসিনার আস্তানা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

 

 

এসময় সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দল, সরকার ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, “সিরাজগঞ্জে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।”

 

 

 

মিছিলে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

গাজীপুরে আ.লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

 

গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন জিএমপি ওসি মিডিয়া জালাল উদ্দিন মাহমুদ। মঙ্গলবার (২১ জুন) থেকে সোমবার (২২ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জানা যায়, অভিযানে সদর থেকে আটজন, বাসন থানা থেকে ছয়জন, কোনাবাড়ি থেকে দুজন, কাশিমপুর থেকে তিনজন, গাছা থেকে পাঁচজন, পূবাইল থেকে দুজন, টঙ্গী পূর্ব থেকে দুজন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

সোমবার বিকেলে জিএমপি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, বাসন থানাধীন মোগরখাল সাকিনস্থ কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে ময়মনসিংহ-ঢাকাগামী পাকা রাস্তার ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি প্রদানের অপরাধে ৩০ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎জিএমপি ওসি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে।

 

 

নিরাপত্তা জোরদারে পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

 

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

 

 

 

 

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

 

উল্লেখ্য, বিজিবি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া লাশ ৬ দিন পর ভেসে উঠলো

 

নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া বুলবুল (৩০) নামে আরেক যুবকের লাশ ছয়দিন পর ভেসে উঠেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এ নিয়ে নিলক্ষায় সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। নিহত বুলবুল নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দী গ্রামের হরমুজ মিয়ার ছেলে।

 

 

 

এর আগে নিহত চারজন হলেন নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার অনিক মিয়া (২২), বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার কাউসার আহমেদ (৩৭), কান্দাপাড়ার মালয়েশিয়াপ্রবাসী লতিফ মোল্লা (৩৫) এবং হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়া (৩৬)।

 

 

 

গত ১৬ জুন ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সির (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন অনিক মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন বুধবার (১৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে টেটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার আহমেদের লাশ ভেসে আঠে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে ভেসে উঠে লতিফ মোল্লার লাশ।

 

এদিকে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মোস্তফা মিয়া দীর্ঘ পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধিন খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। খবর পেয়ে নিখোঁজ বুলবুলের পরিবারের লোকজন খাককান্দা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে নিহতের লাশ শনাক্ত করে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে।

 

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, খাককান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ বুলবুলের বলে তার পরিবারের লোকজন শনাক্ত করে। নিলক্ষায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত রায়পুরা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। অপর দিকে নিহত কাউসারের স্ত্রী মুন্নি আক্তার রবিবার (২১ জুন) বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৬-১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না : মোমিন মেহেদী

নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, জামায়াত-এনসিপির ডাকে জনগণ আর সাড়া দেবে না। নতুন করে আর কোনো জুলাই ঘটাতে চাইলে তাদের শেষ পরিণতি হবে গণধোলাইতে। তারা প্রায় দুই বছরে রাজনৈতিক-সামাজিক-প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক-ধর্ম-মানবিক বা ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা আনতে না পারলেও নিজেদের সাথে জনতার বৈষম্য তৈরি করে এমপি হয়েছে, উপদেষ্টা হয়েছে এমনকি রাজনৈতিক দল গঠন করে সমাজকে শত ভাবে বিভক্ত করেছে।
২২ জুন পুরানা পল্টনে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, বৈষম্য দূর করবার খবর নাই, দ্রব্যমূল্য কমানোর খবর নাই, দুর্নীতি থামানোর খবর নাই, খুন-ধর্ষণ থামানোর খবর নাই, তাদের কেবল জুলাই চাই, সুরক্ষা চাই; এই সব হয়েনাদেরকে দেশের মানুষ সহিংসতা বন্ধ না করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে তৈরি হচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ বোঝে না, বিএনপি বোঝে না, নতুনধারা বোঝে না। বোঝে কেবল লোভ মোহহীন-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এমপি হওয়ার পর প্রতারণার মধ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর খেসারত দিতে হবে। আর এ কারণেই সারাদেশে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য।
সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. হামিদুজ্জামান, চন্দন সেনগুপ্ত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যে লক্ষ্য থেকে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেডর‌্যালীর মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, সেই লক্ষ্য পুরণ করতে ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সকল শর্ত মেনে নিবন্ধনের আবেদন করলেও নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে শেখ হাসিনা সরকার ও ইউনুস সরকার প্রমাণ করেছে যে, জাতির জন্য নিবেদিত থাকা রাজনৈতিক প্লাটফর্মকে রাজপথে দেখতে ভয় পায়। যে কারণে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করে প্যাড সর্বস্ব প্লাটফর্মকে নিবন্ধন দিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বন্দর, বিকল কোটি টাকার আরটিজি ক্রেন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অগ্নিনির্বাপণ দল। তবে আগুনে ক্রেনটি অচল হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডটিতে আপাতত কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৩ নম্বর জেটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে কন্টেইনার ওঠানামা ও ডেলিভারি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একটি আরটিজি ক্রেনে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আগুনের তাপের কারণে পাশে থাকা একটি রেফ্রিজারেটেড (রিফার) কন্টেইনারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আগুন আশপাশের অন্যান্য কন্টেইনার কিংবা যন্ত্রপাতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আরটিজি ক্রেনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। ফলে ওই ক্রেন ব্যবহার করে আপাতত কোনো কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডে ডেলিভারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও বন্দরের অন্যান্য সব ইয়ার্ডে পণ্য খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণত একেকটি গেন্ট্রি ক্রেনের দাম পড়ে ১৫ থেকে ২৩ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এনসিটির একটি আরটিজি ক্রেনে আগুন লেগেছিল। ফায়ার সার্ভিস ও বন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেনটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ৭.৬৩ টিসিএফ: সরকারি হিসাব

দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য (রিকভারেবল) সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে, প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

 

 

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আটটি গ্রাহক শ্রেণির অনুমোদিত গ্যাস লোডের ভিত্তিতে বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গড়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় দুই হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে। আর মজুত রয়েছে সাত দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।

সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচির আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।’

 

 

তিনি জানান, অবশিষ্ট কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

 

 

নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করতে চলমান সিসমিক জরিপ কার্যক্রমের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় প্রায় চার হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এসব তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে।’

 

 

এছাড়া হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশে এক হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরো জানান, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় ৬৬০ বর্গকিলোমিটার, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন কাঠামোতে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আরও থ্রিডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

 

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দুই হাজার এবং এক হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি নতুন ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

রাণীনগরে ভূমিসেবা সহজ করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

নওগাঁর রাণীনগরে ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আবাদপুকুর বাজারে কালীগ্রাম-একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটায় উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের আয়োজনে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর, নাগরিক নিবন্ধন, DLRMS সংক্রান্ত আবেদন, খাস জমি বন্দোবস্ত এবং ভূমিসেবা গ্রহণে বিভিন্ন জটিলতা ও জনভোগান্তির বিষয় তুলে ধরেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। তারা সরাসরি তাদের মতামত, অভিযোগ ও সমস্যার কথা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন। কর্মকর্তারা মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন এবং রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা ভূমিসেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, অনলাইনে আবেদন এবং ভূমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন তারা।
উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ শোনা এবং তা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে জনসাধারণের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

চাকরির সুযোগ: রেশম উন্নয়ন বোর্ডে ১৬৭ পদে নিয়োগ

চাকরি দিচ্ছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব খাতভুক্ত ১৪ থেকে ২০ গ্রেডের পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মোট পদসংখ্যা ১৬৭। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

১. পদের নাম: সহকারী হিসাবরক্ষক

পদসংখ্যা: ৫

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪)।

২. পদের নাম: টেকনিক্যাল সুপারভাইজার

পদসংখ্যা: ৯৬

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৩. পদের নাম: ড্রাফটসম্যান

পদসংখ্যা: ১

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)।

৪. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ১৮

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৫. পদের নাম: এক্সপার্ট উইভার

পদসংখ্যা: ৪

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)।

৬. পদের নাম: অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা: ৪৩

গ্রেড ও বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)।

বয়সসীমা: ১ জুন ২০২৬ তারিখে ১৮-৩২ বছর হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করবেন।

আবেদন ফি: ১ থেকে ৫ নম্বর পদ: ১১২ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ); ৬ নম্বর পদ: ৫৬ টাকা (ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ)।

আবেদনের সময়সীমা: আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু ২২ জুন ২০২৬

আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬

*বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এখানে

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে গণনা শেষে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে। মাজারের দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা, প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। গণনা শেষে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

গণনায় দেখা যায়, দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ, দুটি সৌদি রিয়াল, ডলার ও পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা।

মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা দান করে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ৭শ শত বছরের প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে অর্থ গণনার এ উদ্যোগকে ঘিরে মাজারসংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

পাঁচ ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফেরত চেয়ে আন্দোলন

চাকরি পুনর্বহাল, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দেশের পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন অনেক কর্মী। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক হারে ছাঁটাইয়ের ফলে অসংখ্য পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে তাঁরা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেন।

 

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পূর্বের পদ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ অবিলম্বে পুনর্বহাল করা, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা।

 

 

এ ছাড়া ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

 

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আমাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের চাকরি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। এ দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছি।”

 

 

আরেক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আদনান মালেক বলেন, ৫ আগস্টের পর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

 

 

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের একটি দল মোতায়েন ছিল।

 

 

কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন শেষে স্থান ত্যাগ করেছেন। মানববন্ধনের কারণে নগরীর যান চলাচলেও উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত ভারতীয় কোচিং সেন্টার, প্রাণ গেল ১৩ জনের

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার সংবলিত ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) এ দুর্ঘটনায় ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বহু মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম তলা থেকে লাফ দেন।

 

 

স্থানীয় সময় দুপুরে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাণিজ্যিক এলাকার তিনতলা ভবনটিতে একটি কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আগুন লাগার পর অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। তিনি একটি বেড়ার ওপর আছড়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এটি তিনতলা ভবন। ওপরের তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজের জন্য কয়েকটি জানালা ভেঙে ফেলা হয়।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ আটকা পড়েছিলেন। তবে কতজন আটকা ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

 

 

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী লাফ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাড় ভেঙে গেছে।

 

 

 

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বিদেশি পর্যটককে হয়রানি, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করেছে পুলিশ

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকায় এক বিদেশি পর্যটককে নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ধারণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে টুরিস্ট পুলিশ জয়পুরহাট সদর থানার ছোট মাঝিপাড়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. আব্দুল মাবুত ওরফে ‘হিরো নানা’কে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

 

জানা গেছে, গত ১৯ জুন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে কেন্দ্র করে আব্দুল মাবুত এবং সঙ্গে থাকা নারী একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওর একপর্যায়ে আব্দুল মাবুত ওরফে হিরো নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলতে থাকেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা ঘটনাটিকে বিদেশি পর্যটকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নজরে এলে পাহাড়পুর টুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। যাচাইবাছাই শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং পরবর্তী আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, পাহাড়পুর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি পর্যটককে হেনস্তার ভিডিওটি নজরে আসার পর টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে নওগাঁ জেলা টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়াতে দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যাতে হিরো নানা নামে একজন ব্যক্তি বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে হাত ধরে কথা বলছে। এক পর্যায়ে সে কিছু অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে। সোস্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টোডিয়ান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হিরো নানাকে আমরা আটক করি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বদলগাছী থানাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

বদলগাছী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচের সময় ও মোবাইলে দেখার উপায়

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রিয়া ম্যাচের দোরগোড়ায়।

 

 

আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই।

 

 

লিওনেল মেসির এই ম্যাচ ঘরে বসেই টিভিতে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার ম্যাচ।

 

 

 

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

৬ জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য তৎপরতা প্রতিরোধে ছয় জেলায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

 

 

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এ ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও একজন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলায় র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

 

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল সওদাগর (৫৩) মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। তার বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজ এলাকায়।

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানিয়েছে, সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আইয়ুব আলী চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লয়েল রোড এলাকার নবী মার্কেটের সামনে অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত দুইদিনে এ মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- আলী আকবর (২৬) ও মো. ইমরান (২৫)।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

দুর্দান্তভাবে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। সোমবার (২২ জুন) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ডালাসে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

 

 

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও একাদশে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় গঞ্জালো মন্টিয়েলকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে আজ। তার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন নাহুয়েল মোলিনা।

 

 

এ ছাড়া আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া মূল একাদশই প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও ম্যাচ ফিটনেসে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় আপাতত লাউতারোর ওপরই আস্থা রাখছেন স্কালোনি।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো ডি পল, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, থিয়াগো আলমাদা/নিকোলাস গঞ্জালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজ।

হিলিতে পৃথক মাদক অভিযানে ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

দিনাজপুরের হাকিমপুরে পৃথক তিনটি মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।
আজ সোমবার ২২ শে জুন বৈকাল ৫টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের পৃথক চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন উপজেলার বোয়ালদার (খানপাড়া) গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হক খানের ছেলে মোঃ মাজেদ আলী খান (৪৬)। উত্তর বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম (৪০)। একই গ্রামের মোঃ বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজা মিয়া (৩০)। চকচকা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ মমিন প্রধান (৫০)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ বিকেলে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, মাদক ও অপরাধ দমনে থানা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেলজিয়াম ম্যাচে আলোচনায় আসা আলিরেজার জীবনের ৫ অবাক করা তথ্য

বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে ইরানের হয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক হিসেবে উঠে এসেছেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি থামিয়ে দেন বেলজিয়ামের তারকা আক্রমণভাগ যেখানে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ।

 

 

২৩টি শটের মধ্যে ৭টি অন টার্গেট সবকটিই রুখে দেন বেইরানভান্দ। বিশেষ করে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের পরপর দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বলে ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ম্যাচ শেষে তিনি পান সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

 

 

ইরানের জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে খেলছেন ট্র্যাক্টর দলে। এর আগে তিনি পার্সেপোলিস, বোয়াভিস্তা এবং রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের মতো ক্লাবেও খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০১৮ ও ২০২২ আসরেও ইরানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন ১৯৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই তারকা। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি সেভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক আলিরেজা বেইরানভান্দের জীবনের ৫টি চমকপ্রদ তথ্য-

১. যাযাবর কুর্দি পরিবার থেকে উঠে আসা ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদে জন্ম বেইরানভান্দের। কুর্দি লাক যাযাবর পরিবারে বড় হয়ে ওঠা এই গোলরক্ষক ছোটবেলায় পাহাড়ি এলাকায় পশুপালনের কাজও করেছেন। রাখাল জীবন থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার গল্প তাকে অনন্য করে তুলেছে।

 

 

 

২. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী

দূরপাল্লার থ্রোয়ের জন্য বিখ্যাত বেইরানভান্দ। ফুটবলে সবচেয়ে দূরে বল ছোড়ার রেকর্ড (২০০.১৪ ফুট) এবং দীর্ঘতম ড্রপ-কিক (২৫৫.৯৫ ফুট) দুটি রেকর্ডই তার দখলে, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

 

 

৩. বেলজিয়ামের বিপক্ষে অসাধারণ পরিসংখ্যান

এই ম্যাচে তিনি ৭টি সেভ করেন। পাশাপাশি ৩৪টি পাসের মধ্যে ২০টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং ২৪টি লং বলের মধ্যে ১১টি সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন যা তার গোলরক্ষার পাশাপাশি বিল্ড-আপ দক্ষতাও তুলে ধরে।

 

 

৪. ইরানি ফুটবলের শীর্ষ তারকা

গত এক দশকে ইরানি ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন বেইরানভান্দ। তিনি টানা চার মৌসুম লিগের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে ইরানের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।

 

 

৫. রোনালদোর পেনাল্টি সেভে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি

২০১৮ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন বেইরানভান্দ। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, আর তার সেই সেভ আজও ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।

 

ইরানের এই গোলরক্ষক তাই শুধু একজন খেলোয়াড় নন তিনি এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে পাহাড়ি যাযাবর জীবন থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে নায়ক হওয়ার কাহিনি লেখা হয়েছে নতুন করে।

 

পারিবারিক কলহের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলের হাতে নিহত বাবা

রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হামলায় রেজাউল করিম নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত রেজাউল করিম (৬০) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত তার ছেলে রাকিবুল করিম (২৭)। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকালে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবা ও ছেলে রাকিবুলের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাকিবুল ঘরে থাকা একটি কাঠ দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত রেজাউল করিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত রাকিবুল দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 

মনিরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৩৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়।
জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোমবার (২২ জুন ২০২৬) ভোররাতে হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. মিনহাজুল আবেদিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের বসতঘর থেকে মাদক ব্যবসায়ী মো. শাখাওয়াত (২২) কে ৩৪৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তার শাখাওয়াত হাতিয়া উপজেলার ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। অভিযানের সময় তার সহযোগী মো. সাঈদ উদ্দিন (৩০) পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামি ও পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জলঢাকায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

নীলফামারীর জলঢাকায় প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুলার ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রিসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রাম এর আওতায় পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
সোমবার ২২ শে জুন  সকালে উক্ত অনুষ্ঠানে শুরুতে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানটির শুভসূচনা করেন নীলফামারী -৩  আসনের সাংসদ সদস্য মাওলানা  ওবায়দুল্লাহ সালাফি । পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন কৃষি বুথ ও কর্ণার পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা আমির মোখলেছুর রহমান মাস্টার, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মোয়াম্মর আল হাসান , প্রেসক্লাব জলঢাকার সভাপতি কামারুজ্জামান, নীলফামারী জেলা জামায়াত ইসলামী প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি প্রভাষক সাদের  হোসেন , প্রেসক্লাব জলঢাকা সেক্রেটারি শাহজাহান কবির লেলিন,নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রশিদুল ইসলাম বাঙ্গালী,
জলঢাকা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা তথ্য অফিসার আয়েশা খাতুন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আসাদুজ্জামান আসাদ ,উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন  উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম।

সিরাজগঞ্জে জব ফেয়ার-২০২৬ অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বেকার যুবকদের চাকরির সুযোগ তৈরীর লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

সোমবার, (২২ জুন) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ মেলায় জেলার বিভিন্ন বেসরকারি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

পিকেএসএফ এর অর্থায়নে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের সহযোগীতায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি), মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এবং মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জব ফেয়ার এর উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

 

এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বেকারত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ এর রেইজ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ফারুক হোসাইন, বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলাম, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিব উল্লাহ বাহার এবং মডার্ন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিও) এর নির্বাহী পরিচালক মাছউদ আহমেদ রোকনী।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রকল্প বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর ঋণ সহায়তা কর্মসূচির পরিচালক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও এসময় ৩০টির বেশি চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তারা বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে হলে যুবকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পান।

 

 

আয়োজকরা জানান, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতী, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তির তারিখ পেল আলোচিত সিনেমাটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’-এর। নির্মাতারা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ২৬ আগস্ট।

 

 

ব্যতিক্রম একটি বিষয় হলো, সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে বুধবার। সাধারণত বড় বাজেটের ভারতীয় সিনেমাগুলো শুক্রবার মুক্তি পেলেও ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন নির্মাতারা। কারণ, মুক্তির সময়টিকে ঘিরে রয়েছে বরমহালক্ষ্মী পূজা, ওনাম ও রাখি বন্ধন-এর মতো একাধিক উৎসব ও ছুটির আবহ। ফলে টানা কয়েক দিনের ছুটির সুবিধা পেয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে বাড়তি দর্শক টানতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

মুক্তির তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে সিনেমাটির নতুন পোস্টারও। পোস্টারে যশকে দেখা গেছে দুটি ভিন্ন রূপে। জানা গেছে, সিনেমাতে তার চরিত্রের নাম ‘রায়া’ এবং ‘টিকিট’। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে যশ জানিয়েছিলেন, বাইরে থেকে এটি গ্যাংস্টার ঘরানার বাণিজ্যিক সিনেমা মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে আরও গভীর গল্প। তার ভাষায়, ‘এটি শুধু অপরাধজগতের গল্প নয়; বরং নৈতিক দ্বন্দ্ব, মানবমনের অন্ধকার দিক এবং আবেগের জটিলতাকে অনুসন্ধান করার একটি প্রচেষ্টা।‘

ইতোমধ্যে ‘টক্সিক’কে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে বলা হচ্ছে। সিনেমাটি একসঙ্গে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় ধারণ করা হয়েছে। পরে এটি ছয়টি ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিসরে দর্শক টানার লক্ষ্যেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এটি তার সঙ্গে যশের প্রথম কাজ। যশের পাশাপাশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা, বলিউড তারকা কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্ষ্মিনী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। ‘কেজিএফ’-এর পর যশের সবচেয়ে বড় বাজির সিনেমা হিসেবেই দেখা হচ্ছে ‘টক্সিক’-কে।

 

 

তবে মুক্তির আগেই একাধিকবার পিছিয়েছে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ। প্রথমে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল এটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুটিং ও প্রযোজনার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে নতুন তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমা।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর যশকে নতুন রূপে বড় পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন তার ভক্তরা। তাই মুক্তির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ‘টক্সিক’ ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশাও ততই বাড়ছে।

চরিত্রের গভীরে সুনেরাহ, ‘ঝরা বকুল’-এ পেলেন দর্শকের ভালোবাসা

নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক মানেই নতুন কিছু। প্রেম ভালোবাসার পাশাপাশি বরাবরই পরিবারের গল্প তুলে ধরেন তিনি। এরমধ্যে তার নির্মিত ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে এই নাটকের সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনীত মনিরা চরিত্রটি বেশ প্রশংসা পাচ্ছে।

 

 

গল্পে দেখা গেছে, মনিরা একটি গরীব পরিবারের বড় মেয়ে। সবার দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের বিয়েও করা হয়ে ওঠেনি তার। এমনকি মনিরা অন্য পরিবারে চলে গেলে কে সংসার দেখবে এই ভয়ে তার মা নিজেও তাকে বিয়ের জন্য বলে না। কিন্তু কবির (ইয়াশ রোহান) মনিরাকে চায়। এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়।

 

 

নাটকটির কমেন্টবক্সে একজন লেখেন, ‘জানিনা মানুষ সুনেরাহকে নিয়ে এত খারাপ মন্তব্য কেনো করে। ওর কণ্ঠ, ওর চেহারা সবই অন্য রকম। আর কেন জানি সব ধরনের অভিনয়ে মানিয়ে যায়। বড় লোকের মেয়ে, গরীবের বাড়ির মেয়ে, অহংকারী নিরহংকারী, সব চরিত্রে। ‘

রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে ‘ঝরা বকুল’ নাটকটি দেখা যাচ্ছে। এটি প্রযোজনা করেছেন জামাল হোসেন। নাটকটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রম্য, রোমান্টিক, অতি আর্ট দেখতে দেখতে দর্শক হয়রান। এসবে গল্প আর বাস্তবতার অভাব থাকে। হাপিয়ে উঠা দর্শক এখন একটা পরিবারের সুখ দুঃখ স্ট্রাগল ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পান।’

নির্মাতা রিংকু বলেন, ‘আমি সব সময় পারিবারিক গল্পকে প্রধান্য দিয়ে আসছি। এই নাটকেও দর্শক সেটি দেখছেন। মানুষ নাটকে যখন নিজেদের খুঁজে পান তখন সেটি সহজে গ্রহণ করেন। এই কারণে হয়তো ঝরা বকুল সবার ভালো লাগছে।’

এই নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন গুনী অভিনেত্রী ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী ও গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকে।

স্কুলশিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগে শিক্ষক-ছাত্র আটক

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন দায়ের হওয়া রামগঞ্জ থানার হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল সুপার ও সহকারী অধ্যাপক এবং এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

এর আগে ১৬ জুন বিকেলে উপজেলার ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।

নিহত মেহেদী উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় ১৮ জুন তার বাবা বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় মেহেদীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার চায়না জাল জব্দ, দুই ব্যক্তিকে জরিমানা ও একজনের কারাদণ্ড

​নাটোরের সিংড়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
অভিযানে প্রায় ২০ লাখ টাকার  নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ এবং এ জাল ব্যবহারের দায়ে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড ও  একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
​সোমবার  দুপুরে সিংড়া পৌর শহরের সরকার পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
​অভিযানে মৎস্য সুরক্ষা আইন অমান্য করে চায়না দুয়ারি জাল বাড়িতে মজুদ ও জাল  দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও একাক্বর (৩৭) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শহিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা সহ ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।  অপরপক্ষে অভিযুক্ত একাক্বর কে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভাম্যমান আদালত। এছাড়া  জব্দকৃত প্রায় ২০ লাখ টাকার  অবৈধ চায়না দুয়ারি  জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান ও ভাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মতা (ইউএনও)  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাট আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
এসময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহাদত হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী  উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, চায়না দুয়ারি জাল বিলের ছোট বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণি ধবংস করে ফেলছে যা চলনবিলের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোন ছাড় নয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রেমিকের সঙ্গে পালানো নববধূর মরদেহ মিলল কামারখন্দ হাইওয়ের পাশে

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে এক নববধূর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের মেয়ে মোছাঃ মুক্তা খাতুন (১৭)।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়িও পাওয়া গেছে। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে প্রায় ১৫ দিন আগে মুক্তা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল। তবে রোববার রাতে তিনি বাবার বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জের কড্ডা মোড় এলাকার এক প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। এর একদিন পর সোমবার সকালে কামারখন্দের কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় তার মাথা থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মরদেহটি মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

ধুনটে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে নাজমুল হকের মনোনয়ন পত্র দাখিল

বগুড়ার ধুনট  উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের  এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নাজমুল হক সরকার (২২ জুন) সোমবার দুপুরে এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনায়তনে।
উক্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন  এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ , সহকারী শিক্ষক ফজলুল হক,গোলাম  মোস্তফা, আব্দুল হামিদ, বিউটি রাণী ঘোষ।
এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন পিষ্টন, এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জি এম সম্রাট,  এলাঙ্গী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া তালুকদার, ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম রতনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
৪০ বগুড়া -০৫ আসনের (শেরপুর – ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের মনোনিত এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন ।
এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মরহুম মোজাম্মেল হকের ছেলে নাজমুল হক সরকারকে।

নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক তরুণীর সঙ্গে এক চীনা নাগরিকের বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়েটি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসবের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছা. মাইশা আক্তার জুঁইয়ের সঙ্গে চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয় উত্তরা ইপিজেডে কর্মসূত্রে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ১০ জুন কোর্ট অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে লিয়াউ জিচুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নুর মোহাম্মদ নাম ধারণ করেন বলে জানা গেছে।

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৮ জুন পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়েতে তিন লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

 

 

জানা গেছে, মাইশা আক্তার জুঁই উত্তরা ইপিজেডের মেইগো বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি পরিবারের।

 

 

এদিকে, বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কনেকে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, এটি স্বাভাবিক বিয়ে নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থের বিনিময়ে করা একটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় ছিল। পরে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে।’

 

 

বিষয়টি জানতে জুঁইয়ের বাবা জুয়েল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া নবদম্পতির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

 

 

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। অর্থের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

 

 

কামারখন্দে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার কোনাবাড়ী মফিজ মোড় এলাকায় ঢাকাগামী লেনের পাশে স্থানীয়রা ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি লাল রঙের শাড়ি পাওয়া গেছে।
বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের জানান, মহাসড়কের পাশে মাথা থেঁতলানো অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালেন নেতানিয়াহু

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোন থেকে ইসরায়েলি সেনা আপাতত প্রত্যাহার করা হবে না। যত দিন প্রয়োজন, তত দিন সেখানে সেনা মোতায়েন থাকবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা যাই হোক না কেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। গত এক বছরে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও জানান, সীমান্তবর্তী বাফার জোন থেকে ইসরায়েল সেনা সরাবে না। সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

 

কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিম–তারেক রহমান বৈঠক শুরু

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়াতে অবস্থিত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টার সময় পুত্রাজায়ায় সরজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

 

 

 

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চ পর্যায়ের সীমিত বৈঠক শুরু হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারেক রহমান পুত্রাজায়ায় পৌঁছানোর পর তাকে লালা গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও অভিবাদন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

 

 

পেরাদানা পুত্রা ভবনের সামনে মালয়েশিয়া মাদানী স্কয়ার যেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রতীক্ষায়। পরে এখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

 

 

দেখা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক কার্যালয়ে দীর্ঘ লম্বা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা দিয়ে।

 

 

 

মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রাজায়াতে অবস্থিত। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভবনটি মালয়, ইসলামিক-মুঘল এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ গঠিত, যার কেন্দ্রে রয়েছে আইকনিক সবুজ গম্বুজ।

 

 

 

পুত্রাজায়া স্কয়ারের চারপাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা উড়ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ভবনে যা নাম ‘পেরাদানা পুত্রা’ সেই ভবনের মালয়েশিয়ার পতাকার পাশে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে।

 

কক্সবাজারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, অধিকাংশ রোগী রোহিঙ্গা

 

কক্সবাজারে দিন দিন এইচআইভি রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধ যৌন সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে, স্বাস্থ্যশিক্ষার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে।

 

 

 

সূত্র জানায়, জেলার মোট এইচআইভি আক্রান্তদের প্রায় ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা শরণার্থী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা আরো জানান, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের পাশাপাশি কক্সবাজার এখন আরেকটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি।

 

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে কক্সবাজারেই রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ১৭০ জন। বাকি অধিকাংশই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বড় ঢলের পর থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ২১৭ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, যাদের সবাই রোহিঙ্গা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ২১৫ জন।

 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের হার অনেক বেশি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রান্ত মায়েদের মাধ্যমে নবজাতকদের শরীরেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

 

 

এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় বা প্রতিরোধ করা যায়। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অসচেতন থাকলে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতা নিশ্চিত না করা হলে গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের সময় শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে।

 

 

 

কক্সবাজার এআরটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মেজবাহ জানান, বর্তমানে কয়েকজন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা জন্মগতভাবে মায়ের কাছ থেকে ভাইরাসটি পেয়েছে। এ ধরনের সংক্রমণ রোধে ‘প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি)’ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত মায়েদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতা কার্যক্রম, নিয়মিত পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ভবিষ্যতে এটি আরও বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।

 

প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ারকে বহাল রাখার দাবি সিলেটে

 

সিলেটে মাজার ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিলেটের সর্বস্থরের যুব সমাজ। বিকাল ৬টায় সিলেট কোর্ট পয়েন্টে ও ডিসি অফিসের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বক্তারা বলেন, সিলেটের স্বার্থে, সিলেটবাসীর দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ডিসি সরওয়ার আলমকে বহাল রাখতে হবে। জনমতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত সিলেটবাসী মেনে নেবে না।

 

গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়।

 

 

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দায়িত্ব পালনকালে একাধিক আলোচিত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ঘিরে সারওয়ার আলমের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ মাজার ইস্যুতে নেওয়া পদক্ষেপই জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

 

 

মাজার-ভক্ত-অনুসারীরা জানান, প্রায় ৭০০ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দানবাক্সে সিলগালা করা হয়েছে, এটা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।

 

 

 

সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি শামসুল বাসিত শেরো বলেন, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মেরামতের মত সামান্য কাজ দুবছরে করতে পারেননি জেলা প্রশাসক। দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল বাকী, নাইটগার্ডের ১৮ মাসের বেতন বাকি।

 

 

 

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বদলির বিষয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেট শাখার সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম কালবেলাকে বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদাপাথর লুটের সময় তিনি লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পাথর পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া র‌্যাবে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তিনি জনমনে পরিচিত ছিলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ বিশেষ করে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ‘ডেগ সিলগালা’ এবং সেখানে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন অনেকের কাছে বিতর্কিত ও অশোভন মনে হয়েছে।

 

 

 

এতে মাজার সংশ্লিষ্টদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে এবং ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানে জলঢাকা থানার ওসিকে  বিশেষ সম্মাননা প্রদান

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে নীলফামারী জেলা প্রশাসন। আজ রবিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক জনাব নায়িরুজ্জামান তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। নীলফামারী জেলার সকল থানার মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রন, চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম দমন সহ সার্বিক তৎপরতায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখায় জনাব নাজমুল আলম কৃতিত্বপূর্ণ এই সম্মান অর্জন করেন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার নীলফামারী, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী সহ নীলফামারী জেলাধীন সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলম মর্যাদাপুর্ন এই সম্মান অর্জন জলঢাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরও কর্মতৎপর ও উৎসাহী করে তুলবে বলে মনে করছেন জলঢাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি! অতঃপর…

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই নারীকে নিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ের পর নিজেকে তার পূর্বের বৈধ স্বামী দাবি করে হাজির হয়েছেন আরেক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাস, স্থানীয় এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম গত ১৯ জুন একই কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়াশোনার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে বিয়েতে রূপ নেয়।
তবে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি এখনও তার বৈধ স্বামী। তার অভিযোগ, স্বর্ণাকে কৌশলে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুরাদ হোসেন বলেন,
“স্বর্ণা আমার স্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। এখন তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, “এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়। পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।”
অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন দাবি করেন, “স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি। নিজেকে স্বামী দাবি করা ব্যক্তি প্রতারণার চেষ্টা করছেন। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবির কোনো ভিত্তি নেই।”
ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, “মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং প্রাপ্তবয়স্ক। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এলিজা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
এদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বর্ণা খাতুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের দাবিকৃত পূর্ববর্তী বিয়ের কোনো নথিপত্রও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী বৈবাহিক দাবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী সক্রিয় হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং ইরানে হামলা চালাবে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।

 

 

 

তিনি লেখেন, ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের উচ্চ বেতনভুক্ত প্রক্সিদের ঝামেলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা ইরানকে আবারও খুব কঠোরভাবে আঘাত করবো; গত সপ্তাহের চেয়েও বেশি শক্তি দিয়ে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নতুন পর্ব শুরু হওয়ার মধ্যে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

 

এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্ত, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ বাস্তবায়িত হয়নি। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

 

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় লালগালিচা সংবর্ধনা

 

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

 

 

 

টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

 

 

 

এ সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

 

সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে ২ দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনীসহ সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে থাকবেন।

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সফরে রয়েছেন তারেক রহমান।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

 

 

 

তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এই সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন।

 

 

 

সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

 

চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপির ছেলেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

 

চাঁদাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

 

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে সজীবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বেচ্ছায় এসপি কার্যালয়ে আসেন।

 

 

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

তবে অভিযোগের প্রকৃতি কিংবা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।

 

 

 

এদিকে সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় গণমাধ্যমকে জানানো হয়, খাইরুল ইসলাম সজীবকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সজীব বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

শাহজাদপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
শনিবার (২১ জুন) সকালে শাহজাদপুর থানা চত্বরে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ উদ্দিনসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর থানার এসআই মন্তাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে টহল পুলিশের একটি দল বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের টেটিয়ারকান্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৬ বস্তা অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে গাড়িটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
আটক পিকআপের চালকের কাছ থেকে জানা যায়, জালগুলো পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকা থেকে বগুড়ায় নেওয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত ১৬টি বস্তার মধ্যে মোট ৯৩ পিস অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পিকআপটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলোরা পারভিন বলেন, চায়না দুয়ারি জাল উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের তৎপরতায় জালগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে এবং আমার উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বা পরিবহন দেখতে পেলে দ্রুত প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগকে জানাতে হবে।
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

 

 

রোববার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

 

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ খান হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহীদুল হাসান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাদের সেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, দৈনিক কলম সৈনিকের সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হেলাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, ফজল-এ-খোদা লিটন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম তফিজ উদ্দিন, বর্তমান সহ-সভাপতি হীরক গুণ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা রুবেল, অর্থ সম্পাদক নয়াদিগন্তের রিপোর্টার নূরুল ইসলাম রইসী, বর্ণিক বার্তার রিপোর্টার অশোক ব্যানার্জী, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রিংকু কুণ্ডু প্রমুখ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু।

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একাত্তর টেলিভিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও জনমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চ্যানেলটি দর্শকদের আস্থা অর্জন করেছে এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও মানবিক সংবাদ পরিবেশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

 

 

প্রধান অতিথি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, একাত্তর টেলিভিশন দেশের মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে একাত্তর টেলিভিশন ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

 

আলোচনা শেষে অতিথিরা একাত্তর টিভির প্রতিনিধিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ প্রশসান, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও শিক্ষাবিদগণ এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৪ পাউন্ডের কেক কর্তনের মধ্যদিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

 

 

“প্রাণের খোঁজে বিশ্বময়” এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ, আবৃত্তি-চিত্রাঙ্কন রচনা প্রতিযোগিতা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে গাছের চারা বিতরণ, পরিবেশের ওপরে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

রোববার (২১জুন) সকালে শহরের শিল্পকলা একাডেমী অডিটোরিয়ামে পরিবেশবাদী সংগঠন “প্রানের খোঁজে বিশ্বময়” এর আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

প্রানের খোঁজে বিশ্বময়’র সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ব বিদ্যালয় বাংলাদেশ এর বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হামিদ সরকার, সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম, অ্যাডভোকেট মাহবুব-এ-খোদা টুটল, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বৃক্ষপ্রেমী মাহবুব পলাশ প্রমূখ।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে যুবককে হত্যা, প্রতিবাদে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও

চুরির অভিযোগে এক যুবককে পেটানোর পর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের গেটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।

 

 

নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ওসি জায়েদ নূর বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত চলছে।পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জাতীয় কবির ভাবনা-দর্শন ছড়িয়ে দিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এক বছরের জন্য ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

 

রোববার (২১ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে।

 

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা ২৫ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এ সময়জুড়ে কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তার মানবতাবাদী ও বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে  গাছগুলো কর্তন করে। পরে গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন,সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”
এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কেভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই।  জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা  আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে আশাবাদী মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা

ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এই সফরের মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ঝিমিয়ে পড়া শ্রমবাজারের পুনরুজ্জীবন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন প্রবাসীরা।

 

 

তাদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার সিন্ডিকেট মুক্ত হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো বন্ধ ও সীমিত হয়ে থাকা শ্রমবাজারের জটিলতা দূর করা। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিগত দিনগুলোতে নানা আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল।

প্রবাসীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে, যা বৈধ পথে এবং স্বল্প খরচে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার অর্থনীতির জানালা পুরোপুরি খুলে দেবে।

এদিকে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বিমান টিকিট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি প্রবাসীদের। তারা জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি অন্যতম প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে বিমানের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সাধারণ প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ টিকিটের পেছনেই উজাড় করে দিতে বাধ্য হন।

 

 

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর প্রথম মালয়েশিয়া সফর করছেন এটি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে-দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু হবে এবং প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি কিছু পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ হবে।’

 

 

কয়েকজন প্রবাসী আকুতি জানিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে বিমান টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী লুটে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।

 

 

সরকারি খরচে মরদেহ দেশে পাঠানোর দাবি

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবাসীদের মাঝে সবচেয়ে যে বিষয়টি প্রভাব ফেলে সেটি হলো কেউ মারা গেলে তার লাশ দেশে পাঠানো নিয়ে। কেননা, মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক অনটনে পড়তে হয়।

 

 

প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি, কোনো প্রবাসী মারা গেলে যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তার লাশ বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তারা চান, প্রধানমন্ত্রী যেন এবারের সফরেই এই মানবিক দাবিটি পূরণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেন।

 

 

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

যুবদলের মালয়েশিয়া শাখার কর্মবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে চাকা সচল রাখছেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এই বিশাল ত্যাগ ও অবদানের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। কুয়ালালামপুরের বুকজুড়ে এখন একটাই সুর—প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে কাটবে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, আর উন্মোচিত হবে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।’

 

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—যেন প্রবাসীদের মৃতদেহ তিনদিনের মধ্যে দেশে বিনা খরচে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে বিমানের টিকিট ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সব ধরনের সিন্ডিকেট যেন ভেঙে দেওয়া হয়।’

 

 

মালয়েশিয়া যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল পাঠান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়। এই সফরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাধা দুর হবে, এটাই আমাদের চাওয়া।’

 

 

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেন তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ সময় রোববার (২১ জুন) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৮৬-এ কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন সোমবার স্থানীয় সময় পুত্রজায়ায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক (টেট-আ-টেট) অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

 

 

তাছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রম অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের কল্যাণ সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে। বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠনও শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার, অবৈধ দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

এ সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া নির্বাচন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত বহন করে।

 

 

এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং হালাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

 

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা বা যৌথ ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

 

 

সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে সফরটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

 

 

বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর খসড়া কর্মসূচি

খসড়া কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরে তিনি রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন।

 

 

সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। গার্ড অব অনারের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সীমিত পরিসরের বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

এদিন উভয় দেশের উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও একটি নোট বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমনসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে দলিল বিনিময়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

 

 

সরকারি কর্মসূচিতে আরও রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ। একই দিনে মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে সম্ভাব্য সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি তখনও নির্ধারিত হয়নি।

 

 

এ ছাড়া এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

 

 

দুই দিনের সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের ডালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সাহায্য চেয়ে কেমিক্যাল প্রয়োগ; শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

মহিলাদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটা দল। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার (২০জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একদল সদস্য।
রোববার (২১জুন) বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করে। এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল scopolamine ব্যবহার করে ওই সকল মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের নিকট থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়।
এসপি বলেন, এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্তে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়। সেই সকল মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
এসপি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। এবং তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতিমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদেরকে টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সলঙ্গায় আল আমিন সামিদুলের  মাদক ব্যবসার নেপথ্যের খুঁটির জোর কোথায়

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় চিহ্নিত মাদক কারবারি আল আমিন ওরফে সামিদুলের বেপরোয়া মাদক ব্যবসার পেছনে নেপথ্যের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লোক চক্ষুর আড়ালে এলাকায় মাদক বিক্রি ও তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলঙ্গার পাঁচলিয়া ও ধোপাকান্দি এলাকার বাসিন্দা আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও চোরাই মালামাল ক্রয় বিক্রয়সহ মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত। স্থানীয় যুবসমাজকে টার্গেট করে সে তার এই অবৈধ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, তার এই প্রকাশ্য মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা এবং নেপথ্যের এক শ্রেণির অসাধু চক্রের ছত্রছায়ায় সে প্রতিনিয়ত পার পেয়ে যাচ্ছে।
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান চালালেও আল আমিন প্রতিবারই কৌশলে আত্মগোপন করে বা আগাম তথ্য পেয়ে সটকে পড়ে। ফলে তার মূল সিন্ডিকেটটি সবসময়ই অধরা থেকে যায়।
​এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
​স্থানীয়দের দাবি, সলঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে আল আমিন আর সামিদুল ও তার নেপথ্যের সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

রায়গঞ্জে ভূয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী রাসেল আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগর গ্রামে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে রাসেল নামে এক যুবককে আটক করেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ।
রবিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে মালতিনগর গ্রামের জিন্নাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটককৃত রাসেল সলঙ্গা ইউনিয়নের সাতটিকরী গ্রামের মছের আলীর ছেলে। রবিবার সকালে তিনি নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে মালতিনগর গ্রামের জিন্নাহর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় একটি মামলা থেকে রক্ষা করার কথা বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের কাছে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তারা সলঙ্গা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে সলঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাসেলকে আটক করেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, “ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, আটক রাসেলের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

৩০০ শিল্পীর একক সুরে ভরতনাট্যমের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা

চলছে দেশের নৃত্যজগতের দুই পুরোধা শিবলী মোহাম্মদ আর শামীম আরা নীপার প্রতিষ্ঠান নৃত্যাঞ্চলের বছরব্যাপী রজতজয়ন্তী উদ্যাপন। সেই অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো শাস্ত্রীয় নৃত্যের বিশেষ আয়োজন ‘ভরতনাট্যম সন্ধ্যা’।

 

 

নৃত্যাঞ্চলের ৩০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ আয়োজন শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর বাংলাদেশে ভরতনাট্যম নৃত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন বিশিষ্ট নৃত্যগুরু বেলায়েত হোসেন খান, আনিসুল ইসলাম হিরু ও ড. সোমা মুমতাজকে প্রদাণ করা হয় ‘নৃত্যাঞ্চল সম্মাননা ২০২৬’।

 

 

মূল আয়োজন নৃত্যানুষ্ঠানে ভরতনাট্যম নৃত্যের শুরু থেকে শেষ, সবগুলো বিষয়কে উপস্থাপন করা হয়। পুষ্পাঞ্জলি নৃত্য থেকে তিল্লানা ও মঙ্গলাম— ধারাবাহিক এসব পরিবেশনা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের নৃত্য পরিচালনা করেন তরুণ মেধাবি ভরতনাট্যম শিল্পী ও নৃত্যাঞ্চলের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ববি।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদ। তারা জানান, রজতজয়ন্তী উদ্যাপনের সমাপনী আয়োজন হিসেবে শিশুদের ছড়াগানভিত্তিক নৃত্য প্রযোজনা ‘ছড়াছন্দে নৃত্যমালা’ মঞ্চস্থ হবে আগামী আগস্টে।

শুদ্ধ নৃত্যচর্চার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে রুচি, সৃজন আর শিল্পের অনবদ্য মেলবদ্ধন তৈরি মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে নৃত্যাঞ্চল সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বকাপের বল তৈরি করে যে দেশ, তাদের নেই ফুটবলের ইতিহাস!

বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের কাছে ফুটবলের জাদুকরী নান্দনিকতার কথা বললে সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের তারকা খেলোয়াড়দের কথা। কিন্তু মাঠের সেই গোলপোস্টের ভেতরে আছড়ে পড়া বলটির জন্ম কোথায়, তা অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, বিশ্বের ফুটবল উৎপাদনের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র বা ‘ফুটবল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহর। উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের এই শহরটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

 

 

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় শিয়ালকোটের কারখানাগুলোতে। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখের বেশি ফুটবল এখান থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পাড়ি জমায়। আর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের বছরগুলোতে এই সংখ্যাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য; বিশ্বকাপের মৌসুমে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এই শহর।

 

 

মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান ফুটবল দল এ পর্যন্ত কখনো ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ গত ৪৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরের মাঠ কাঁপানো বলগুলোর জন্ম হয়েছে এই শিয়ালকোটে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ কোম্পানিটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের আসরের ট্রায়ন্ডা; টানা চারটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে এই শহরের কারিগররা।

একদিকে, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের বৈশ্বিক মঞ্চে না থাকার আক্ষেপ, অন্যদিকে বিশ্বের প্রতিটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা; এই দ্বৈরথই শিয়ালকোটকে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচয়। খেলার মাঠে হয়তো খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতে গোল আসে, কিন্তু সেই জাদুর কারিগর হিসেবে নেপথ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের এই শহর। ফুটবল বিশ্বের অঘোষিত এই ‘কারখানা’ তাই আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক অনন্য ও গর্বিত নাম।

ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিয়ে, কলেজে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আরেক স্বামী

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা এলাকার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এক ব্যক্তির দাবিকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

 

 

জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা এলাকার শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে গত ১৯ জুন বিয়ে করেন একই কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, কলেজে পড়াশোনার সূত্র ধরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা বিয়েতে গড়ায়।

 

 

এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেছেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে বিয়ে করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

 

অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়৷ আমি আপনার সাথে পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সাথে কথা বলবে৷

 

 

অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন বলেন, স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি৷ স্বামী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিটি ফ্রট মানুষ। আমরা পারিবারিকভাবে বিয়ে দিয়েছি।

 

 

ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করে। সে কি তাহলে ছোট মানুষ। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কিনা, আমি এসব জানিনা৷

 

 

 

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশন করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর স্টেশনকে জংশন করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে রেল বাঁচাও আন্দোলন।

 

 

রোববার (২১ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. রুহুল আমিন।

 

 

এ সময় রেল বাঁচাও আন্দোলন, সিরাজগঞ্জের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব-এ-খোদা টুটুল, সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিথুন রহমান এবং জনতার কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক স্বপন চন্দ্র দাস।

 

 

স্মারকলিপিতে ৫টি পয়েন্টে রায়পুর জংশনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্য সুফল ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে সিরাজগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি পুরণে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।

 

 

কালাইয়ে সাড়ে ৮ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম: রাতের আঁধারে কার্পেটিং

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কার্পেটিংয়ের কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পুনট-মুসলিমগঞ্জ ভায়া শানিগড় রাস্তায়। রাতে ঠিকাদারের লোকজন কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই রাস্তায় সরেজমিনে গিয়ে পাথর ও পিচ বিছানোর দৃশ্য নজরে পড়ে। তবে এ সময় সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার এই রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্তকরণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে। সড়কটি আগে চওড়ায় ছিল ৫ মিটার, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ৮.৭ মিটার করা হচ্ছে এবং এর জন্য পুরো রাস্তার একপাশ খনন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গর্তে বালুর সাথে ভালো ইটের খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে দেওয়া হচ্ছে পূর্বের রাস্তার ওঠানো পরিত্যক্ত পাথর, ইটভাটার গুঁড়ো (রাবিশ) ও মাটি।

বর্তমানে পুরো রাস্তায় মাটির পুরু স্তর জমে রয়েছে। সেই ময়লা ও কাদা পরিষ্কার না করেই যৎসামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে তার ওপর রাতের আঁধারে কার্পেটিংয়ের দায়সারা কাজ সম্পন্ন করছে ঠিকাদারের লোকজন। সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা কোনো প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। এই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো তাদের ওপর চড়াও হয় এবং হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ যথাযথভাবে তদারকি করার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুনট-মুসলিমগঞ্জ রাস্তার শানিগড় বাজার থেকে মুসলিমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৭.৩৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার এবং একই রাস্তার একপাশ চওড়া করতে নতুনভাবে ৩.৭ মিটার প্রশস্তকরণে গত বছরের ৩ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা। দরপত্র ও চুক্তি অনুযায়ী কাজটির দায়িত্ব পায় নওগাঁর ‘ইথেন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

চুক্তি অনুযায়ী কাজটি গত বছরের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনেক দেরিতে কাজ শুরু করায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এখন তাড়াহুড়ো করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ঠিকাদার, যার ফলে চারিদিকে অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠছে।

স্থানীয় থল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, শুরু থেকেই এই রাস্তায় তিন নম্বর ইট, পরিত্যক্ত পাথর, রাবিশ ও মাটি দেওয়া হচ্ছে। কাদা-মাটির ওপরেই বিটুমিন ছিটিয়ে রাতের বেলায় কার্পেটিং করা হচ্ছে, যা সকালবেলা সামান্য পায়ের ঠেলাতেই উঠে যাচ্ছে। এই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী অফিসের কেউ সাইটে থাকেন না।

উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লুতু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুযোগ বুঝে রাতের বেলায় যা খুশি তাই করছে ঠিকাদারের লোকজন। এখনই যদি রাস্তার কার্পেটিং উঠে যায়, তবে ছয় মাস পর এই রাস্তার কী দশা হবে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের নামে মূলত সরকারি টাকা লোপাটের পরিকল্পনা করছে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, আসলে আমাদেরকে উপর থেকে যেভাবে এবং যখন কাজ করতে বলা হয়েছে, আমরা সেভাবেই করছি। এখানে রাত-দিন বলতে কিছু নেই, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নূর আলম বলেন, যেহেতু এটি কৃষিনির্ভর এলাকা এবং বর্তমানে ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে, তাই কৃষকদের কাজে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য রাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো অনিয়ম করা হয়নি, যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

অন্যদিকে, ইথেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার রাসেল আহমেদ বলেন, আমি নিজে সবসময় সাইটে থাকি না। তবে আমার লোকজন যদি সত্যিই রাতের বেলায় কার্পেটিংয়ের কাজ করে থাকে, তবে তা অবশ্যই ভুল করেছে।

এ প্রসঙ্গে কালাই উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, প্রথমত, রাতে কার্পেটিং করার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই। আর নিম্নমানের কাজ করার তো প্রশ্নই আসে না। যদি তারা রাতের বেলায় কাজ করে থাকে, তবে সেই কার্পেটিং পুনরায় তুলে ফেলা (ওঠানো) হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, কার্পেটিংয়ের কাজ রাতে করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজের মধ্যে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল পাস করা হবে না।

আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি, দুশ্চিন্তায় চরাঞ্চলের মানুষ

ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (২১ জুন) দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে সকাল ৬টায় পানির স্তর ছিল বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচে। শনিবার একই সময়ে তা ছিল ১৩ সেন্টিমিটার নিচে। ফলে পানি বাড়া-কমার এ প্রবণতায় উদ্বেগ বেড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বাদামক্ষেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ নানা ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিস্তাপাড়ের কৃষক সাজু মিয়া বলেন, তিস্তার পানি বাড়ছে-কমছে। এতে আমরা আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাবে।

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, সকাল থেকে পানি বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।

 

 

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে তিস্তার পানি বাড়ছে। দুপুর ১২টায় তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

 

 

 

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৫ হাজারের বেশি

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৫ হাজার ২৮৮ জনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর আরব নিউজের।

 

 

 

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৮৬৪ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন লঙ্ঘনের দায়ে, ৪ হাজার ৫৭৬ জন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে এবং ২ হাজার ৮৪৮ জন শ্রম আইন সংক্রান্ত অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

 

 

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক ১ হাজার ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিলেন ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন আরও ২৪ জন।

 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, কেউ অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করলে, পরিবহন বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মুখোমুখি হতে পারেন।

 

 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে সন্দেহভাজন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের তথ্য মক্কা ও রিয়াদ অঞ্চলে ৯১১ নম্বরে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ বা ৯৯৬ নম্বরে জানানো যাবে।

 

১৪৮৫ জনের বিশাল নিয়োগ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, আবেদন করুন দ্রুত

‘সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস)। গত ২৪ মে ১৪৮৫ পদের এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ২ জুন সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। চলবে ২৩ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

 

 

 

তবে, এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ ও একই বছরের ৯ জুনের বিজ্ঞপ্তির পদগুলোতে কেউ আবেদন করলে তাদের আর নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: সমাজসেবা অধিদপ্তর

পদসংখ্যা: ৫২ ক্যাটাগরিতে ১৪৮৫ শূন্য পদ

চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী/অস্থায়ী)

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

প্রার্থীর বয়স: ১৮-৩২ বছর (১ জুন ২০২৬ তারিখে)। তবে ১, ৩, ৮, ৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২৫, ২৭-৩১ ও ৩৬ নম্বর পদের বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

 

 

 

আবেদন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে https://dss.gov.bd/pages/notices/সংশোধিত-নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি-mxnjc6-6a12f8064912f6e4018b0e93 ক্লিক করে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি–পেইড নম্বর থেকে সার্ভিস চার্জসহ আবেদন ফি বাবদ ১ থেকে ৩৭ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা, ৩৮ থেকে ৫২ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা এবং সব পদের অনগ্রসর প্রার্থীদের ৫৬ টাকা অনলাইনে ফরম পূরণের অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

 

 

 

আবেদনের মাধ্যম: শুধু অনলাইনে (টেলিটকের মাধ্যমে)

আবেদন শুরুর তারিখ ও সময়: ২ জুন ২০২৬, সকাল ১০টা

আবেদন শেষের তারিখ ও সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২৬, বিকেল ৫টা।

আবেদনপদ্ধতিসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে

বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় হাসপাতালের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি ও বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা।

 

 

 

জানা গেছে, হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, হাসপাতালটিকে ৫শ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য দ্রুতই নতুন অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত হাসপাতালের নিজস্ব মাঠে এই নতুন বহুতল ভবন ও অবকাঠামো নির্মিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার আধুনিকায়নে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

হাসপাতালের যে ওয়ার্ডটি পূর্বে বার্ন ইউনিটের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছিল, সেটিকে এখন আধুনিক আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হবে। এই আইসিইউ ওয়ার্ডটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামাদি ও দক্ষ জনবল চেয়ে খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে হাসপাতাল প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

 

 

সভায় উপস্থিত বক্তারা হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে রোগীদের সার্বক্ষণিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সভায় সতর্ক করা হয়। এছাড়া হাসপাতালে নার্সসহ অন্যান্য লোকবল বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়।

 

 

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুজিদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক, বিএমএ বগুড়ার আহ্বায়ক ডা. আসফারুল হাবীব রোজ, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম রনি, সাইফুর রহমান শাহীন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ারা খাতুন প্রমুখ।

 

এমপি হানজালাকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের কটাক্ষ, ‘চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি’

মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

তিনি বলেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে!

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

 

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?

তিনি বলেন, এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে।

 

 

সবশেষ তিনি লেখেন, হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধীদলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।

 

ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসাতে AI দিয়ে ছবি তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মো. আসার সরকারকে ফাঁসানোর জন্য ফেক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সম্প্রতি AI দিয়ে আসার সরকারের মদ্যপানের একটি ছবি তৈরি করে ফেক আইডিতে প্রচার করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন আসারকে ফাাসানোর জন্যই এ ধরণের কুৎস্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে এক আইডি থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখানো হয়েছে আসার সরকার বসে মদপান করছে। তার একহাতে মদের বোতল ও এক হাতে মদের গ্লাস। ওই ছবিটি  AI দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবী করে আসার সরকার বলেন, আমার চেহারার সঙ্গে ওই ছবির কোন মিল নেই।

 

তিনি বলেন, আমি সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ষড়ন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।

 

এর আগে আসার সরকারকে দুটি ফোন নম্বর থেকে  অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আ.লীগের মামলা: একজন আটক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলম। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স মামলার তথ্যটি  জানিয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘বেধড়ক পেটানোর’ অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আব্দুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

 

ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের কাছে নিজ দলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না।’

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে পরপর দুই খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের পর এটিই প্রথম। এ জয়ের প্রসঙ্গ ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তী পর্বে চলে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। কেননা, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।’

 

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাওয়ার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তবে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের এই বৈঠককে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

 

তাড়াশে হিন্দুর জমি জবর দখলচেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিট

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় ওই পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাড়াশ পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার রনজিত কুমার ঘোষের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ভুক্তভোগী রনজিত কুমার ঘোষ জানান, তার পৈত্রিক পাওয়া বসতবাড়ি ৭১ সাল থেকে ভোগদখলে রয়েছি। একটি জাল দলিল করে করে সাইফুল ইসলাম গং আজ শনিবার ওই জমি দখল করতে আসে। তার সঙ্গে মো. শামিম, মো. ফজলুসহ ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে জমি দখল করতে আসে।

 

 

 

এ সময় রনজিত ঘোষ ও তার পরিবার বাঁধা দিতে গেলে তার ওপর অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আহত হন রনজিত ঘোষ, মিঠুন ঘোষ, রিণা ঘোষ, রত্না ঘোষ, সুচিত্রা ঘোষ ও সন্দীপ ঘোষ। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

 

 

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় এসেছিল। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আলোচিত রেফারি, যার ঝুলিতে ৯৮০ হলুদ ও ২৫ লাল কার্ড

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিতব্য এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার সঙ্গে থাকবেন দুই সহকারী রেফারি এবং একজন চতুর্থ অফিশিয়াল, যাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মনোনীত করেছে।

 

 

কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ রেফারি হিসেবে পরিচিত আমিন মোহাম্মদ ওমর দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৩ সাল থেকেই তিনি মিসরের প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করছেন। মাঠে শান্ত ও দৃঢ়ভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার কারণে তিনি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক পর্যায়েও আস্থা অর্জন করেন।

 

 

২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মতো বড় টুর্নামেন্টেও ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবারই প্রথমবারের মতো মূল বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেলেন এই মিসরীয় রেফারি।

তার আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচে থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে দেরি হওয়ায় প্রথম রেফারি হিসেবে তিনি ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কার্যকর করে তাৎক্ষণিকভাবে কাউন্টডাউন শুরু করেন। কঠোর এই সিদ্ধান্ত মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গিকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম ম্যাচে বড় কোনো ভুল বা বিতর্ক দেখা যায়নি। সেই ম্যাচে তিনি মাত্র একটি হলুদ কার্ড দেখান, আর পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন দৃঢ়ভাবে।

মাঠের বাইরেও আমিন মোহাম্মদ ওমর একজন পেশাদার আইনজীবী। আইন পেশার সঙ্গে রেফারিংয়ের এই সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার ভাবকে আরও জোরদার করেছে বলে ফুটবল মহলে আলোচিত হয়।

 

 

এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং প্রায় ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সৌদি প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চাপপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

 

তবে গত বছর মিসরের ঘরোয়া ফুটবলে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। পিরামিডস এফসি তখন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

 

 

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে তার সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বদেশী মাহমুদ আবু এলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে থাকবেন স্পেনের আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ।

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ভক্তদের নিয়ে বিশেষ উদ্যোগের ইঙ্গিত রাষ্ট্রদূতের

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। সাক্ষাৎকালে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জনসাধারণের আর্জেন্টিনার প্রতি আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) পুলিশ সদরদপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এসময় রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদারসহ নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন মো. আলী হোসেন ফকির। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের জনগণের ফুলবলপ্রীতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ, সিরিজ হারের পর বাড়ল হতাশা

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দর্শকমুখর পরিবেশে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের। ৭ রানে হেরে আগেভাগেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারিয়ে স্বাগতিকেরা পেল আরেক দুঃসংবাদ।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি নিয়মিত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। এবার পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন বলে বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে। মাংসপেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

 

১৪ জুন মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে গ্রেড ১ মাত্রার চোট পেয়েছিলেন লিটন। ফলে সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারেননি তিনি। এবার তার খেলা হচ্ছে না শেষ টি-টোয়েন্টিও। আগামীকাল চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ নামবে ধবলধোলাই এড়ানোর মিশনে।

লিটন না থাকায় প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হৃদয় কয়েক দিন আগেই সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। লিটন ৩ ম্যাচ মিলিয়ে ৪৩ গড় ও ৮১.৯০ স্ট্রাইকরেটে করেন ৮৬ রান। যার মধ্যে শেষ ওয়ানডেতে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে চোটে পড়াতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয়ে গেল তার।

দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলে নাম লেখালেন কামরুল

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সমর্থকদের উন্মাদনা পৌঁছে যায় ভিন্ন মাত্রায়। প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ঘিরে চলে নানা বাজি, চ্যালেঞ্জ আর মজার সব প্রতিশ্রুতি। এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি পালন করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক।

 

 

উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেদিনগর গ্রামের কামরুল হাসান। গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ব্রাজিল যদি হাইতির বিপক্ষে জয়লাভ করে, তাহলে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছেড়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দলকে সমর্থন করবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ গোলের জয় লাভ করলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি কামরুল। বন্ধুদের উপস্থিতিতে গ্রামের একটি খোলা জায়গায় দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি। এরপর খুলে ফেলেন আর্জেন্টিনার জার্সি, গায়ে তোলেন ব্রাজিলের জার্সি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

কামরুল হাসান বলেন, ব্রাজিলকে খোঁচা দিতেই মজার ছলে এমন ঘোষণা দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল তারা হয়তো জিতবে না। কিন্তু ব্রাজিল জিতে গেছে, তাই নিজের কথার মর্যাদা রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও আমি বিষয়টি উপভোগ করছি।

ব্রাজিল সমর্থক ফাইয়াজ রিয়াজ বলেন, বন্ধু কামরুল বলছে আজকের ম্যাচ জিততে পারলে সবার সামনে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে যোগ দিবে। ম্যাচ জয়ের পর আমরা তাকে ডেকে এনে তার প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরিধান করিয়ে দিই। সে এখন ব্রাজিল সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল অনেক বছর শিরোপা জিততে পারেনি সত্যি, কিন্তু তারা শৈল্পিক ফুটবলের উদ্ভাবক।

কবরস্থানে পীর সেজে থাকতেন হত্যা মামলার আসামি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী একটি পঞ্চায়েতি নির্জন কবরস্থান দখল করে কথিত পীরের আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পবিত্র কবরস্থানের ভেতরে পীর পরিচয়ের আড়ালে এক হত্যা মামলার আসামি মাদক ও জুয়ার আসর বসাচ্ছেন।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে এক অজ্ঞাত পীরের নির্দেশে তিনি ওই কবরস্থানে অবস্থান করছেন। সেখানে জিন সাধনা ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে তিনি কবরস্থানের ভেতরে ঘন জঙ্গল ও শতবর্ষী একটি বটগাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে দোতলা আকৃতির একটি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন।

 

 

কবর ও ঘন বাঁশঝাড়ের মাঝখানে নির্মিত হয়েছে ওই ঝুপড়ি ঘর। গয়াছ মিয়ার মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে নথ লাগানো লোহার রড, ধান কাটার কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গয়াছ মিয়া পীরের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা গড়ে তুলেছেন। সন্ধ্যার পর নিয়মিত সেখানে মদ, গাঁজা সেবন ও জুয়ার আসর বসে বলে দাবি করেন তারা।

বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, শত বছরের পবিত্র কবরস্থানে মদ-গাঁজার আসর বসানো সম্পূর্ণ হারাম। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, হত্যা মামলার একজন আসামি জামিনে এসে কবরস্থানে আস্তানা গড়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তবে মাদকের আখড়া পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে গয়াছ মিয়া বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিটেমাটিও বিক্রি হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে আমি এই কবরস্থানে আশ্রয় নিয়েছি।

 

 

এদিকে কবরস্থান রক্ষা, অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

 

 

দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুর নগরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি সরবরাহ ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রংপুর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরীর কামাল কাছনা এলাকার তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জ উপজেলার আতিকুর রহমান (৩৪) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাফিজ আল মামুন (২০) ও আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে ধাপ জেল রোড এলাকার আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের একটি ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভিযানে ১৫টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক, তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরিপ্রার্থীদের চারজনের মূল সার্টিফিকেট এবং ৫টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। তিনি এর আগে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ৫২ দিন কারাভোগ করেছিলেন। অপর একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর বেকারত্বের সুযোগে চক্রটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

 

 

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি ডাক বিভাগের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। চক্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্প, ব্ল্যাংক চেক ও অর্থ নিয়ে প্রতারণা করতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

 

 

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

চঞ্চলের তুলিতে ফুটে উঠল মেসি, অভিনয়ের বাইরে আঁকায় মুগ্ধতা ছড়ালেন তিনি

চলছে ফিফা বিশ্বকাপ। ক্রীড়ার এই মহাযজ্ঞের উত্তাপে কাঁপছে গোটা দুনিয়া। সেই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। মাঠে দল না থাকলেও সমর্থনে ভাগ হয়ে গেছে দুই পরাশক্তি—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায় রঙিন চারপাশ।

 

 

এই ফুটবল আবহে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সরব। প্রিয় দল-খেলোয়াড় নিয়ে মন্তব্য করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিক্রিয়া। তবে সবার থেকে একটু ভিন্নভাবে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

 

 

আজ শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি শেয়ার করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা লিওনেল মেসি–এর একটি স্কেচ। নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসির চুল, দাড়ি, চোখ—এমনকি তার স্বাভাবিক হাসিটিও।

আর এই পোস্টের ক্যাপশনে চঞ্চল লিখেছেন, ‘আমি মেসির একটা ছবি আঁকব—এটা দেখে মেসি ভক্তরা খুশি হতেই পারেন। আঁকলাম। প্রিয় খেলোয়াড় বলে কথা! এখন লাইক-শেয়ার আপনার ব্যাপার।’

স্কেচটি পোস্ট করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেইসঙ্গে ভক্ত-সমর্থকরা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অভিনেতাকে। কেউ লিখেছেন, ‘আপনি দুই বাংলার খ্যাতিমান অভিনেতা, পাশাপাশি একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পীও।’ আবার কেউ তুলনা টেনেছেন, ‘মেসি যেমন ফুটবলে সেরা, আপনি তেমন অভিনয়ে।’

অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও আঁকাআঁকিতেও সমান দক্ষ চঞ্চল চৌধুরী। নিয়মিতই প্রিয়জন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি এঁকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। ইতোমধ্যে সত্যজিৎ রায়, তারিক আনাম খান, বাপ্পা মজুমদার, সালাহউদ্দিন লাভলু, রায়হান রাফী, তাসনিয়া ফারিণ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়–সহ অনেকের প্রতিকৃতি তার ডিজিটাল তুলিতে ধরা পড়েছে।

পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে ভোগান্তি, ভারতের শিক্ষার্থীর কেন্দ্র আমিরাতে

ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (এনটিএ) এক বড় ভুলে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র ভারত থেকে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক এনইইটি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে তার পরীক্ষাকেন্দ্র দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে।

 

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালিব অনলাইনে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর বিষয়টি দেখতে পান। তিনি পরীক্ষার জন্য নাগপুর থেকে আবেদন করেছিলেন এবং দেশের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রবেশপত্রে বিদেশের কেন্দ্র উল্লেখ থাকায় তিনি ও তার পরিবার হতবাক হয়ে যান।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট নেই। ফলে আবুধাবিতে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া তার জন্য একেবারেই সম্ভব ছিল না।

বিষয়টি সামনে আসার পর প্রবেশপত্রের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এনটিএ-র নজরে আসে। এরপর সংস্থাটি ভুল স্বীকার করে জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা টেকনিক্যাল গ্লিচের কারণে হয়েছে।

এনটিএ আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত নতুন করে সংশোধিত প্রবেশপত্র দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীকে ভারতের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হবে।

শিক্ষার্থীর পরিবার জানিয়েছে, আবেদন করার সময় তিনি নাগপুর, ওয়ার্ধা ও ভান্ডারা—এই তিনটি শহর পছন্দ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবেশপত্রে ভুল করে বিদেশের কেন্দ্র দেখানো হয়।

 

 

এনটিএ আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র বা তথ্য ভুলভাবে এসেছে, তারা যেন দ্রুত বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়।

 

 

আগামী ২১ জুন রি-এনইইটি ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা পেন-অ্যান্ড-পেপার পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঝিনাইদহ, আহত ২০

ঝিনাইদহ হরিনাকুণ্ডতে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার ৬নং ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

 

 

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল (৫০), মোজাফ্ফর হোসেন সেন্টু (৪৫), কবির হোসেন (৪০), মিজানুর রহমান ( ৪৫), রুবেল (৩২), গোলাফ্ফার ( ৪২), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), মোতালেব হোসেন (৪০), তোতা ( ৩৫), বাচ্চু মিয়া (৩২), বিভান (২২) ও সামসুদ্দিনসহ (৪৫) অনেকে।

 

 

 

এদের মধ্যে মশিউর রহমান মশাল, মোজাফ্ফর ও কবির হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মিজানুর রহমান ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। অন্যরা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ফলসী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ঝিনাইদহ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান। অপরপক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল।

জানা যায়, শুক্রবার ( ২০ জুন) সকালে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ভাই ছোটন রহমান ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে চেয়ারম্যানের লোকজন শনিবার সকাল ছয়টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা করে।

 

 

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী অভিযোগ করেন, সকালে চেয়ারম্যানের পক্ষের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তারা বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশালসহ ১৫-২০ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃস্টি করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 

 

 

ফারুক হোসেন নামে ওই গ্রামের আরও একজন জানান, শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একব্যক্তি জানান, গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলছে। এর আগেও মে মাসে দুদফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার চেয়ারম্যানের ভাইকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করেছে। এরই জেরে শনিবার ভোরে চেয়ারম্যানের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করে। তখন উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে এটি রাজনৈতিক নয় সামাজিক বিরোধ বলে জানান এই ব্যক্তি।

 

 

 

ইসরাফিল হোসেন নামে আরও একজন জানান, কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের পুকুর থেকে রাতের আঁধারে কে বা কারা মাছ লুট করে। সেই ঘটনায় মামলা হয়। মামলার জেরে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটকে শুক্রবার প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে আহত করে। এরই জেরে শনিবার সংঘর্ষ হয়েছে।

 

 

 

ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান জানান, একের পর এক তার লোকজনের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। তার ভাইকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

 

 

 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন বলেন, এটি সামাজিক বিরোধ। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কিছু লোক ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেছে, তাই প্রতিষোধপরায়ন হয়ে তিনি তাদের ওপর একের পর এক হামলা করেছে।

 

 

 

তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যানের ভাই একজন নারীকে লাঞ্ছিত করেছিল তাই ওই নারীর পরিবারের লোকজন তার ওপর হামলা করেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ঘুমন্ত প্রতিপক্ষের ওপর ভোরে হামলা করিয়েছে। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ককটেল ফোটানোর খবরটি সঠিক না। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর হবে। মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

অবসরের ইঙ্গিত, আর বিশ্বকাপ খেলবেন না মেসি?

অসংখ্য রেকর্ডের মালিক লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে নেমে তিনি গড়েছেন আরেকটি অনন্য কীর্তি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। একদিন পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে আলো ছড়ান মেসিই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে নতুন করে শিরোনামে উঠে আসেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

 

 

চার দিন পর ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অন্যদিকে রোনালদো পেরিয়ে গেছেন ৪১ বছর। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তারা কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন? পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই বিশ্বকাপে রোনালদোর খেলা নিয়ে জল্পনা থাকলেও মেসি বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

 

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘না (সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা) । এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’

নিজেকে এত বছর ধরে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার রহস্যও জানিয়েছেন তিনি। মেসির ভাষায়, ‘আমি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছি। প্রতিযোগিতা করেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি, যাতে বিশ্বকাপে দলকে সর্বোচ্চ সাহায্য করতে পারি। আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। এখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও সহজে ছেড়ে দেয় না। টিকে থাকতে হলে নিজের সেরা ফর্মে থাকতে হয়। এটাই আমাদের শক্তি এবং সাফল্যের মূল কারণ।’

২০৩০ বিশ্বকাপ হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। মূল আয়োজক দেশ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। আর শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।

 

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না মেসি। ক্লাব, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় সব বড় অর্জনই তার ঝুলিতে। তাই এখন তিনি যা পাচ্ছেন, সবকিছুকেই দেখছেন বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে।

 

 

মেসির কথায়, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ক্লাব, জাতীয় দল ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এখন থেকে যা কিছু আসবে, সবই আমার কাছে বোনাস।’

 

 

গোল করছেন, আনন্দে ভাসছেন, আবার আবেগে কাঁদছেনও। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির প্রাপ্তির খাতা প্রায় পূর্ণ। তবু তিনি মাঠে আছেন, লড়াই করছেন, নতুন ইতিহাস লিখছেন। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্বের চোখ এখনো তার দিকেই।

 

 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর পর প্রকাশিত ফিফার অফিসিয়াল পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেওয়ার পর এই স্বীকৃতি পেয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ফিফার তথ্যভিত্তিক পারফরম্যান্স সূচকে খেলোয়াড়দের অবদানকে আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণ—এই তিনটি আলাদা বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়। সেই সূচকে আক্রমণভাগে ১০-এর মধ্যে ৮.১৩ রেটিং পেয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন মেসি।

শ্রী রামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে বেলকুচিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপটে জুতা নিক্ষেপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বেলকুচি উপজেলার এনায়েতপুর-সয়দাবাদ আঞ্চলিক সড়কের সদর হাসপাতাল গেট সংলগ্ন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বেলকুচি উপজেলা শাখার সভাপতি বৈদ্যনাথ রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা: অমৃত নারায়ণ দে’র পরিচালনায় প্রতিবাদ কমসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নারায়ণ মালাকার, পৌর শাখার সভাপতি পলাশ কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি নয়ন কুমার ঘোষ, সদস্য সুদ্বীপ পোদ্দার, কৃষ্ণ কুমার ঘোষ, সুজয় কুমার ঘোষ, নন্দ রাজবংশী, প্রধান বক্তা ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক নিপেন্দ্র নাথ মন্ডলসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রীরামচন্দ্রের চিত্রপট অবমাননা ও অনলাইনে অপপ্রচারের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে বক্তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় যা বেলকুচির প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রাফিনহাকে ঘিরে উদ্বেগ, বদলি নেওয়ার সুযোগ আছে কি ব্রাজিলের?

হাইতির বিপক্ষে আজ ফিলাডেলফিয়ায় ৪০ মিনিটে মাঠ ছেড়ে চলে যান রাফিনিয়া। চিকিৎসকেরা যখন তাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন চোখের পানি মুছছিলেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। তাতে করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

 

 

ডাগআউটে ফিরেই রাফিনহা দলের ডাক্তার রদ্রিগো লাসমারের সঙ্গে কথা বলেন। তারকা ফরোয়ার্ডকে সান্ত্বনা দেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর যখন ডান ঊরুতে রাফিনিয়া হাত রেখেছেন, তখন কোচের দুশ্চিন্তা অনেক বেড়ে যায়। কারণ, এখন তার (রাফিনহা) বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে ১২ জুন।

 

 

এমনকি টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলার ২৪ ঘণ্টা আগেও ব্রাজিল নতুন কাউকে দলে নিতে পারত। যেখানে গত ১৪ জুন বাংলাদেশ সময় ভোরে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। এখন আর সেই সুযোগ পাচ্ছে না সেলেসাওরা। এক কথায় প্রথম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর কোনো দলকেই টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য তাদের দলে আর কোনো পরিবর্তন আনার অনুমতি দেয় না।

বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের বেলায় ব্যতিক্রম রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলের ম্যাচের জন্য তিন গোলরক্ষক থাকতে হবে। কোনো গোলরক্ষক চোটের কারণে ছিটকে গেলে তার পরিবর্তে নতুন গোলরক্ষক নেওয়া সম্ভব। তা না হলে দলটি বিশ্বকাপের বাকি সময় একজন খেলোয়াড় কম নিয়েই খেলতে হবে।

এ বছরের মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। আজ হাইতির বিপক্ষে ফের ডান পায়ে চোট পাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাফিনিয়ার বিপক্ষে ৪০ মিনিটে রায়ানকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। মাথিয়াস কুনিয়া করেছেন জোড়া গোল। অপর গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন ব্রাজিল। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। মরক্কোর পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানের কারণে দলটি দুইয়ে। ১৪ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে স্কটল্যান্ড। আর দুই ম্যাচের দুটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল হাইতি।

বিয়ে নয়, হচ্ছিল ‘আংটি বদল’! চিনিকল এমডির ছেলের বাল্যবিয়ে ঠেকাল প্রশাসন

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ছেলের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। স্থান খোদ চিনিকল চত্বর! তবে গোপন এই আয়োজনের খবর পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রশাসনের কানে। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই বাল্যবিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে প্রশাসন।

 

​জানা গেছে, বর পেশায় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং তিনি জয়পুরহাট চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যার ছেলে। কনে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, বয়স এখনো ১৮ পেরোয়নি। কনের বাবাও একই চিনিকলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

​আইন অনুযায়ী বয়সের বাধা থাকলেও শুক্রবার দুপুরে চিনিকলের ভেতরেই বিয়ের এই গোপনীয় আসর বসেছিল। দাওয়াতি মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিনিকলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও।

 

​বাল্যবিয়ের এই খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভেস্তে যায় বিয়ের আয়োজন। পরে কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করা হয় যে, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না।

 

​তবে বিয়ের মূল আয়োজনের কথা অস্বীকার করেছে বর ও কনের পরিবার। একে নিছক আংটি পরানো’ বা আক্‌দ অনুষ্ঠান বলে দাবি করেছেন ছেলের বাবা ও চিনিকলের এমডি মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা।

 

​তিনি বলেন, আমার ছেলে এমবিবিএস পাস করেছে। চিনিকলের এক কর্মকর্তার মেয়েকে সে পছন্দ করেছে। কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স এখনো হয়নি। যেহেতু আমাদের দুজনেরই বদলির চাকরি এবং যেকোনো সময় বদলি হতে পারে, তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে কেবল আংটি পরানোর আয়োজন করা হয়েছিল।

 

​তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লোকজন আসার পর মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন। আগামী বছর যদি আমরা এখানে থাকি, তবে মেয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার পর ধুমধাম করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করব।

 

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, গোপনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মেয়েটির বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। তাই কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইসরায়েলি হামলা, ১৬ জন নিহত

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিন পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।

 

 

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় চলমান হামলার ঘটনায় উদ্ধারকর্মীরা ১৬ জনের মরদেহ এবং ১২ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। খবর দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলের।

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভোর থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার সদস্যরা নাবাতিয়েহ জেলায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় অব্যাহত হামলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাজিল জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনা ভক্ত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই সমর্থকদের আবেগ, উন্মাদনা আর নানা ব্যতিক্রমী কাণ্ড। সেই উন্মাদনারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জের এক আর্জেন্টিনা সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া চ্যালেঞ্জ রক্ষা করতে ব্রাজিলের জয়ের পর মাথা ন্যাড়া করেছেন ফয়সাল আহমেদ জুম্মান।

 

 

 

ফয়সাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাধুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তিনি ঘোষণা দেন- হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হলে তিনি মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘুরবেন।

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন ফয়সাল। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েই সাধুরপাড়া এলাকায় তিনি মাথা ন্যাড়া করেন। এ সময় ঘটনাটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমি ও কৌতূহলী মানুষজন।

 

মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে সেগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হলে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দেয় নানা আলোচনা।

 

 

স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। ফয়সালের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় বেশ আনন্দ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

 

 

 

ফয়সাল আহমেদ জুম্মান বলেন, ‘খেলাধুলা বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। আমি মজা করেই এই চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। ব্রাজিল জিতেছে, তাই কথা অনুযায়ী মাথা ন্যাড়া করেছি। প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখতে হয়।’

 

প্রথম দুই ম্যাচেই শঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার মুখে ব্রাজিলের ৩ ফুটবলার

বিশ্বকাপের দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে ব্রাজিলের। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে সেলেসাওরা। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে উদ্বেগ ব্রাজিলের ক্যাম্পে।

 

 

আগামী বুধবার স্কটিশদের সঙ্গে ড্র করলেই শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হবে ব্রাজিলের। আর জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এই ম্যাচে তিন খেলোয়াড়কে নিয়ে শঙ্কা থাকছে। আর একটি হলুদ কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞায় কপাল পুড়বে তাদের।

 

 

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ও হাইতির বিপক্ষে জয়ের পর ইবানেজ, কাসেমিরো ও ডগলাস সান্তোসের প্রত্যেকে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। আরেকবার কার্ড পেলে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেতে হবে তাদের।

বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফিফা হলুদ কার্ড ও শাস্তির নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জমে থাকা হলুদ কার্ড এখন থেকে দুটি ধাপে মুছে ফেলা হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর যখন নকআউট পর্ব বা দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে, তখন আগের কার্ডগুলো বাতিল হয়ে যাবে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেও খেলোয়াড়দের কার্ডের হিসাব আবার নতুন করে শুরু হবে।

তবে কোনো খেলোয়াড় যদি গ্রুপের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান, তবে প্রথম নকআউট রাউন্ডে নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, থাকছে একাধিক বাড়তি সুযোগ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা। বিশেষ করে টিফিন ভাতা পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর এটিই হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। টিফিন ভাতা বৃদ্ধির খবরে সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করে বেতন কমিশন। কর্মচারীদের দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, টিফিন ভাতার সুবিধা মূলত ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

নবম পে স্কেলে টিফিন ভাতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদান।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তিন মাসে বিএনপির অর্জন, ১৫ বছরে হয়নি আ.লীগের: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, ইনশাআল্লাহ, সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি সরকারের গত তিন মাসে যা কাজ হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরেও হয়নি।

 

 

শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। গত তিন মাসে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনটির কাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দুই হাজার মিটার সড়কের পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থলও পরিদর্শন করেন।

জরাজীর্ণ বনবিভাগ অফিসে চারা উৎপাদনের জমিতে ধান চাষ, বসেছে মাদকসেবীদের আখড়া

সরকার যেখানে দেশজুড়ে বনায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে, সেখানে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত সরকারি বন বিভাগের নার্সারী ও অফিসটি এখন নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। সরকারিভাবে এখানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিতরণের কথা থাকলেও, বাস্তবে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে ধান চাষ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যালয়টি এখন পরিণত হয়েছে এক জরাজীর্ণ ভূতূড়ে বাড়িতে, যা স্থানীয় অপরাধী ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কার্যালয়টি সংস্কার করে বনায়নের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

 

 

সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ১৯৯০ সালে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও কেন্দ্র, জয়পুরহাট’ এবং ‘পাঁচবিবি সামাজিক বনায়ন ও বাগান’। নিয়ম অনুযায়ী এই বিশাল জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করে তা সাধারণ মানুষের মাঝে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু বর্তমানে নামমাত্র কয়েক শতক জমিতে কিছু চারা দেখা গেলেও বাকি পুরো মাঠ জুড়েই চলছে ধান চাষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের বাগান মালি মতিউর রহমান নিজেই সরকারি এই জমিতে ধান চাষ করছেন। অথচ নিয়ম মেনে এখানে চারা উৎপাদন করা হলে একদিকে যেমন স্থানীয়দের চাহিদা মিটত, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত।

 

 

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় কার্যালয়ের ছোট-বড় কয়েকটি ভবনের দরজা-জানালা ইতিমধ্যেই চুরি হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ জনশূন্য ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি এখন এক ‘ভূতূড়ে বাড়ি’। এই সুযোগে সন্ধ্যা নামলেই এখানে বসছে মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধীদের আসর, যা পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে তথ্য জানতে পাঁচবিবি বন বিভাগের অফিসে গিয়ে কোনো বন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে দায়িত্বরত বাগান মালি কামরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের ও অন্যের সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

 

 

পরবর্তীতে জয়পুরহাট জেলা বন কর্মকর্তা মুহিদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কেন্দ্রের এই নানাবিধ দৈন্যদশার কথা স্বীকার করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

 

এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। দ্রুত মাদকসেবীদের আস্তানা উচ্ছেদ করে এবং ধান চাষ বন্ধ করে এখানে পুনরায় চারা গাছ উৎপাদন শুরু করা হোক। এতে করে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, তেমনি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে।

পরিত্যক্ত দোকানে ‘খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর সাইনবোর্ড!

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কেশবপুর গ্রামে একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত দোকানঘরের সামনে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে চকচকে একটি সাইনবোর্ড- ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কার্যালয’। অথচ সেখানে নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমের ন্যূনতম অস্তিত্ব। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

 

​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামো ছাড়াই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য সরকারি খাস জমির দখল বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা ‘নিয়োগ বাণিজ্য’-এর সুযোগ তৈরি করা।

 

 

​সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের সড়কের পাশে জরাজীর্ণ একটি টিনশেড ঘরের সামনে টাঙানো সাইনবোর্ডটিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ‘২০২৪ সাল’ উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সাইনবোর্ডে ‘কার্যালয়’ বানানটিও ভুল লেখা রয়েছে (‘কার্যালয’)।

 

​স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে কখনো ওই এলাকায় এই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের কথা তাঁরা শোনেননি। সাইনবোর্ডের পিছনের জরাজীর্ণ ঘরটি একসময় ওষুধ ও মুদিখানার দোকান ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

 

 

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল অনেক আগে নিজেকে ‘ভূমিহীন’ পরিচয় দিয়ে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত (লিজ) নেন। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন নন এবং সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি খাস জমি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এরপর লিজ বাতিল হওয়া থেকে জমিটি বাঁচানোর জন্য তিনি একটি ফন্দি আঁটেন। তিনি ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে, লেবু তাঁকে ওই খাস জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার বুদ্ধি দেন।

 

 

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কোনো শর্তই পূরণ করা হয়নি এখানে। তার আগেই হঠাৎ করে গত শুক্রবার বিকেলে ওই পরিত্যক্ত দোকানের সামনে কলেজের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সাইনবোর্ড টাঙানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিষয়টি টক অব দ্য ভিলেজে পরিণত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মূল উদ্যোক্তা আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে এই কলেজের সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি সামনে এল।

 

 

​জমির বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল বলেন, “আমার নামে বন্দোবস্ত নেওয়া সরকারি খাস জমিটি কলেজের জন্য দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ধুরইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুই এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তিনিই কলেজের অধ্যক্ষের পদে থেকে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

 

​তবে আব্দুল খালেক লেবু নিজেকে ‘অধ্যক্ষ’ নয়, ‘প্রতিষ্ঠাতা’ দাবি করে বলেন, “আব্দুল জলিল কিছু জমি দেবেন, আর কিছু জমি কেনা হবে। কলেজের জন্য মোট ৬০ শতক জমির পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে এখনো কলেজের নামে কোনো জমি দান বা ক্রয় সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

 

 

​জমির বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন যে, আব্দুল জলিল তাঁর মেয়ের জন্য একটি চাকরি চেয়েছেন। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদক চাকরিপ্রার্থীর মুঠোফোনে নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আব্দুল খালেক লেবু কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি দেখা করার পরামর্শ দেন।

​গত সোমবার পাঁচবিবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জহুরুল ইসলাম বলেন, “গত দুই বছরে এই উপজেলায় ওই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অনুমোদন বা তথ্য আমাদের দপ্তরে নেই। তবে কয়েক দিন ফেসবুকে সাইনবোর্ডের একটি ছবি আমি দেখেছি।”

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন (যিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমির অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন) জানান, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে তা রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল করে দেওয়া বা হস্তান্তর করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

 

 

​পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা দুর্নীতির চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”

 

 

​এ প্রসঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে একটি বেসরকারি কারিগরি বা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সুনির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা রয়েছে। প্রথমত, প্রতিষ্ঠানের নামে নিজস্ব ও দায়মুক্ত জমি (মফস্বলে সাধারণত ৫০-৬০ শতাংশ) রেজিস্ট্রি থাকতে হবে। সরকারি লিজ নেওয়া জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, যথাযথ পাকা অবকাঠামো, লাইব্রেরি, ল্যাব ও সংরক্ষিত তহবিল ব্যতিরেকে কোনো প্রতিষ্ঠান পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বা স্বীকৃতি পায় না।

 

 

রাণীনগরে ধান সংগ্রহের তথ্য গোপন, কর্মকর্তাদের ভূমিকায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সমালোচনা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশে অনিচ্ছার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলাম ও ওসি এলএসডি তারানা আফরীনের বিরুদ্ধে। তথ্য দেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পরও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম।
এই দুজনের পাশাপাশি নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরানও কৃষকদের নাম-ঠিকানাকে ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়েছেন। এর ফলে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করছে। অনলাইন আবেদন, লটারি এবং কৃষি বিভাগের তালিকার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষক বাছাই করে এই কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম থাকলেও, কার্যক্রম শেষের দিকে পৌঁছেও রাণীনগরে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদকর্মীরা তালিকা চাইতে গেলেও তাদের ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫১ টাকা কেজি দরে ৮১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। গত ১২ মে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয় এবং পরবর্তীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনাও হয়। তবে বাস্তবে খাদ্য বিভাগ থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
তথ্য জানতে চাওয়া হলে ওসি এলএসডি তারানা আফরীন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ফি জমা দেওয়ার শর্ত তুলে ধরেন। পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি প্রথমে অসন্তোষজনক মন্তব্য করে এক সপ্তাহ পর আসতে বলেন। পরের সপ্তাহে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুন মাসের হিসাব সমাপ্তির আগে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তথ্য দিতে সমস্যা কোথায়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চাহিদামতো তথ্য প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ইচ্ছা থাকলেও সব কিছু করার স্বাধীনতা তার নেই।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক দাবি করেছিলেন কৃষকদের তালিকা দেয়ালে টাঙানো হয়েছে, কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে এমন কোনো তালিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এলএসডি অফিসের কর্মীরাও তালিকার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরান মুঠোফোনে জানান, অনলাইনে আবেদন হলেও তা সবার কাছে দৃশ্যমান নয়। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্দিষ্টভাবে সব তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এতে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি জানান, কতজন কৃষক ধান দিয়েছেন এবং কী পরিমাণ ধান সংগৃহীত হয়েছে—এই সাধারণ তথ্যই তারা দিতে পারবেন। কৃষকদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত তথ্যের আওতায় পড়ে বলে তথ্য অধিকার আইনেও তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই যদি কৃষকদের তথ্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে সংগ্রহ কার্যক্রম কীভাবে তদারকি হচ্ছে? স্থানীয়দের অভিমত, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের তালিকা প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ অপরিহার্য। তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।

সৈয়দপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন ছয় শতাধিক রোগী

 নীলফামারীর সৈয়দপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে ছয় শতাধিক রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। শনিবার শহরের সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করে আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। এতে সহযোগিতা করে দিনাজপুর গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হাসপাতাল।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এ সময় শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।

 

 

 

সকালেই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিসবাহী, পারভেজ আলম গুড্ডু আশরাফী, নাদিম আশরাফী, খালিদ আযম আশরাফী, আসিফ আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বাখশি ও তৌসিফ রেজা আশরাফীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

 

গাওসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের চিকিৎসক দল রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

 

 

চক্ষু ক্যাম্পে নীলফামারী, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন। সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, আর্থিক সংকট ও যাতায়াতজনিত কারণে অনেকেই নিয়মিত চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। নিজ এলাকায় এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠেছে।

 

 

আয়োজকরা জানান, দরিদ্র, অসহায় ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

 

‘আপনি কি সেই মাল’ নারীকে অশোভন মন্তব্য, ওসি এনামুলকে প্রত্যাহার

নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।

 

 

এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

 

 

তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি গোপন সুড়ঙ্গ থেকে বহুরূপী প্রতারক মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশার ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী।

 

 

শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে গুলশান-২ এর ২৮ নম্বর রোডে অবস্থিত আবুল বাশারের বাসা ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে শনিবার সকালে বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষভাবে নির্মিত একটি গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির গুলশান অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, ‘আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।’

তিনি জানান, সর্বশেষ তার বাসায় অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি সুরঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান আরও বলেন, ‘গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবারই তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও প্রতারক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও প্রতারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

 

 

কে এই আবুল বাশার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদের পশ্চিম আউলিয়াপুরের ফখরুল ইসলামের বড় ছেলে মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন। স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের অসংখ‍্য নেতাকর্মীদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নামসর্বস্ত বিটিএল নামক একটি ভুয়া কোম্পানি খুলে দেশের বিভিন্ন জেলার ব‍্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতেন প্রতারক মির্জা আবুল বাশার। কাউকে জায়গা দিবেন, কাউকে চালের ডিলারশিপ দিবেন, কাউকে তেলের ডিলারশিপ দিবে এমন মিথ‍্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশারের প্রতারণা ফাঁদে পা দিয়েছেন সেনা সদস‍্য, পুলিশ সদস‍্য, সাংবাদিক ও অসংখ‍্য নিরীহ মানুষ। অসংখ‍্য মানুষ শেষ সম্বল গ্রামের জায়গা-জমি বিক্রি করে ভবিষ‍্যতের কথা চিন্তা করে নগদ টাকা তার হাতে তুলে দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এই প্রতারক মির্জা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।

 

 

জানা যায়, আবুল বাশার বিটিএল গ্রুপ’ (BTL Group) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। এই গ্রুপের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও অর্থ পরিশোধ না করার আরও অভিযোগ রয়েছে। গেল কোরবানির ঈদের আগে একটি এগ্রো খামার থেকে ৮টি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিলেও সেটি বাউন্স করে।

দীর্ঘ বিরতির পর ওটিটিতে ফিরছেন মিম

বিদ্যা সিনহা মিম প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও ওটিটি পর্দায় ফিরছেন। আগামী ২১ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে, যে চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক দেখতে পাবেন সময়, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক ভিন্ন গল্প।

 

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিম জানান, দীর্ঘদিন ওটিটি থেকে দূরে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে নিজের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছি, তখনই কাজটি করেছি।’এ সময়ের মধ্যে ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমার কাজও শেষ করেছিলেন, যা সময়মতো মুক্তি পেলে বিরতির বিষয়টি এতটা আলোচনায় আসত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

‘লাইফলাইন’ সম্পর্কে মিম বলেন, ‘নামটি শুনেই বোঝা যায়, এটা একটা লাইফের জার্নি। ফিল্মটির থিমেটিক পোস্টার যদি খেয়াল করেন, দেখবেন বালুঘড়ির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ সে সময়ের মধ্যে আটকে আছে কিংবা এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যা তাকে অতিক্রম করতে হবে। সে পারবে কি পারবে না, সেটাই গল্পের বড় প্রশ্ন।’

ট্রেলারে তাকে কাউকে খুঁজতে দেখা গেলেও সেই রহস্য এখনই ভাঙতে নারাজ অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, ‘দর্শকদের জন্য এটিই বড় চমক, যা সিনেমা মুক্তির পরই জানা যাবে।’

এর আগে ‘মিশন হান্টডাউন’ সিরিজে স্বামীকে খুঁজতে বের হওয়া নীরা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিম। তবে ‘লাইফলাইন’-এর গল্পের সঙ্গে সেই কাজের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং নতুন এই ওয়েব ফিল্মে দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাবেন বলেই বিশ্বাস তার।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন মিম। তিনি জানান, কুয়াকাটার ভেতরের একটি দুর্গম চর এলাকায় শুটিং হয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে মোটরসাইকেলই ছিল প্রধান ভরসা। সরু ও উঁচুনিচু পথ, প্রচণ্ড গরম এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে বেশ কষ্ট হলেও দৃশ্য ভালো হলে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যেত।

 

 

এদিকে ‘লাইফলাইন’-এর ট্রেলার ও একটি গান প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, অনেকেই কাজটিকে ‘পরাণ’-এর পর তার আরেকটি ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ কাজ হিসেবে দেখছেন।

 

 

অন্যদিকে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘একটি সিনেমা নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। দর্শকের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’ সব মিলিয়ে ‘মালিক’-এর সাড়া নিয়ে সন্তুষ্ট অভিনেত্রী।

 

 

‘মালিক ২’-এর ঘোষণা এলেও এ বিষয়ে এখনো নির্মাতার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান মিম। তবে ভবিষ্যৎ কাজ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দুটি কাজ শেষ করেছেন এবং আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই নিয়মিতভাবে তাকে নতুন নতুন কাজে দেখতে পাবেন দর্শক।

মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় বিএনপি নেতা বাচ্চুর মতবিনিময়

ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকদের মাদকাসক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের স্কুল কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৌরএলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় সভা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

 

 

 

তার ব্যক্তি উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯জুন) রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের জুবলী বাগানে ও ৬নং ওয়ার্ডের শাহেদ নগর বেপারী পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করেন।

 

 

 

মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের সমাজের যুবকরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারীরাসহ সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের এই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদককে না বলতে হবে।

 

 

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। সাইদুর রহমান বাচ্চুর এধরনের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে সমাজের সচেতন মহলসহ সকল শ্রেনীর মানুষ স্বাগতম জানিয়েছেন।

 

 

 

এসময় তিনি সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য,বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চান।

 

আমরা এ দেশের ভূমিপুত্র, অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই: হিন্দু নেতৃবৃন্দ

শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা ও গাইবান্ধাসহ সারাদেশে মন্দির গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুজিব সড়কস্থ মহাপ্রভুর আখড়ার সামনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নিজের জায়গায় আমাদের সনাতনী সম্প্রদায়ের অর্থায়নে রামের মুর্তি গড়া হচ্ছে। সেটা গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, এটা কেমন স্বাধীন দেশ। প্রভু শ্রী রামের প্রতি প্রকাশ্যে অবমাননা করা হলো। এখন পর্যন্ত তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা এ দেশের ভূমিপূত্র। এখানে আমরা অধিকার নিয়ে বাচতে চাই।

 

 

 

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়, হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খ্রীষ্টান সকল সম্প্রদায়ের মানুষ জীবনকে তুচ্ছ করে অস্ত্র ধরেছিল। স্বাধীন পতাকা ছিনিয়ে এনেছিল। তখন কথা ছিল এই দেশের মানুষ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।

 

 

 

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সকল আন্দোলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছে, জীবন দিয়েছে। আমরা কি পেয়েছি, ডক্টর ইউনুস রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মাটিতে ৫৮ জন সনাতনী ভাই-বোনদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এখন পর্যন্ত সেই হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যবস্থা হয়নি।

 

 

 

আওয়ামী লীগ ১৮ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। সুতরাং আমরা বলতে চাই, আমরা আর কাঁদতে চাই না. অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

 

 

পুজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, পুজার উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেশ ভৌমিক, অ্যাড. রনজিত কুমার মন্ডল, অ্যাডভোকেট কল্যান সাহা, সাংবাদিক হীরক গুণ, সাংবাদিক অশোক ব্যানার্জি, বাসদ নেতা পলাশ ঘোষ প্রমূখ।

 

সিরাজগঞ্জকে রেলবঞ্চিত করা হলে মহাসড়ক-রেলসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

রেলের শহরকে সিরাজগঞ্জকে রেল বঞ্চিত করা হলে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ আমাদের ২০ বছরের আন্দোলনের ফসল। সুতরাং সিরাজগঞ্জ শহরকে যদি রেল বঞ্চিত করা হয় তাহলে সিরাজগঞ্জবাসী কিন্তু আন্দোলন জানে, রেলের দাবীতে প্রয়োজন হলে কড্ডার মোড়ে অবরোধ করা হবে, বিশ্বরোড, রেলপথ অবরোধ করে বসে থাকবো।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে রায়পুর জংশন স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ রেলের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ আজও জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের দাবি, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের নকশা অনুযায়ী কালিয়াহরিপুর হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত সংযোগ রেখে মাত্র দুই কিলোমিটার রায়পুরের ভেতর দিয়ে জংশন স্থাপন করা হলে জেলার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি মাহবুব-এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিম, সংস্কৃতিকর্মী পরিচালক আব্দুস সালাম মামুন, নাট্যকর্মী ফরিদুল ইসলাম সোহাগ, ডা. সাইফুল ইসলাম ও সঞ্জয় গৌর।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু হচ্ছে তার ৬ দিনের সরকারি সফর। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর এটি। এরপর সেখান থেকে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে চীনে যাবেন তারেক রহমান। মূলত চীন সফরকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মনে করছেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং এরপর ২৩-২৬ জুন চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত গত প্রায় দেড় যুগ বাংলাদেশ একটি বিশেষ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

 

 

 

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার গঠনের পর প্রায় চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার পরবর্তী গন্তব্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন। মালয়েশিয়া এবং চীন— এ দুই দেশে ছয় দিন ব্যস্ত সময় পার করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার দুপুরে একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সোমবার দিনভর সেখানে ব্যস্ত সময় পার করে ২২ জুন রাতেই তার চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এই দুটি দেশ সফরে স্বাক্ষর হতে পারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর মধ্যে কুয়ালালামপুরে জনশক্তি রপ্তানিসহ তিনটি এবং বেইজিংয়ে ১০টি এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প পার্ক, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও অর্থায়নের মতো বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। এসবের বাইরেও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২২ জুন বিকেলে মালয়েশিয়া সফর শেষে সরাসরি চীনের একটি উপকূলীয় বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পরে জলবায়ু এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি। ২৪ জুন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতি, বিনিয়োগ প্রবাহ, সবুজ অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। একই দিনে অবকাঠামো ও শিল্প খাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রেলপথ, সেতু, বিদ্যুৎ এবং শিল্পায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে ২৬ জুন। ওই দিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দুটি সফরের দেশ নির্বাচনই স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান সরকার তার বৈদেশিক নীতিতে এক বড় ধরনের ভারসাম্য আনতে যাচ্ছে। বেইজিং সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

 

 

 

জানা গেছে, চীন সফর সফলভাবে সমাপ্ত করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিবেশী ভারত সফরে যেতে পারেন। এরপর জাপান কিংবা তুরস্ক অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশে দ্বিপক্ষীয় সফরে অংশ নেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সফরের ঠিক পরপরই নয়াদিল্লি বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার কৌশলটিই মূলত একটি বার্তা।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর প্রসঙ্গে রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থ, রাজনৈতিক সুবিধা ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ওয়ার্কআউট করার পর সরকারপ্রধান নির্ধারণ করেন কোন দেশে আগে যাবেন—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর প্রভাব অন্য কোনো দেশের ওপর পড়ার কথা নয়। প্রত্যেক দেশই জাতীয় স্বার্থনীতি আগে ঠিক করে, এরপর অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে। এখনই গেলে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে, সে জন্য প্রথম মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে চীন যাবেন, এটাও দ্বিপক্ষীয় সফর। এই সফরের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে করছি না। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এরপর বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অন্য দেশের আলাপ-আলোচনা হবে, চুক্তি স্বাক্ষরসহ প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে অন্যান্য কাজ সফলভাবে শেষ করা যাবে— সে দেশেই তিনি যাবেন। এতে আমেরিকা, ভারত, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব পড়বে না, চিন্তার কিছু নেই।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

আর্জেন্টিনার একটি বিশাল পতাকা চুরি, থানায় অভিযোগ দায়ের

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের টাঙানো একটি বড় আকারের পতাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক সমর্থক। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের।

 

 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায়।

 

 

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে সানন্দবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের ‘ভেরুসেল এক্সপ্রেস’ ক্লাবের সদস্যরা টাকা তুলে প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করেন। এটি নদীর পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে টাঙানো হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পতাকাটি চুরি হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পতাকার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্লাবের সদস্য টুটুল শিকদার বাদী হয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

টুটুল সিকদার বলেন, ‘অনেক পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা তুলে পতাকাটি আমরা বানিয়েছিলাম। এ ঘটনায় আমরা কষ্ট পেয়েছি। ক্লাবের সদস্যরা সবাই শিক্ষার্থী, নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অথবা বাড়ি থেকে চেয়ে নিয়ে পতাকার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। তাই এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি চান তারা।

 

 

ক্লাবটির অন্য সদস্য মামুন বলেন, ‘পতাকা কেউ পেলে তাকে আমরা পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিব।’

 

 

 

এ বিষয়ে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, পতাকা চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

 

সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে ঘটনার দিন কী হয়েছিল, জানালেন মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

 

 

 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।

 

 

 

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক লেখেন, ৩রা এপ্রিল ২০২১। রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের এক ঘৃণ্য কালো দিবস। সেদিন আমি আমার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সেখানে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, সাংবাদিক লীগ ও ঘাদনিকের প্রায় শ খানেক সদস্য উপস্থিত হয়। রিসোর্টের রিসিপশন ডেস্ক থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়, পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। আমি আমার কক্ষের দরজা খুলতেই তারা সবাই জোরপূর্বক আমার রুমে প্রবেশ করে। সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক এবং উপস্থিত প্রায় সকলেই তাদের ডিভাইসের মাধ্যমে একযোগে লাইভ প্রচার করতে থাকে। তারা নানা ভাবে আমাদেরকে হেনস্থা করে। আমার উপর চড়াও হয়। আমার স্ত্রীকেও টেনে ধরে হ্যাচারানোর উপক্রম করে।

তিনি আরও লেখেন, তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য আমি আমার স্ত্রীকে ওয়াশরুমের দরজা খুলে সেখানে আটকে দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে লেডি পুলিশের একটি টিম এসে উপস্থিত হয় এবং ওয়াশরুমে ঢুকে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে। উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি সব সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে।

 

শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আমরা তাদের সাথে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কান্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি।

 

 

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জান্নাত আরা ইতোপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃ রহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে। আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি। উল্লেখ্য ফকীহগণ কুরআন সুন্নাহর দলিলের আলোকে সাব্যস্ত করেছেন যে, স্ত্রীর যে অধিকার স্বামীর উপর ওয়াজিব, তা স্ত্রী স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বিবাহের পর আমি তাকে ঢাকা মোহাম্মদপুরস্থ কোরআন শিক্ষার কেন্দ্র নূরানী কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেই এবং সে কোর্স সুসম্পন্ন করে। এভাবে কিছুদিন থাকার পর নিজ আগ্রহে সেলাই প্রশিক্ষণসহ মেয়েলি কিছু কার্যক্রমের প্রশিক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠানে সে কাজ শিখতে থাকে। প্রথমদিকে ঢাকায় তার এক বোনের বাসায় অবস্থান করত এরপর স্বেচ্ছায় অন্য বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করা শুরু করে। আমি প্রয়োজন মত তার সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং সময় দিতাম।

 

স্কটল্যান্ড ম্যাচেই দলে ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি

দুই ম্যাচ ধরে যার জন্য অপেক্ষায় ব্রাজিল, একই সঙ্গে অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বকাপও—সেই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ক্ষণ যেন অবশেষে ঘনিয়ে এসেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ব্রাজিলের তারকা নম্বর দশ।

 

 

 

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়ার পর নেইমারের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেই দেখা যেতে পারে নেইমারকে।

 

 

 

ইতালিয়ান এই কোচ জানান, শনিবার এককভাবে অনুশীলন করবেন নেইমার। এরপর সোমবার থেকে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবেন তিনি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

ডান পায়ের কাফের চোটে প্রায় এক মাস ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে এই চোটে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। সেই কারণে ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দলেও ছিলেন না তিনি। দলের সঙ্গে সফরে না গিয়ে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের ক্যাম্পেই অবস্থান করেন।

 

হাইতি ম্যাচের আগে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নেইমারের পুনর্বাসন কার্যক্রমের কিছু ছবিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নিউ জার্সির দ্য রিজ হোটেল এবং কলাম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কঠোর পরিশ্রম করছেন তিনি। প্রতিদিন দুই ধাপে চলছে তার অনুশীলন। মাঠে ফিটনেস ও বলের কাজের পাশাপাশি বিকেলে জিমে বিশেষ সেশনও করছেন নেইমার। পুরো প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে রয়েছেন ফিটনেস কোচ ক্রিশ্চিয়ানো নুনেস এবং মিনো ফুলকো।

 

 

তবে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। তাড়াহুড়া না করে শতভাগ সুস্থ অবস্থাতেই নেইমারকে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা তাদের। এ কারণেই মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তাকে খেলানো হয়নি।

 

 

 

চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করলেও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের পরের পর্বের টিকিট। আর সেই ম্যাচেই যদি নেইমার মাঠে নামেন, তাহলে ব্রাজিল সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান ঘটবে।

 

তিস্তা ব্যারেজ ও জলঢাকায় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন

পানিসম্পদ উপদেষ্টা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ  এলাকা ও জলঢাকা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে তাঁরা তিস্তা পাড়ের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর ড্রেজিং কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। পরে তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জন্ম থেকেই চলার শক্তি নেই, হুইলচেয়ারের আশায় দিন গুনছে কর্ন

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ঘুড়কা উত্তর পাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু কর্ন কুমার দাস জন্মের পর থেকেই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ তার হয়নি কখনো। হাতের ভর দিয়ে চলাচল করেই কাটছে তার প্রতিদিনের জীবন। দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দ্বৈত কষ্ট নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশুটি।
কর্ন কুমার দাসের বাবা শংকর চন্দ্র দাস পেশায় একজন সেলুন কর্মী। অল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ছেলের চিকিৎসা কিংবা একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে কর্ন তার দিদার কাছেই থাকছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ দিদা সাধ্যমতো তাকে লালন-পালন করলেও শিশুটির প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্নের বাবা শংকর চন্দ্র দাস জানান, “আমার ছেলে জন্মের পর থেকেই হাঁটতে পারে না। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি সেলুনের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। কেউ যদি আমার ছেলেটার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে সে অনেক সহজে চলাফেরা করতে পারত।”
স্থানীয়দের মতে, কর্ন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একটি শিশু। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন হাতের ভর দিয়ে চলতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি হুইলচেয়ার পেলে তার জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত হবে।
বিষয়টি জানার পর রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান কর্নের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। কর্নের বিষয়টি জেনেছি। তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “কর্ন কুমার দাসের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় তাকে সরকারি সহায়তা ও প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হুইলচেয়ারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আশ্বাসে কর্নের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো জেগেছে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় খুব শিগগিরই একটি হুইলচেয়ার পাবে শিশুটি।
এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কর্ন কুমার দাসের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি হুইলচেয়ারই বদলে দিতে পারে অসহায় এই শিশুটির জীবন। সামান্য সহায়তাই তাকে দিতে পারে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

সৈয়দপুরে অসুস্থ চিল উদ্ধার, চিকিৎসা শেষে প্রকৃতিতে অবমুক্তের উদ্যোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অসুস্থ চিল উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা। পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মতিন মন্ডল একটি অসুস্থ চিল দেখতে পান। পরে তিনি পাখিটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখেন এবং বিষয়টি সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য চিলটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পাখিটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সদস্য আহসান হাবীব জনি, ফারুক ও রানা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাখিটির সার্বিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উড়তে সক্ষম হলে চিলটিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

রাণীনগরে ডাকাতির সময় ৩ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় নামক স্থানে ডাকাতি করার সময় তিন ডাকাতকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের  সেন্টু হোসেনের ছেলে  ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের  ফিরোজ মন্ডলের ছেলে মোঃ সানা মন্ডল (২২) এবং একই গ্রামের মসিদুল ইসলামের ছেলে  রাব্বি হাসান (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর-আত্রাইগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে ডাকাতির সময় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাগেছে।

রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল জানান, গ্রেফতার তিন ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।